Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content
Post Type Selectors

বৃহৎ আকারের সরকারি প্রকল্প ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জসমূহ

Facebook
Twitter
LinkedIn

বিশ্বজুড়ে দেশে দেশে সব সরকারই অবকাঠামো উন্নয়ন, জনসেবা প্রদান এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বৃহৎ আকারের প্রকল্প গ্রহণ করে থাকে। এই প্রকল্পগুলো পরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা, প্রতিরক্ষা বা প্রযুক্তি সম্পর্কিত হতে পারে। এগুলি প্রায়শই খুব জটিল এবং অসংখ্য বিধি-নিষেধের আওতায় থাকে এবং এর জন্য অনেক স্টেকহোল্ডারের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন হয়। এগুলি ভালোভাবে পরিচালনা করার জন্য একটি কৌশলগত পদ্ধতি, শক্তিশালী প্রক্রিয়া এবং best practices অনুসরণ করা দরকার।

বৃহৎ আকারের সরকারি প্রকল্পগুলোতে যথেষ্ট পরিমাণে সরকারি সম্পদ ব্যবহৃত হয়, যা বিপুল সংখ্যক মানুষের উপর প্রভাব ফেলে এবং এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবও রয়েছে। এই প্রকল্পগুলোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে:

  • অবকাঠামো প্রকল্প: মহাসড়ক, সেতু, বিমানবন্দর এবং গণপরিবহন ব্যবস্থা।
  • প্রযুক্তি উদ্যোগ: সরকারি পরিষেবাগুলোর ডিজিটাল রূপান্তর, সাইবার নিরাপত্তা প্রকল্প এবং জাতীয় ডেটাবেস।
  • প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা কর্মসূচি: সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ, গোয়েন্দা ব্যবস্থা এবং জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
  • স্বাস্থ্য ও শিক্ষা প্রকল্প: সরকারি হাসপাতাল, চিকিৎসা গবেষণা উদ্যোগ, স্কুল নির্মাণ এবং ডিজিটাল শিক্ষা প্ল্যাটফর্ম।

এই প্রকল্পগুলোর বিশাল আকার এবং জটিলতার কারণে, কোনো রকম বিলম্ব বা বাজেট সংক্রান্ত সমস্যা ছাড়াই লক্ষ্য অর্জনের জন্য সতর্কতার সাথে পরিকল্পনা, সমন্বয় এবং বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।

অন্যান্য কেস স্টাডি দেখুনঃ e-GP তে দরপত্র উন্মুক্তের আগে দাপ্তরিক প্রাক্কলনে ভুল পাওয়া গিয়েছে। কি করবেন ?


বৃহৎ সরকারি প্রকল্প ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জসমূহ

বৃহৎ আকারের সরকারি প্রকল্প পরিচালনা করার ক্ষেত্রে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। নিচে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ আলোচনা করা হলো:

আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং নিয়ন্ত্রক সম্মতি: সরকার অসংখ্য নিয়মকানুন, নীতি এবং আইনি প্রয়োজনীয়তার মধ্যে কাজ করে। প্রকল্পের অনুমোদন পেতে অনেক সময় লাগতে পারে, যার ফলে কাজ বিলম্বিত হতে পারে। আমলাতন্ত্রের স্তরগুলো প্রায়শই সিদ্ধান্ত গ্রহণকে ধীর করে দেয় এবং অদক্ষতা তৈরি করে।

সমাধান: প্রকল্প ব্যবস্থাপকদের উচিত আইনি এবং নিয়ন্ত্রক বিশেষজ্ঞদের সাথে শুরুতেই পরামর্শ করে সম্মতি সংক্রান্ত সমস্যাগুলো সমাধান করা। সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে একটি সুবিন্যস্ত অনুমোদন প্রক্রিয়া তৈরি করা গেলে প্রকল্পের সময়সীমা দ্রুত করা যেতে পারে।

বাজেট অতিক্রমণ এবং ব্যয় ব্যবস্থাপনা: দুর্বল ব্যয় প্রাক্কলন, সুযোগের পরিবর্তন, মুদ্রাস্ফীতি এবং অপ্রত্যাশিত সমস্যাগুলোর কারণে অনেক সরকারি প্রকল্পে বাজেট অতিক্রমণ ঘটে।

