দ্বিতীয় অধ্যায়

দ্বিতীয় অধ্যায়

অংশ-১: দরপত্র বা প্রস্তাব প্রস্তুতকরণ

৪। ক্রয় সংক্রান্ত দলিল এবং উহাতে অন্তর্ভুক্ত বিবরণাদি।-

(১) কোন সরকারী ক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রাক-যোগ্যতা, দরপত্র বা প্রস্তাব দাখিলের অনুরোধ সম্বলিত দলিল সিপিটিইউ কর্তৃক জারীকৃত এবং তফসিল-১ (Schedule-I) এ বর্ণিত আদর্শ দলিলসমূহ (Standard Documents) অনুযায়ী হইতে হইবে।

(২) পণ্য ও সংশ্লিষ্ট সেবা, কার্য ও ভৌত সেবা ক্রয় সংক্রান্ত দলিলসমূহে, ক্ষেত্রমত, অন্যান্য বিষয়সহ নিম্নবর্ণিত বিষয়সমূহ অন্তর্ভুক্ত থাকিবে-

(ক) আবেদনপত্র বা দরপত্র প্রস্তুত ও উহা দাখিল সংক্রান্ত নির্দেশনা;

(কক) সীমিত দরপত্র পদ্ধতির আওতায় অনধিক ৩ (তিন) কোটি টাকার আভ্যন্তরীণ কার্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে, দরপত্র দলিলে কার্যের পরিমাণগত হিসাব সম্বলিত তফসিল (bill of quantities) একক দরসহ দাপ্তরিক প্রাক্কলন (official estimate);

(ককক) উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতির মাধ্যমে যে কোন মূল্যেও আভ্যন্তরীণ কার্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে, দাপ্তরিক প্রাক্কলন ব্যতীত কার্যের পরিমাণগত হিসাব সম্বলিত তফসিল (bill of quantities);

(খ) আবেদনপত্র বা দরপত্র গ্রহণের সর্বশেষ সময়সীমা ও স্থান বা স্থানসমূহ বিষয়ক তথ্য;

(গ) দরপত্র গ্রহণ ও প্রকাশ্যে উন্মুক্তকরণের তারিখ, সময় (স্থানীয়) ও স্থান সম্পর্কিত তথ্য;

(ঘ) দরপত্র দাখিল শীট (tender submission sheet) এবং, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, দরপত্র জামানত, কার্য-সম্পাদন জামানত (performance security) এবং উৎপাদনকারী কর্তৃক প্রদত্ত অধিকারপত্র (authorisation);

(ঙ) আবেদনপত্র বা দরপত্রের কত কপি ল কপির সহিত দাখিল করিতে হইবে উহার সংখ্যা;

(চ) চুক্তির সাধারণ এবং বিশেষ শর্তাদি;

(ছ) চাহিদাকৃত পণ্য বা কার্যের বিস্তারিত বিনির্দেশের (specification) বিবরণ;

(জ) দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি কর্তৃক মূল্যায়ন-উত্তর যোগ্যতা প্রতিপাদনের উদ্দেশ্যে দরপত্রদাতা কর্তৃক যোগ্যতার সমর্থনে প্রামাণিক তথ্য;

(ঝ) যে মেয়াদের জন্য দরপত্র বৈধ থাকিবে সেই মেয়াদ;

(ঞ) প্রাক্-যোগ্যতার আবেদনপত্র বা দরপত্র ল্যায়নের জন্য বিবেচ্য যোগ্যতা ও অন্যান্য নির্ণায়কসহ এবং উহা ল্যায়নের ভিত্তি;

(ট) দরপত্রদাতা আইনের ধারা ৬৪ তে বর্ণিত কোন দুর্নীতি, প্রতারণা, চক্রান্ত বা জবরদস্তিমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হইবে না মর্মে দরপত্র দলিলে নির্দেশিত ফরমে অঙ্গীকার প্রদান বিষয়ক একটি অবশ্য পূরণীয় শর্ত;

(ঠ) ক্রয়কারী যে কোন বা সকল আবেদনপত্র, দরপত্র বা কোটেশন বাতিল করিতে পারিবে মর্মে একটি বিবরণ বা ঘোষণা;

(ড) দরপত্র দলিলের শর্ত বা উহাতে প্রদত্ত তথ্য সম্পর্কে ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, সম্ভাব্য দরপত্রদাতাগণের সহিত প্রাক্-দরপত্র সভা অনুষ্ঠান সংক্রান্ত একটি শর্ত;

(ঢ) আবেদনকারী বা দরপত্রদাতা বিধি ৫৭ অনুসারে কাহার নিকট অভিযোগ দায়ের করিবে সেই বিষয়ে আবেদনপত্র উপাত্ত শীট (application data sheet) বা দরপত্র উপাত্ত শীট (tender data sheet) এ উল্লেখ; এবং

(ণ) দরপত্র দাখিলের সর্বশেষ সময়সীমা উত্তীর্ণের পূর্বে যে কোন সময় দরপত্র সংশোধন, প্রতিস্থাপন বা প্রত্যাহারের জন্য দরপত্রদাতাকে অনুমতি প্রদান করা যাইবে মর্মে একটি শর্ত।

