Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content
Post Type Selectors

Kamikaze: ভয়, বীরত্ব আর ট্র্যাজেডির এক রোমাঞ্চকর ইতিহাস

Facebook
Twitter
LinkedIn

“Kamikaze” (神風) শব্দটি জাপানি, যার আক্ষরিক অর্থ “স্বর্গীয় অথবা ঐশ্বরিক বাতাস”। Kami হল “ঈশ্বর”, “আত্মা”, বা “ঐশ্বরিকতা” এবং kaze হচ্ছে “বাতাস”।

এর পেছনে আছে এক অদ্ভুত ইতিহাস!  এই শব্দটির উৎপত্তি ওয়াকা কাব্যগ্রন্থের “ইসে”- কে পরবর্তিতে রূপান্তরিত করে লেখা “মাকুরাকোটোবা” থেকে। ১২৮১ সালে জাপান যখন মঙ্গোল সম্রাট কুবলাই খানের বিশাল নৌবাহিনী দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছিল, তখন এক ঝড় এসে মঙ্গোলদের জাহাজ ডুবিয়ে দেয়। জাপানিরা বিশ্বাস করল, এটা দেবতার পাঠানো বাতাস – কামিকাজে!

১৯৩৭ সালে আসাহি সংবাদপত্র গোষ্ঠীর জন্য (Asahi newspaper group) টোকিও থেকে লন্ডনে রেকর্ড উড্ডয়নকারী জাপানি মনোপ্লেনটির নাম দেয়া হয়েছিল এই Kamikaze। এই মনোপ্লেনটি ছিল ততকালীন সর্বাধুনিক মিত্সুবিশি Ki-১৫ এর একটি প্রোটোটাইপ।

কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এই নামটি ভয়ঙ্কর এক নতুন অর্থ পায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ বছরগুলোতে জাপানি সামরিক বাহিনী মিত্রশক্তির জাহাজে আত্মঘাতী হামলার জন্য পাইলটদের ব্যবহার করার কৌশল গ্রহণ করার পর এই শব্দটি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে।

সাধারণভাবে নিরাপত্তা বা ব্যক্তিগত কল্যাণকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে এমন কোনো কাজ অথবা আত্মঘাতী হামলা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।

প্রকিউরমেন্টে-তেও এই Kamikaze শব্দটি ব্যবহৃত হয়।

এ নিয়ে বিস্তারিত জানতে দেখুনঃ Kamikaze দরপত্র: একটি ঝুঁকিপূর্ণ কৌশল

ইতিহাসে এমন কিছু ঘটনা আছে যেগুলো শুনলে রোমাঞ্চ আর বিষ্ময়ে গা শিরশির করে ওঠে – Kamikaze পাইলটদের গল্প ঠিক তেমনই!

যুদ্ধের ময়দানে Kamikaze: যখন পাইলটরা হতেন ‘জীবন্ত মিসাইল’!

১৯৪৪-৪৫ সাল। জাপান যুদ্ধে হেরে যাচ্ছে। সমুদ্রে আমেরিকার নৌবাহিনী জাপানের সবচেয়ে শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজগুলো ডুবিয়ে দিয়েছে। তখন জাপানি সেনাবাহিনী এক অভিনব কৌশল বের করল – আত্মঘাতী আক্রমণ!

Kamikaze পাইলটরা তাদের বিমানকে উড়ন্ত বোমা বানিয়ে শত্রু জাহাজে আঘাত হানতেন। তাদের লক্ষ্য ছিল … একটি বিমান, একটি জাহাজ!

পাইলটদের সাধারণ বিমানে বেশি পরিমাণ বিস্ফোরক বোঝাই করে দেওয়া হত। তারা শত্রু জাহাজের ডেকে সরাসরি আঘাত করার চেষ্টা করতেন। বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার সাথে সাথে বিস্ফোরণে জাহাজটিও ধ্বংস!

Kamikaze পাইলটদের মনোভাব: ‘মৃত্যুই যেন শেষ উৎসব!’

জাপানি তখনকার সমরনীতি অনুযায়ী, সম্মান নিয়ে মরাটাই বড় কথা। Kamikaze পাইলটরা যাত্রার আগে সাদা পতাকা, সম্রাটের ছবি আর সাকি (জাপানি মদ) নিয়ে প্রস্তুত হতেন। অনেকেই লিখে যেতেন ‘আমার মৃত্যু বৃথা যাবে না’—এমন চিঠি!

কিছু পাইলট আবার চেরি ফুলের মতো ক্ষণস্থায়ী জীবনকে বেছে নিতেন। জাপানি সংস্কৃতিতে চেরি ফুল সুন্দর কিন্তু ক্ষণিকের – ঠিক যেমন Kamikaze পাইলটদের জীবন!

