Sustainable Procurement এর আওতায় বাংলাদেশে আসলে কোন কাজ হয়েছে কি !
Sustainable/Green Public Procurement নিয়ে অনেক কথাবার্তা হচ্ছে চারিদিকেই। এর কতটুকু কাজের ? ২০২৩ সালেই Sustainable Public Procurement (SPP) নীতি বাংলাদেশে জারী হয়েছে।
বিস্তারিত দেখুনঃ “টেকসই সরকারি ক্রয় নীতি ২০২৩” জারি
Sustainable Development Goal (SDG) এর লক্ষ্যমাত্রা ১২ এবং ১২.৭ অর্জনের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (BPPA) ২০২৪-২০২৫ অর্থবছর থেকে দেশে টেকসই সরকারি ক্রয় (Sustainable Public Procurement – SPP) পাইলটিং করার পরিকল্পনা করছে।
বিস্তারিত দেখুনঃ বর্তমান বছরেই SPP ব্যবহার করার পরিকল্পনা
কিন্তু, এখন প্রশ্ন হলো, Sustainable/Green Public Procurement নিয়ে বাংলাদেশে আসলেই কোন কাজ হয়েছে কি না ? নাকি, এতোদিন টেকসই সরকারি ক্রয় নীতি ছিল না বলে বাংলাদেশে বিষয়টা একদমই নতুন ?
আজকে কিছু উদাহরণ দেখা যাক।
Sustainable/Green Public Procurement এর উদ্যোগে বিদ্যমান প্রকল্পের সংখ্যা সীমিত হলে তা বাংলাদেশে আসলে একেবারেই নতুন নয়। কয়েকটি উদাহরণ নিম্নরূপ:
২০৪১ Smart Tower: বিশ্বব্যাংকের প্রাইড প্রকল্পের অধীনে কারওয়ান বাজার, ঢাকায় লিড (LEED) সার্টিফায়েড গ্রিন বিল্ডিং নির্মাণ করা হয়েছে। এটি বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের (www.bhtpa.gov.bd) অধীনে তথ্য প্রযুক্তি ক্ষেত্রে ব্যবসা উন্নয়নের জন্য একটি সরকারি ভবন, যা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে অবস্থিত। উল্লেখ্য, অবকাঠামো নির্মাণে লিড (LEED: লিডারশিপ ইন এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ডিজাইন) সার্টিফিকেশনের জন্য বাংলাদেশের নিজস্ব কোনো সংস্থা নেই এবং এক্ষেত্রে ইউএসজিবিসির (USGBC) মতো বিদেশি সংস্থার উপর বর্তমানে নির্ভর করতে হয়।
Building Green Factories: ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল (USGBC) কর্তৃক স্বীকৃত ১৭৩টি সবুজ কারখানা বাংলাদেশে তৈরি হয়েছে। পোশাক শিল্পে সবুজায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বে এগিয়ে রয়েছে। ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল এবং LEED সার্টিফিকেশন নিয়ে বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে পরিবেশ-বান্ধব পোশাক প্রস্তুতকারক দেশ। বিশ্বের বৃহত্তম সবুজ কারখানাগুলোর মধ্যে ১৭১টি বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) শিল্পে অবস্থিত। বাংলাদেশ গার্মেন্টষ ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) এর তথ্য অনুসারে দেশে বর্তমানে ৫০টি প্লাটিনাম গ্রিন ফ্যাক্টরি, ১০১টি গোল্ড, ১০টি সিলভার এবং আরও ৪টি LEED সার্টিফায়েড ফ্যাক্টরি বিল্ডিং রয়েছে। এছাড়া, ৫০০টির বেশি পোশাক কারখানা USGBC থেকে LEED সার্টিফিকেশনের জন্য অপেক্ষা করছে।