(৩) ক্রয়কারীকে দরপত্র বা প্রস্তাব দলিলে নিম্নবর্ণিত তথ্য ও শর্তাদি উল্লেখ করিতে হইবে-

(ক) সম্পাদিতব্য কার্য ও ভৌত সেবার বিবরণ;
(খ) কার্যের অবস্থান এবং নকশা (drawings);
(গ) প্রদেয় পণ্য ও সংশ্লিষ্ট সেবার বিবরণ;
(ঘ) সরবরাহ বা স্থাপনের স্থান;
(ঙ) সরবরাহ এবং কার্য-সম্পাদনের কর্মপরিকল্পনা;
(চ) কার্য সম্পাদনে অবশ্যপূরণীয় নূন্যতম শর্ত;
(চচ) চুক্তি বাস্তবায়নে দরদাতার সক্ষমতা বা tender capacity নিরূপণের লক্ষ্যে দরপত্র দলিলে প্রদত্ত সুনির্দিষ্ট clause এবং ফরমুলা;
(ছ) ওয়ারেন্টি, ত্রুটিজনিত দায় (defects liability) ও রক্ষণাবেক্ষণের শর্তাদি;
(জ) দরপত্রদাতাগণ যে মুদ্রায় বা মুদ্রাসহে দরপত্র দাখিল করিতে পারিবে সেই মুদ্রা বা মুদ্রাসহের নাম এবং বিনিময় মূল্য প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য তারিখ;
(ঝ) দরপত্র জামানত ও কার্য-সম্পাদন জামানতের পরিমাণ এবং মুদ্রা বা মুদ্রাসহের নাম;
(ঞ) চুক্তি মূল্য (contract price) পরিশোধের শর্ত ও পদ্ধতি;
(ট) নূন্যতম বীমা কাভারেজ; এবং
(ঠ) প্রাসঙ্গিক অন্য কোন শর্ত।

(৪) সরবরাহের জন্য নির্দিষ্টকৃত পণ্য বা সরঞ্জামাদি, অথবা সম্পাদিতব্য কার্য কারিগরি বিনির্দেশের সহিত সংগতিপূর্ণ কিনা উহা নির্ধারণ করিবার জন্য যে পরীক্ষা (test), মান ও পদ্ধতি প্রয়োগ করা হইবে উহা, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, দরপত্র দলিলে সঠিকভাবে উল্লেখ করিতে হইবে।

(৫) কারিগরি বিনির্দেশসমূহ এমনভাবে প্রস্তুত করিতে হইবে যেন উহা অ-সীমাবদ্ধকর (nonrestrictive) এবং পক্ষপাতহীন ও উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা নিশ্চিতকরণে সহায়ক হয় এবং দরপত্র দলিলে অন্তর্ভুক্ত নকশার সহিত সংগতিপূর্ণ হয়।

(৬) ক্রয়কারী দরপত্র দলিল প্রস্তুত করিবার সময় প্রয়োজনে ক্রয়কারীর দপ্তর বা সংস্থা বহির্ভূত বিশেষজ্ঞগণের সহায়তাও গ্রহণ করিতে পারিবে।

(৭) চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন দলিলের মধ্যে অগ্রগণ্যতার ক্রম (precedence) হইবে নিম্নরুপ –

(ক) স্বাক্ষরিত চুক্তিপত্র (contract agreement);
(খ) চুক্তি সম্পাদন নোটিশ (notification of award);
(গ) দরপত্র এবং উহার পরিশিষ্ট (tender and the appendix to tender);
(ঘ) চুক্তির বিশেষ শর্তাদি (particular conditions of contract);
(ঙ) চুক্তির সাধারণ শর্তাদি (general conditions of contract);
(চ) কারিগরী বিনির্দেশ (technical specifications);
(ছ) সাধারণ বিনির্দেশ (general specifications);
(জ) নকশা (drawings);
(ঝ) কার্যের মূল্যযুক্ত পরিমাণগত হিসাব সম্বলিত তফসিল (priced bill of quantities) বা আবশ্যকীয় পণ্যের মূল্য সম্বলিত তফসিল (priced schedule of requirements); এবং
(ঞ) পত্র যোগাযোগসহ সংশ্লিষ্ট অন্য কোন দলিল।

(৮) পরামর্শক সেবা ক্রয় সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় দলিল (প্রস্তাব দাখিলের অনুরোধ ও কার্যপরিধি) এই বিধিমালার ষষ্ঠ অধ্যায়ের বিধান অনুসরণে প্রস্তুত করিতে হইবে।

(৯) বিকল্প ডিজাইন, দ্রব্যাদি (materials), কার্য সম্পন্নের তফসিল, অর্থ পরিশোধ পদ্ধতি বা অন্য কোন শর্তের ভিত্তিতে দরপত্র দাখিলের সুযোগ প্রদান করিবার ক্ষেত্রে, উক্ত বিষয়সহের গ্রহণযোগ্যতার শর্ত ও মূল্যায়ন পদ্ধতি দরপত্র দলিলে উল্লেখ করিতে হইবে।