Kamikaze কি সত্যি কার্যকর ছিল ?

হ্যাঁ! ১৯৪৪-৪৫ সালে প্রায় ৩,৮০০ Kamikaze আক্রমণ হয়েছিল।

তারা ৩৪টি আমেরিকান জাহাজ সম্পূর্ণ ডুবিয়েছিল আর ৩৬৮টি ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত জাপানের পরাজয় ঠেকানো যায়নি।

Kamikaze এর লিগ্যাসি: বীরত্ব নাকি পাগলামি ?

Kamikaze দের নিয়ে বিতর্ক আছে –

জাপানে তাদের দেখা হয় বীর হিসেবে, যারা দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন।

পশ্চিমা বিশ্বে অনেকেই এটাকে মরিয়া এক কৌশল বলে মনে করেন।

তবে, যাই হোক, Kamikaze পাইলটদের গল্প ইতিহাসের সবচেয়ে মর্মস্পর্শী ও রোমাঞ্চকর অধ্যায়গুলোর একটি!

Kamikaze নিয়ে কিছু মজার তথ্য:

“বিয়ের আগে মরতে হবে?” – কামিকাজে পাইলটদের অদ্ভুত রীতি!
কিছু কামিকাজে পাইলট মিশনে যাওয়ার আগে সাদা কাপড়ে মোড়া খোলা তলোয়ার (জাপানি “তানেগাশিমা”) পেতেন, যা আসলে প্রতীকী বিয়ে হিসেবে গণ্য হত! ধারণা ছিল, তারা “মৃত্যুর সাথে বিয়ে” করে স্বর্গে যাবেন। 💍⚔️

শেষ ইচ্ছা: “এক কাপ চা, দয়া করে!”
একজন কামিকাজে পাইলট, যিনি বারবার মিশনে যাওয়ার পরও বেঁচে ফিরেছিলেন, শেষবারের মতো বিমান ছাড়ার আগে তার শেষ ইচ্ছা জানিয়েছিলেন – “আমাকে এক কাপ চা দিন!” এরপর বলেছিলেন, “এবার আমি নিশ্চিন্তে মরতে পারব!”

কামিকাজে কুকুর? 🐕
জাপানি নৌবাহিনী কুকুরদেরও বিস্ফোরক বাহক হিসেবে ব্যবহার করার পরিকল্পনা করেছিল! ভাবনা ছিল, কুকুরদের শত্রু ট্যাঙ্কের নিচে বোমা ফেলতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। তবে সৌভাগ্যক্রমে, এই প্রজেক্ট বাতিল হয়েছিল – কারণ কুকুরগুলো জাপানি ট্যাঙ্কের নিচেই বোমা ফেলতে চাইত!

জীবিত ফিরে আসা = অপমান!” 😅
কামিকাজে মিশনে গিয়ে বেঁচে ফিরে আসাটা ছিল লজ্জার বিষয়! যদি কোনো পাইলট টার্গেট মিস করে ফিরে আসতেন, তাকে অপদস্থ করা হত। এমনকি কিছু পাইলটকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করা হয়েছিল!

চেরি ফুলের কবিতা লিখে যেতেন! 🌸
অনেক কামিকাজে পাইলট মিশনের আগে হাইকু (জাপানি কবিতা) লিখে যেতেন। এক পাইলট লিখেছিলেন:

“চেরি ফুলের মতো
ঝরে পড়ব আজ
মৃত্যুই আমার শেষ উৎসব!”

“টাকা ফেরত দিতে হবে?” – কামিকাজেদের বেতন! 💰
কামিকাজে পাইলটদের বোনাস দেওয়া হত! কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, যদি তারা মিশন থেকে ফিরে আসতেন, তখন তাদের সেই অর্থ ফেরত দিতে হত!

আমি আবারও জন্ম নেব!” – শেষ কথার রেকর্ড 🎤
কিছু কামিকাজে পাইলট তাদের শেষ কথাগুলো টেপ রেকর্ডারে রেখে গেছেন। এক পাইলট বলেছিলেন, “আমি আবার জন্ম নেব এবং আবার সম্রাটের সেবা করব!”

নারী কামিকাজে?
হ্যাঁ! জাপানের কিছু নারীও কামিকাজে ইউনিটে যোগ দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তাদের অনুমতি দেওয়া হয়নি। পরিবর্তে, তারা যোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করতে গান ও কবিতা লিখতেন।

“বিমান নেই? চলো কাঠের তৈরি করি!
যুদ্ধের শেষ দিকে জাপানের বিমানের অভাব দেখা দিলে, তারা কাঠের তৈরি কামিকাজে বিমান বানানোর চেষ্টা করেছিল! ভাবা হয়েছিল, এগুলো শত্রুর রাডার এড়াতে পারবে, কিন্তু বাস্তবে সেগুলো আগুনে সহজেই পুড়ে যেত!

