চতূর্থ অধ্যায়

চতূর্থ অধ্যায়

অংশ-১: অভ্যন্তরীণ ক্রয় – উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি

৬১। পণ্য, কার্য, ইত্যাদি ক্রয়ের ক্ষেত্রে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতির প্রয়োগ।-

(১) বিশেষ পরিস্থিতিতে নির্দিষ্ট কোন ক্রয়ের ক্ষেত্রে অথবা মূল্য-সীমার পরিপ্রেক্ষিতে অন্যান্য ক্রয় পদ্ধতির কোন একটি পদ্ধতির ব্যবহার অধিকতর যুক্তিযুক্ত না হইলে, পণ্য ও সংশ্লিষ্ট সেবা, কার্য বা ভৌত সেবা ক্রয়ের ক্ষেত্রে অগ্রে বিবেচ্য পদ্ধতি হিসাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি প্রয়োগ করিতে হইবে।

(২) বিধি ৯০ এর অধীন বিজ্ঞাপন প্রচারের মাধ্যমে সকল যোগ্য দরপত্রদাতার নিকট হইতে দরপত্র আহবান করিতে হইবে।

(৩) সরকারী মালিকানাধীন কারখানা বা প্রতিষ্ঠানসমূহ আইনত এবং আর্থিকভাবে স্বশাসিত হিসাবে প্রমাণ করিতে সক্ষম হইলে উহারাও সরকারী দরপত্র প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করিতে পারিবে।

(৪) বিজ্ঞাপন প্রকাশের তারিখে দরপত্র দলিল বিক্রয়ের জন্য প্রস্তুত ও প্রাপ্তিসাধ্য থাকা সাপেক্ষে, পণ্য ও সংশ্লিষ্ট সেবা, কার্য বা ভৌত সেবা ক্রয়ের ক্ষেত্রে দরপত্রদাতাগণকে দরপত্র প্রণয়ন ও দাখিলের জন্য প্রদেয় সময় তফসিল-২ এ বর্ণিত ন্যূনতম সময়ের কম হইবে না।

(৫) রাষ্ট্রীয় জরুরী প্রয়োজনে ক্রয়ের ক্ষেত্রে সরকার, অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সুপারিশক্রমে, ক্রয় প্রক্রিয়ার সময় হ্রাস করিতে পারিবে।

(৬) বিধি ৯১, ৯২ এবং ৯৩ তে উল্লিখিত বিধান অনুযায়ী আবেদনকারীদের প্রাক-যোগ্যতা নির্ধারণ করা হইয়া থাকিলে, সেই ক্ষেত্রে ক্রয়কারী শুধু প্রাক-যোগ্য আবেদনকারীদের মধ্যে দরপত্র দলিল বিতরণ সীমিত রাখিবে।

(৭) উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতির অধীন পণ্য ও সংশ্লিষ্ট সেবা এবং কার্য ও ভৌত সেবা ক্রয়ের ক্ষেত্রে তফসিল-৩ এর অংশ-খ ও অংশ-খখ অংশে প্রদত্ত ফ্লো-চার্ট এ উল্লিখিত প্রক্রিয়া এবং কার্যক্রম অনুসরণীয় হইবে।

৬২। পণ্য, কার্য, ইত্যাদি ক্রয়ের ক্ষেত্রে অন্যান্য ক্রয় পদ্ধতির প্রয়োগ।-

(১) ক্রয়কারী, পণ্য ও সংশ্লিষ্ট সেবা, কার্য ও ভৌত সেবা ক্রয়ের ক্ষেত্রে, উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতির স্থলে অন্য কোন ক্রয় পদ্ধতি যথা, সীমিত দরপত্র পদ্ধতি, সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি, দুই পর্যায় বিশিষ্ট দরপত্র পদ্ধতি, একধাপ দুই খাম দরপত্র পদ্ধতি এবং কোটেশন প্রদানের অনুরোধ জ্ঞাপন পদ্ধতি ব্যবহার করিতে পারিবে –

তবে শর্ত থাকে যে, উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি ব্যতীত এই বিধিমালায় বর্ণিত শর্তসমূহ প্রতিপালনপূর্বক অন্য কোন ক্রয় পদ্ধতি নির্বাচনের কারণ ও যৌক্তিকতা রেকর্ডভুক্ত করিতে হইবে।

(২) সীমিত দরপত্র-পদ্ধতি, দুই পর্যায় বিশিষ্ট দরপত্র পদ্ধতি, এক ধাপ দুই খাম দরপত্র পদ্ধতি, কোটেশন প্রদানের অনুরোধ জ্ঞাপন পদ্ধতি এবং সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির অধীন পণ্য ও সংশ্লিষ্ট সেবা এবং কার্য ও ভৌত সেবা ক্রয়ের ক্ষেত্রে যথাক্রমে তফসিল-৩ এর গ, ঘ, ঘঘ, ঙ এবং চ অংশে প্রদত্ত ফ্লো-চার্ট এ উল্লিখিত প্রক্রিয়া এবং কার্যক্রম অনুসরণীয় হইবে।

(২) সীমিত দরপত্র পদ্ধতি, দুই পর্যায় বিশিষ্ট দরপত্র পদ্ধতি, কোটেশন প্রদানের অনুরোধ জ্ঞাপন পদ্ধতি এবং সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির অধীন পণ্য ও সংশ্লিষ্ট সেবা এবং কার্য ও ভৌত সেবা ক্রয়ের ক্ষেত্রে যথাক্রমে তফসিল ৩ এর গ, ঘ, ঙ এবং চ অংশে প্রদত্ত ফ্লো-চার্ট এ উল্লিখিত প্রক্রিয়া এবং কার্যক্রম অনুসরণীয় হইবে।

অংশ-২: অভ্যন্তরীণ ক্রয় – সীমিত দরপত্র পদ্ধতি

৩। সীমিত দরপত্র পদ্ধতির প্রয়োগ।-

(১) নিম্নবর্ণিত পরিস্থিতিতে ক্রয়কারী সীমিত দরপত্র পদ্ধতি প্রয়োগ করিয়া ক্রয়কার্য সম্পন্ন করিতে পারিবে, যথা –

(ক) যে সকল ক্ষেত্রে পণ্য ও সংশ্লিষ্ট সেবা এবং কার্য ও ভৌত সেবা তাহাদের বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে কেবল সীমিত সংখ্যক যোগ্যতাসম্পন্ন সম্ভাব্য সরবরাহকারী বা ঠিকাদারের নিকট হইতে প্রাপ্তিসাধ্য (যথা- বিমান, রেল ইঞ্জিন, বিশেষায়িত চিকিৎসা সরঞ্জাম, গর্ভনিরোধক সামগ্রী, টেলি-যোগাযোগ সরঞ্জামাদি, খাদ্য-গুদাম,বন্দর, পোতাশ্রয়, ইত্যাদি); বা

(খ) জরুরী প্রয়োজনে পণ্য, কার্য বা সেবা ক্রয়ের ক্ষেত্রে উন্মুক্ত অভ্যন্তরীণ অথবা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র প্রক্রিয়া গ্রহণ বাস্তবসম্মত নহে বলিয়া প্রতীয়মান হইলে; বা

(গ) যে পরিস্থিতির কারণে উপ-দফা (খ) এ বর্ণিত জরুরী অবস্থার উদ্ভব হইয়াছে,ক্রয়কারী কর্তৃক উহার পূর্বানুমান সম্ভব ছিল না অথবা ক্রয়কারীর দীর্ঘসূত্রতার কারণেও তাহা সূচিত হয় নাই; বা

(ঘ) যে সকল ক্ষেত্রে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় হ্রাস এবং খুচরা যন্ত্রাংশের মজুদ সীমিতকরণের লক্ষ্যে সরকার নির্দিষ্ট কতিপয় ব্র্যান্ডের (যথা-কম্পিউটার , গবেষণাগারের যন্ত্রপাতি, গবেষণার যন্ত্রপাতি ইত্যাদি) প্রমিতকরণ সংক্রান্ত নীতিমালা প্রবর্তন করিয়াছে।

(২) উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতির মাধ্যমে ক্রয়ে আবশ্যক সময় এবং প্রশাসনিক ব্যয় ক্রয়ের জন্য নির্ধারিত পণ্য বা কার্যের মূল্যের তুলনায় অধিক হইলে, ক্রয়কারী, তফসিল-২ এ বর্ণিত মূল্যসীমা সাপেক্ষে, তালিকাভুক্ত সরবরাহকারী বা ঠিকাদারদের নিকট হইতে দরপত্র আহবান করিতে পারিবে।

(৩) মূল্যায়িত সর্বনিন্ম দর যদি উপ-বিধি (২) এ বর্ণিত মূল্যসীমার অধিক হয়, তাহা হইলে পরবর্তী উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট হইতে উক্ত ক্ষেত্রে চুক্তি সম্পাদনের অনুমোদন গ্রহণ করিতে হইবে।

(৪) সীমিত দরপত্র পদ্ধতি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধান অথবা তাহার নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার পূর্বানুমোদন গ্রহণ করিতে হইবে।

(৫) এই পদ্ধতির অধীন দরপত্র জামানত প্রদান ও অনুমিত রক্ষণযোগ্য অর্থ বাধ্যতামূলক করা যাইবে না, তবে তফসিল-২ এ বিধি ২৭(১) এর বিপরীতে বর্ণিত হারে কার্যসম্পাদন জামানত গ্রহণ করিতে হইবে;

৬৪। সীমিত দরপত্র ক্রয় পদ্ধতি ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনুসরণীয় কার্যপ্রণালী।-

(১) বিশেষায়িত পণ্য এবং সংশ্লিষ্ট সেবা এবং কার্য ও ভৌত সেবা ক্রয়ের প্রয়োজনে ক্রয়কারী যদি সরবরাহকারীর সংখ্যাল্পতা সম্পর্কে অবহিত থাকে, তাহা হইলে সরাসরি সম্ভাব্য সরবরাহকারীদের নিকট হইতে দরপত্র আহবান করিতে পারিবে।

(২) বিধি ৫২ এর অধীন ক্রয়কারী কর্তৃক সম্ভাব্য সরবরাহকারী অথবা ঠিকাদারদের হালনাগাদকৃত তালিকা সংরক্ষণ করা হইলে, সেই ক্ষেত্রে বিধি ৬৩(২) এর অধীন ক্রয়ের ক্ষেত্রে উক্ত তালিকাভুক্ত সরবরাহকারী বা ঠিকাদারদের নিকট হইতে দরপত্র আহ্বান করা যাইতে পারে।

(৩) উপ-বিধি (২) এর আওতায় দরপত্র আহ্বান ছাড়াও প্রতিযোগিতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ক্রয়কারীর ওয়েবসাইটে, যদি থাকে এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, স্থানীয় পত্রিকাতেও সংক্ষিপ্ত আকারে যুগপৎ বিজ্ঞাপন প্রদান বাঞ্ছনীয় হইবে, যদি এইরূপ বিজ্ঞাপনের কারণে এই ক্রয় পদ্ধতি প্রয়োগের উদ্দেশ্য অর্থাৎ সময় ও অর্থ সাশ্রয়ের উদ্দেশ্য ব্যাহত না হয়।

(৪) সম্ভাব্য সরবরাহকারী বা ঠিকাদারগণের হালনাগাদকৃত তালিকা সংরক্ষণ করে না, এমন ক্রয়কারী অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্রয়কারী কর্তৃক সংরক্ষিত অথবা এতদুদ্দেশ্যে সিপিটিইউ এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সরবরাহকারী ও ঠিকাদারগণের তালিকা ব্যবহার করিতে পারিবে।

(৫) দরপত্র দাখিলের জন্য প্রদেয় সময় তফসিল-২ অনুযায়ী নির্ধারিত হইবে।

(৬) বিধি ৬৩(২) এর অধীন কার্যক্রেমের ক্ষেত্রে Activity Schedule এর ভিত্তিতে প্রণীত Lump-sum দরপত্র দলিল ব্যবহার করা যাইবে।

 

অংশ-৩: অভ্যন্তরীণ ক্রয় – দুই পর্যায় বিশিষ্ট দরপত্র পদ্ধতি

৬৫। দুই পর্যায় বিশিষ্ট দরপত্র পদ্ধতি প্রয়োগের শর্ত।-

(১) ক্রয়কারী, টার্ন-কী চুক্তি বা বৃহদাকার জটিল প্রকৃতির প্লান্ট স্থাপন সংক্রান্ত চুক্তির (যথা-প্রক্রিয়াকরণ স্থাপনা সরবরাহ, স্থাপন এবং চালুকরণ, বা জটিল প্রকৃতির কার্য বা যোগাযোগ প্রযুক্তি সংক্রান্ত চুক্তি ইত্যাদি) ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করিতে পারিবে।

(২) দুই পর্যায় বিশিষ্ট ক্রয়পদ্ধতিতে ক্রয়ের ক্ষেত্রে, জটিল বলিতে যে সকল ক্রয়ের ক্ষেত্রে, দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির কারণে পূর্ব হইতেই পূর্ণাঙ্গ কারিগরী বিনির্দেশ নির্ধারণ করা ক্রয়কারীর সর্বোত্তম স্বার্থের অনুকূল নাও হইতে পারে বা বিকল্প কারিগরী সমাধান বিদ্যমান থাকার সম্ভাবনা থাকা সত্বেও, ক্রয়কারী তদ্বিষয়ে ওয়াকিবহাল না থাকায় পূর্ণাংগ কারিগরী বিনির্দেশ প্রণয়নে ক্রয়কারীর সক্ষমতার অভাব রহিয়াছে তাহা বুঝাইবে।

৬৬। দুই পর্যায় বিশিষ্ট দরপত্র পদ্ধতি প্রয়োগের ক্ষেত্রে অনুসরণীয় কার্যপ্রণালী।-