(১০) পণ্য সরবরাহের জন্য লট ভিত্তিক (lot-by-lot basis) দরপত্র আহ্বান করা হইলে, প্রতিটি লটই একটি দরপত্র হিসাবে গণ্য হইবে এবং উক্ত ক্ষেত্রে দরপত্র উপাত্ত শীটে (tender data sheet) এই মর্মে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করিতে হইবে যে, প্রত্যেক লটের অধীন মোট আইটেমসমূহের কমপক্ষে ৮০% (শতকরা আশি ভাগ) এবং প্রাক্কলিত লটের কমপক্ষে ৬৫% (শতকরা পয়ষট্টি ভাগ) এর জন্য দরপত্র দাখিল না করা হইলে উক্ত দরপত্র নন-রেসপন্সিভ বলিয়া বিবেচিত হইবে; অথবা কোন লট-টেন্ডারের কোন একটি আইটেমের মূল্য প্রাক্কলিত লট ল্যের ৫০% (শতকরা পঞ্চাশ ভাগ) এর অধিক হইলে, দরপত্র উপাত্ত শীটে এই মর্মে উল্লেখ করিতে হইবে যে কোন লট-টেন্ডারে উক্ত আইটেমের মূল্য অন্তর্ভুক্ত না করা হইলে, মোট আইটেমসহের মধ্যে শতকরা হিসাবে নূন্যতম যে সংখ্যক আইটেমের জন্য দরপত্র দাখিল করিতে হইবে বলিয়া দরপত্র উপাত্ত শীটে উল্লেখ করা হয়েছে, সেই শর্তপূরণ করিলেও উক্ত লট-টেন্ডার অগ্রহণযোগ্য (non-responsive) বলিয়া বিবেচিত হইবে।

(১১) এক বা একাধিক আইটেমের জন্য আইটেম ভিত্তিক (item-by-item basis) পণ্য সরবরাহের নিমিত্ত দরপত্র আহ্বানের ক্ষেত্রে, প্রত্যেক আইটেমের জন্য প্রদত্ত প্রস্তাব (offer) উক্ত আইটেমের অধীন পূর্ণ পরিমাণের জন্য প্রদান করিতে হইবে ও উহা একটি দরপত্র হিসাবে গণ্য হইবে এবং আলাদাভাবে প্রতিটি আইটেম দাখিলের সুযোগ প্রদানের জন্য দরপত্র দাখিল শীটে (tender submission sheet) একটি টেবিল সংযোজন করিয়া উক্ত শীট সংশোধন করিতে হইবে।

(১২) উপ-বিধি (১) এ যাহা কিছু থাকুক না কেন, ক্রয়কারী, কোন নির্দিষ্ট ধরনের ক্রয়ের প্রয়োজনে, উক্ত উপ-বিধিতে উল্লিখিত দলিলসহে অন্তর্ভুক্ত আবেদনপত্র উপাত্ত শীট, দরপত্র উপাত্ত শীট বা চুক্তির বিশেষ শর্তে, আইন ও এই বিধিমালার সহিত অসামঞ্জস্য নহে এইরূপ প্রয়োজনীয় পরিবর্তন বা সংযোজন করিতে পারিবে।

(১৩) সিপিটিইউ তৎকর্তৃক ইস্যুকৃত আদর্শ দলিলসহ উহার ওয়েবসাইটে প্রকাশ করিবে।

৫। দরপত্র মূল্য নির্ধারণে অনুসরণীয় বিধান।-

(১) কোন নির্দিষ্ট গন্তব্য স্থলে কোন পণ্য সরবরাহ, বা কোন কার্য সম্পাদন বা স্থাপনের (installation) মূল্যসহ দরপত্রদাতা কর্তৃক প্রদেয় সকল সংশ্লিষ্ট ও সহায়ক সেবার মূল্যের ভিত্তিতে দরপত্র আহ্বান করিতে হইবে।

(২) চুক্তি সম্পাদন করা হইলে, সরবরাহকারী বা ঠিকাদার কর্তৃক মূল্য সংযোজন কর ও শুল্কসহ যে কর প্রদেয় হইবে তাহা আলাদা আলাদা ভাবে দরপত্র দলিলের মূল্য তফসিলে উল্লেখ করিতে হইবে।

(৩) দরপত্র দলিলে উল্লেখথাকিবে যে-

(ক) দরপত্রের মূল্য স্থির বা নির্দিষ্ট থাকিবে; বা
(খ) কোন চুক্তির মুখ্য অংশের যেমন- শ্রম, যন্ত্রপাতি, উপাদান, জ্বালানী ল্যের, ঊর্ধ্বমুখী বা অধমুখী, পরিবর্তনের ফলে দরপত্র মূল্য সমন্বয় করা যাইতে পারে।

(৪) কোন চুক্তির ক্ষেত্রে ১৮(আঠার) মাসের বেশী সময় আবশ্যক হইলে, সেইক্ষেত্রে দরপত্র দলিলে বর্ণিত ফরমুলা অনুসরণক্রমে মূল্য সমন্বয় করা যাইতে পারে।

