সপ্তম অধ্যায়

সপ্তম অধ্যায়

 

১২৭। পেশাগত অসদাচরণ, অপরাধ, চুক্তি বাতিল, ইত্যাদি।-

(১) ক্রয়কারী ও ক্রয়কার্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তি, ক্রয় প্রক্রিয়াকরণ ও চুক্তি বাস্তবায়নকালে নিম্নবর্ণিত বিষয়সমূহের নিশ্চয়তা বিধান করিবে –

(ক) আইনের ধারা ৬৪ এর বিধান অনুসরণ;
(খ) তফসিল-১৩ (Schedule-XIII) এ বর্ণিত নৈতিক বিধি পালন; এবং
(গ) উহার কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী বা উহার পক্ষে অন্য কোন এজেন্ট বা মধ্যস্থতাকারী যেন উপ-বিধি (২) এ বর্ণিত দুর্নীতি, প্রতারণা, চক্রান্ত বা জবরদস্তি মূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত না হয়।

(২) এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে,-

(ক) “দুর্নীতিমূলক কার্য” অর্থে ক্রয় প্রক্রিয়ায় বা চুক্তিসম্পাদনকালীন ক্রয়কারী কর্তৃক কোন কার্য, সিদ্ধান্ত বা পদ্ধতি গ্রহণে প্ররোচিত করার উদ্দেশ্যে, ক্রয়কারী বা অন্য কোন সরকারী বা বেসরকারী কর্তৃপক্ষের কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে, প্রত্যক্ষ বা অপ্রত্যক্ষভাবে উৎকোচ, চাকরি, মূল্যবান দ্রব্য বা সেবা বা আর্থিক সুবিধা প্রদানের কোন প্রস্তাব প্রদান বা প্রদানের অঙ্গীকার করা বা ক্রয়কারীর কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী কর্তৃক উহা গ্রহণ বা চাওয়া বুঝাইবে;
(খ) “প্রতারণামূলক কার্য” অর্থে ক্রয় কার্যক্রম বা চুক্তি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় কোন সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করিবার জন্য কোন ব্যক্তি কর্তৃক কোন মিথ্যা বিবৃতি প্রদান বা অসাধুভাবে কোন তথ্য গোপন করা বা চুক্তির মৌলিক শর্ত ভঙ্গ করা বুঝাইবে;
(গ) “চক্রান্তমূলক কার্য” অর্থে ক্রয়কারীর, জ্ঞাতসারে বা অজ্ঞাতসারে, প্রকৃত ও অবাধ প্রতিযোগিতার সুযোগ হইতে বঞ্চিত করিয়া দরপত্র বা প্রস্তাব দাখিলের সংখ্যা ইচ্ছামত হ্রাস করা বা উহার মূল্য প্রতিযোগিতামূলক নয় এমন পর্যায়ে রাখার উদ্দেশ্যে দুই বা ততোধিক ব্যক্তির মধ্যে কোন চক্রান্ত বা যোগসাজশমূলক কার্য বুঝাইবে; এবং
(ঘ) “জবরদস্তিমূলক কার্য” অর্থে ক্রয় কার্যক্রমের ফলাফলকে প্রভাবিত করা বা চুক্তি বাস্তবায়নে বিঘ্ন সৃষ্টি বা স্বাভাবিকভাবে দরপত্র, আবেদনপত্র, প্রস্তাব বা কোটেশন দাখিলে বাধা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে, কোন ব্যক্তি বা তাহার সম্পত্তির ক্ষতিসাধন করা বা ক্ষতিসাধনের হুমকি প্রদান করা বুঝাইবে।

(৩) যদি কোন দুর্নীতি, প্রতারণা, চক্রান্ত বা জবরদস্তিমূলক কার্যে কোন ব্যক্তি জড়িত হয়, তাহা হইলে ক্রয়কারী উক্ত কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়া বা থাকার বিষয়ে লিখিতভাবে ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নির্দেশ প্রদান করিবে।

(৪) কারণ দর্শানোর পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রদত্ত ব্যাখ্যা ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধান কর্তৃক গ্রহণযোগ্য না হইলে, ক্রয়কারী-

(ক) উক্ত ব্যক্তিকে অত:পর সংশ্লিষ্ট কোন ক্রয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করা হইতে বিরত রাখিতে পারিবে; বা
(খ) উক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে কোন কার্যাদেশ প্রদানের প্রস্তাব করা হইয়া থাকিলে উহা বাতিল করিতে পারিবে; বা
(গ) উক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ভবিষ্যতে তাহার এবং অন্য সকল ক্রয়কারীর ক্রয় কার্যক্রমে, উক্ত ক্রয় সরকারি তহবিল দ্বারা করা হইয়া থাকিলে, কোন নির্দিষ্ট মেয়াদ বা অনির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য, অংশগ্রহণের অযোগ্য বলিয়া ঘোষণা করিতে পারিবে:

তবে শর্ত থাকে যে, কোন ব্যক্তি, ঠিকাদার, সরবরাহকারী বা পরামর্শক কর্র্তৃক চুক্তির কোন মৌলিক শর্ত ভঙ্গ করিবার কারণে ক্রয়কারী চুক্তি বাতিল করিলে, ক্রয়কারী নিজস্ব বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ১ (এক) বৎসর অথবা অনধিক ২ (দুই) বৎসরের জন্য ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধান (HOPE) এর অনুমোদনক্রমে উক্ত ক্রয়কারীর এবং অন্য সকল ক্রয়কারীর ক্রয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণে অযোগ্য ঘোষণা করিতে পারিবে।

(৫) উপ-বিধি (৪) এর অধীন ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে, নিম্নবর্ণিত পদ্ধতি অনুসরণ করিতে হইবে-

(ক) সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ব্যাখ্যা অগ্রহণযোগ্য বলিয়া বিবেচিত হইলে, ক্রয়কারী সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র ও তথ্যাদি সহকারে একটি প্রতিবেদন ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধানের বিবেচনার জন্য প্রেরণ করিবে;
(খ) দফা (ক) এর অধীন প্রতিবেদন প্রাপ্তির পরে, ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধান সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নিজেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিতে পারিবেন, বা তফসিল-২ এ বর্ণিত সময়সীমার মধ্যে তাঁহার বা তৎকর্তৃক মনোনীত অন্য কোন কর্মকর্তার সভাপতিত্বে, অভিযোগ সম্পর্কে প্রথম যে ক্রয় কর্মকর্তা অবহিত হইয়াছেন তিনি ব্যতীত, ক্রয়কারীর কার্যালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করিবেন;
(গ) দফা (খ) এর অধীন গঠিত কমিটি ক্রয়কারীর সুপারিশ পর্যালোচনা করিয়া তফসিল-২ এ বর্ণিত সময়সীমার মধ্যে উক্ত বিষয়ে উহার সুপারিশ প্রদানপূর্বক একটি প্রতিবেদন ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধানের নিকট পেশ করিবে; এবং
(ঘ) দফা (গ) এর অধীন প্রদত্ত সুপারিশ বিবেচনাক্রমে ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধান যথাযথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবেন এবং যদি সংশ্লিষ্টব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ক্রয়কার্যে অংশগ্রহণে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, তাহা হইলে ক্রয়কারী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ক্রয়কার্যে অংশগ্রহণের সুযোগ হইতে বঞ্চিত করিবার বিষয়টি উহাকে সম্বোধনকৃত একটি পত্রযোগে অবহিত করিবে এবং সিপিটিই’র ওয়েবসাইটে ক্রয়কার্যে শগ্রহণের সুযোগ হইতে বঞ্চিত ব্যক্তিদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করিয়া প্রকাশের জন্য সিপিটিইউকে উহার কপি প্রদান করিবে।

(৬) উপ-বিধি (৪) ও (৫) এর অধীন গৃহীত কার্যক্রমের বিবরণ ক্রয়কারী কর্তৃক সিপিটিইউ এর জ্ঞাতার্থে প্রেরণ করিতে হইবে।

(৭) উপবিধি (৪) এবং (৫) এর অধীন গৃহীত সিদ্ধান্ত ও উহার কারণ ক্রয় কার্যক্রমের রেকর্ডে যথাযথভাবে লিপিবদ্ধ করিয়া সংরক্ষণ করিতে হইবে।

(৮) আইন ও এই বিধিমালা প্রযোজ্য হওয়া সাপেক্ষে, কোন ব্যক্তি বা ক্রয়কারীর কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী যদি পেশাগত অসদাচরণ সংক্রান্ত কোন অপরাধ করে, তাহা হইলে তাঁহার বিরুদ্ধে আইনের ধারা ৬৪(৩) ও (৪) এবং দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে হইবে।

উদাহরণ ১। ক্রয় প্রক্রিয়াকরণ বা চুক্তি বাস্তবায়নকালে কোন কাজ করা বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা কোন পদ্ধতি প্রয়োগে প্ররোচিত করার উদ্দেশ্যে কোন ব্যক্তি বা উহার কোন কর্মকর্তা, কর্মচারী বা উহার পক্ষে কোন মধ্যস্থতাকারী, ক্রয়কারীর কোন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে বা ক্রয় প্রক্রিয়ায় নিয়োজিত অন্য কোন সরকারী বা বেসরকারী কর্তৃপক্ষ বা কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে আইনত- প্রাপ্য সম্মানী ব্যতীত, কোন চাকুরি বা অন্য কোন মূল্যবান দ্রব্য বা সেবা প্রদান, উৎকোচ প্রদান বা প্রদানের অঙ্গীকারকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এবং ক্রয়কারীর ও ক্রয় প্রক্রিয়ায় নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মকর্তাবৃন্দ দুর্নীতিমূলক কার্যে জড়িত বলিয়া বিবেচিত হইবে এবং দণ্ডবিধি (Penal Code) এর সংশ্লিষ্ট ধারাসমূহ (ধারা ১৬১ হইতে ১৭১) অথবা Prevention of Corruption Act, 1947 এর সংশ্লিষ্ট ধারার অধীনে শাস্তিযোগ্য হইবে।

উদাহরণ ২। কোন ক্রয় কার্যক্রমে, বা চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোন সিদ্ধান্ত প্রদানকে প্রভাবিত করিবার জন্য কোন কর্মকর্তা, কর্মচারী বা কোন ব্যক্তি প্রতারণা বা অসততার সহিত কোন দলিল বা উহার অংশ বিশেষ প্রস্তুত, স্বাক্ষর ও মোহরযুক্ত করে বা সম্পাদন করে বা কোন দলিল যে জাল তাহা বিশ্বাস করিবার পক্ষে যথেষ্ট যুক্তি থাকা সত্বেও উহা ব্যবহার করে বা কোন মিথ্যা বিবৃতি প্রদান করে বা নকল ট্রেডমার্ক ব্যবহার করে, তাহা হইলে উক্ত কর্মকর্তা বা কর্মচারী বা ব্যক্তি দণ্ড বিধির সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী (ধারা ৪৬৫ হইতে ৪৮৯) উহা শাস্তিযোগ্য অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে।

উদাহরণ ৩। অযৌক্তিকভাবে দরপত্রের সংখ্যা হ্রাস বা সাজানো মূল্যসম্বলিত দরপত্র দাখিলের জন্য ক্রয়কারীর জ্ঞাতসারে বা অজ্ঞাতসারে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার সুফল হইতে উহাকে বঞ্চিত করিবার লক্ষ্যে, দুই বা ততোধিক ব্যক্তি কোন অসৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বা উহার আয়োজনে লিপ্ত হয়, তাহা হইলে উহা চক্রান্তমূলক অপরাধ হিসাবে বিবেচিত হইবে এবং দণ্ডবিধির ধারা ১২০ এ এবং ধারা ১২০বি(২) অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য হইবে।

উদাহরণ ৪। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ক্ষতি বা হুমকির মাধ্যমে কোন ব্যক্তি বা তাঁহার সম্পত্তির উপর বিপদাশঙ্কা সৃস্টি করিয়া কোন বেআইনী কাজ করিতে বাধ্য করার চেস্টা বা আইনত- করণীয় কাজে বিঘ্ন সৃষ্টিসহ আবেদন, দরপত্র বা প্রস্তাব দাখিলে বাধা প্রদান দণ্ডবিধির ধারা ৫০৩ অনুযায়ী অপরাধ হিসাবে বিবেচিত হইবে এবং উক্ত দন্ড বিধির ধারা ৫০৬ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য হইবে।

১২৮। ইলেকট্রনিক পরিচালন পদ্ধতিতে সরকারী ক্রয়।-

(১) আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার কর্তৃক নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণক্রমে যে কোন বা সকল সরকারী ক্রয় ইলেকট্রনিক পরিচালন পদ্ধতির ব্যবহার করিয়া সম্পন্ন করা যাইবে।

(২) ইলেকট্রনিক পরিচালন পদ্ধতিতে সরকারী ক্রয়ের ক্ষেত্রে, এই বিধিমালার বিধান এবং ইলেকট্রনিক পরিচালন পদ্ধতির বিধানের সঙ্গে কোন বিরোধ (conflict) দেখা দিলে ইলেকট্রনিক পরিচালন পদ্ধতির বিধান প্রাধান্য পাইবে।