(১) প্রথম পর্যায়ে ক্রয়কারী মূল্য উল্লেখব্যতিরেকে একটি ধারণাগত ডিজাইনের রূপরেখা সম্বলিত কারিগরী প্রস্তাব দাখিলের আহ্বান জানাইয়া বিজ্ঞাপন প্রকাশ করিবে এবং উক্ত ধারণাগত ডিজাইনে সম্ভাব্য দরপত্রদাতাগণের জন্য মৌলিক কারিগরী তথ্য (যথা-প্রত্যাশিত কার্য-সম্পাদনের উৎপাদন ক্ষমতা সংক্রান্ত শর্ত, কারিগরী বিনির্দেশের রূপরেখা ও ক্রয়ের জন্য নির্ধারিত বিষয়ের বাহ্যিক চিত্র, পরিচালনা ও আর্থিক বিষয়াদি ইত্যাদি) সবিস্তারে উল্লেখ থাকিবে।

(২) উপ-বিধি (১) এর অধীন বিজ্ঞাপনে কারিগরী প্রস্তাবের গ্রহণযোগ্যতা নির্ধারণের মানদণ্ডের উল্লেখ করিতে হইবে, যাহার মধ্যে নিম্নবর্ণিত বিষয়েরও উল্লেখথাকিবে-

(ক) দরপত্রদাতার ব্যবস্থাপনাগত এবং কারিগরী যোগ্যতা; এবং
(খ) সংশ্লিষ্ট ক্রয়কারীর ক্রয়ের চাহিদা পূরণে দরপত্রদাতা কর্তৃক দাখিলকৃত কারিগরী প্রস্তাবের কার্যকারিতা এবং ভবিষ্যৎ অভিযোজ্যতা (adaptability)।

(৩) প্রথম পর্যায়ে দরপত্রদাতাগণ কর্তৃক দরপত্রের সহিত কোন দরপত্র জামানত দাখিলের প্রয়োজন হইবে না

(৪) কারিগরী প্রস্তাব আহবানের পরিপ্রেক্ষিতে, দরপত্রদাতাগণ ক্রয়কারীর চাহিদার শর্ত যথাযথভাবে পূরণে পণ্য ও সংশ্লিষ্ট সেবা এবং কার্য ও ভৌত সেবার কারিগরী মান, গুণাবলী, এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্য উল্লেখপূর্বক কারিগরী প্রস্তাব দাখিল করিবে, এবং চুক্তি সম্পাদন ব্যবস্থাপনায় সহায়ক শর্তাবলী সম্পর্কে তাহাদের মতামত ব্যক্ত করিবে।

(৫) প্রথম পর্যায়ে কারিগরী প্রস্তাব দাখিলের জন্য তফসিল-২ এ বর্ণিত ন্যূনতম সময় প্রদান করিতে হইবে।

৬৭। দুই পর্যায় বিশিষ্ট দরপত্র পদ্ধতিতে প্রথম পর্যায়ের মূল্যায়ন।-

(১) মূল্যায়ন কমিটি প্রাপ্ত সকল কারিগরী প্রস্তাব মূল্যায়ন করিবে এবং বিধি ৬৫ এর অধীন ক্রয়ের জটিল প্রকৃতি বিবেচনায়, ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধান বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে সংশ্লিষ্ট দরপত্র মূল্যায়নে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে একটি কারিগরী সাব-কমিটি, অথবা উপকার ভোগী বা অন্য কোন প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট ক্রয়ের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট জ্ঞানের অধিকারী কারিগরী বিশেষজ্ঞগণের সহায়তা গ্রহণ করিতে পারিবে।

(২) দরপত্রের শর্ত মোতাবেক দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি দরপত্রের নির্ধারিত শর্তের আলোকে গ্রহণযোগ্য দরপত্র চিহ্নিত করার উদ্দেশ্যে দরপত্রসমূহ পর্যালোচনা করিবে, তবে অন্য যে সমস্ত দরপত্র গ্রহণযোগ্য হইবে না, সেই সকল দরপত্র পরবর্তীতে বিবেচনাযোগ্য হইবে না।

(৩) দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি প্রয়োজনে সকল দরপত্রদাতাগণের সহিত দরপত্র মূল্য ব্যতীত, প্রস্তাবিত অন্য যে কোন বিষয়ে পৃথকভাবে এবং গোপনীয়তার সহিত আলোচনা করিবে এবং প্রত্যেক দরপত্রদাতা দরপত্রের গোপনীয়তা রক্ষা করিবে এবং অন্য কোন দরপত্রদাতার নিকট কোন গোপনীয় তথ্য বা পরিকল্পনা প্রকাশ করিবে না।

(৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীন আলোচনান্তে মূল্যায়ন কমিটি প্রত্যেক গ্রহণযোগ্য দরপত্রদাতার বরাবরে উহার কারিগরী প্রস্তাবে আবশ্যকীয় পরিবর্তনের রূপরেখা সম্বলিত দরপত্র সমন্বয় সংক্রান্ত কার্যবিবরণী প্রেরণ করিবে, যাহা দ্বিতীয় পর্যায়ের দরপত্রে অন্তর্ভুক্ত করার ব্যাপারে ক্রয়কারী সম্মত হইয়াছে।

(৫) মূল্যায়ন কমিটির সকল সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট দরপত্রদাতাগণ কর্তৃক স্বাক্ষরিত খসড়া দরপত্র সমন্বয় সংক্রান্ত কার্যবিবরণীসহ মূল্যায়ন প্রতিবেদন অনুমোদনের জন্য ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধান বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের নিকট তফসিল-২ এ বর্ণিত সময়সীমার মধ্যে দাখিল করিতে হইবে।

(৬) অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ মূল্যায়ন প্রতিবেদনের কোন বিষয়ে একমত পোষণ না করিলে বিষয়টি সম্পর্কে বিধি ১১ এর বিধান মোতাবেক পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে হইবে।

৬৮। দুই পর্যায় বিশিষ্ট পদ্ধতিতে দ্বিতীয় পর্যায়ের মূল্যায়নে অনুসরণীয় কার্যপ্রণালী।-

(১) দ্বিতীয় পর্যায়ের কার্যধারা শুরু করিবার পূর্বে, ক্রয়কারী সম্মত নূতন কারিগরী পরিধির আলোকে দরপত্র সংশোধনপূর্বক দ্বিতীয় পর্যায়ের জন্য দরপত্র মূল্যায়নের নির্ণায়কসমূহ স্থির করিবে।

(২) স্বচ্ছতা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তির অধিকার (Intellectual property rights) সহিত সংগতি রক্ষাকল্পে, দ্বিতীয় পর্যায়ে দরপত্র দলিল সংশোধনের সময়, প্রথম পর্যায়ে প্রদত্ত দরপত্রদাতাদের কারিগরী প্রস্তাবের গোপনীয়তা রক্ষা করিতে হইবে।

(৩) প্রথম পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য সকল দরপত্রদাতাকে দ্বিতীয় পর্যায়ের দরপত্র দলিল ও দরপত্র সমন্বয় সংক্রান্ত প্রতিটি কার্যবিবরণীর শর্তানুসারে, তফসিল-২ এ বর্ণিত ন্যূনতম সময় প্রদান পূর্বক মূল্য সম্বলিত সর্বোত্তম ও চূড়ান্ত দরপত্র (‘best and final’ tenders) দাখিলের জন্য আহ্বান জানাইতে হইবে।

(৪) দ্বিতীয় পর্যায়ের দরপত্র প্রক্রিয়ায় দরপত্র দাখিল, উন্মুক্তকরণ, মূল্যায়ন এবং চুক্তি সম্পাদন প্রক্রিয়া উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি প্রয়োগের ক্ষেত্রে অনুসরণীয় প্রক্রিয়ার অনুরূপ হইবে।

 

অংশ-৩ক: অভ্যন্তরীণ ক্রয় ও এক ধাপ দুই খাম দরপত্র পদ্ধতি

৬৮ক। এক ধাপ দুই খাম দরপত্র পদ্ধতি প্রয়োগের শর্ত।-

(১) টার্ন-কী চুক্তি বা বৃহদাকার প্লান্ট স্থাপন সংক্রান্ত চুক্তির (যথা-প্রক্রিয়াকরণ স্থাপনা সরবরাহ, স্থাপন এবং চালুকরণ, বা বৃহদাকার কার্য বা যোগাযোগ প্রযুক্তি সংক্রান্ত চুক্তি ইত্যাদি) ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ কারিগরি বিনির্দেশ, কার্যের হিসাব সম্বলিত বিবরণ (Bill of Quantities) বা আবশ্যকীয় পণ্যের সরবরাহ সম্বলিত বিবরণ (Schedule of Requirement), ডিজাইন ইত্যাদিসহ পূর্ণাঙ্গ দরপত্র দলিল প্রণয়ন করিতে ক্রয়কারী সক্ষম হইলে, তিনি ধারা ৩২ এর উপর উপ-ধারা (১) এবং দফা (গগ) এর বিধান অনুসারে এক ধাপ দুই খাম দরপত্র পদ্ধতি প্রয়োগ করিতে পারিবেন।

(২) এক ধাপ দুই খাম দরপত্র পদ্ধতি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধান অথবা তাহার নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার পূর্বানুমোদন গ্রহণ করিতে হইবে।

৬৮খ। এক ধাপ দুই খাম দরপত্র পদ্ধতি প্রয়োগের ক্ষেত্রে অনুসরণীয় কার্যপ্রণালী।-

(১) ক্রয়কারী প্রত্যেক দরদাতাকে কারিগরি এবং আর্থিক প্রস্তাব যথাযথভাবে বিহ্নিত পৃথক পৃথক দুইটি খামে সীলগালা করিয়া অন্য একটি বহিঃস্থ খামে স্থাপন ও উক্ত বহিঃস্থ খাম পুনরায় সীলগালা করিয়া দরপত্র জমাদানের আহ্বান জানাইয়া বিজ্ঞাপন প্রকাশ করিবে।

(২) দরপত্রদাতাকে কারিগরি প্রস্তাবের সহিত বিজ্ঞাপনে বর্ণিত স্থির অংকে (rounded fixed amount) দরপত্র জামানত দাখিল করিবার জন্য আহ্বান জানাইতে হইবে।

(৩) বিধি ৬১ এর উপ-বিধি (৪) এর অধীনে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতির জন্য প্রদেয় সময় এই বিধির অধীনে আলোচ্য দরপত্র পদ্ধতির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হইবে।

৬৮গ। এক ধাপ দুই খাম দরপত্র পদ্ধতিতে কারিগরি প্রস্তাব উন্মুক্তকরণ ও মূল্যায়ন।-

(১) উন্মুক্তকরণ কমিটি বিধি ৯৭ প্রতিপালনপূর্বক প্রথমে শুধুমাত্র কারিগরি প্রস্তাব দরপত্র দলিলে উল্লিখিত স্থানে ও সময়ে উন্মুক্ত করিবেঃ

তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত বিধিতে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কারিগরি প্রস্তাব উন্মুক্তকরণের সময় উক্ত বিধির উপ-বিধি (৪) এর দফা (চ) এর উপ-দফা (ই), (ঈ) ও উপ-বিধি (৫) এবং তফসিল-৪ এর অংশ এর serial no. (15), (16) ও (24) প্রযোজ্য হইবে না।

(২) কারিগরি প্রস্তাব গৃহীত ও উন্মুক্ত করিবার পর কোন অবস্থাতেই কারিগরি প্রস্তাব সংশোধন বা পরিবর্তন করা যাইবে না।

(৩) বিধি ৯৮ অনুযায়ী দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি দরপত্র দলিলে উল্লিখিত শর্ত, কারিগরি যোগ্যতা ও নির্ণায়কসমূহের আলোকে কৃতকার্যতা বা অকৃতকার্যতার (pass or fail) ভিত্তিতে কারিগরি প্রস্তাবসমূহ মূল্যায়ন করিবে।

(৪) দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি প্রতটি দরদাতার কারিগরি প্রস্তাব কারিগরি যাগ্যতার শর্তসমূহ পূরণ করে কি না উহা নিরূপণ করিবে এবং কারিগরি যোগ্যতার শর্তসমূহ পূরণ না করিলে উক্ত দরপত্র নন-রেসপনসিভ বলিয়া বিবেচিত হইবে।

(৫) কারিগরি প্রস্তাবসমূহের মূল্যায়ন সমাপ্ত হইবার পর উক্ত মূল্যায়ন প্রতিবেদন ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধান বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি কর্তৃক অনুমোদিত হইতে হইবেঃ

তবে শর্ত থাকে যে, উক্তরূপ অনুমোদিত না হওয়া পর্যন্ত আর্থিক প্রস্তাবসমূহ ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধান বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি একটি নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করিবে।

৬৮ঘ। এক ধাপ দুই খাম দরপত্র পদ্ধতিতে আর্থিক প্রস্তাব উন্মুক্ত ও মূল্যায়ন।-

(১) ক্রয়কারী কার্যালয়ের প্রধান বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি কর্তৃক কারিগরি মূল্যায়ন প্রতিবেদন অনুমোদনের পর ক্রয়াকারী কারিগরি মূল্যায়নে কৃতকার্য দরদাতাদেরকে আর্থিক প্রস্তাব উন্মুক্তকরণ স্থান, তারিখ ও সময় জানাইয়া প্রকাশ্যে উন্মুক্তকরণ সভায় উপস্থিত থাকিবার জন্য লিভিতভাবে অনুরোধ করিবে।

(২) দরপত্র উন্মুক্তকরণ সভায় দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি কারিগরি মূল্যায়নে কৃতকার্য সকল দরদাতার আর্থিক প্রস্তাব বিধি ৯৭ অনুযায়ী উন্মুক্ত করিবে।

(৩) দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি বিধি ৯৮ অনুযায়ী আর্থিক প্রস্তাব মূল্যায়নপূর্বক সর্বনিম্ন মূল্যায়িত দরদাতা নির্বাচন করিবে।

(৪) ক্রয়কারী কৃতকার্য দরপত্রদাতার সহিত চুক্তি স্বাক্ষরের পর, কারিগরি প্রস্তাব মূল্যায়নের নন-রেসপনসিভ বিবেচিত দরপত্রদাতাদের নন-রেসপনসিভ হওয়ার বিষয়টি অবহিত করিবে এবং আর্থিক প্রস্তাব উন্মুক্ত করিয়া ফেরত দিবে।