(৫) সাধারণ বাণিজ্যিক রীতি-নীতির আওতায় সরবরাহের সময়সীমা নির্বিশেষে কোন নির্দিষ্ট ধরনের যন্ত্রপাতি নির্দিষ্ট ল্যে সংগ্রহের ক্ষেত্রে, বা ১৮(আঠার) মাসের মধ্যে বাস্তবায়ন যোগ্য কোন সহজ চুক্তির ক্ষেত্রে সাধারণত- মূল্য সমন্বয়ের শর্ত আরোপ করা যাইবে না – তবে শর্ত থাকে যে, ক্রয়কারী, ১৮(আঠার) মাসের কম সময় আবশ্যক এইরূপ চুক্তির ক্ষেত্রে, ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধানের অনুমোদনক্রমে প্রয়োজনে মূল্য সমন্বয় ফরমুলা প্রয়োগ করিতে পারিবে।

(৬) ‘ডে-ওয়ার্কস’ বাবদ যে সকল আইটেমের দর প্রদান করিতে হইবে কার্যের পরিমাণগত হিসাব সম্বলিত বিবরণীতে উক্ত আইটেমসহের প্রত্যেকটির প্রাক্কলিত পরিমাণ উল্লেখ করিতে হইবে।

(৭) ক্রয়কারী, উহার নিজস্ব বিবেচনায়, দরপত্র দলিলে বিশদভাবে বর্ণিত মতে মনোনীত সহঠিকাদার এর পাওনা এবং অন্যান্য ব্যয় মিটানোর উদ্দেশ্যে কার্যের পরিমাণগত হিসাব সম্বলিত বিবরণীতে প্রভিশনাল সাম এর সংস্থান করিতে পারিবে।

৬। ক্রয় সংক্রান্ত দলিল বিতরণ সংক্রান্ত রেকর্ড সংরক্ষণ।-

কোন ব্যক্তির অনুকূলে প্রাক- যোগ্যতা, দরপত্র বা প্রস্তাব দাখিলের অনুরোধ সম্বলিত দলিল ইস্যু করার ক্ষেত্রে ক্রয়কারী নিম্নবর্ণিত তথ্য সংরক্ষণ করিবে-

(ক) ক্রয় সংক্রান্ত দলিল ইস্যু সংক্রান্ত রেফারেন্স নম্বর;
(খ) ব্যক্তির নাম ও ডাক যোগাযোগের ঠিকানা;
(গ) টেলিফোন নম্বর, ফ্যাক্স নম্বর ও ই-মেইল, যদি থাকে; এবং
(ঘ) ক্রয়কারী কর্তৃক প্রয়োজনীয় বলিয়া বিবেচিত অন্য কোন প্রয়োজনীয় তথ্য।

 

অংশ-২: কমিটিসমূহ

৭। উন্মুক্তকরণ কমিটির গঠন।-

(১) ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধান বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্য কোন কর্মকর্তা বা ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধানের নিম্ন পর্যায়ের কোন অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ, ক্ষেত্রমত, তফসিল-২ (Schedule II) এ উল্লিখিত সদস্যদের সমন্বয়ে দরপত্র বা প্রস্তাব উন্মুক্তকরণ কমিটি গঠন করিবে।

(২) উন্মুক্তকরণ কমিটির কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনে উৎসাহ প্রদানের নিমিত্ত মূল্যায়ন কমিটির সদস্যদের ন্যায় নির্ধারিত হারে উন্মুক্তকরণ কমিটির সদস্যদের ফি বা সন্মানী প্রদান করা যাইবে।

(৩) উপ-বিধি (২) এর অধীন উন্মুক্তকরণ কমিটির সদস্যগণকে ফি বা সন্মানী প্রদানের জন্য উন্নয়ন ও রাজস্ব বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান রাখিতে হইবে।

৮। মূল্যায়নকমিটির গঠন এবং মূল্যায়নপদ্ধতি।-

(১) আবেদনপত্র, দরপত্র বা প্রস্তাব দাখিলের আহ্বান ইস্যু করিবার প্রাক্কালে, কিন্তু আবশ্যিকভাবে আবেদন পত্র, দরপত্র বা প্রস্তাব দাখিলের জন্য নির্ধারিত তারিখের পূর্বের যে কোন তারিখে, তফসিল-২ অনুসারে নির্বাচিত সদস্যদের সমন্বয়ে দরপত্র বা প্রস্তাব মূল্যায়ন কমিটি গঠন করিতে হইবে।

(২) উপ-বিধি (১) অনুসারে গঠিত মূল্যায়ন কমিটিতে ল্যায়নের জন্য আবশ্যক জ্ঞানসম্পন্ন বহিঃসদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করিতে হইবে এবং উক্ত সদস্যদেরকে পদবীর ভিত্তিতে মনোনীত করিতে হইবে –

তবে শর্ত থাকে যে, তফসিল-২ এ উল্লিখিত বিভিন্ন মূল্যসীমার মধ্যে ক্রয়ের ক্ষেত্রে, দরপত্র বা প্রস্তাব মূল্যায়ন কমিটি উক্ত তফসিল-২ অনুসারে গঠন করিতে হইবে।