শেষ কামিকাজে মিশন: যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরও আক্রমণ!
জাপানের আত্মসমর্পণের ঘোষণা হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু কিছু কামিকাজে পাইলট মানতেই পারেনি! তারা শেষ মুহূর্তেও আক্রমণ চালিয়েছিল, এমনকি আত্মসমর্পণের পরের দিনও!

মজার প্রশ্নোত্তর:

“কামিকাজে পাইলটরা কি ভয় পেতেন?”
✅ হ্যাঁ! অনেকেই স্বীকার করেছেন যে তারা ভয় পেতেন, কিন্তু দেশের জন্য মরতে প্রস্তুত ছিলেন।

“কেউ কি পালিয়ে গিয়েছিল?”
✅ হ্যাঁ! কিছু পাইলট বিমান ক্রাশ করে পালিয়েছিলেন, আবার কেউ কেউ গাছের ডালে বিমান আটকে প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন!

“এখনো কি কামিকাজে টেকনিক ব্যবহার হয়?”
❌ না! কিন্তু আধুনিক ড্রোন আক্রমণে কিছুটা কামিকাজে ফিলোসফি কাজে লাগে!

কিছু Kamikaze পাইলট বাঁচতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ফিরে গেলে অপদস্থ হতেন!

এক পাইলট ৯ বার Kamikaze মিশনে গিয়েও বেঁচে ফিরেছিলেন – নিখুঁত টার্গেট মিস করায়!

সবমিলিয়ে, Kamikaze এর ইতিহাস ভয়, বীরত্ব আর ট্র্যাজেডির এক অসাধারণ মিশেল! ✈️💥

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই লেখকের অন্যান্য লেখা

প্রকিউরমেন্ট বিডি news

ই-জিপি সাইটে ভোগান্তি: ব্যবহারকারীদের ক্ষোভ, কবে মিলবে সমাধান ?

সরকারি ক্রয় কার্যক্রমের একমাত্র ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ই-জিপি (e-GP) পোর্টালে গত কয়েকদিন ধরে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ব্যবহারকারীরা। সাইটটির ধীরগতি এবং যান্ত্রিক

Read More »
প্রকল্প ব্যবস্থাপনা

সরকারি ক্রয়ে রেকর্ড ব্যবস্থাপনাঃ আইনি কাঠামো ও ব্যবহারিক নির্দেশিকা

প্রকৌ: মো: মোকতার হোসেন MCIPS, PMP, CPCM উপ-পরিচালক (নির্বাহী প্রকৌশলী) নক্সা ও পরিদর্শণ-১ পরিদপ্তর, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, ঢাকা। মোবাইল: ০১৭২২০৪৪৩৩৫ ইমেইল: moktar031061@gmail.com

Read More »
Contract Mngt (off-line)

লাম্প সাম নাকি টাইম-বেসড কন্ট্রাক্ট – কোনটি কখন ব্যবহার করবেন ?

পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বা সরকারি ক্রয়ে প্রধানত কাজের ধরন ও মূল্য পরিশোধের পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন ধরনের চুক্তি করা হয়।

Read More »
প্রকল্প ব্যবস্থাপনা

লাম্প সাম কন্ট্রাক্ট (Lump Sum Based Contracts) কি ? কখন ব্যবহার করবেন ?

সরকারি বা বেসরকারি যেকোনো প্রকল্পে দক্ষ পরামর্শক (Consultant) নিয়োগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলো সঠিক চুক্তিপত্র নির্বাচন করা। বাংলাদেশ পাবলিক

Read More »
Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content
Post Type Selectors
গ্রাহক হোন

শুধুমাত্র Registered ব্যবহারকারিগন-ই সব ফিচার দেখতে ও পড়তে পারবেন। এক বছরের জন্য Registration করা যাবে। Registration করতে এখানে ক্লিক করুন

 

** সীমিত সময়ের জন্য Discount চলছে।

ফ্রী রেজিস্ট্রেশন

“প্রকিউরমেন্ট বিডি news”, “সমসাময়িক”, “সূ-চর্চা”, “প্রশিক্ষণ” অথবা “ঠিকাদারী ফোরাম” ইত্যাদি বিষয়ে কমপক্ষে ২টি নিজস্ব Post প্রেরণ করে এক বছরের জন্য Free রেজিষ্ট্রেশন করুণ। Post পাঠানোর জন্য “যোগাযোগ” পাতা ব্যবহার করুণ।

সূচীঃ PPR-25

সর্বশেষ

Scroll to Top