সমাধান: কঠোর ব্যয় নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি, নিয়মিত আর্থিক পর্যবেক্ষণ এবং ঐতিহাসিক ডেটা ব্যবহার করে সম্ভাব্য অতিরিক্ত ব্যয় অনুমান করা উচিত। সরকারগুলোর উচিত প্রকল্পের গুণমান বজায় রেখে ব্যয় অপ্টিমাইজ করার জন্য ভ্যালু ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যবহার করা।

রাজনৈতিক প্রভাব এবং নীতির পরিবর্তন: সরকারি প্রকল্পগুলো প্রায়শই রাজনৈতিক অগ্রাধিকার এবং নির্বাচনী চক্র দ্বারা প্রভাবিত হয়। নেতৃত্বের পরিবর্তনে প্রকল্পের উদ্দেশ্য, বাজেট বরাদ্দ বা এমনকি বাতিলও হতে পারে, যার ফলে সম্পদ নষ্ট হয় এবং অগ্রগতি স্থবির হয়ে যায়।

সমাধান: দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্প ধারাবাহিকতা পরিকল্পনা তৈরি করা, দ্বিদলীয় সমর্থন নিশ্চিত করা এবং প্রকল্পগুলোকে দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত জাতীয় পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা উচিত, যাতে রাজনৈতিক পরিবর্তন থেকে এগুলি রক্ষা পায়।

স্টেকহোল্ডার ব্যবস্থাপনা এবং জনগণের প্রত্যাশা: বৃহৎ আকারের প্রকল্পগুলোতে সরকারি সংস্থা, ঠিকাদার, কমিউনিটি গ্রুপ এবং সাধারণ জনগণসহ অনেক স্টেকহোল্ডার জড়িত থাকে। তাদের প্রত্যাশাগুলো পরিচালনা করা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রকল্পের সাফল্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

সমাধান: স্টেকহোল্ডারদের সাথে আগে থেকেই যোগাযোগ করা, খোলাখুলি আলোচনা চালিয়ে যাওয়া এবং কাঠামোগত প্রতিক্রিয়া প্রক্রিয়া ব্যবহার করে স্টেকহোল্ডারদের সন্তুষ্টি বাড়ানো এবং প্রকল্পগুলোকে জনগণের চাহিদার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ করা উচিত।

সরবরাহ চেইন বিঘ্ন এবং সম্পদ সীমাবদ্ধতা: সরকারি প্রকল্পগুলো জটিল সরবরাহ চেইনের উপর নির্ভরশীল, যা বিশ্ব অর্থনীতির অবস্থা, বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা বা মহামারী जैसी অপ্রত্যাশিত সংকটের কারণে প্রভাবিত হতে পারে। উপকরণ, দক্ষ শ্রমিক বা সরঞ্জামের অভাবে প্রকল্পের সময়সূচী বিলম্বিত হতে পারে।

সমাধান: সরবরাহকারীদের সংখ্যা বাড়ানো, জরুরি অবস্থা মোকাবিলার পরিকল্পনা তৈরি করা এবং ডিজিটাল সরবরাহ চেইন নিরীক্ষণের মাধ্যমে সম্ভাব্য বিপর্যয়গুলো অনুমান করে প্রশমিত করা উচিত।

প্রযুক্তিগত এবং সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি: সরকারগুলো ডিজিটাল রূপান্তর প্রকল্পে বেশি বিনিয়োগ করার সাথে সাথে সাইবার নিরাপত্তা হুমকি একটি বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখা দেয়। ডেটা লঙ্ঘন, হ্যাকিংয়ের প্রচেষ্টা এবং পুরানো সিস্টেমগুলো সংবেদনশীল তথ্য এবং প্রকল্পের সাফল্যকে বিপন্ন করতে পারে।

সমাধান: শক্তিশালী সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রয়োগ করা, নিয়মিত ঝুঁকি মূল্যায়ন করা এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানগুলোর সাথে সম্মতি নিশ্চিত করার মাধ্যমে সরকারি প্রযুক্তি প্রকল্পগুলোকে রক্ষা করা যেতে পারে।

পরিবেশগত এবং সামাজিক উদ্বেগ: অবকাঠামো এবং শিল্প প্রকল্পগুলো প্রায়শই তাদের পরিবেশগত প্রভাবের কারণে সমালোচিত হয়। পরিবেশগত ছাড়পত্র, সম্প্রদায়ের প্রতিবাদ এবং আইনি চ্যালেঞ্জগুলোর কারণে অগ্রগতিতে বাধা আসতে পারে।
সমাধান: পুঙ্খানুপুঙ্খ পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন পরিচালনা করা, ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায়ের সাথে যোগাযোগ করা এবং টেকসই উন্নয়ন অনুশীলনগুলো অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে প্রতিরোধ এবং নিয়ন্ত্রক বাধাগুলো কমানো যেতে পারে।