(৩) অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ মূল্যায়ন কমিটি গঠন করিবে, তবে যদি পরিচালনা পর্ষদ বা মন্ত্রণালয় অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ হয়, বা সরকারী ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি সুপারিশকারী কর্তৃপক্ষ হয়, তাহা হইলে পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি বা মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সচিবের অনুমোদনক্রমে মূল্যায়ন কমিটি নিয়োগ করিতে হইবে।

(৪) ক্রয়কারী, উপ-বিধি (৩) এ বর্ণিত কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে, নিম্নরুপভাবে মূল্যায়ন কমিটি গঠন করিতে পারিবে-

(ক) সকল প্রকার ক্রয়ের জন্য একটি মাত্র মূল্যায়ন কমিটি; বিশেষত- যদি সংশ্লিষ্ট ক্রয়কারী কর্তৃক প্রতি বৎসরে শুধু সীমিত সংখ্যক আবেদনপত্র, দরপত্র বা প্রস্তাব বিবেচনা করা হইয়া থাকে বা একটি মাত্র দরপত্র বা প্রস্তাব মূল্যায়ন কমিটির মাধ্যমেই প্রয়োজনীয় সকল ক্রয় সম্পাদন করা সম্ভব হয়; বা

(খ) একাধিক মূল্যায়ন কমিটি; যদি ক্রয়কারীকে একই সময়ে ভিন্ন ভিন্ন ক্রয়ের জন্য বহুসংখ্যক আবেদনপত্র, দরপত্র বা প্রস্তাব পরীক্ষা ও মূল্যায়ন সম্পন্ন করিতে হয়; এবং

(গ) একটি আলাদা মূল্যায়ন কমিটি; যদি প্রক্রিয়াকরণ প্লান্ট সরবরাহ, স্থাপন এবং চালুকরণ সংক্রান্ত বিপুল ব্যয়সাপেক্ষ বা জটিল ক্রয়, বা জটিল প্রকৃতির কার্য বা যোগাযোগ প্রযুক্তি সংক্রান্ত দরপত্র মূল্যায়ন করিতে হয়; বা

(ঘ) বিশেষ কোন ক্রয়ের জন্য প্রয়োজন হয়।

(৫) মূল্যায়ন কমিটির সদস্যদের নিম্নবর্ণিত কার্যালয় বা সংস্থা হইতে নির্বাচন করা যাইতে পারে, যথা –

(ক) ক্রয়কারীর কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট ইউনিটের (যেমন-আর্থিক, বাণিজ্যিক এবং কারিগরী ইউনিটসহ) কর্মকর্তাবৃন্দ;

(খ) ক্রয়কারী কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয় বা বিভাগ বা উহার অধীনস্থ অন্য কোন সংস্থার কর্মকর্তাবৃন্দ;

(গ) উপকারভোগী বা ব্যবহারকারী সংস্থার কর্মকর্তাবৃন্দ; এবং

(ঘ) বহি- সদস্যদের ক্ষেত্রে, কারিগরী, বাণিজ্যিক, আর্থিক বা আইন বিষয়ে অন্য যে কোন মন্ত্রণালয় বা বিভাগ, বা উহার অধীনস্থ কোন দপ্তর ও সংস্থার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ কর্মকর্তা, বা বিশ্ববিদ্যালয় বা খ্যাতিসম্পন্ন পেশাজীবী প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞ, বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞ।

(৬) বিধি ৩৬ অনুসারে মূল্যায়ন প্রতিবেদন পুনরীক্ষণ ও অনুমোদন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করিবার উদ্দেশ্যে, মূল্যায়ন কমিটি গঠনের সময় অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ এই মর্মে নিশ্চয়তা বিধান করিবে যেন উহার সদস্যগণ ন্যায়নিষ্ঠ ও যোগ্যতাসম্পন্ন কর্মকর্তা বা পেশাজীবী হন।

(৭) অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ মূল্যায়ন কমিটি গঠনের সময় একজন সদস্যকে উহার সদস্যসচিব হিসাবে মনোনীত করিবে।

(৮) সভার নোটিশ মূল্যায়ন কমিটির সকল সদস্যের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে এবং সভার বৈধতার জন্য তফসিল-২ এ বর্ণিত নূন্যতম সংখ্যক সদস্যের উপস্থিতি আবশ্যক হইবে।

(৯) মূল্যায়ন কমিটি মূল্যায়ন শুরু করিবার পর হইতে যতটা সম্ভব একনাগাড়ে কাজ করিবে যাহাতে বিধি ৩৬ এর অধীন নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে মূল্যায়ন সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।

(১০) মূল্যায়ন কমিটির সদস্যগণ নিজ নিজ দায়িত্বে আইন, এই বিধিমালা এবং আবেদনপত্র, দরপত্র বা প্রস্তাব দলিলের বিধান ও শর্তাদি অনুসরণক্রমে-

(ক) আবেদনপত্র, দরপত্র, আগ্রহ ব্যক্তকরণ পত্র বা প্রস্তাব পরীক্ষা ও মূল্যায়ন করিবে;

(খ) সুপারিশসহ একটি মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রস্তুত করিবে; এবং

(গ) মূল্যায়ন প্রতিবেদন বিধি ৩৬ মোতাবেক অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করিবে।