 

অংশ-৪: অভ্যন্তরীণ ক্রয় – কোটেশন প্রদানের অনুরোধ জ্ঞাপন পদ্ধতি

৬৯। কোটেশন প্রদানের অনুরোধ জ্ঞাপন পদ্ধতি প্রয়োগের ক্ষেত্রে অনুসরণীয় কার্যপ্রণালী, শর্তাবলী, ইত্যাদি।-

(১) ক্রয়কারী বাজারে বিদ্যমান প্রমিত মানের স্বল্প মূল্যের সহজলভ্য পণ্য ও সংশ্লিষ্ট সেবা, এবং স্বল্পমূল্যের সাধারণ কার্য ও ভৌত সেবা ক্রয়ের ক্ষেত্রে তফসিল-২ এ উন্নয়ন এবং রাজস্ব বাজেটের জন্য পৃথকভাবে নির্দিষ্টকৃত মূল্যসীমা অতিক্রম না করা সাপেক্ষে কোটেশন প্রদানের অনুরোধ জ্ঞাপন পদ্ধতি প্রয়োগ করিতে পারিবে।

(২) অপপ্রয়োগ রোধ নিশ্চিতকল্পে, ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধান কোটেশন প্রদানের অনুরোধ জ্ঞাপন পদ্ধতির প্রয়োগ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করিবেন এবং এই বিধিতে উল্লিখিত আইটেমসমূহের মধ্যেই যেন ক্রয় সীমিত থাকে তাহার নিশ্চয়তা বিধান করিবেন।

(৩) বিধি ১৬(৭) এর অধীন অনুমোদিত ক্রয় পরিকল্পনায় সংশ্লিষ্ট ক্রয়ের জন্য কোটেশন পদ্ধতি নির্ধারিত না থাকিলে, কোটেশন প্রদানের অনুরোধ জ্ঞাপন পদ্ধতি প্রয়োগের ক্ষেত্রে ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধান বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার লিখিত অনুমোদন আবশ্যক হইবে।

(৪) কোটেশন প্রদানের অনুরোধ জ্ঞাপন পদ্ধতি প্রয়োগের যথার্থতা নিরূপণে নিম্নবর্ণিত বিষয়াদি বিবেচনা করিতে হইবে-

(ক) দরপত্র কার্যক্রমে অধিকতর প্রতিযোগিতা পরিহার বা কোটেশন প্রদানের অনুরোধ জ্ঞাপন পদ্ধতি প্রয়োগে ক্রয়ের জন্য সম্ভাব্য বৃহদাকার চুক্তিকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে ভাগ করা যাইবে না;
(খ) কোটেশন প্রদানের অনুরোধ জ্ঞাপন পদ্ধতির মাধ্যমে কোন ক্রয়ের ক্ষেত্রে জটিল দলিলপত্র সম্পাদন বা সাধারণ দরপত্র পদ্ধতিতে ব্যবহৃত আনুষ্ঠানিকতার প্রয়োজন হইবে না।

(৫) স্বল্প মূল্যের সাধারণ কার্য বা ভৌত সেবা ক্রয়ের ক্ষেত্রে, নিম্নবর্ণিতভাবে কোটেশন দাখিলের অনুরোধ জ্ঞাপন করা যাইবে-

(ক) যুক্তিসঙ্গতভাবে সঠিক ক্রয়ের পরিমাণ প্রাক্কলন করা সম্ভব হইলে, একক হারের (unit rate) ভিত্তিতে দর উদ্ধৃতকরণ; বা
(খ) যুক্তিসঙ্গতভাবে ক্রয়ের পরিমাণ অগ্রিম নিরূপণ বা পূর্বানুমান করা সম্ভব না হইলে, ব্যয় ও পারিশ্রমিক (cost plus fee) একত্রে যোগ করিয়া মূল্য উদ্ধৃতকরণ; বা
(গ) স্বল্প মূল্যের কার্য বা ভৌত সেবা মূল্যের সঠিক প্রাক্কলন করা গেলে থোক মূল্য উদ্ধৃতকরণ।

(৬) ক্রয়কারী, রক্ষণাবেক্ষণ বা জরুরী মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় পণ্য এবং সংশ্লিষ্ট সেবা ক্রয়ের নিমিত্তে নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রসমূহে কোটেশন প্রদানের অনুরোধ জ্ঞাপন পদ্ধতি প্রয়োগ করিতে পারিবে

(ক) তফসিল-২ এ বর্ণিত মূল্যসীমা অতিক্রম না করা সাপেক্ষে, জন-উপযোগমূলক সরকারী প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ওয়ার্কসপের রক্ষণাবেক্ষণ বা জরুরী মেরামত কাজের জন্য (যথা- বাস, রেল ইঞ্জিন, মালবাহী বা যাত্রীবাহী রেল বগী, ফেরী, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বা স্থাপনা, টেলি-যোগাযোগ স্থাপনা, গ্যাস স্থাপনা, পানি স্থাপনা ইত্যাদি) ক্রয়কারী কর্তৃক কোন খুচরা যন্ত্রাংশ অথবা সংশ্লিষ্ট সেবা ক্রয়; বা
(খ) তফসিল-২ এ বর্ণিত মূল্যসীমা অতিক্রম না করা সাপেক্ষে, জাতীয় পতাকাবাহী বাহনের রক্ষণাবেক্ষণ ও জরুরী মেরামত কাজের জন্য পণ্য ও সংশ্লিষ্ট সেবা ক্রয়; বা
(গ) তফসিল-২ এ বর্ণিত মূল্যসীমা অতিক্রম না করা সাপেক্ষে, সরকারী শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রক্রিয়াজাতকরণ ও উৎপাদন কারখানার (যথা- সার, রাসায়নিক, ই¯পাত ও প্রকৌশল, সিমেন্ট, পেট্রোলিয়াম, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প ইত্যাদি) নিজস্ব ওয়ার্কসপে প্রক্রিয়াজাতকরণ ও উৎপাদন কারখানার রক্ষণাবেক্ষণ বা জরুরী মেরামত কাজের জন্য কোন খুচরা যন্ত্রাংশ বা সংশ্লিষ্ট সেবা ক্রয়।

৭০। কোটেশন পদ্ধতির ক্ষেত্রে আবশ্যক তথ্য, দলিলাদি, ইত্যাদি।-

(১) কোটেশন প্রদানের অনুরোধ জ্ঞাপন পত্রে, পণ্য ও সংশ্লিষ্ট সেবা বা স্বল্পমূল্যের সাধারণ কার্য বা ভৌত সেবা ক্রয়ের ক্ষেত্রে ক্রয়কারীর সুনির্দিষ্ট প্রয়োজনের বিবরণ যেমন- মান, সংখ্যা অথবা পণ্যের পরিমাণ, ভৌত সেবার পরিসর এবং উহার মেয়াদ, সরবরাহ বা কার্য সম্পাদনের সময়, মূল্য পরিশোধের শর্তাবলী এবং বিশেষ প্রয়োজনীয় বিষয়াদিসহ পণ্যের চালান পদ্ধতি (Invoicing procedures) সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ এবং অন্তর্ভুক্ত করিতে হইবে।

(২) দরপত্রদাতাগণকে যোগ্যতার সমর্থনে বৈধ ট্রেড লাইসেন্স, আয়কর সনাক্তকরণ নম্বর (TIN), ভ্যাট নিবন্ধন নম্বর সংক্রান্ত দালিলিক প্রমাণাদি এবং আর্থিক স্বচ্ছলতার সমর্থনে ব্যাংকের সনদপত্র দাখিল করিবার জন্য অনুরোধ করা যাইবে।

(৩) দরপত্রদাতাগণকে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতির ক্ষেত্রে যে পদ্ধতিতে মূল্য উদ্ধৃত করা হয়, সেই একই পদ্ধতিতে মূল্য বা দর উদ্ধৃত করিবার জন্য অনুরোধ জ্ঞাপন করিতে হইবে।

(৪) পণ্য ও সংশ্লিষ্ট সেবা বা স্বল্প মূল্যের সাধারণ কার্য বা ভৌত সেবা ক্রয়ের ধরন ও মূল্য বিবেচনায় কোটেশন প্রদানের অনুরোধ জ্ঞাপন পত্রে উহা যে নির্ণায়কের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হইবে উহার উল্লেখথাকিতে হইবে।

(৫) কোটেশন প্রদানের অনুরোধ জ্ঞাপন পদ্ধতির জন্য নির্ধারিত আদর্শ দলিল ব্যবহার করিবে।

(৬) কোটেশন প্রদানের অনুরোধ জ্ঞাপন পদ্ধতি প্রয়োগের ক্ষেত্রে দরপত্র জামানত বা কার্যসম্পাদন জামানতের প্রয়োজন হইবে না ।

৭১। কোটেশন আহবানের ক্ষেত্রে অনুসরণীয় কার্যপ্রণালী।-

(১) ক্রয়কারী পত্র, ফ্যাক্স বা ইলেকট্রনিক মেইলের মাধ্যমে সরবরাহকারীদের নিকট হইতে কোটেশন আহবান করিবে এবং উহাতে কোটেশন দাখিলের সর্বশেষ সময়সীমার উল্লেখ থাকিবে।

(২) কোটেশন প্রদানের অনুরোধ জ্ঞাপনের বিজ্ঞাপন পত্রিকায় প্রকাশের প্রয়োজন নাই, তবে ন্যূনতম প্রচারের লক্ষ্যে ক্রয়কারীর নোটিশ বোর্ডসহ উহার ওয়েবসাইটে, যদি থাকে, উক্ত বিজ্ঞাপন প্রকাশ করিতে হইবে এবং ক্রয়কারীর নিকটবর্তী অন্য ক্রয়কারীর প্রশাসন শাখার নিকট, প্রচারের অনুরোধপূর্বক, প্রেরণ করিতে হইবে।

(৩) কোটেশন প্রদানের অনুরোধ জ্ঞাপন দলিলের জন্য কোন মূল্য আদায় করা যাইবে না।

(৪) তফসিল-২ এ বর্ণিত সময়সীমা সাপেক্ষে, কোটেশন দাখিলের জন্য প্রদত্ত সময় যথাসম্ভব কম বা যুক্তিসঙ্গত হইবে।

(৫) ক্রয়কারী সংশ্লিষ্ট পণ্য বা কার্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে উহার সুনির্দিষ্ট চাহিদা বিবেচনার পাশাপাশি দরপত্রদাতাগণের সুনাম এবং যোগ্যতা বিবেচনাপূর্বক সতর্কতার সঙ্গে দরপত্রদাতা নির্বাচন করিয়া কোটেশন দাখিলের আহ্বান জানাইবে।

(৬) ক্রয়কারী যথাসম্ভব সর্বোচ্চ সংখ্যক দরদাতার নিকট হইতে কোটেশন আহ্বান করিবে এবং দরপত্রদাতাগণ কর্র্তৃক উদ্ধৃত দরের প্রতিযোগিতামূলক ভিত্তি নিশ্চিত করিবার লক্ষ্যে কমপক্ষে ৩(তিন)টি রেসপনসিভ কোটেশন আবশ্যক হইবে।

(৭) সন্তোষজনক সংখ্যক গ্রহণযোগ্য কোটেশন না পাওয়ার ঝুঁকি হ্রাসের লক্ষ্যে, ক্রয়কারী সম্ভাব্য দরপত্রদাতাগণ কোটেশন দাখিল করিবে কি করিবে না সেই সম্পর্কে নিশ্চিত হইয়া, কোটেশন দাখিল করিবে না এইরূপ দরপত্রদাতাদের স্থলে অন্য দরপত্রদাতাগণকে কোটেশন দাখিলের অনুরোধ জ্ঞাপন করিবে।

(৮) যতক্ষণ পর্যন্ত সম্ভাব্য দরপত্রদাতাগণ উত্তমরূপে কার্য সম্পাদন এবং সাশ্রয়ী দর নিশ্চিত করে, ততক্ষণ পর্যন্ত সকল সম্ভাব্য দরপত্রদাতার প্রতি সম-আচরণ নিশ্চিত করা এবং সরবরাহের উৎস সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে ক্রয়কারী ইহা নিশ্চিত করিবে যে, একই দরপত্রদাতার নিকট হইতে সর্বদা কোটেশন আহ্বান করা হইবে না।

(৯) বাংলাদেশে বসবাসকারী এবং বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে নিবন্ধিত ব্যক্তিবর্গের মধ্যেই এবং বাংলাদেশেই একাধিক উৎস হইতে প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে প্রাপ্তিসাধ্য এইরূপ পণ্য, স্থানীয়ভাবে বা বিদেশে উৎপাদিত পণ্য ক্রয়ের মধ্যে সাধারণত এই কোটেশন প্রদানের অনুরোধ জ্ঞাপন পদ্ধতি সীমিত থাকিবে।

৭২। কোটেশন দাখিল পদ্ধতি।-

(১) দরপত্রদাতা একটি সীলগালা করা খামের উপরি অংশে সুস্পষ্টভাবে “কোটেশন” শব্দটি লিপিবদ্ধ করিয়া, অথবা ফ্যাক্স বা ইলেকট্রনিক মেইলের মাধ্যমে কোটেশন দাখিল করিতে পারিবে।

(২) ক্রয়কারী বন্ধ খামে বা অন্যভাবে প্রাপ্ত সকল কোটেশন গ্রহণের সময় ও তারিখ ঊল্লেখপূর্বক সীলমোহর প্রদান করিয়া গ্রহণ করিবে এবং প্রাপ্ত কোটেশনসমূহ উন্মুক্ত না করিয়া নির্ধারিত তারিখে উহা মূল্যায়নের জন্য দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সভাপতির নিকট প্রেরণ করিবে।