ফসল উৎপাদনে সৌরশক্তি: বাংলাদেশ রুরাল ইলেকট্রিফিকেশন অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি ডেভেলপমেন্ট (RERED) প্রকল্পের মাধ্যমে বিশ্বের বৃহত্তম অফ-গ্রিড সৌরবিদ্যুৎ কর্মসূচির মাধ্যমে বিতরণকৃত সিস্টেমে প্রচুর বিনিয়োগ করছে। ২০০৩ সাল থেকে এই সোলার হোম সিস্টেম প্রোগ্রাম দেশের ২০ মিলিয়নের বেশি মানুষের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ করেছে। বিশেষজ্ঞরা এই প্রকল্পটিকে গ্রামীণ বিদ্যুতায়নের একটি চমৎকার কেস স্টাডি হিসেবে দেখেন। তবে, গ্রামীণ সম্প্রদায়ের চেয়ে শহুরে এলাকার শিল্প কেন্দ্রগুলোতে সাধারণত বিদ্যুতের চাহিদা অনেক বেশি। এই কারণে, দেশে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার পরিমাণ মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি ছোট ভগ্নাংশ মাত্র।
Green Banking: বাংলাদেশ ব্যাংকের সবুজ কার্যক্রমগুলো মূলত অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমের (in-house activities) মধ্যে সীমাবদ্ধ। ‘অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম’ বলতে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, অফিস অটোমেশন এবং দৈনিক সবুজ কার্যক্রম ইত্যাদি সম্পর্কিত অফিস বিল্ডিংয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ কার্যক্রমকে বোঝায়। নেটওয়ার্কিং প্রোগ্রামের অধীনে, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় এবং এর নয়টি শাখা অফিসের সমস্ত বিভাগকে ইতোমধ্যে একটি কম্পিউটার নেটওয়ার্কের (LAN/WAN) অধীনে আনা হয়েছে, যা মার্চ ২০১২ পর্যন্ত প্রায় ৩,১০০টি পিসিকে সংযুক্ত করেছে। গ্রাহকদের অনলাইন ব্যাংকিং সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্যে ব্যাংকগুলোকে ই-কমার্সের আওতায় আনা হয়েছে, যেখানে ইউটিলিটি বিল পরিশোধ, অর্থ স্থানান্তর এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেন করা যায়।
কৃষিতে জৈব উৎপাদন (Organic Production): জৈব চাষ মূলত এমন একটি চাষ পদ্ধতি যেখানে পরিবেশ বান্ধব এবং অর্থনৈতিকভাবে টেকসই উপায়ে ফসল উৎপাদন করা হয়। বিশ্বজুড়ে জৈব খাদ্য পণ্য এবং জৈব চাষের জনপ্রিয়তা ক্রমাগত বাড়ছে। ২০১০ সালেও যেখানে বিশ্ব বাজারে জৈব খাদ্য পণ্যের বাজার ছিল মাত্র ১ বিলিয়ন ডলার, সেখানে ২০২০ সাল নাগাদ এটি প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলারের বাজারে পরিণত হয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে জৈব খাদ্য পণ্যের চাহিদা বাড়ছে, কারণ বিশ্বব্যাপী জৈব খাদ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ পর্যন্ত ১,১৬২ হেক্টর জমিকে জৈব কৃষিজমিতে রূপান্তর করা সম্ভব হয়েছে, যা সম্ভাব্য জমির মাত্র ০.০১ শতাংশ। বাংলাদেশে জৈব চাষের প্রচলন ধীরগতিতে হলেও, দেশটি ইতোমধ্যে তাজা এবং খাঁটি খাদ্য পণ্য নিয়ে কাজ করা বেশ কয়েকটি ই-কমার্স ব্যবসা তৈরি করেছে। বাংলাদেশে খাদ্য দ্রব্যে বিষাক্ত উপাদানের শতকরা পরিমাণ নির্ণয় করার জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে একটি সুবিধা আছে। তবে, রপ্তানির জন্য কৃষি পণ্য উৎপাদনে GAP (Good Agricultural Practices) ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রতিটি পণ্যের জন্য একটি GAP প্রোটোকল রয়েছে। রপ্তানিকারকরা উৎপাদনের সময় এই প্রোটোকলটি কঠোরভাবে অনুসরণ করেন।