(১১) মূল্যায়ন কমিটি গঠিত হইবার পর, কমিটির গঠন অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে কোন সদস্যকে উক্ত কমিটি হইতে, অপসারণ করা যাইতে পারে

(ক) যদি কোন সদস্য, নিরপেক্ষভাবে কর্মসম্পাদন অব্যাহত রাখা সত্ত্বেও, কোন আবেদনকারী বা দরপত্রদাতার সহিত তাহার সম্পর্কের বিষয়টি প্রকাশ না করে; বা

(খ) যদি কোন সদস্য পর পর দুইবার মূল্যায়ন কমিটির সভায় অনুপস্থিত থাকেন; বা

(গ) যদি আইনের ধারা ৬৪ এর বিধান লংঘন করিয়া থাকেন; বা

(ঘ) কোন সদস্যের বদলী, মৃত্যু বা দেশে অনুপস্থিতি।

(১২) কোন সদস্যের সহিত ব্যবসায়িক বা অন্য কোন ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রহিয়াছে এইরূপ কোন দরপত্রদাতার নিকট হইতে দরপত্র প্রাপ্ত হইলে, উক্ত সদস্যের পরিবর্তে অন্য একজন সদস্য নির্বাচন করিতে হইবে।

(১৩) মূল্যায়ন কমিটির প্রত্যেক সদস্য-

(ক) এককভাবে পক্ষপাতহীনতার নিম্নবর্ণিত ঘোষণা সম্বলিত একটি বিবৃতি স্বাক্ষর করিবে, যথা–

“আমি ………………………………… (নাম ও পদবী) এই মর্মে ঘোষণা ও নিশ্চয়তা প্রদান করিতেছি যে, প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী কোন দরপত্রদাতা বা আবেদনকারীর সহিত আমার ব্যবসায়িক বা অন্য কোনরূপ সম্পর্ক নাই।”; এবং

(খ) যৌথভাবে নিম্নবর্ণিত প্রত্যায়নপত্র স্বাক্ষর করিবে, যথা –

“মূল্যায়ন কমিটি এই মর্মে প্রত্যায়ন করিতেছে যে, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬ ও তদধীন প্রণীত বিধিমালা এবং নির্ধারিত আবেদনপত্র, দরপত্র বা প্রস্তাব দলিলের বিধান ও শর্ত অনুসরণক্রমে মূল্যায়ন সম্পন্ন করা হইয়াছে এবং মূল্যায়ন প্রতিবেদনে প্রদত্ত সকল তথ্য ও বর্ণনা সঠিকভাবে প্রতিফলিত করা হইয়াছে এবং কোন গুরুত্বপূর্ণ ও কোন মৌলিক তথ্য বাদ দেওয়া হয় নাই”।

(১৪) ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধান বা তৎকর্তৃক ক্ষমতপ্রাপ্ত ব্যক্তি, বিশেষ কোন দরপত্র বা প্রস্তাব মূল্যায়নে কারিগরী সহায়তা আবশ্যক বলিয়া অনুভূত হইলে, তফসিল-৩ (Schedule-III) এর ‘ক’ অংশে বর্ণিত সময়সীমা অনুসরণ সাপেক্ষে, তফসিল-২ অনুসারে একটি কারিগরী সাব-কমিটি গঠন করিতে পারিবে, বা উপবিধি (২) এর সংখ্যাগত সীমাবদ্ধতা সাপেক্ষে, মূল্যায়ন কমিটিতে অন্যান্য বিশেষজ্ঞ অন্তর্ভুক্ত করিতে পারিবে।

(১৫) মূল্যায়ন কমিটি ও কারিগরি কমিটির কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনে উৎসাহ প্রদানের নিমিত্ত সভা আহ্বানকারী ক্রয়কারী তফসিল-২ এ বর্ণিত হার বা সরকার কর্তৃক সময় সময়, নির্ধারিত হারে উহার প্রত্যেক সদস্যকে ফি বা সম্মানী প্রদান করিবে।

(১৬) উপ-বিধি (১৫) এর অধীন মূল্যায়ন কমিটি ও কারিগরি সাব-কমিটির সদস্যগণকে ফি বা সম্মানী প্রদানের জন্য উন্নয়ন ও রাজস্ব বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান রাখিতে হইবে।

(১৭) মূল্যায়ন কমিটির প্রতিবেদনের সহিত আবেদনপত্র, দরপত্র বা প্রস্তাব আহবান হইতে শুরু করিয়া প্রতিটি পর্যায়ে যে সময় ব্যয়িত হইয়াছে তাহা উপ-বিধি (১৮) তে বর্ণিত চেক-লিস্টে প্রদর্শনপূর্বক মূল্যায়ন প্রতিবেদনের সঙ্গে সংযুক্ত করিয়া অনুমোদন প্রক্রিয়া মোতাবেক পরবর্তী যে কর্মকর্তার নিকট মূল্যায়ন প্রতিবেদন দাখিল করার কথা তাহার নিকট প্রেরণ করিতে হইবে এবং অনুরূপভাবে উক্ত কর্মকর্তা তাহার পর্যায়ে ব্যয়িত সময় চেক-লিস্টে অন্তর্ভুক্ত করিয়া মূল্যায়ন প্রতিবেদন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় দলিলাদি অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করিবে।