উপসংহার

বৃহৎ আকারের সরকারি প্রকল্প পরিচালনা করা একটি জটিল কাজ এবং এর জন্য সতর্কতার সাথে পরিকল্পনা, শক্তিশালী পরিচালনা এবং কৌশলগত বাস্তবায়ন প্রয়োজন। আমলাতান্ত্রিক বিলম্ব, বাজেট অতিক্রমণ, রাজনৈতিক প্রভাব এবং সরবরাহ চেইন বিঘ্নের মতো চ্যালেঞ্জগুলোProactive ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, স্টেকহোল্ডারদের সাথে যোগাযোগ এবং ডেটা-চালিত সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে মোকাবেলা করতে হবে।

কৌশলগত পরিকল্পনা, দ্রুত পরিবর্তনশীল পদ্ধতি, কার্যকর যোগাযোগ এবং টেকসই পদ্ধতির মতো সেরা অনুশীলনগুলো ব্যবহার করে সরকারি সংস্থাগুলো প্রকল্পের সাফল্য বাড়াতে এবং সরকারি সম্পদকে দক্ষতার সাথে ব্যবহার করতে পারে। সরকারগুলো স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং উদ্ভাবনের উপর জোর দিলে তারা তাদের নাগরিকদের উপকৃত করতে এবং দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতি চালাতে সক্ষম হবে


SourceThe PM Newsletter

অডিট আপত্তি নিয়ে কেস স্টাডি দেখতে ক্লিক করুনঃ অডিট আপত্তি

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই লেখকের অন্যান্য লেখা

প্রকল্প ব্যবস্থাপনা

উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন ও প্রক্রিয়া সহজীকরণে পরিকল্পনা বিভাগের উদ্যোগ

সরকারি বিনিয়োগের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে সরকার “সরকারি খাতে উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন, প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন ও সংশোধন

Read More »
সমস্যা/কেস স্টাডি

কনসালট্যান্টের প্রাথমিক চুক্তি ১৮ মাসের। একবার সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে। এখন আবারও ১০০% সময় বৃদ্ধি লাগবে। করা যাবে কি না ? PPR-০৮ নাকি ২৫ অনুসরণ হবে ?

উন্নয়ন প্রকল্পে ৩ লাখ টাকা বেতনে পিপিআর ২০০৮ অনুযায়ী একজন কনসালট্যান্টের ১৮ মাসের জন্য ৫৪ লক্ষ টাকার প্রাথমিক চুক্তি ছিল।

Read More »
New scope
প্রকল্প ব্যবস্থাপনা

মন্ত্রীদের প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষমতায় লাগামঃ নতুন বার্তা

বাংলাদেশে উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের প্রচলিত ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এতদিন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা স্ব-শাসিত সংস্থা

Read More »
প্রকিউরমেন্ট বিডি news

আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ আদেশ-২০২৬ জারীঃ সরকারি ক্রয় ও ব্যয় প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তন

দীর্ঘ ১১ বছর পর সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি কাঠামো পরিবর্তন করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। ‘আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ আদেশ-২০১৫’ বাতিল

Read More »
Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content
Post Type Selectors
গ্রাহক হোন

শুধুমাত্র Registered ব্যবহারকারিগন-ই সব ফিচার দেখতে ও পড়তে পারবেন। এক বছরের জন্য Registration করা যাবে। Registration করতে এখানে ক্লিক করুন

 

** সীমিত সময়ের জন্য Discount চলছে।

ফ্রী রেজিস্ট্রেশন

“প্রকিউরমেন্ট বিডি news”, “সমসাময়িক”, “সূ-চর্চা”, “প্রশিক্ষণ” অথবা “ঠিকাদারী ফোরাম” ইত্যাদি বিষয়ে কমপক্ষে ২টি নিজস্ব Post প্রেরণ করে এক বছরের জন্য Free রেজিষ্ট্রেশন করুণ। Post পাঠানোর জন্য “যোগাযোগ” পাতা ব্যবহার করুণ।

সূচীঃ PPR-25

সর্বশেষ

Scroll to Top