RMG সেক্টরে সার্কুলার ইকোনমি: পোশাক কারখানায় কাপড়ের ছোট অংশ (Jhut Cloths) ব্যবহার করে তুলা তৈরি করা হচ্ছে এবং সেই তুলা থেকে শীতের কাপড় (শাল) তৈরি করা হচ্ছে। এটি অবশ্যই একটি ভালো চর্চা এবং সার্কুলার ইকোনমির (Circular Economy) উদাহরণ। এই শালগুলো বাংলাদেশের কিছু অঞ্চলে (বগুড়া জেলায়) তৈরি করা হয়।
পরিশেষ
তারমানে দেখা যাচ্ছে, এতোদিন টেকসই সরকারি ক্রয় (SPP) নীতি না থাকলেও বিক্ষিপ্তভাবে কার্যক্রম চলমান ছিল বা আছে।
সরকারি ক্রয়কে তখনই টেকসই ক্রয় বলা হবে যখন এটি টেকসই সরকারি ক্রয় (SPP) চাহিদা, কারিগরি বিনির্দেশ এবং মানদণ্ডগুলোকে একীভূত করবে এবং যা সম্পদের কার্যকারিতা, পণ্যের মান ও সেবার গুণগতমান বৃদ্ধি এবং ক্রয়ের ক্ষেত্রে সামগ্রিক ব্যয় (TC) সমন্বয় করার মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষা, সামাজিক অগ্রগতি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নকে সমর্থন করবে।
তবে, বিপিপিএ-র (BPPA) জন্য এসপিপি পলিসি ২০২৩ বাস্তবায়ন একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিশ্বব্যাংক বিপিপিএ-র সাথে একত্রে SPP পলিসি ২০২৩ বাস্তবায়নের জন্য কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হলেও, সচেতনতা তৈরি, বিপিপিএ-র সক্ষমতা বৃদ্ধি, ক্রয়কারী সংস্থা, বেসরকারি খাত এবং উৎপাদন ও ভোগের সাথে জড়িত সংস্থাগুলির মধ্যে সক্ষমতা তৈরি সহ অনেক চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।
সূত্রঃ ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) SWITCH-Asia Policy Support Component (PSC) কর্তৃক প্রস্তুতকৃত “DETAILED ASSESSMENT OF SUSTAINABLE/GREEN PUBLIC PROCUREMENT IN BANGLADESH” প্রতিবেদনের আলোকে।
এই লেখকের অন্যান্য লেখা

Collusion in the Belgian Newspaper Distribution Sector
The Belgian competition authority has concluded its formal inquiry into systemic bid-rigging and horizontal agreements within the public procurement process

ই-জিপি সাইটে ভোগান্তি: ব্যবহারকারীদের ক্ষোভ, কবে মিলবে সমাধান ?
সরকারি ক্রয় কার্যক্রমের একমাত্র ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ই-জিপি (e-GP) পোর্টালে গত কয়েকদিন ধরে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ব্যবহারকারীরা। সাইটটির ধীরগতি এবং যান্ত্রিক

সরকারি ক্রয়ে রেকর্ড ব্যবস্থাপনাঃ আইনি কাঠামো ও ব্যবহারিক নির্দেশিকা
প্রকৌ: মো: মোকতার হোসেন MCIPS, PMP, CPCM উপ-পরিচালক (নির্বাহী প্রকৌশলী) নক্সা ও পরিদর্শণ-১ পরিদপ্তর, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, ঢাকা। মোবাইল: ০১৭২২০৪৪৩৩৫ ইমেইল: moktar031061@gmail.com

লাম্প সাম নাকি টাইম-বেসড কন্ট্রাক্ট – কোনটি কখন ব্যবহার করবেন ?
পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বা সরকারি ক্রয়ে প্রধানত কাজের ধরন ও মূল্য পরিশোধের পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন ধরনের চুক্তি করা হয়।