(১৮) উপ-বিধি (১৭) তে বর্ণিত চেকলিষ্টসমূহ ক্ষেত্রমত তফসিল-৪ (Schedule-IV) এর অংশ-ক, অংশ-খ এবং অংশ-গ অনুযায়ী হইতে হইবে।

৯। মূল্যায়ন কমিটির সদস্য হিসেবে নিয়োগের ক্ষেত্রে ক্রয়কারীর কার্যালয় বহির্ভূত কর্মকর্তার যোগ্যতা।-

(১) ক্রয়কারীর কার্যালয় বহির্ভূত মূল্যায়ন কমিটির সদস্যগণ ক্রয়কারীর মন্ত্রণালয়, বিভাগ, সংস্থা বা উহার অন্য কোন ইউনিটের কর্মকর্তা হইতে পারিবেন না।

(২) [***]

(৩) কোন বিশেষ ধরনের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে, কোন সরকারী, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত, বিশ্ববিদ্যালয় বা সুখ্যাতি রহিয়াছে এমন কোন পেশাজীবী প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞগণ বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রখ্যাত বিশেষজ্ঞগণকে এই বিধি ও বিধি ৮ এ বর্ণিত যোগ্যতা থাকা সাপেক্ষে, মূল্যায়ন কমিটিতে ক্রয়কারীর কার্যালয় বহির্ভূত সদস্য হিসেবে নিযুক্ত করা যাইবে।

(৪) নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রসমূহে সংশ্লিষ্টতা রহিয়াছে এইরূপ কাহাকেও মূল্যায়ন কমিটির সদস্য নিয়োগ করা যাইবে না-

(ক) সংশ্লিষ্ট মূল্যায়ন কমিটি কর্তৃক মূল্যায়নের জন্য নির্ধারিত প্রাক-যোগ্যতার আবেদনপত্র, দরপত্র, আগ্রহব্যক্তকরণপত্র বা প্রস্তাব দাখিলের সম্ভাবনা রহিয়াছে বা দাখিল করা হইয়াছে এরূপ কোন ব্যক্তির সহিত তাহার ব্যবসায়িক বা ব্যক্তিগত স্বার্থ জড়িত থাকিলে; বা

(খ) নিরপেক্ষভাবে কাজ করা সম্ভব হইবে না এরূপ কোন স্বার্থ জড়িত থাকিলে।

১০। মূল্যায়ন কমিটির সভায় সভাপতিত্বকরণ।-

(১) নিম্নবর্ণিত কর্মকর্তাগণ মূল্যায়ন কমিটির সভায় সভাপতিত্ব করিবেন, যথা-

(ক) অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের অব্যবহিত নিু পদমর্যাদার কোন কর্মকর্তা, যদি অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ প্রকল্প পরিচালক, প্রকল্প ব্যবস্থাপক বা আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ আদেশ অনুযায়ী আঞ্চলিক, উপ-আঞ্চলিক, জেলা বা উপ-জেলার ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন পর্যায়ের কর্মকর্তা হন;

(খ) উপ-জেলা বা অন্য কোন পর্যায়ের অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ, যদি উক্ত পর্যায়ে অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের নিম্নের কোন প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা না থাকে; বা

(গ) ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধান বা প্রধান নির্বাহীর অব্যবহিত নিম্ন পদমর্যাদার কোন কর্মকর্তা, যদি অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধান বা কোন সংবিধিবদ্ধ সংস্থা, স্বায়ত্বশাসিত বা আধা-স্বায়ত্বশাসিত সংস্থার প্রধান নির্বাহী হন; বা

(ঘ) ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধান বা, ক্ষেত্রমত, প্রধান নির্বাহী, যদি অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ পরিচালনা পর্ষদ, বা মন্ত্রণালয়, বা সুপারিশকারী কর্তৃপক্ষ সরকারী ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি হয়; বা

(ঙ) মূল্যায়ন কমিটির কোন সভায় কোন কারণে ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধান বা,ক্ষেত্রমত,প্রধান নির্বাহী সভাপতিত্ব করিতে অসমর্থ হইলে তাহাদের অব্যবহিত নিম্ন পদমর্যাদার কোন কর্মকর্তা; বা

(চ) কোন মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব ক্রয়ের ক্ষেত্রে, যেখানে সচিব স্বয়ং ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধান, সেই ক্ষেত্রে সচিবের অব্যবহিত নিম্ন পদমর্যাদার কোন কর্মকর্তা।

(২) কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ (১৯৯৪ সনের ১৮ নং আইন) এর অধীন নিবন্ধিত কোন কোম্পানী যদি কোন ক্রয়ের ক্ষেত্রে সরকারী রাজস্ব বা উন্নয়ন বাজেটের আওতায় প্রাপ্ত সরকারী তহবিল ব্যবহার করে, তাহা হইলে মূল্যায়ন কমিটির সভায় সভাপতিত্ব করিবার ক্ষেত্রে উক্ত কোম্পানী, কোম্পানী আইনের অধীন প্রযোজ্য নিজস্ব প্রশাসনিক এবং আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ সংক্রান্ত বিধি বিধান অনুসরণ করিবে।