(৩) যদি ক্রয়কারী কোটেশন দাখিলের জন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কমপক্ষে ৩(তিন)টি গ্রহণযোগ্য কোটেশন প্রাপ্ত না হয়, তাহা হইলে অন্যান্য দরপত্রদাতা যাহাদের বরাবরে কোটেশন দাখিলের জন্য অনুরোধপত্র প্রেরণ করা হইয়াছিল, তাহারা কোটেশন দাখিলে আগ্রহী কিনা, এবং আগ্রহী হইলে কত শীঘ্র দাখিল করিতে পারিবে তাহা ক্রয়কারী যাচাই করিবে।

(৪) অতি জরুরী বলিয়া বিবেচিত না হইলে বা ইতোমধ্যে তিন বা ততোধিক কোটেশন প্রাপ্ত না হইলে, ক্রয়কারী অন্যান্য দরপত্রদাতাকে কোটেশন দাখিলের জন্য যুক্তিসঙ্গত অতিরিক্ত সময় প্রদান করিতে পারিবে, এবং উক্ত অতিরিক্ত সময় অতিক্রান্ত হইবার পর কমপক্ষে ৩(তিন)টি গ্রহণযোগ্য কোটেশন পাওয়া গেলে প্রাপ্ত কোটেশনসমূহ মূল্যায়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।

৭৩। কোটেশন মূল্যায়ন এবং ক্রয়াদেশ বা কার্যাদেশ প্রদান।-

(১) সীলগালা করা খামে বা অন্যভাবে প্রাপ্ত সকল কোটেশন উহা দাখিলের জন্য সর্বশেষ সময়সীমার পর ঐ তারিখেই দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি বিধি ৯৮ এর বিধান অনুসারে পরীক্ষা ও মূল্যায়ন করিবে।

(২) কোটেশন মূল্যায়নের ক্ষেত্রে, কোটেশন প্রদানের অনুরোধজ্ঞাপনপত্রে উল্লিখিত শর্তাদি পূরণ হইয়াছে কিনা শুধু তাহা পরীক্ষা করিতে হইবে এবং উক্তরূপে মূল্যায়িত সর্বনিন্ম কোটেশনদাতাকে কার্যাদেশ প্রদানের জন্য নির্বাচিত করিতে হইবে –

তবে শর্ত থাকে যে, বিশেষ পরিস্থিতিতে, কারিগরী, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক বিবেচনায় যুক্তিযুক্ত বলিয়া প্রতীয়মান হইলে, দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি সর্বনিম্ন দর দাখিল করে নাই, এইরূপ কোন দরপত্রদাতাকে কার্যাদেশ প্রদানের জন্য সুপারিশ করিতে পারিবে।

(৩) বিলম্বে সরবরাহের কারণে ক্রয়কারী ক্ষতিগ্রস্ত হইবার সম্ভাবনা থাকিলে দ্রুত সরবরাহ অথবা অবিলম্বে প্রাপ্যতার স্বার্থে সামান্য মাত্রায় উচ্চতর মূল্য যুক্তিযুক্ত বলিয়া বিবেচনা করা যাইবে

তবে শর্ত থাকে যে, দ্রুত সরবরাহের বিষয়টি অনুকূল বিবেচনা লাভ করিবে মর্মে কোটেশন প্রদানের অনুরোধ জ্ঞাপন পত্রে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করিতে হইবে।

(৪) ক্রয়াদেশ বা কার্যাদেশ প্রদানের সুপারিশ প্রণয়নের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক বিবেচনা বিচক্ষণতার সহিত প্রয়োগ করা হইয়াছে বলিয়া মূল্যায়ন প্রতিবেদন হইতে স্পষ্টভাবে প্রতিভাত হইতে হইবে।

(৫) পণ্যের ক্ষেত্রে কৃতকার্য দরপত্রদাতাকে ক্রয়াদেশ প্রেরণ করিতে হইবে এবং কার্য ও ভৌত সেবার ক্ষেত্রে চুক্তিপত্র স্বাক্ষরের জন্য কৃতকার্য দরপত্রদাতাকে আমন্ত্রণ জানাইতে হইবে।

(৬) কৃতকার্য দরপত্রদাতা ক্রয়াদেশ বা কার্যাদেশ প্রাপ্তির বিষয়টি লিখিতভাবে ক্রয়কারী নিশ্চিত করিবে।

(৭) কমপক্ষে ৩ (তিন)টি গ্রহণযোগ্য কোটেশন না পাওয়া গেলে, ক্রয়কারী কোটেশনসমূহ বাতিল বা সরাসরি ক্রয়সহ অন্য কোন পদ্ধতি প্রয়োগ করিয়া সংশ্লিষ্ট ক্রয়কার্য সম্পাদনের সুপারিশ ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধানের নিকট পেশ করিবে।

(৮) সকল দরপত্রদাতার নামের তালিকা, মূল্যসহ প্রাপ্ত কোটেশনের তালিকা এবং মূল্যায়ন প্রতিবেদন বিধি ৪৩ অনুসারে ক্রয়কার্য পরিচালনা সংক্রান্ত রেকর্ডের অন্তর্ভুক্ত করিতে হইবে।

 

অংশ-৫: অভ্যন্তরীণ ক্রয় – সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি

৭৪। সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি।-

(১) ক্রয়কারী দরপত্র প্রক্রিয়া বা অন্য কোন ক্রয় পদ্ধতি প্রয়োগ ব্যতিরেকে, সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি প্রয়োগ করিয়া একটি উৎস হইতে পণ্য ও সংশ্লিষ্ট সেবা, বা কার্য ও ভৌত সেবা ক্রয় করিতে পারিবে, তবে কোন অবস্থাতেই অবাধ প্রতিযোগিতা এড়াইবার বা কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তি, সরবরাহকারী ও ঠিকাদারের প্রতি বৈষম্য সৃষ্টি বা আনুকূল্য প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করা যাইবে না ।

(২) সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে অবাধ প্রতিযোগিতার সুফল পাওয়া যায় না বা স্বচ্ছতার অভাব থাকে বা অগ্রহণযোগ্য এবং প্রতারণামূলক তৎপরতাকে উৎসাহিত করা হইতে পারে বিধায় ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধান এই পদ্ধতির প্রয়োগ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করিবেন।

(৩) এই বিধিমালায় বর্ণিত পরিস্থিতিতেই যেন এই পদ্ধতির প্রয়োগ সীমিত থাকে এবং ইহার কোন অপব্যবহার না হয়, তাহা নিশ্চিত করার জন্য সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি প্রয়োগের সিদ্ধান্ত ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধান বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কর্তৃক অনুমোদিত হইতে হইবেঃ

তবে শর্ত থাকে যে, বিধি ৮১ এবং বিধি-৮২ এ বর্ণিত ক্রয় পদ্ধতির ক্ষেত্রে বাজেট বরাদ্দ এবং বাজেট বিভাজন অনুমোদন সাপেক্ষে, ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধান বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অনুমোদন প্রয়োজন হইবে না।

(৪) ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে, কোন মূল চুক্তির ব্যাপ্তি মোতাবেক কাজ জরুরী ভিত্তিতে সমাপ্ত করা আবশ্যক হইলে, যে অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ মূল চুক্তি সম্পাদনের অনুমোদন প্রদান করিয়াছিল, উহার পরবর্তী উচ্চতর পর্যায়ের কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে তফসিল-২ এ বর্ণিত মূল্যসীমার ঊর্ধ্বের ভেরিয়েশন অর্ডার বা অতিরিক্ত কার্যাদেশ বা পুনরাবৃত্ত ক্রয়াদেশ অথবা অতিরিক্ত পণ্য সরবরাহের আদেশ প্রদান করা যাইবে।

ব্যাখ্যা – মূল অনুমোদনকারী কর্তৃ পক্ষ ক্রয়কারী হইলে, ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধান, এবং ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধান মূল অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ ও সচিব পর্যায়ের নিন্মে হইলে, মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সচিব এবং অনুরূপভাবে পরবর্তী পর্যায়ের কর্তৃপক্ষ, তফসিল-২ এ বর্ণিত মূল্যসীমার ঊর্ধ্বের ভেরিয়েশন অর্ডার বা অতিরিক্ত কার্যাদেশ বা পুনরাবৃত্ত ক্রয়াদেশ অথবা অতিরিক্ত পণ্য সরবরাহের আদেশ অনুমোদন করিবে।

৭৫। সরাসরি ক্রয় চুক্তির ধরন।-

(১) প্রসঙ্গের পরিপন্থী না হওয়া সাপেক্ষে, নিুবর্র্ণিত যে কোন ক্ষেত্রে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি প্রয়োগ করা যাইতে পারে-

(ক) সরাসরি চুক্তি (direct contracting);
(খ) অতিরিক্ত সরবরাহ এবং পুনরাবৃত্ত ক্রয়াদেশ (additional deliveries and repeat orders);
(গ) ভেরিয়েশন অর্ডার (Variation orders);
(ঘ) অতিরিক্ত কার্যাদেশ (extra work order);
(ঙ) সরাসরি নগদ ক্রয় (direct cash purchase); বা
(চ) ফোর্স একাউন্ট (Force account).

(২) এই বিধি অনুসরণে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি প্রয়োগের ক্ষেত্রে ক্রয়কারী উহার প্রয়োজনীয়তা এবং মান, পরিমাণ, এবং সরবরাহের সময় ও শর্তাদির বিস্তারিত বর্ণনা প্রণয়ন করিবে।

(৩) ক্রয়কারী প্রথমে সরাসরি দরপত্রদাতার নিকট হইতে মূল্য সম্বলিত প্রস্তাব (priced offer) আহ্বান করিবে এবং পরবর্তীতে নির্বাচিত একমাত্র দরপত্রদাতার সহিত নিগোসিয়েশন করিতে পারিবে।

(৪) সরাসরি ক্রয়ের ক্ষেত্রে কোন বিজ্ঞাপন প্রকাশের প্রয়োজন হইবে না।

(৫) সরাসরি ক্রয়ের ক্ষেত্রে দরপত্র জামানতের প্রয়োজন নাই, তবে সরবরাহকারী বা ঠিকাদারের নিকট হইতে, বিধি ২৭ এর উপ-বিধি (৯) এবং বিধি ৮১ ও ৮২ এর অধীন ক্রয়ের ক্ষেত্র ব্যতীত, কার্য সম্পাদন জামানত গ্রহণ করিতে হইবে।

(৬) বিধি ৮১ এবং ৮২ এর অধীন ক্রয় ব্যতিরেকে, নূতন চুক্তির ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের মধ্যে নূতন চুক্তি স্বাক্ষর করিতে হইবে এবং ভেরিয়েশন অর্ডার, অতিরিক্ত কার্যাদেশ, পুনরাবৃত্ত ক্রয়াদেশ বা অতিরিক্ত পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে মূল চুক্তির সংশোধন সম্বলিত সংশোধিত চুক্তি স্বাক্ষর করিতে হইবে।

৭৬। সরাসরি চুক্তির প্রয়োগ।-

(১) নিম্নবর্ণিত যে কোন শর্ত প্রতিপালন সাপেক্ষে, ক্রয়কারী কেবল একজন সরবরাহকারী বা ঠিকাদারকে দরপত্র দাখিলের জন্য আহ্বান জানাইতে পারিবে –

(ক) যদি পেটেন্ট, ব্যবসায়িক গোপনীয়তা এবং একক স্বত্বাধিকারের (copyrights) কারণে একই ধরনের পণ্য প্রস্তুতকরণে অন্যদেরকে নিবৃত্ত রাখা হয়, সেইক্ষেত্রে একক স্বত্বাধিকারভুক্ত পণ্য ও সংশ্লিষ্ট সেবা কেবলমাত্র একক স্বত্বাধিকারীর নিকট হইতেই ক্রয়ের ক্ষেত্রে; বা

(খ) কোন নির্দিষ্ট উৎপাদনকারী, সরবরাহকারী বা পরিবেশকের প্রকল্পের কার্য সম্পাদনের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে চুক্তির শর্তানুযায়ী উক্ত উৎপাদনকারী, সরবরাহকারী বা পরিবেশকের নিকট হইতে জটিল ধরনের প্লান্টের গুরুত্বপূর্ণ অংশসমূহ ক্রয় করিতে হইবে মর্মে কোন পূর্বশর্ত থাকিলে; বা

(গ) যে সকল পণ্য কোন একক ডিলার বা উৎপাদনকারী কর্তৃক বিক্রয় করা হয় এবং যাহার এমন কোন সাব-ডিলার নাই যাহারা নিম্নতর মূল্যে উক্ত পণ্য বিক্রয় করিতে পারে, বা অধিকতর সুবিধাজনক শর্তে উহার উপযুক্ত কোন বিকল্প পণ্য প্রাপ্তির সুযোগ নাই; বা

(ঘ) ক্রয়ের সময়ে বলবৎ যুক্তিসঙ্গত বাজারমূল্যে পচনশীল পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে (যেমন- তাজা ফল, সব্জী এবং অনুরূপ পণ্য); বা

(ঙ) ব্যতিক্রমী সুবিধাজনক শর্তে পণ্য ও সংশ্লিষ্ট সেবা ক্রয়, যদি উক্ত পণ্য অতি সাম্প্রতিক কালে উৎপাদিত, অব্যবহৃত এবং উৎপাদনকারীর গ্যারান্টিযুক্ত হয়; বা

(চ) কৃষকের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিতকল্পে সরকার কর্র্তৃক নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের নিকট হইতে সরাসরি কৃষিপণ্য এবং অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ক্রয় করা হইলে; বা

(ছ) বিশেষ ক্ষেত্রে সরকারি মালিকানাধীন শিল্প ও কারখানায় সংযোজিত ও উৎপাদিত পণ্য ও সংশ্লিষ্ট সেবা সরকারের নিজস্ব অর্থে ক্রয় করা হইলে;

