Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content
Post Type Selectors

বাংলাদেশে Manual Tender যুগের সমাপ্তিঃ বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ

Facebook
Twitter
LinkedIn

বাংলাদেশের সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় ১ জুলাই ২০২৬ একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। এদিন থেকে Manual (Offline) Tendering-এর আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটেছে এবং সরকারি ক্রয়ে ১০০% Electronic Government Procurement (e-GP) বাস্তবায়ন কার্যকর হয়েছে। এর ফলে এখন থেকে কোনো নতুন সরকারি টেন্ডার কাগজভিত্তিক (Paper-based) পদ্ধতিতে আহ্বান করা যাবে না; সব নতুন টেন্ডার বাধ্যতামূলকভাবে জাতীয় e-GP সিস্টেমের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। এই সিদ্ধান্ত সরকারি ক্রয় ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক করার দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

বাংলাদেশে e-GP কার্যক্রম পরীক্ষামূলকভাবে ২০১১ সালে চালু হয়। পরবর্তীকালে ধাপে ধাপে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয় এবং সময়ের সঙ্গে এর পরিধি সম্প্রসারিত হয়। ২০২৫ সালের Public Procurement (Amendment) Ordinance কার্যকর হওয়ার পর সকল সরকারি ক্রয়ের ক্ষেত্রে e-GP বাধ্যতামূলক করা হয়। এরপর ২০২৬ সালে সংশোধিত আইন গেজেট আকারে প্রকাশিত হলে BPPA ঘোষণা দেয় যে ৩০ জুন ২০২৬-এর পর আর কোনো প্রতিষ্ঠানের Manual Tender-এর জন্য অব্যাহতি (Waiver) অনুমোদন করা হবে না এবং ১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন কোনো Offline Tender গ্রহণ করা হবে না। তবে ১ জুলাইয়ের আগে ম্যানুয়ালি শুরু হওয়া টেন্ডারগুলো পূর্বের নিয়মেই সম্পন্ন করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে বিস্তারিত দেখুনঃ ১ জুলাই’২৬ থেকে বন্ধ হচ্ছে অফলাইন দরপত্র

১০০% e-GP বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় সরকারি ক্রয়ের পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল রূপান্তরের অন্যতম উদাহরণ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এখন টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, দরপত্র দাখিল, মূল্যায়ন, চুক্তি প্রদান এবং অনেক ক্ষেত্রে চুক্তি ব্যবস্থাপনার তথ্যও একই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংরক্ষিত হবে। এর ফলে কাগজভিত্তিক প্রক্রিয়ার সীমাবদ্ধতা, যেমন নথি হারিয়ে যাওয়া, শারীরিকভাবে দরপত্র জমা দেওয়ার জটিলতা এবং অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক বিলম্ব অনেকাংশে কমে আসবে। একই সঙ্গে সরকারি ক্রয়ে তথ্যের ট্রেসেবিলিটি (Traceability) এবং জবাবদিহিতা আরও শক্তিশালী হবে।

সম্ভাব্য সুফল

সম্পূর্ণ e-GP বাস্তবায়নের সবচেয়ে বড় সুফল হলো স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি। দেশের যেকোনো প্রান্তের নিবন্ধিত দরদাতা একই প্ল্যাটফর্মে সমান সুযোগে অংশ নিতে পারবেন, ফলে প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং সরকারি অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার (Value for Money) নিশ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে।

এছাড়া পুরো প্রক্রিয়া ডিজিটাল হওয়ায় Procurement Cycle Time কমতে পারে, নথিপত্র ব্যবস্থাপনা সহজ হবে এবং মূল্যায়ন ও চুক্তি প্রদানের বিভিন্ন ধাপ আরও দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। ভবিষ্যতে e-GP-এর বিপুল তথ্যভাণ্ডার ব্যবহার করে বাজার বিশ্লেষণ, দরপত্রে অংশগ্রহণের প্রবণতা, চুক্তি বাস্তবায়নের কর্মদক্ষতা এবং সরকারি ক্রয়ের সামগ্রিক কার্যকারিতা মূল্যায়নও সহজ হবে।

বাস্তব চ্যালেঞ্জ

যদিও নীতিগতভাবে ১০০% e-GP বাস্তবায়ন একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ, বাস্তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক Procuring Entity এবং Tenderer এখনো স্থিতিশীল ইন্টারনেট, পর্যাপ্ত প্রযুক্তিগত দক্ষতা বা প্রয়োজনীয় আইটি অবকাঠামোর অভাবে সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন।

এছাড়া শুধু টেন্ডার আহ্বান ডিজিটাল করলেই সরকারি ক্রয়ের সব সমস্যা সমাধান হবে না। Procurement Planning, Contract Management, প্রকল্প বাস্তবায়ন, সময়মতো বিল পরিশোধ এবং Contract Performance Monitoring-এর মতো ক্ষেত্রেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। অন্যথায় e-GP শুধুমাত্র একটি ডিজিটাল টেন্ডারিং প্ল্যাটফর্ম হিসেবেই সীমাবদ্ধ থেকে যেতে পারে।

Procurement Community-এর জন্য এর অর্থ কী?

