সংশোধিত বাজেটের কতিপয় ব্যয় কাটছাঁটে পরিপত্র জারি। যে বিষয়টি পরিষ্কার করা হয়নি !!!
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধের ফলে উদ্ভূত বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকারের ব্যয় সাশ্রয়ের অংশ হিসেবে সংশোধিত বাজেটের ব্যয়ে বড় ধরনের কাটছাঁট করেছে সরকার।
মোট ১১ বিষয়ে অর্থ খরচে সংযত থাকতে পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে কিছু খরচ পুরোপুরি বন্ধ থাকবে, আর কিছু খরচ করতে হবে অনুমোদন সাপেক্ষে।
গত ০৫ এপ্রিল ২০২৬ ইং তারিখে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ এ বিষয়ে পরিপত্র জারি করেছে। সব সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত, সংবিধিবদ্ধ সংস্থা, করপোরেশন এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কার্যকর হবে। তবে পরিপত্রটি শুধুমাত্র ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য প্রযোজ্য হবে।
যে সব খরচ পুরোপুরি বন্ধ/স্থগিত থাকবেঃ
- সব ধরনের যানবাহন ক্রয়
- কম্পিউটার ও আনুষঙ্গিক খাতে নতুন কোনো ব্যয়
- সরকারি কর্মচারীদের গাড়ি ক্রয়ের জন্য দেওয়া সুদমুক্ত বিশেষ অগ্রিম ঋণ সুবিধা
- সরকারি অর্থায়নে সব ধরনের বৈদেশিক প্রশিক্ষণ, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও কর্মশালায় অংশগ্রহণ
- পরিচালন বাজেটের আওতায় ভূমি অধিগ্রহণ
যে সব খরচ অর্থ বিভাগের বিশেষ অনুমতি সাপেক্ষে ব্যয় করা যাবেঃ
- আবাসিক ও অনাবাসিক ভবন এবং স্থাপনা নির্মাণে যেসব প্রকল্পের কাজ ইতিমধ্যে ৭০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে,
- উন্নয়ন বাজেটের ক্ষেত্রে ভূমি অধিগ্রহণ (অধিগ্রহণ কার্যক্রমের সব আনুষ্ঠানিকতা প্রতিপালনপূর্বক)
তবে পরিপত্র অনুযায়ি যে সব খরচ পুরোপুরি বন্ধ/স্থগিত থাকবে সেগুলোর বিষয়ে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ক্রয়কারীদের মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ দেখা দিয়েছে। যেমন, ইতিমধ্যে কার্যাদেশ বা Notification of Award (NOA) দেয়া হয়েছে এমন ক্ষেত্রে (কম্পিউটার ও আনুষঙ্গিক খাতে ক্রয়, ইত্যাদি) করণীয় বিষয়ে পরিপত্রে পরিষ্কার করা হয়নি।
উল্লেখ্য, বর্তমানে ক্রয়কারীদের ১০০% দরপত্র ই-জিপি (e-GP) তে আহবান করার নির্দেশনা আছে। আর ই-জিপিতে মূল্যায়ন প্রতিবেদন অনুমোদনের পর NOA ইস্যূ করার সাথে সাথে স্বয়ংক্রিয় ভাবেই তা সংশ্লিষ্ট দরপত্রদাতা বা সরবরাহকারী কর্তৃক গৃহিত (Accept) হয়ে যায়। এমতাবস্থায়, পরিপত্র জারীর অর্থ্যাৎ গত ০৫ এপ্রিল ২০২৬ ইং তারিখ বা তার পূর্বে প্রদানকৃত NOA এর ক্ষেত্রে চুক্তি থেকে সরে আসার উপায় বা পরবর্তী ব্যয় নিয়ে এই পরিপত্রে কোন নির্দেশনা দেয়া হয় নি।
আরও দেখুনঃ NOA ইস্যু’র পর বাতিল বা স্থগিত করার প্রয়োজন হলে কি করবেন
আবার, যদিও যেসব ক্ষেত্রে অর্থ ব্যয় আগামী অর্থবছরে সম্পন্ন হবে সেগুলোর দরপত্র আহবান, মূল্যায়ন, NOA ইস্যূ, চুক্তি স্বাক্ষর, ইত্যাদি বিষয়ে কোন কিছু উল্লেখ করা হয়নি, তবে পরিপত্র বিবেচনায় ধরে নেয়া যায় যে এগুলো যথাযথ নিয়মে চলবে।
জারীকৃত পরিপত্রটি নিচে দেওয়া হলঃ

এই লেখকের অন্যান্য লেখা

বাংলাদেশে ADP বাস্তবায়ন ৫ বছরের সর্বনিম্ন: Procurement Delay কি আসল কারণ ?
বাংলাদেশের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (Annual Development Programme–ADP) দেশের অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, পরিবহন এবং অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রধান আর্থিক

বাংলাদেশে Manual Tender যুগের সমাপ্তিঃ বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ
বাংলাদেশের সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় ১ জুলাই ২০২৬ একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। এদিন থেকে Manual (Offline) Tendering-এর আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটেছে এবং সরকারি

Indirect Procurement 2026 Report: Uncertainty as a Catalyst for Efficiency
The year 2026 is an extremely challenging and transformative year for procurement professionals. According to the 9th Annual Indirect Procurement

সরকারি Procurement System-এ আরও পরিবর্তন আসছে
বাংলাদেশের সরকারি ক্রয় ব্যবস্থা গত এক দশকে উল্লেখযোগ্য ডিজিটাল রূপান্তরের মধ্য দিয়ে গেছে। ই-জিপি (e-GP) চালুর ফলে টেন্ডারিং প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা