দরপত্রে কার্যকর প্রতিযোগিতা …. ১টি কেস স্টাডি
যানজট এড়িয়ে চলাচলের জন্য বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার অংশে বিশেষায়িত লেনে চলাচলের জন্য ১৩৭টি বাস কেনার প্রক্রিয়া দেড় বছরেও শেষ হয়নি। এজন্য ২য় বার দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। ১ম বার ‘কার্যকর প্রতিযোগিতা’ হয়নি কারণ দেখিয়ে দরপত্র বাতিল করা হয়েছিল।
১ম দরপত্রে ৬টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিলেও ২য় দরপত্রে অংশ নিয়েছে মাত্র ২টি প্রতিষ্ঠান। প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ২০৫ কোটি টাকা।
১৩৭টি বাস কেনার ঋণসহায়তা দিচ্ছে ফ্রান্স। এ জন্য ১ম দরপত্র ডাকা হয় গত বছরের ১৪ জানুয়ারি। দরপত্র দাখিল করে ছয়টি প্রতিষ্ঠান। গত বছরের ১৮ এপ্রিল মূল্যায়ন কমিটি চারটি প্রতিষ্ঠানকে কারিগরিভাবে যোগ্য (রেসপনসিভ) ঘোষণা করে। তাতে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে চীনের হাইগার বাস কোম্পানি লিমিটেডকে সুপারিশ করা হয়। কিন্তু একই ব্যবসায়ী গ্রুপের আরও একটি প্রতিষ্ঠানও একই দরপত্রে অংশ নেয়; যা বেআইনি। বিষয়টি ধরা পড়ার পর ওই দুই প্রতিষ্ঠানকেই অযোগ্য ঘোষণা করে।
পরে কর্তৃপক্ষ দরপত্র বাতিল করে দিলে, অবশিষ্ট যোগ্য দরদাতার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ক্রয়সংক্রান্ত কারিগরি ইউনিটের (সিপিটিইউ) রিভিউ প্যানেল ২য় সর্বনিম্ন দরদাতাকে কার্যাদেশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেয়। আইনেও তা–ই আছে। বিআরটি পরে উচ্চ আদালতে যায়। কার্যকর প্রতিযোগিতার ঘাটতির কথা তুলে ধরে নতুন দরপত্র ডাকার আবেদন করে। সেভাবে আদেশও পাওয়া যায়। যোগ্য দরদাতা দাবিদার প্রতিষ্ঠান এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করে, যা বর্তমানে বিচারাধীন।
এরপর গত ১৮ এপ্রিল ২য় দফায় দরপত্র আহ্বান করা হয়।
১ম দরপত্রে ডলারের বিনিময়মূল্য ১০৬ টাকা হিসেবে প্রথম সর্বনিম্ন দর ছিল প্রায় ১ কোটি ৭৭ লাখ মার্কিন ডলার (১৮৮ কোটি টাকা) এবং দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দর ছিল প্রায় ১ কোটি ৯১ লাখ ডলার (২০৩ কোটি টাকা)। আর নতুন (২য়) দরপত্রে সর্বনিম্ন দর পড়েছে প্রায় ৩ কোটি ডলার (৩৬০ কোটি টাকা)। অপরটির (দ্বিতীয় সর্বনিম্ন) দর প্রায় ৯ কোটি ৯৮ লাখ ডলার (প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা)।
১ম দরপত্রে ৬টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিলেও বলা হয়, কার্যকর প্রতিযোগিতা হয়নি। পরেরটায় মাত্র ২টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেওয়ায় এটা কিভাবে কার্যকর প্রতিযোগিতামূলক হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অপর দিকে খরচও বাড়ছে অনেক বেশি।
এমন প্রশ্নের জবাবে বিআরটি কোম্পানি লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক মো. মহিউদ্দিন বলেন, আগেরবার অংশ নেওয়া ৬টি প্রতিষ্ঠানই ছিল একই দেশের (চীন)। এবার যে ২টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে, তারা ভিন্ন ভিন্ন দেশের। বৈচিত্র্য আনতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, (২য় দরপত্রে) ২টি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক মূল্যায়নের কাজ চলছে। এটি চূড়ান্ত হওয়ার পর সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠানকে নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড (NOA) দেওয়া হবে।
নতুন (২য়) দরপত্রে খরচ অনেক বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে মহাব্যবস্থাপক বলেন, বাসের ধরন পরিবর্তন করা হয়েছে বলে খরচও বাড়ছে।
এই লেখকের অন্যান্য লেখা

Collusion in the Belgian Newspaper Distribution Sector
The Belgian competition authority has concluded its formal inquiry into systemic bid-rigging and horizontal agreements within the public procurement process

ই-জিপি সাইটে ভোগান্তি: ব্যবহারকারীদের ক্ষোভ, কবে মিলবে সমাধান ?
সরকারি ক্রয় কার্যক্রমের একমাত্র ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ই-জিপি (e-GP) পোর্টালে গত কয়েকদিন ধরে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ব্যবহারকারীরা। সাইটটির ধীরগতি এবং যান্ত্রিক

সরকারি ক্রয়ে রেকর্ড ব্যবস্থাপনাঃ আইনি কাঠামো ও ব্যবহারিক নির্দেশিকা
প্রকৌ: মো: মোকতার হোসেন MCIPS, PMP, CPCM উপ-পরিচালক (নির্বাহী প্রকৌশলী) নক্সা ও পরিদর্শণ-১ পরিদপ্তর, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, ঢাকা। মোবাইল: ০১৭২২০৪৪৩৩৫ ইমেইল: moktar031061@gmail.com

লাম্প সাম নাকি টাইম-বেসড কন্ট্রাক্ট – কোনটি কখন ব্যবহার করবেন ?
পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বা সরকারি ক্রয়ে প্রধানত কাজের ধরন ও মূল্য পরিশোধের পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন ধরনের চুক্তি করা হয়।