এই পরিবর্তনের ফলে সরকারি ক্রয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, ঠিকাদার, সরবরাহকারী ও পরামর্শকদের দক্ষতার ধরনও পরিবর্তিত হবে। এখন শুধু বিধিমালা জানা যথেষ্ট নয়; e-GP-এর কার্যকর ব্যবহার, ডিজিটাল ডকুমেন্ট ব্যবস্থাপনা, তথ্য বিশ্লেষণ এবং Contract Management সম্পর্কে দক্ষতা অর্জনও অপরিহার্য হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে BPPA-এর ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এবং প্রস্তাবিত Institute of Public Procurement (IPP) ভবিষ্যতে এই দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

উপসংহার

বাংলাদেশে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে Manual Tender-এর সমাপ্তি কেবল একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়; এটি সরকারি ক্রয় ব্যবস্থার ডিজিটাল রূপান্তরের নতুন অধ্যায়। এই উদ্যোগ সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতা, প্রতিযোগিতা এবং দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি করেছে। তবে এর প্রকৃত সফলতা নির্ভর করবে প্রযুক্তির পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ, শক্তিশালী Contract Management, কার্যকর পর্যবেক্ষণ এবং ধারাবাহিক প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ওপর। যদি এসব ক্ষেত্র সমানভাবে গুরুত্ব পায়, তাহলে বাংলাদেশ শুধু ১০০% e-GP বাস্তবায়নকারী দেশ হিসেবেই নয়, বরং ডিজিটাল পাবলিক প্রকিউরমেন্টে একটি আঞ্চলিক মডেল হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই লেখকের অন্যান্য লেখা

সংবাদপত্রের পাতা থেকে

বাংলাদেশে ADP বাস্তবায়ন ৫ বছরের সর্বনিম্ন: Procurement Delay কি আসল কারণ ?

বাংলাদেশের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (Annual Development Programme–ADP) দেশের অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, পরিবহন এবং অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রধান আর্থিক

Read More »
আলাপচারি

সরকারি Procurement System-এ আরও পরিবর্তন আসছে

বাংলাদেশের সরকারি ক্রয় ব্যবস্থা গত এক দশকে উল্লেখযোগ্য ডিজিটাল রূপান্তরের মধ্য দিয়ে গেছে। ই-জিপি (e-GP) চালুর ফলে টেন্ডারিং প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা

Read More »
ক্রয়কারি ফোরাম

পিডি নিয়োগে হচ্ছে নতুন নীতিমালা। কি আছে খসড়ায় ?

বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘদিনের অদক্ষতা, ধীরগতি এবং স্বচ্ছতার অভাব দূর করতে সরকার প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগের বর্তমান পদ্ধতিতে আমূল

Read More »
Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content
Post Type Selectors
গ্রাহক হোন

শুধুমাত্র Registered ব্যবহারকারিগন-ই সব ফিচার দেখতে ও পড়তে পারবেন। এক বছরের জন্য Registration করা যাবে। Registration করতে এখানে ক্লিক করুন

** সীমিত সময়ের জন্য Discount চলছে।

প্রকিউরমেন্ট বিডি সম্পর্কে আপনার মূল্যবান মতামত জানাতে অনুরোধ করছি।

আপনার অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ আমাদের সেবা উন্নত করতে সহায়ক হবে।

ফ্রী রেজিস্ট্রেশন

“প্রকিউরমেন্ট বিডি news”, “সমসাময়িক”, “সূ-চর্চা”, “প্রশিক্ষণ” অথবা “ঠিকাদারী ফোরাম” ইত্যাদি বিষয়ে কমপক্ষে ২টি নিজস্ব Post প্রেরণ করে এক বছরের জন্য Free রেজিষ্ট্রেশন করুণ। Post পাঠানোর জন্য “যোগাযোগ” পাতা ব্যবহার করুণ।

সূচীঃ PPR-25

সর্বশেষ

Scroll to Top