ব্যাখ্যা: “সরকারি মালিকানাধীন শিল্প ও কারখানায় সংযোজিত ও উৎপাদিত পণ্য” বলিতে জাহাজে করিয়া ইতোমধ্যে অধিক পরিমাণে কোন বিভাজ্য পণ্য যেমন, খাদ্যশস্য, গম, চিনি, সার, ইত্যাদি বন্দরে আসিয়াছে, তাহা জরুরি প্যাকেটজাত করিবার লক্ষ্যে সরকারি মালিকানাধীন শিল্প ও কারখানা হইতে সরকারের নিজস্ব অর্থে বস্তা ক্রয়, সরকারি কারখানা হইতে যানবাহন বা যন্ত্রপাতি মেরামত, সরকারি কারখানার বিদ্যমান সরঞ্জামাদি অন্য সরকারি কারখানা হইতে মেরামত, ১৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৯/ ৩১ শে ভাদ্র ১৩১৬ তারিখে শিল্প মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারীকৃত শিল্প/স্বস-৩/পার-১১/৮৮/২৫৫ নং প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী কর্পোরেশন, রাষ্ট্রায়ত্ব শিল্প প্রতিষ্ঠান/কারখানা এবং ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের মধ্যে সাব-কন্ট্রাকটিং ব্যবস্থাধীনের মাধ্যমে লিংকেজ স্থাপনপূর্বক ধাতব, প্লাষ্টিক, চীনামাটি প্রভৃতি হইতে প্রস্তুত যন্ত্রপাতি/যন্ত্রাংশ সংগ্রহের জন্য প্রণীত বিধিমালা ও জাতীয় শিল্পনীতি, ২০১০ এর নীতি ১৫.৪ এর (খ) এর আলোকে প্রয়োজনীয় খুচরা যন্ত্রাংশ বা যন্ত্রপাতির চাহিদা দেশীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের মাধ্যমে পূরণ, ইত্যাদিকে বুঝাইবে;

(জ) কোন সরকারী বা বিধিবদ্ধ সংস্থা কর্তৃক অনুমোদিত বিনির্দেশ অনুসারে স্থানীয় ক্ষুদ্র শিল্প প্রতিষ্ঠান হইতে কোন বিশেষায়িত পণ্য ক্রয় করা হইলে; বা

(ঝ) বিদ্যমান সরঞ্জামাদির খুচরা যন্ত্রাংশ ক্রয়ের ক্ষেত্রে, সরবরাহকারীর পরিবর্তনের ফলে যদি সংগৃহীতব্য বা প্রাপ্তব্য খুচরা যন্ত্রাংশ বা সেবা, বিদ্যমান স্থাপনা ও সরঞ্জামাদি, যন্ত্রাংশ বা সেবার ক্ষেত্রে প্রতিস্থাপনযোগ্য না হয়; বা

(ঞ) প্রাকৃতিক দুর্যোগ হইতে উদ্ভূত কোন জরুরী পরিস্থিতি বা অনুরূপ সংকট মোকাবেলায় তফসিল-২ এ বর্ণিত মূল্যসীমার মধ্যে পণ্য, কার্য এবং সেবা ক্রয় করা হইলে; বা

(ট) তফসিল-২ এ বর্ণিত মূল্যসীমা অতিক্রম না করা সাপেক্ষে, অতি জরুরী বা প্রয়োজনীয় পণ্য, কার্য এবং সেবা ক্রয় (যথা: ক্যাটারিং সেবা, অ্যামবুলেন্স সেবা, পরিবহণ সেবা, অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপনা, মেরামত বা রক্ষণাবেক্ষণ কাজ, প্লামবিং সেবা, কাঠের কাজ সংক্রান্ত সেবা, স্থাপত্য সেবা, ইত্যাদি)।

(২) সরকার, আইনের ধারা ৬৮ অনুসারে, জরুরী প্রয়োজনে তফসিল-২ এ বিধি-৭৬(১) এর বিপরীতে বর্ণিত মূল্যসীমার ঊর্ধ্বের ক্রয়ের ক্ষেত্রে, অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সুপারিশক্রমে, সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি প্রয়োগ করিয়া ক্রয়কার্য সম্পন্ন করিতে পারিবে।

(৩) দারিদ্র্য নিরসনের লক্ষ্য সম্বলিত প্রকল্পের প্রকল্প দলিলে বা কর্মসূচীতে অথবা অন্য কোন অনুমোদিত প্রকল্প দলিল বা কর্মসূচীতে, সংস্থান থাকা সাপেক্ষে, প্রকল্পের বা কর্মসূচীর পরিচালন ম্যানুয়াল (Operation manual) অনুসরণক্রমে প্রকল্পের বা কর্মসূচীর সুবিধাভোগী সংগঠন, ভূমিহীন জনগোষ্ঠী অথবা গ্রামীণ সংগঠনের সহিত ক্রয়কারী সরাসরি চুক্তি সম্পাদন করিতে পারিবেঃ

তবে শর্ত থাকে যে, প্রকল্প বা কর্মসূচী বাস্তবায়ন কমিটি উক্ত ম্যানুয়াল অনুসরণে ক্ষুদ্র কার্য, আনুষঙ্গিক মালামাল অথবা সরাসরি শ্রম ক্রয় করিবে।

(৪) স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহ (জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ) প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি, শ্রম চুক্তি সমিতি, স্কীম বাস্তবায়ন কমিটি বা অন্য কোন কমিটি, উহা যেই নামে অভিহিত করা হউক না কেন, এর মাধ্যমে স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক সময় সময় জারীকৃত নির্দেশিকায় বর্ণিত আর্থিক সীমা ও পদ্ধতি অনুসরণপূর্বক কোন প্রকল্পের জন্য ক্ষুদ্র কার্য, পণ্য এবং সরাসরি শ্রম ক্রয় করিতে পারিবে।

(৫) ক্যাটারিং সার্ভিস, নিরাপত্তা সেবা, কুরিয়ার ডাক সেবা বা অনুরূপ অন্য কোন সেবার ন্যায় একক সেবাদানমূলক কাজ (stand alone service) সংক্রান্ত মূল ঠিকাদারের সহিত সম্পাদিত চুক্তি বৎসরভিত্তিক বা সীমিত কালের জন্য অনধিক দুইবারের জন্য বৃদ্ধি করা যাইবে, যদি প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে উক্ত ঠিকাদারকে মূল কার্যাদেশ প্রদান করা হইয়া থাকে।

৭৭। পণ্যের অতিরিক্ত সরবরাহ এবং পুনরাবৃত্ত ক্রয়াদেশ।-

(১) মূল সরবরাহকারী বা ঠিকাদারকে সমধর্মী পণ্য ও সংশ্লিষ্ট সেবার অতিরিক্ত সরবরাহের আদেশ, অথবা পণ্য বা কার্যের পুনরাবৃত্ত ক্রয়াদেশ প্রদানের ক্ষেত্রে নিম্নবর্ণিত সকল শর্ত প্রতিপালন করিতে হইবে –

(ক) চুক্তিমূল্য তফসিল-২ এ বর্ণিত মূল্যসীমা অতিক্রম করিতে পারিবে না, তবে মূল্য যাচাই করিবার পর উক্ত মূল্য তখনও ক্রয়কারীর ক্ষেত্রে সুবিধাজনক হইতে হইবে;

(খ) আইন ও বিধিমালায় নির্ধারিত শর্ত পালন এবং বিকল্প ক্রয় পদ্ধতিসমূহের আবশ্যকতাকে কোন উপায়ে পরিহার করিবার উদ্দেশ্যে সামগ্রিক চুক্তি বা ক্রয়াদেশকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সংখ্যায় এবং মূল্যসীমায় বিভক্ত করিয়া অথবা চুক্তি বাস্তবায়নকে কৃত্রিম পর্বে অথবা সাব-কন্ট্রাক্টে বিভাজনপূর্বক পুনরাবৃত্ত ক্রয়াদেশ (repeat order) প্রদানের মাধ্যমে ক্রয় করা যাইবে না; এবং

(গ) সরবরাহ, সেবা বা স্থাপন সংক্রান্ত বিদ্যমান চুক্তি বর্দ্ধিতকরণ, যদি প্রতিযোগিতামূলক ক্রয় প্রক্রিয়া অনুসরণক্রমে মূল চুক্তি স¤পাদিত হইয়া থাকে।

৭৮। ভেরিয়েশন অর্ডার বা অতিরিক্ত কার্যাদেশ জারী।-

(১) বাস্তব অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে পরিকল্পনা, ডিজাইন অথবা বিন্যাসের পরিবর্তনজনিত কারণে কার্যের সংযোজন বা বিয়োজন, প্রকল্পের সাধারণ ব্যাপ্তি ও ভৌত সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা সাপেক্ষে, কার্যের নূতন আইটেম অন্তর্ভুক্তিসহ পরিমাণগত বৃদ্ধি বা হ্রাসের জন্য ক্রয়কারী মূল ঠিকাদারের নিকট হইতে কার্য ও ভৌত সেবা ক্রয়ের জন্য ভেরিয়েশন অর্ডার জারী করিতে পারিবে।

(২) ক্রয়কারী, প্রকল্প এলাকার ভূ-গর্ভস্থ অথবা প্রচ্ছন্ন ভৌত অবস্থা চুক্তিতে বর্ণিত অবস্থা হইতে ঊল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্নতর হওয়ার কারণে, অথবা সাধারণভাবে চুক্তির সংস্থান মোতাবেক প্রত্যাশিত বা স্বীকৃত নহে প্রকল্পস্থলের এইরূপ অজ্ঞাত এবং অস্বাভাবিক ধরনের ভৌত অবস্থার কারণে মূল কার্যের সমাপ্তি, উন্নতিবিধান অথবা সংরক্ষণের প্রয়োজনে মূল চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত ছিল না এইরূপ কোন নূতন কার্যের জন্য অতিরিক্ত কার্যাদেশ জারী করিতে পারিবে।

(৩) ভেরিয়েশন অর্ডার এর ক্রমপুঞ্জিত মূল্য তফসিল-২ এ উল্লিখিত সীমার অতিরিক্ত হইলে এবং উক্তরূপ কার্য মূল চুক্তি হইতে আলাদা করা সম্ভব হইলে, উহার জন্য দরপত্র আহ্বান করিয়া পৃথক চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে উক্ত কার্য সম্পাদন করিতে হইবে।

৭৯। ভেরিয়েশন অর্ডার বা অতিরিক্ত কার্যাদেশ প্রণয়ন।-

(১) যে কোন ভেরিয়েশন অর্ডার এর দাবী উপস্থাপনের জন্য যে কোন অতিরিক্ত ব্যয়ের পূর্র্ণ এবং পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণসহ ঠিকাদার তফসিল-২ এ বর্ণিত সময় সীমার মধ্যে লিখিত নোটিশ প্রদান করিবে, যাহাতে উক্ত সময়ে বিষয়টি তদন্ত করা যাইতে পারে এবং এইরূপ নোটিশ দাখিলে ব্যর্থতার ক্ষেত্রে ঠিকাদার কোন দাবী উপস্থাপন করিতে পারিবেন না।

(২) ভেরিয়েশন অর্ডার নিম্নবর্ণিতরূপে প্রণয়ন এবং দাখিল করিতে হইবে-

(ক) যদি প্রকল্প ব্যবস্থাপক প্রয়োজনীয় বলিয়া মনে করেন যে, ভেরিয়েশন অর্ডার বা অতিরিক্ত কার্যাদেশ জারী করা আবশ্যক, তাহা হইলে তিনি প্রস্তাবিত আদেশ প্রণয়ন করিবেন এবং উক্ত আদেশে ঠিকাদার কর্তৃক দাখিলকৃত নোটিশসহ প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা, সম্পাদিতব্য কার্যের যৌক্তিকতাসহ আইটেম অনুসারে অতিরিক্ত কার্যের পরিমাণ ভিত্তিক হিসাব, পরিদর্শন ও অনুসন্ধানের তারিখ, লগ বহি, উক্ত কার্যের প্রতি আইটেমের প্রাক্কলিত ইউনিট মূল্যের বিবরণাদি অন্তর্ভুক্ত করিয়া অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের নিকট দাখিল করিবেন;

(খ) কার্যের সহিত সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনা, পরিমাণ এবং নূতন কার্যের আইটেমসমূহের জন্য প্রস্তাবিত একক মূল্য পুনরীক্ষণের পর ভেরিয়েশন অর্ডার বা অতিরিক্ত কার্যাদেশ সঠিক ও সন্তোষজনক হইলে এবং উক্ত ভেরিয়েশন অর্ডার বা অতিরিক্ত কার্যাদেশ তফসিল-২ এ বর্ণিত মূল্যসীমার মধ্যে থাকিলে অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ, আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ আদেশ অনুযায়ী, উহা অনুমোদন করিবেন, অথবা ধারা ৭৪(৪) অনুসারে মূল চুক্তি অনুমোদনকারী কর্মকর্তার পরবর্তী ধাপের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার অনুমোদন গ্রহণের ব্যবস্থা করিবেন;

(গ) ভেরিয়েশন অর্ডার বা অতিরিক্ত কার্যাদেশ প্রক্রিয়াকরণের ক্ষেত্রে, উহা প্রস্তুতকরণ হইতে শুরু করিয়া অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক উহা অনুমোদিত হওয়া পর্যন্ত সময়সীমা তফসিল-২ এ বর্ণিত সময়সীমার অধিক হইবে না।

৮০। ভেরিয়েশন বা অতিরিক্ত কার্যের মূল্যনির্ধারণ।-

(১) অতিরিক্ত আইটেমের কার্যের জন্য নিম্নবর্ণিত পদ্ধতি অনুসরণক্রমে ঠিকাদারকে উহার মূল্য প্রদান করিতে হইবে-

(ক) অতিরিক্ত কার্যের আইটেমসমূহ মূল চুক্তির অনুরূপ বা একই হইলে, উক্ত অতিরিক্ত আইটেমসমূহের মূল্য পরিশোধের ক্ষেত্রে মূল চুক্তির একক মূল্য প্রযোজ্য হইবে;

(খ) নূতন কার্যের যে সকল আইটেম মূল চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত ছিল না, সেই সকল আইটেমের একক মূল্য নির্ধারণের ভিত্তি নিম্নরুপ হইবে –