১১। দরপত্র বা প্রস্তাব অনুমোদন।-

(১) আইন ও এই বিধিমালার বিধান যথাযথভাবে অনুসরণক্রমে, অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ আইনের ধারা ৮ এর অধীন মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবে।

(২) মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশ সামগ্রিকভাবে বিবেচনা করিয়া অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ-

(ক) উক্ত সুপারিশ অনুমোদন করিতে পারিবে; বা

(খ) উক্ত সুপারিশ সম্পর্কিত কোন সুনির্দ্দিষ্ট বিষয়ে ক্রয়কারীর মাধ্যমে উক্ত কমিটির নিকট হইতে ব্যাখ্যা আহ্বান করিতে পারিবে; বা

(গ) কারণ ব্যাখ্যাপূর্বক-

(অ) উক্ত সুপারিশ বাতিলক্রমে পুন- মূল্যায়নের জন্য উক্ত কমিটিকে অনুরোধ করিতে পারিবে; বা

(আ) উক্ত সুপারিশ বাতিল করিয়া আইন ও এই বিধিমালার বিধান অনুসরণক্রমে নতুনভাবে ক্রয় কার্য পুন- প্রক্রিয়াকরণের জন্য নির্দেশনা প্রদান করিতে পারিবে।

(৩) কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ (১৯৯৪ সনের ১৮ নং আইন) এর অধীন নিবন্ধিত কোন কোম্পানী যদি কোন ক্রয়ের ক্ষেত্রে সরকারী রাজস্ব বা উন্নয়ন বাজেটের আওতায় প্রাপ্ত সরকারী তহবিল ব্যবহার করে, তাহা হইলে মূল্যায়ন প্রতিবেদন এবং চুক্তি সম্পাদনের অনুমোদন প্রদানের ক্ষেত্রে, উক্ত কোম্পানী, কোম্পানী আইনের অধীন প্রযোজ্য নিজস্ব প্রশাসনিক এবং আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ সংক্রান্ত বিধি বিধান অনুসরণ করিবে।

১২। ‘অর্পিত ক্রয়কার্য’ অনুমোদন ।-

(১) কোন পণ্য, কার্য বা সেবা ক্রয়কার্য সম্পাদনের জন্য কোন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, বা পরিদপ্তর এর পর্যাপ্ত কারিগরি সামর্থ্য না থাকিলে, সেই ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ক্রয়কার্য সম্পাদনের দায়িত্ব উক্ত ক্রয়কার্যে পারদর্শী কোন ক্রয়কারীকে, অতঃপর এই ধারায় নির্বাহক এজেন্সি (executing agency) বলিয়া উল্লিখিত, অর্পণ করা যাইবে।

(২) অর্পিত ক্রয়কার্য সম্পাদনের জন্য মনোনীত নির্বাহক এজেন্সি ‘অর্পিত ক্রয়কার্য’ সম্পাদনের জন্য যথাক্রমে ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধান বা ক্রয়কারী হিসাবে কাজ করিবে এবং নিম্নবর্ণিত কাজ সম্পাদন করিবে-

(ক) এই বিধিমালার বিধান অনুসরণক্রমে ক্রয়কার্য সম্পাদন;

(খ) আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ আদেশ অনুসরণক্রমে অনুমোদন প্রদান; এবং

(গ) চুক্তি পরিচালনা ও প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট কার্য বাস্তবায়ন তদারকি।

(৩) স্বত্বাধিকারী (owner) মন্ত্রণালয় বা বিভাগ বা অধিদপ্তর বা পরিদপ্তর দরপত্র মূল্যায়ন কমিটিসহ সমগ্র ক্রয় এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের জন্য কোন কর্মকর্তাকে মনোনয়ন প্রদান এবং ক্রয়কার্য সুষ্ঠু বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মনিটরিং এর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে এবং অর্পিত ক্রয়কার্য সমাপ্তির পরে নির্বাহক এজেন্সির নিকট হইতে উহার কর্তৃত্ব গ্রহণ করিবে।

উদাহরণ।-গণপূর্ত বিভাগকে যদি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় বা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কোন প্রকল্পের কোন কার্য বাস্তবায়নের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়, সেই ক্ষেত্রে উক্ত প্রকল্পের জন্য গণপূর্ত বিভাগ এবং উহার প্রধান, যথাক্রমে ক্রয়কারী ও ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধান হিসাবে কাজ করিবে এবং উহার বাস্তবায়নকারী পক্ষ হইবে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় বা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, স্বত্বাধিকারী কর্তৃপক্ষ হিসাবে গণ্য হইবে এবং প্রকল্প সমাপ্তির পর গণপূর্ত বিভাগের নিকট হইতে উহার কর্তৃত্ব গ্রহণ করিবে।

(৪) নির্বাহক এজেন্সি, অর্পিত ক্রয়কার্যের স্থান, ডিজাইন, নির্মাণ সামগ্রী এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়ে স্বত্বাধিকারী মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর বা পরিদপ্তরের প্রয়োজনীয় অনুমোদন গ্রহণ করিবে।