এখানে কয়েকটি বিধি নিয়ে তুলে ধরা হলো। তবে পাঠকদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, এই “প্রকিউরমেন্টবিডি” তে উল্লেখিত আইন বা বিধির কোন ধারা বা বিধিমালার কোন বিষয় যাচাই ব্যতীত ব্যবহার না করার জন্য সতর্ক করা হচ্ছে। এখানে ব্যবহৃত যে কোন ধারা বা বিধি শুধু মাত্র বিভিন্ন আলোচনা ও সংশ্লিষ্ট প্রেক্ষাপট সহজে বোধগম্য করার জন্য উল্লেখ করা হয়েছে। বাস্তবিক প্রয়োজনে BPPA এর ওয়েব-সাইটে সংযুক্ত আইন বা বিধিমালা থেকে তা ব্যবহার করতে হবে।
চতুর্থ অধ্যায়
পণ্য, কার্য, ও ভৌতসেবার ক্রয় পদ্ধতি এবং উহার প্রয়োগ
অংশ-৬
অভ্যন্তরীণ ক্রয়: বিপরীত নিলাম পদ্ধতি
৯৫। বিপরীত নিলাম পদ্ধতির প্রয়োগ।—
(১) তফসিল-২-এ বর্ণিত মূল্যসীমার মধ্যে যেসমস্ত প্রমিত পণ্য ক্রয়ে সুস্পষ্টরূপে কারিগরি বিনির্দেশ প্রণয়ন করা ক্রয়কারীর জন্য সম্ভবপর হইবে, সেইসকল ক্ষেত্রে কেবল ইলেকট্রনিক পরিচালন পদ্ধতিতে বিপরীত নিলাম পদ্ধতি প্রয়োগ করা যাইবে।
তফসিল
প্রতিটি ক্ষেত্রে অনধিক ৩ লক্ষ টাকা; তবে বৎসরে সর্বোচ্চ ২০ লক্ষ টাকা।
(২) বিপরীত নিলাম পদ্ধতি প্রয়োগের ক্ষেত্রে ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধান অথবা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার পূর্বানুমোদন গ্রহণ করিতে হইবে।
(৩) বিপরীত নিলাম পদ্ধতিতে দাখিলকৃত দরপ্রস্তাব সর্বদা উন্মুক্ত থাকিবে এবং নির্ধারিত সময়সীমা পর্যন্ত দরদাতাগণ তাহাদের দরপ্রস্তাব দাখিল করিতে পারিবে ও প্রয়োজনে একাধিকবার দরপ্রস্তাব পরিবর্তন করিতে পারিবে।
(৪) বিপরীত নিলাম পদ্ধতির মাধ্যমে কোনো ক্রয়ের ক্ষেত্রে জটিল চুক্তিপত্র সম্পাদন বা সাধারণ দরপত্র পদ্ধতিতে ব্যবহৃত আনুষ্ঠানিকতার পরিবর্তে ইলেকট্রনিক পরিচালন পদ্ধতিতে ক্রয় ও চুক্তিব্যবস্থাপনা কার্যক্রম সম্পাদিত হইবে।
৯৬। বিপরীত নিলাম পদ্ধতি ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনুসরণীয় কার্যপ্রণালি।—
(১) ইলেকট্রনিক পরিচালন পদ্ধতিতে নিবন্ধিত সরবরাহকারীদের নিকট হইতে পণ্য ক্রয়ের নিমিত্ত বিপরীত নিলাম পদ্ধতিতে মূল্যপ্রস্তাব আহ্বান করা যাইতে পারে।
(২) ক্রয়কারী নির্দিষ্ট ক্রয়প্রক্রিয়ায় কেবল দরদাতার প্রাথমিক যোগ্যতা (Eligibility), পণ্যের উপযোগিতা (Fitness for purpose) ও দরদাতাগণের চূড়ান্ত প্রস্তাবমূল্যের ভিত্তিতে কৃতকার্য দরদাতা নির্বাচন করিতে পারে।
(৩) এই বিধিমালার অধীন অপরাপর প্রতিযোগিতামূলক ক্রয়পদ্ধতি অপেক্ষা বিপরীত নিলাম পদ্ধতিতে দরদাতাগণের জন্য প্রযোজ্য দরপ্রস্তাব প্রস্তুতি ও দাখিলকাল তুলনামূলক কম হইবে, তবে তাহা কোনো অবস্থাতেই ২৪ ঘণ্টার কম হইবে না।
(৪) সম্ভাব্য দরপত্রদাতাগণকে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতির বা কোটেশন প্রদানের অনুরোধ জ্ঞাপন পদ্ধতির ক্ষেত্রে যে পদ্ধতিতে দর উদ্ধৃত করা হয়, সেই একই পদ্ধতিতে দর উদ্ধৃত করিবার জন্য আহ্বান জানাইতে হইবে।
(৫) বিপরীত নিলাম প্রক্রিয়া সফলভাবে নিষ্পন্ন করিতে, সীমাবদ্ধকর বিনির্দেশ বা নির্ণায়ক নির্ধারণের বিষয়টি প্রতিভাত না হইলে, বাজার মূল্যের সহিত সংগতিপূর্ণ হওয়া বা প্রাক্কলিত ব্যয়ের মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য দরপ্রস্তাবই যথেষ্ট হইবে।
(৬) বিপরীত নিলাম পদ্ধতি প্রয়োগের ক্ষেত্রে দরপত্র দলিলের জন্য কোনো মূল্য আদায় করা যাইবে না এবং দরপত্র জামানত বা কার্যসম্পাদন জামানতেরও প্রয়োজন হইবে না ।
(৭) মূল্যায়নান্তে সর্বনিম্ন মূল্যে গ্রহণযোগ্য দরপ্রস্তাব দাখিলকারী ব্যক্তিকেই ক্রয়াদেশ প্রদানের জন্য সুপারিশ করিতে হইবে।