(অ) ঠিকাদারের ব্যয়-প্রাক্কলনে (cost estimate) প্রদত্ত মূল্য বিভাজনে (price breakdown) থাকা সাপেক্ষে, অন্যান্য আইটেমের জন্য মূল চুক্তিতে ব্যবহৃত প্রত্যক্ষ একক মূল্য (direct unit cost), (যেমন, সিমেন্ট, রড, শ্রম দর, যন্ত্রপাতির ভাড়া ইত্যাদির একক মূল্য); বা

(আ) ক্রয়কারী এবং ঠিকাদার উভয়ের নিকট গ্রহণযোগ্য বাজার মূল্য অনুযায়ী স্থিরমূল্য (ভরীবফ ঢ়ৎরপবং); বা

(ই) উপ দফা (অ) ও (আ) এর ভিত্তিতে নূতন কার্যের আইটেমের প্রত্যক্ষ একক ব্যয় নির্ধারণের জন্য ঠিকাদার কর্তৃক দরপত্রে ব্যবহৃত মার্ক-আপ ফ্যাক্টর (যেমন: কর, ওভারহেড ও মুনাফা) যোগ করিয়া নূতন কার্যের আইটেমসমূহের একক দর নির্ধারণ করিতে হইবে।

(২) কোন অতিরিক্ত কার্যের বিপরীতে ঠিকাদার কর্র্তৃক মূল্য পরিশোধের অনুরোধের সহিত দাবীকৃত পাওনার বিস্তারিত হিসাব ও পরিমাণের ঊল্লেখসহ অনুমোদিত ছকে একটি বিবরণ দাখিল করিতে হইবে এবং পাওনা পরিশোধের দাবী ঠিকাদারের ধারাবাহিক মূল্য পরিশোধ (progress payment) প্রতিবেদনের সহিত অন্তর্ভুক্ত করিতে হইবে।

(৩) অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতিরেকে কোন অবস্থাতেই কোন ঠিকাদার ভেরিয়েশন অর্ডার বা অতিরিক্ত কার্যাদেশের অধীন কোনরূপ কার্য-সম্পাদনের উদ্যোগ গ্রহণ করিবে না।

(৪) উপ-বিধি (৩) এর ব্যতিক্রম হিসাবে, তহবিলের সংস্থান থাকা সাপেক্ষে ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধান কোন ভেরিয়েশন অর্ডার বা অতিরিক্ত কার্যাদেশের অধীন নিম্নবর্ণিত যে কোন শর্তে অনতিবিলম্বে কার্য-সম্পাদন শুরু করার আদেশ প্রদান করিতে পারিবেঃ

(ক) জরুরী ভিত্তিতে কার্য-সম্পাদন শুরু করা না হইলে যদি জনসেবা (public service) বিঘ্নিত হইবার বা জীবন ও সম্পত্তি বা উভয়ের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে; বা

(খ) সময় যখন মুখ্য বিবেচ্য –

তবে শর্ত থাকে যে,-

(অ) সংশ্লিষ্ট সময় পর্যন্ত অনুমোদিত হয় নাই প্রকল্পের এইরূপ কার্য মূল্যের ক্রমপুঞ্জিত বৃদ্ধির পরিমাণ, তফসিল-২ এ বর্ণিত শতকরা হারের মধ্যে সীমিত থাকিবে; এবং

(আ) কার্য শুরুর অব্যবহিত পরে এই ধরনের ভেরিয়েশন অর্ডার বা অতিরিক্ত আদেশ প্রণয়ন করিয়া বিধি ৩৬ অনুসারে যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট অনুমোদনের জন্য দাখিল করিতে হইবে।

(৫) যথাযথ অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের পর ভেরিয়েশন অর্ডার বা অতিরিক্ত কার্যাদেশের অধীন সন্তোষজনকভাবে সম্পাদিত কার্যের মূল্য পরিশোধ করা যাইতে পারে।

(৬) ভেরিয়েশন অর্ডার বা অতিরিক্ত কার্যাদেশের সহিত জড়িত ক্রমপুঞ্জিত কার্যের মূল্যের পরিমাণ তফসিল-২ এ বিধি ৭৮(৩) এর বিপরীতে মূল চুক্তিমূল্যের অতিরিক্ত হইলে, যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত না হওয়া পর্যন্ত উক্ত কার্যাদেশের অধীন সম্পাদিতব্য কার্য শুরু করা যাইবে না।

৮১। সরাসরি নগদ ক্রয়।-

(১) ক্রয়কারী, তফসিল-২ এ বর্ণিত মূল্য ও বাৎসরিক মোট ব্যয় সীমার মধ্যে স্বল্প মূল্যের পণ্য এবং জরুরী ও আবশ্যকীয় সেবা (যেমন- রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত,পরিবহণ এবং অন্যান্য সেবা, ইত্যাদি) সরাসরি ক্রয় করিতে পারিবে।

(২) ক্রয়কারী, ক্রয়ের প্রকৃতি বিবেচনায়, কোন কর্মকর্তা বা, তৎকর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে গঠিত অনধিক ৩ (তিন) সদস্য বিশিষ্ট ক্রয় কমিটি এর মাধ্যমে এই ধারার অধীন কোন ক্রয়কার্য সম্পন্ন করিতে পারিবে।

(৩) উপ-বিধি (১) এর অধীন ক্রয়ের ক্ষেত্রে নগদ বা চেকের মাধ্যমে মূল্য পরিশোধ করা যাইবে এবং উক্ত ক্ষেত্রে কোন ক্রয় আদেশ বা চুক্তি স্বাক্ষর করা আবশ্যক হইবে না।

৮২। ফোর্স একাউন্ট এর প্রয়োগ।-

(১) তফসিল-২ এ বর্ণিত মূল্যসীমার মধ্যে ব্যয় সীমিত থাকা সাপেক্ষে, বিভাগীয় প্রয়োজনে মজুরীর বিনিময়ে সরাসরি শ্রমিক নিয়োগের ক্ষেত্রে Force Account প্রয়োগ করা যাইতে পারে।

(২) ফোর্স একাউন্ট এর অধীন বিভাগীয় কার্য সম্পাদনের লক্ষ্যে উপকরণ ও যন্ত্রপাতি ক্রয় এবং অতিরিক্ত সরঞ্জামাদি ভাড়া করিবার ক্ষেত্রে অন্যান্য ক্রয়পদ্ধতি যথা- কোটেশন প্রদানের অনুরোধ জ্ঞাপন পদ্ধতি বা ধারা ৭৬ এর অধীন সরাসরি চুক্তি পদ্ধতি ব্যবহার করা যাইতে পারে।

 

অংশ-৬: আন্তর্জাতিক ক্রয়

৮৩। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি প্রয়োগের শর্তাবলী ও কার্যপ্রণালী।-

(১) আইনের ধারা ৩৩ এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, আন্তর্জাতিক দরপত্রের ক্ষেত্রে নিম্নবর্ণিত অতিরিক্ত শর্তাবলীর প্রতিপালন নিশ্চিত করিতে হইবে –

(ক) দরপত্র দাখিলের জন্য সময়সীমা এমনভাবে নির্ধারণ করিতে হইবে, যাহাতে সম্ভাব্য সকল দরপত্রদাতার নিকট দরপত্র দাখিলের আহ্বান পৌঁছায় এবং তাহারা দরপত্র প্রস্তুত ও দাখিলের জন্য পর্যাপ্ত সময় পায় এবং পুনরায় দরপত্র আহ্বান করার ক্ষেত্রে তফসিল-২ এ বর্ণিত ন্যূনতম সময় প্রদান করিতে হইবে;

(খ) আন্তর্জাতিক মান বা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বহুল ব্যবহৃত মানের ভিত্তিতে কারিগরী মান নির্ধারণ করিতে হইবে, এবং উহা বাংলাদেশে ব্যবহৃত মানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হইতে হইবে;

(গ) বাংলাদেশী মান অনন্য (unique) বলিয়া বিবেচিত হইলে, অধিক প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করিবার জন্য উক্ত মানের সঙ্গে “অথবা সমতুল্য (equivalent)” শব্দগুলি যুক্ত করিতে হইবে;

(ঘ) দরপত্রদাতাকে দরপত্র, দরপত্র জামানত বা কার্য সম্পাদন জামানত যে সকল মুদ্রায় উদ্ধৃত করিবার অনুমতি প্রদান করা হইবে উহা দরপত্র দলিলে উল্লেখ করিতে হইবে এবং দরপত্রে উদ্ধৃত উক্ত মুদ্রা বা মুদ্রাসমূহ উল্লেখ করিয়া চুক্তি সম্পাদন ও চুক্তি মূল্য পরিশোধ করিতে হইবে;

(ঙ) আন্তর্জাতিক প্রতিযোগীগণের বিপরীতে মূল্য-সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে, দেশীয় শিল্প অথবা পণ্য উৎপাদনের বিকাশে সহায়তা প্রদানের জন্য তফসিল-২ এ বর্ণিত হারে স্থানীয় উৎপাদনকারী, সরবরাহকারী এবং ঠিকাদারগণের অনকূলে স্থানীয় অগ্রাধিকার প্রদান করার বিষয়টি দরপত্র দলিলে উল্লেখকরা যাইতে পারে।

(চ) ক্ষেত্র বিশেষে, প্রযোজ্য ইনকোটার্ম (INCOTERM) এর প্রয়োগ উল্লেখ করিতে হইবে।

(২) পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে, যদি ক্রয়কারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে যে, আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত পদ্ধতি প্রয়োগের ক্ষেত্রে স্থানীয় অগ্রাধিকারের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন, তাহা হইলে উক্ত দরপত্রসমূহ নিম্নবর্ণিত গ্রুপেভাগ করা হইবেঃ

(ক) গ্রুপ-ক- এক্স-ওয়ার্কস মূল্যের ৩০% এর অধিক শ্রম, কাঁচামাল ও উপকরণ বাংলাদেশের অভ্যন্তর হইতে যোগান দেওয়ার ব্যবস্থা রহিয়াছে বাংলাদেশে উৎপাদিত এইরূপ পণ্যের বিক্রয়ের প্রস্তাব সম্বলিত দরপত্র এবং যে কারখানায় উক্ত পণ্য উৎপাদিত হইবে, উহা যদি অন্তত: দরপত্র দাখিলের তারিখ হইতে উক্ত পণ্য উৎপাদন বা সংযোজনে নিয়োজিত থাকে, তাহা হইলে সেই সকল দরপত্র এই গ্রুপে অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(খ) গ্রুপ-খ- বিদেশী উৎস হইতে ক্রয়কারী কর্তৃক সরাসরি অথবা সরবরাহকারীর স্থানীয় প্রতিনিধি কর্তৃক আমদানি করা হইবে, এইরূপ পণ্য সরবরাহের প্রস্তাব সম্বলিত দরপত্রসমূহ এই গ্রুপেঅন্তর্ভুক্ত হইবে।

(৩) কার্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে যদি কোন ক্রয়কারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে যে, কোন আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতির অধীন স্থানীয় অগ্রাধিকারের সংস্থান রাখা হইবে, তাহা হইলে স্থানীয় অগ্রাধিকারের সুবিধা প্রাপ্তির যোগ্য হইবার জন্য স্থানীয় দরপত্রদাতাগণকে নিম্নবর্ণিত শর্তাবলী পূরণ করিতে হইবে, যথাঃ

(ক) দরপত্রদাতা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে নিবন্ধীকৃত হইতে হইবে;
(খ) উক্ত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের মালিকানা বাংলাদেশী নাগরিকদের থাকিবে;
(গ) ‘প্রভিশনাল সাম’ ব্যতীত, মোট চুক্তিমূল্যের ২০% (শতকরা বিশ ভাগ) এর বেশী কোন বিদেশী ঠিকাদারের অনুকূলে সাব-কন্ট্রাক্ট প্রদান করা যাইবে না;
(ঘ) দরপত্র দলিলে বর্ণিত স্থানীয় অগ্রাধিকারের সুবিধা প্রাপ্তির অন্যান্য শর্তাবলী পূরণ করিতে হইবে।

(৪) নিম্নবর্ণিত শর্তাবলী পূরণ সাপেক্ষে, বিধি ৫৪ এর বিধান অনুসরণক্রমে গঠিত দেশীয় কোম্পানীসমূহের যৌথ উদ্যোগ স্থানীয় অগ্রাধিকারের যোগ্য বলিয়া বিবেচনা করা যাইবেঃ

(ক) যৌথ উদ্যোগের প্রত্যেক অংশীদারকে বাংলাদেশে নিবন্ধীকৃত হইতে হইবে এবং উহার সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের মালিক বাংলাদেশী নাগরিক হইতে হইবে;

(খ) যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে গঠিত কোম্পানীকে বাংলাদেশে নিবন্ধীকৃত হইতে হইবে;

(গ) ‘প্রভিশনাল সাম’ ব্যতীত, উক্ত কোম্পানী মোট চুক্তিমূল্যের ২০% (শতকরা বিশ ভাগ) এর বেশী কোন বিদেশী ঠিকাদারের অনুকূলে সাব-কন্ট্রাক্ট প্রদান করিতে পারিবে না; এবং

(ঘ) উক্ত যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে গঠিত কোম্পানীকে দরপত্র দলিলে উল্লিখিত স্থানীয় অগ্রাধিকারের সুবিধা প্রাপ্তি সংক্রান্ত অন্যান্য শর্তাবলী পূরণ করিতে হইবে।

(৫) দেশীয় ও বৈদেশিক ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান সমন্বয়ে গঠিত কোন যৌথ উদ্যোগে স্থানীয় অংশীদারদের অংশ ৫০% (শতকরা পঞ্চাশ ভাগ) এর নিন্মে হইলে, উক্ত যৌথ উদ্যোগ স্থানীয় অগ্রাধিকারের সুবিধা প্রাপ্তির যোগ্য হইবে না।

(৬) কার্য ক্রয় সংক্রান্ত দরপত্রসমূহ মূল্যায়নের ক্ষেত্রে, নিম্নবর্ণিত পদ্ধতি অনুসরণ করিতে হইবে –

(ক) গ্রহণযোগ্য দরপত্রসমূহকে নিম্নরূপ গ্রুপেশ্রেণীভুক্ত করা হইবেঃ

(অ) উপ-বিধি (৩) এবং (৪) এ বর্ণিত শর্তাবলী পূরণকারী বাংলাদেশী দরপত্রদাতা এবং যৌথ উদ্যোগ গ্রুপ ‘ক’ এর অন্তর্ভুক্ত হইবে; এবং
(আ) অন্য সকল দরপত্র গ্রুপ-খ এর অন্তর্ভুক্ত হইবে।

(খ) শুধু দরপত্রসমূহের মূল্যায়ন ও তুলনার উদ্দেশ্যে, গাণিতিক ভুল অথবা অন্যান্য অসঙ্গতিসমূহের সমন্বয় সাধনের পর ‘প্রভিশনাল সাম’ এবং আনুষঙ্গিক ব্যয় বাবদ দরপত্র মূল্যে কোন অর্থ অন্তর্ভুক্ত থাকিলে উহা বাদ দিয়া, তবে বিধি ৫(৬) অনুযায়ী প্রদত্ত ‘ডে-ওয়ার্ক’ এর মূল্যসহ গ্রুপ-খ ভুক্ত দরপত্রসমূহের স্ব স্ব মূল্যায়িত দর, তফসিল-২ এ বর্ণিত স্থানীয় অগ্রাধিকারের শতকরা হার প্রয়োগের মাধ্যমে বৃদ্ধি করিতে হইবে।

(গ) গ্রুপ-ক বা খ এর অন্তর্ভুক্ত কোন দরপত্র সর্বনিন্ম হইলে সর্বনিন্ম মুল্যায়িত দর পরস্পরের বিপরীতে তুলনা করিতে হইবে এবং উক্ত সর্বনিন্ম দরপত্র কার্যাদেশের জন্য সুপারিশকৃত হইবে।

(৭) স্থানীয় অগ্রাধিকার সংক্রান্ত নীতিমালা ও নির্দেশনাসমূহ আদর্শ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র দলিলে অন্তর্ভুক্ত করা যাইবে।

(৮) সরকার কর্তৃক আহবানকৃত আন্তর্জাতিক দরপত্রে স্থানীয় ঠিকাদার অথবা বাংলাদেশী অংশীদারসহ যৌথ উদ্যোগে অংশগ্রহণ করিলে আন্তর্জাতিক দরদাতাগণের মত তাঁহারাও স্থানীয় এবং বৈদেশিক মুদ্রার সমন্বয়ে দরপত্র দাখিল করিতে পারিবে এবং উক্ত ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদার বিপরীতে ব্যয়ের বিভাজন প্রদান করিতে হইবে।

(৯) আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী স্থানীয় সরবরাহকারীগণ বাংলাদেশে উৎপাদিত বা সংযোজিত পণ্য সরবরাহের প্রস্তাব দিলে দেশীয় শিল্পকে উৎসাহ প্রদানের জন্য আন্তর্জাতিক দরদাতাগণের মত তাঁহারাও স্থানীয় এবং বৈদেশিক মুদ্রার সমন্বয়ে দরপত্র দাখিল করিতে পারিবে।

(১০) উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতির অধীন আন্তর্জাতিক ক্রয়ের ক্ষেত্রে তফসিল-৩ এর খ অংশে প্রদত্ত ফ্লো-চার্ট এ উল্লিখিত প্রক্রিয়া এবং কার্যক্রম অনুসরণীয় হইবে।

৮৪। দুই পর্যায় বিশিষ্ট দরপত্র পদ্ধতি প্রয়োগের শর্তাদি।-

(১) কোন ক্রয়কারী কর্তৃক কার্যকর আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় দুই পর্যায়বিশিষ্ট দরপত্র পদ্ধতি প্রয়োগের ক্ষেত্রে, আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি প্রয়োগ সম্পর্কিত বিধি ৬১ এবং ৮৩ এর বিধান প্রযোজ্য হইবে।

(২) দুই পর্যায় বিশিষ্ট দরপত্র পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে কোন ক্রয়কার্য সম্পাদনের ক্ষেত্রে বিজ্ঞাপন প্রদান, দরপত্রের মেয়াদ, কারিগরী বিনির্দেশ, মূল্য পরিশোধে প্রযোজ্য মুদ্রার ক্ষেত্রে ক্রয়কারী বিধি ৬৬ তে বর্ণিত পদ্ধতি অনুসরণ করিবে, তবে সেইক্ষেত্রে স্থানীয় অগ্রাধিকারের বিধান প্রযোজ্য হইবে না, কারণ উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতির ক্ষেত্রে উহা প্রযোজ্য নহে।

(৩) বিধি ৪৩ অনুসারে দুই পর্যায় বিশিষ্ট দরপত্র পদ্ধতি প্রয়োগের কারণ নথিবদ্ধ করিয়া সংরক্ষণ করিতে হইবে।

(৪) দুই পর্যায় বিশিষ্ট দরপত্র পদ্ধতির অধীন আন্তর্জাতিক ক্রয়ের ক্ষেত্রে তফসিল-৩ এর (ঘ) তে প্রদত্ত ফ্লো-চার্ট এ উল্লিখিত প্রক্রিয়া এবং কার্যক্রম অনুসরণীয় হইবে।

৮৪ক। এক ধাপ দুই খাম দরপত্র পদ্ধতি প্রয়োগের শর্ত-

(১) টার্ণ-কী চুক্তি বা বৃহদাকার প্লান্ট স্থাপন সংক্রান্ত চুক্তির (যথা-প্রক্রিয়াকরণ স্থাপনা সরবরাহ, স্থাপন এবং চালুকরণ বা বৃহদাকার কার্য বা যোগাযোগ প্রযুক্তি সংক্রান্ত চুক্তি,ইত্যাদি) ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ কারিগরি বিনির্দেশ, কার্যের হিসাব সম্বলিত বিবরণ (Bill of Quantities) বা আবশ্যকীয় পণ্যের সরবরাহ সম্বলিত বিবরণ (Schedule of Requirement) ডিজাইন, ইত্যাদিসহ পূর্ণাঙ্গ দরপত্র দলিল প্রণয়ন করিতে ক্রয়কারী সক্ষম হইলে, তিনি ধারা ৩৪ এর উপ-ধারা (১ক) এর বিধান অনুসারে এক ধাপ দুই খাম দরপত্র পদ্ধতি প্রয়োগ করিতে পারিবেন।

(২) এক ধাপ দুই খাম পদ্ধতি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধান অথবা তাহার নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার পূর্বানুমোদন গ্রহণ করিতে হইবে।

৮৪খ। এক ধাপ দুই খাম দরপত্র পদ্ধতি প্রয়োগের ক্ষেত্রে অনুসরণীয় কার্যপ্রণালী-

(১) ক্রয়কারী প্রত্যেক দরদাতাকে কারিগরি এবং আর্থিক প্রস্তাব যথাযথভাবে চিহ্নিত পৃথক পৃথক দুইটি খামে সীলগালা করিয়া অন্য একটি বহিঃস্থ খামে স্থাপন ও উক্ত বহিঃস্থ খাম পুনরায় সীলগালা করিয়া দরপত্র জমাদানের আহ্বান জানাইয়া বিজ্ঞাপন প্রকাশ করিবে।

(২) দরপত্রদাতাকে কারিগরি প্রস্তাবের সহিত বিজ্ঞাপনে বণির্ত স্থির অংকে (rounded fixed amount) দরপত্র জামানত দাখিল করিবার জন্য আহ্বান জানাইতে হইবে।

(৩) এই বিধির অধীন আলোচ্য দরপত্র পদ্ধতির ক্ষেত্রে বিধি ৮৩ এর উপ-বিধি (১) এর দফা (ক) এর অধীনে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতির জন্য প্রদেয় সময় প্রযোজ্য হইবে।

৮৪গ। এক ধাপ দুই খাম দরপত্র পদ্ধতিতে কারিগরি প্রস্তাব উন্মুক্তকরণ ও মূল্যায়ন-

(১) উন্মুক্তকরণ কমিটি বিধি ৯৭ প্রতিপালনপূর্বক প্রথমে শুধুমাত্র কারিগরি প্রস্তাব দরপত্র দলিলে উল্লিখিত স্থানে ও সময়ে উন্মুক্ত করিবে:

তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত বিধিতে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কারিগরি প্রস্তাব উন্মুক্তকরণের সময় উক্ত বিধির উপ-বিধি (৪) এর দফা (চ) এর উপ-দফা (ই), (ঈ), উপ-বিধি (৫) এবং তফসিল-৪ এর অংশ-ঘ এর Serial No. (15), (16) ও (24) প্রযোজ্য হইবে না।

(২) কারিগরি প্রস্তাব গৃহীত ও উন্মুক্ত করিবার পর কোন অবস্থাতেই কারিগরি প্রস্তাব সংশোধন বা পরিবর্তন করা যাইবে না।

(৩) বিধি ৯৮ অনুযায়ী দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি দরপত্র দলিলে উল্লিখিত শর্ত, কারিগরি যোগ্যতা ও নির্ণায়কসমূহের আলোকে কৃতকার্যতা বা অকৃতকার্যতার (pass or fail) ভিত্তিতে কারিগরি প্রস্তাবসমূহ মূল্যায়ন করিবে।

(৪) দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি প্রত্যেক দরদাতার কারিগরি প্রস্তাব কারিগরি যোগ্যতার শর্তসমূহ পূরণ করে কি না উহা নিরূপণ করিবে এবং কারিগরি যোগ্যতার শর্তসমূহ পূরণ না করিলে উক্ত দরপত্র নন্-রেসপনসিভ বলিয়া বিবেচিত হইবে।

(৫) কারিগরি প্রস্তাবসমূহের মূল্যায়ন সমাপ্ত হইবার পর উক্ত মূল্যায়ন প্রতিবেদন ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধান বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি কর্তৃক অনুমোদিত হইতে হইবে:

তবে শর্ত থাকে যে, উক্তরূপ অনুমোদিত না হওয়া পর্যন্ত আর্থিক প্রস্তাবসমূহ ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধান বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি একটি নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করিবে।

৮৪ঘ। এক ধাপ দুই খাম দরপত্র পদ্ধতিতে আর্থিক প্রস্তাব উন্মুক্তকরণ ও মূল্যায়ন-

(১) ক্রয়কারী কার্যালয়ের প্রধান বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি কর্তৃক কারিগরি মূল্যায়ন প্রতিবেদন অনুমোদনের পর ক্রয়কারী কারিগরি মূল্যায়নে কৃতকার্য দরদাতাদেরকে আর্থিক প্রস্তাব উন্মুক্তকরণের স্থান, তারিখ ও সময় জানাইয়া প্রকাশ্যে উন্মুক্তকরণ সভায় উপস্থিত থাকিবার জন্য লিখিতভাবে অনুরোধ করিবে।

(২) দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি কারিগরি মূল্যায়নে কৃতকার্য সকল দরদাতার আর্থিক প্রস্তাব বিধি ৯৭ অনুযায়ী উন্মুক্ত করিবে।

(৩) দরপত্র উম্মুক্তকরণ সভায় দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি বিধি ৯৮ অনুযায়ী আর্থিক প্রস্তাব মূল্যায়নপূর্বক সর্বনিম্ন মূল্যায়িত দরদাতা নির্বাচন করিবে, তবে সেই ক্ষেত্রে স্থানীয় অগ্রাধিকারের বিধান প্রযোজ্য হইবে না।

(৪) ক্রয়কারী কৃতকার্য দরপত্রদাতার সহিত চুক্তি স্বাক্ষরের পর, কারিগরি প্রস্তাব মূল্যায়নে নন্-রেসপনসিভ বিবেচিত দরপত্রদাতাদের নন্-রেসপনসিভ হওয়ার বিষয়টি অবহিত করিবে এবং আর্থিক প্রস্তাব উন্মুক্ত না করিয়া ফেরত প্রদান করিবে।

৮৫। আন্তর্জাতিক ক্রয়ে কোটেশন প্রদানের অনুরোধ জ্ঞাপন পদ্ধতি প্রয়োগের শর্তাবলী ও প্রক্রিয়া।-

(১) ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধানের পূর্ব অনুমোদনক্রমে আইনের ধারা ৩৪(২) অনুসারে আন্তর্জাতিক বাজার হইতে বিভাজ্য পণ্যসামগ্রী অধিক পরিমাণে (inbulk) ক্রয়ের ক্ষেত্রে, কোটেশন প্রদানের অনুরোধ জ্ঞাপন পদ্ধতির ব্যবহার করিতে হইবে।

(২) নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে, বিভাজ্য পণ্য সামগ্রী অধিক পরিমাণে ক্রয়ের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করা যাইবে, যথা —

(ক) জরুরী চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে, বিভাজ্য পণ্য সামগ্রী ক্রয় (যথা-খাদ্য-শস্য, চিনি, সার, ভোজ্য তেল, জ্বালানী ও পশু-খাদ্য) যাহার দর কোন নির্দিষ্ট সময়ে সরবরাহ ও চাহিদার ভিত্তিতে উঠা-নামা করে;

(খ) প্রতিষ্ঠিত পণ্য-বাজারে উদ্ধৃত পণ্য সামগ্রী ক্রয়;

(গ) অনুকূল বাজার পরিস্থিতির সুবিধা গ্রহণের উদ্দেশ্যে, দীর্ঘ মেয়াদ ব্যাপী সরবরাহের নিশ্চয়তা বিধানকল্পে প্রতিটি ক্ষেত্রে আংশিক পরিমাণের জন্য কতিপয় কার্যাদেশ প্রদানের মাধ্যমে পণ্যসামগ্রী ক্রয়;

(৩) এই বিধির অধীনে পণ্য সামগ্রী ক্রয়ের ক্ষেত্রে অনুসরণীয় পদ্ধতি বিধিমালার চতুর্থ অধ্যায়ের অংশ-৪ এ বর্ণিত অভ্যন্তরীণ কোটেশন প্রদানের অনুরোধ জ্ঞাপন পদ্ধতির অনুরূপ, এবং নিম্নরুপ হইবে –

(ক) একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য সম্ভাব্য সরবরাহকারীদের একটি তালিকা প্রণয়ন করিয়া উক্ত সরবরাহকারীদের নিকট হইতে সময় সময় কোন নির্দিষ্ট পণ্য সামগ্রী ক্রয়ের জন্য পর্যায়ক্রমিক কোটেশন আহ্বান করিতে হইবে;

(খ) জাহাজীকরণের সময় বা উহার পূর্বে বিদ্যমান বাজার দরের ভিত্তিতে সরবরাহকারীদের নিকট হইতে দর আহ্বান করিতে হইবে;

(গ) সাধারণত- যে মুদ্রায় পণ্যসামগ্রীর বাজার মূল্য উদ্ধৃত করা হয়, দর দাখিল এবং মূল্য পরিশোধের জন্য সেই একক মুদ্রা ব্যবহার করা যাইতে পারে, তবে উহা কোটেশন প্রদানের অনুরোধ জ্ঞাপন দলিলে উল্লেখ করিতে হইবে;

(ঘ) বাজারে প্রচলিত ব্যবস্থার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ ফরম এবং আদর্শ শর্তাবলী সম্বলিত চুক্তিপত্র ব্যবহৃত হইবে;

(৪) কোটেশন প্রদানের অনুরোধ জ্ঞাপনের পদ্ধতির অধীন আন্তর্জাতিক ক্রয়ের ক্ষেত্রে তফসিল-৩ এর ঙ অংশতে প্রদত্ত ফ্লো-চার্ট এ উল্লিখিত প্রক্রিয়া এবং কার্যক্রম অনুসরণীয় হইবে।

৮৬। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সীমিত দরপত্র পদ্ধতি প্রয়োগের শর্তাবলী ও প্রক্রিয়া।-

(১) কার্যকর আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা প্রয়োজনীয় বলিয়া বিবেচিত হইলে, ক্রয়কারী আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার আওতায় পণ্য ও সংশ্লিষ্ট সেবা বা কার্য ও ভৌত সেবা এই বিধিতে বর্ণিত শর্ত ও প্রক্রিয়া অনুসরণে সীমিত দরপত্র পদ্ধতি প্রয়োগ করিয়া ক্রয় করিতে পারিবে।

(২) বিধি ৬৪ তে বর্ণিত বিধান অনুসারে সীমিত দরপত্র পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ ক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধি-বিধান আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সীমিত দরপত্র পদ্ধতি প্রয়োগের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হইবে।

(৩) বিধি ৪৩ অনুসারে এই পদ্ধতি প্রয়োগের কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া সংরক্ষণ করিতে হইবে।

(৪) সীমিত দরপত্র পদ্ধতির অধীন আন্তর্জাতিক ক্রয়ের ক্ষেত্রে তফসিল ৩ এ প্রদত্ত ফ্লো-চার্ট এ উল্লিখিত প্রক্রিয়া এবং কার্যক্রম অনুসরণীয় হইবে।

৮৭। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি প্রয়োগের শর্তাবলী ও প্রক্রিয়া।-

(১) আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার প্রয়োজনে কোন ক্রয়কারী এই অধ্যায়ের অংশ-৫ অনুসরণক্রমে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি প্রয়োগ করিবে।

(২) বিধি ৪৩ অনুসারে এই পদ্ধতি প্রয়োগের কারণ নথিতে লিপিবদ্ধক্রমে সংরক্ষণ করিতে হইবে।

(৩) সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির প্রয়োগের মাধ্যমে কোন ক্রয়ের ক্ষেত্রে এই অধ্যায়ের অংশ-৫ এ বর্ণিত অভ্যন্তরীণ ক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধি-বিধান আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি প্রয়োগের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হইবে।

(৪) সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির অধীন আন্তর্জাতিক ক্রয়ের ক্ষেত্রে তফসিল ৩ এর ‘চ’ অংশতে প্রদত্ত ফ্লো-চার্ট এ উল্লিখিত প্রক্রিয়া এবং কার্যক্রম অনুসরণীয় হইবে।

৮৮। দূতাবাস ও বিশেষ ক্ষেত্রে জাতীয় পতাকাবাহী বাহনের জন্য ক্রয় (আইনের ধারা ৩৫)।-

(১) বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার বা মিশনসমূহের প্রধানগণ তফসিল-২ এ উল্লিখিত মূল্যসীমাভুক্ত প্রমিতমানের স্বল্পমূল্যের সহজলভ্য পণ্য ও অপ্রত্যাশিত ভৌত সেবা বিধি ৬৯ অনুসারে কোটেশন প্রদানের অনুরোধ জ্ঞাপন পদ্ধতি প্রয়োগ করিয়া ক্রয় করিতে পারিবে।

(২) জাতীয় পতাকাবাহী বাহনের জন্য আইনের ধারা ৩৫(২) এর বিধান অনুসারে তফসিল-২ এ বর্ণিত মূল্যসীমার মধ্যে বাংলাদেশের বাহিরে জ্বালানী তেল, যন্ত্রাংশ ক্রয় বা জরুরী ধরনের মেরামত কার্য সম্পন্ন করা যাইবে।

 

অংশ-৭: ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি

৮৯। ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে ক্রয়ের ক্ষেত্রে অনুসরণীয় কার্যপ্রণালী।-

(১) দরপত্র আহ্বানের পুনরাবৃত্তি পরিহারের পাশাপাশি অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ হইতে অপেক্ষাকৃত ভালো মূল্য প্রাপ্তির লক্ষ্যে একটি নির্দিষ্ট মেয়াদে কোন নির্দিষ্ট মূল্যে একই ধরনের পণ্য ও সংশ্লিষ্ট সেবা ক্রয়ের প্রয়োজনে আইনের ধারা ৩৬ এর অধীন ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি সম্পাদন করা যাইবে।

(২) তিন বৎসরের অনধিক নির্দিষ্ট সময়ব্যাপী বিভিন্ন প্রকারের পণ্য ও ভৌত সেবা ক্রয়ের লক্ষ্যে উন্মুক্ত বা সীমিত দরপত্র পদ্ধতি অনুসরণক্রমে এক বা একাধিক সরবরাহকারীর সঙ্গে ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি সম্পাদন করা যাইবে।

(৩) ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তির আওতায় বাজার মূল্য হইতে উচ্চ মূল্যে কোন পণ্য ক্রয় করা যাইবে না।

(৪) ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি বিভিন্ন প্রকারের হইতে পারে, যথা-

(ক) একক সরবরাহকারীর নিকট হইতে একটি নির্দিষ্ট মেয়াদে কোন নির্দিষ্ট পরিমাণ পণ্যের পৌনঃপুনিক সরবরাহ প্রাপ্তির লক্ষ্যে এবং প্রয়োজনমতে অতিরিক্ত পরিমাণ ক্রয়ের অধিকার সম্ব লিত চুক্তি;

উদাহরণ।- কোন ক্রয়কারী কর্তৃক ১২ (বার) মাসের প্রাক্কলিত চাহিদার ভিত্তিতে নির্দিষ্ট পরিমাণ ফটোকপি করার কাগজ ও স্টেশনারী সামগ্রী ক্রয়।

(খ) পূর্ব-নির্ধারিত মেয়াদে, মেয়াদ বৃদ্ধির সংস্থানসহ বা ব্যতিরেকে, কোন একক সরবরাহকারীর নিকট হইতে পৌনঃপুনিক সরবরাহ প্রাপ্তির লক্ষ্যে আনুমানিক (approximate) পরিমাণ পণ্য ক্রয়;

উদাহরণ।- একাধিক সরকারী সংস্থা ১২ (বার) মাস ব্যাপী অনির্দিষ্ট পরিমাণ অফিস সরঞ্জামাদি ক্রয়ের উদ্দেশ্যে একটি গ্রুপ গঠন করিয়া একটি সংস্থাকে প্রধান সংস্থা (lead agency) হিসাবে ক্রয় ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব অর্পণ করিতে পারে এবং উক্ত গ্রুপেঅন্তর্ভুক্ত সকল সংস্থাকে একটি ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তির আওতায় সরাসরি ক্রয়াদেশ প্রদানের অধিকার প্রদান করিতে পারে।

(গ) একটি নির্দিষ্ট মেয়াদে, মেয়াদ বৃদ্ধির সংস্থানসহ বা ব্যতিরেকে, আইটেম-বাই-আইটেম ভিত্তিতে অনুমিত পরিমাণ পণ্য একাধিক সরবরাহকারীর নিকট হইতে, পৌনঃপুনিক সরবরাহের মাধ্যমে ক্রয়;

(ঘ) ক্রয়কারী একটি সংক্ষিপ্ত মেয়াদে, মেয়াদ বৃদ্ধির সংস্থান ব্যতিরেকে, এক বা একাধিক আইটেম সম্বলিত অনুমিত পরিমাণ পণ্য একক বা কতিপয় সরবরাহকারী নিকট হইতে পৌনঃপুনিক সরবরাহের মাধ্যমে ক্রয় করিতে পারিবে;

(ঙ) অনূর্ধ্ব ২(দুই) বৎসর মেয়াদের জন্য আইটেম ভিত্তিক বা লট ভিত্তিক দর প্রদানের জন্য ঠিকাদারগণকে আহ্বান জানানোর মাধ্যমে পরিবহণ সেবা ক্রয়ের জন্য ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি সম্পাদন করা যাইবে এবং উক্ত ক্ষেত্রে নিম্নবর্ণিত পদ্ধতি অনুসরণ করিতে হইবে-

(অ) পরিবহন পথের সুনির্দিষ্ট রুটসমূহ কোন স্থান, অঞ্চল বা জেলা ভিত্তিতে ঊল্লেখপূর্বক আইটেমসমূহ নিরূপণ করিতে হইবে এবং প্রতি আইটেমের একক মূল্য “প্রতি মেট্রিক টন” বা “প্রতি মেট্রিক টন প্রতি কিলোমিটার” হিসাবে নির্ধারণ করা যাইতে পারে;
(আ) পরিবহণ পথের দূরত্ব প্রেরণ ও প্রাপক কেন্দ্রের প্রকৃত দূরত্বের ভিত্তিতে অথবা সুনির্দিষ্ট পরিবহণ পথ এর ভিত্তিতে হইবে;
(ই) একটি লটে জেলা ভিত্তিতে (অর্থাৎ উৎস হইতে স্থানীয় গুদাম) একাধিক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আইটেম অন্তর্ভুক্ত করা যাইতে পারে;
(ঈ) সরবরাহ বা পরিবহণ তফসিলে সম্ভাব্য সর্বোচ্চ পরিমাণ ও উহা পরিবহণের মুখ্য সময়ের (peak period) উল্লেখথাকিতে হইবে;
(উ) ক্রয়কারী দরপত্রদাতাদের যোগ্যতার নির্ণায়কে, ভরা মৌসুমে এবং পরিবহণ সংক্রান্ত সাধারণ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে, আবশ্যক ন্যূনতম ট্রাকের সংখ্যা এবং পরিবহণ সামর্থ্য অন্তর্ভুক্ত করিবে;
(ঊ) বৃহৎ আইটেমসমূহ পরিবহণে প্রতিযোগিতা উৎসাহিত করিবার লক্ষ্যে, ঠিকাদারদের গ্রপ, সাময়িক যৌথ উদ্যোগ বা অল্প সংখ্যক ঠিকাদার বা ট্রাক মালিকদের সমন্বয়ে সমবায় গঠনের মাধ্যমে দরপত্র দাখিলে উৎসাহ প্রদান করিতে হইবে;
(ঋ) দরপত্রদাতাগণকে তাহাদের কারিগরী ও আর্থিক প্রস্তাব আলাদা দুইটি খামে দাখিল করিবার জন্য আহবান করা যাইবে;
(এ) দাখিলকৃত দরপত্রে পণ্য কিভাবে পরিবহণ করা হইবে তাহা কারিগরী প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করাসহ কার্য সম্পাদনের বিস্তারিত বিবরণ থাকিতে হইবে এবং গ্রুপ বা সাময়িক যৌথ উদ্যোগ বা সমবায় ভিত্তিক দরপত্রের ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ঠিকাদারদের মধ্যে দূরত্ব বন্টনের বিষয় উল্লেখ করিতে হইবে;
(ঐ) দরপত্রদাতাদের শুধু কারিগরী প্রস্তাবসমূহ মূল্যায়ন করা হইবে এবং গ্রহণযোগ্য কারিগরী প্রস্তাবসমূহের আর্থিক প্রস্তাবসমূহ উন্মুক্ত করা হইবে এবং বিবেচনাযোগ্য হইবে;
(ও) ক্ষেত্রমত, আইটেম বা লট প্রতি সর্বনিন্ম দরদাতাদের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদন করিতে হইবে;
(ঔ) প্রয়োজনে বা কোন ঠিকাদার যদি একটি আইটেমের পূর্ণ পরিমাণ পরিবহণে সক্ষম না হয় বা অতি জরুরী সরবরাহ নিশ্চিতকরণে কোন প্রতিবন্ধকতা এড়াইবার লক্ষ্যে, ক্রয়কারী, দরপত্র দলিলে উল্লেখথাকা সাপেক্ষে, বিধি ৯৯(১) (খ) (ই) এর বিধান অনুসরণক্রমে, দরপত্রদাতাদের পর্যায়ক্রম (ranking) অনুযায়ী সর্বনিন্ম মূল্যায়িত দরে পণ্য পরিবহণে সম্মত একাধিক দরপত্রদাতার সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করিতে পারিবে;

(অঅ) গ্রুপের ক্ষেত্রে ক্রয়কারী কর্তৃক আইনগতভাবে গঠিত গ্রুপের সঙ্গে বা কারিগরী প্রস্তাবে উল্লিখিত দূরত্ব বন্টন অনুসারে গ্র“পের প্রত্যেক সদস্যদের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করা যাইতে পারে;
(আআ) এই ধরনের সেবা ক্রয়ের ক্ষেত্রে ক্রয়কারী ভৌত সেবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আদর্শ দরপত্র দলিল ব্যবহার করিবে।