অত্যাধিক নিম্নমূল্যের দরপত্র কেন ঝুঁকিপূর্ণ !!!
অত্যাধিক নিম্নমূল্যের দরপত্র (Abnormal Low Bid) দাখিল বাংলাদেশেএকটি সচরাচর ঘটনা।
উল্লেখযোগ্য রূপে নিম্নমূল্যের দরপত্র প্রাথমিকভাবে আর্থিক দিক বিবেচনায় ক্রয়কারীর জন্য বেশ সুবিধাজনক প্রতীয়মান হলেও, বাস্তবে এটি সার্বিক ব্যয়বৃদ্ধি, নিম্নমানের ফলাফল (Low-quality output), চুক্তিসম্পাদনে বিলম্ব, এমনকি অপ্রত্যাশিতভাবে চুক্তির অবসানেরও কারণ হতে পারে। অর্থাৎ, এই ধরনের দরপত্র গ্রহণ করলে ক্রয়চুক্তি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে, কারণ কতিপয় দরদাতা চুক্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এমন নিম্নদর প্রদান করেন যা তারা হয়তো চুক্তি মূল্যে কাজ শেষ করতে সক্ষম হবেন না, অথবা তারা দরপত্র প্রণয়নে ভুল করে থাকেন এবং প্রদত্ত মূল্যে কাজ সম্পন্ন করতে অক্ষম হতে পারেন। এর ফলশ্রুতিতে, ক্রয়কারীকে একটি দুর্বল (Non-performing) ইকনোমিক অপারেটরের সহিত চুক্তি ব্যবস্থাপনায় অথবা ক্রয়কাজ সম্পন্ন করিবার জন্য নূতন ইকনোমিক অপারেটর নির্বাচন করতে অতিরিক্ত সময় ও অর্থব্যয় করতে হয়।
উল্লেখযোগ্য রূপে নিম্নমূল্যের দরপত্র (Significantly low-priced tender বা সংক্ষেপে SLT) বলতে সেই দরপত্রকে বোঝায়, যেখানে দরপত্রদাতা কর্তৃক প্রদানকৃত মূল্য এবং অন্যান্য উপাদানসমূহ সংশ্লিষ্ট ক্রয়ের দাপ্তরিক প্রাক্কলিত মূল্য, নিকট-সাম্প্রতিক বাজারমূল্য, এবং অন্যান্য গ্রহণযোগ্য দরদাতাগণের প্রদত্ত মূল্যের সাপেক্ষে এতোটাই কম থাকে যে, ক্রয়কারীর নিকট গুরুতর উদ্বেগের সৃষ্টি হয় যে দরপত্রদাতা তাহার প্রদত্ত মূল্যে চুক্তিসম্পাদন করিতে সমর্থ হইবেন না।
সাধারনভাবে, অস্বাভাবিকভাবে কম দরপত্রে সমস্যাগুলো হলোঃ
গুণমান হ্রাস: দরদাতা খরচ কমানোর জন্য চুক্তির নির্দিষ্ট মান বা মানদণ্ড পূরণ করতে ব্যর্থ হতে পারে, যার ফলে কাজের গুণমান কমে যায়।
আর্থিক ঝুঁকি: খুব কম দরে কাজ গ্রহণ করার ফলে দরদাতা আর্থিক সংকটে পড়তে পারে, যা চুক্তি সম্পাদনে ব্যর্থতার দিকে নিয়ে যেতে পারে।
ভবিষ্যৎ ব্যয় এবং বিলম্ব: দরপত্র দাতাকে পরে দর বাড়ানোর জন্য চাপ দিতে পারে, যা আইনি জটিলতা এবং অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণ হতে পারে।
অসততা: এটি একটি কৌশল হতে পারে যেখানে দরদাতা পরে চুক্তির শর্তাবলী নিয়ে পুনরায় আলোচনা করতে চায়।
আইনি জটিলতা: যদি দরপত্র গ্রহণ করা হয় এবং পরে ঠিকাদার চুক্তি পালনে ব্যর্থ হয়, তাহলে ক্রেতাকে আইনি পদক্ষেপের মুখোমুখি হতে হতে পারে।
অযোগ্যতা: এর মাধ্যমে বোঝা যায় যে দরদাতা হয়তো চুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত বা বাণিজ্যিক দক্ষতা রাখে না।
সম্প্রতি গত ২৮/০৯/২০২৫ ইং তারিখে পিপিআর-২০০৮ এর সংশোধিত ও বর্ধিত রুপ পিপিআর ২০২৫ প্রকাশ করা হয়েছে।
বিস্তারিত দেখুনঃ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০২৫ (পিপিআর ২০২৫)
এই নতুন পিপিআর ২০২৫ এ উপরোক্ত SLT এর ঝুঁকি এড়াতে, মূল্যায়নের সময় কারিগরিভাবে গ্রহণযোগ্য দরদাতাদের প্রস্তাবিত মূল্য, দাপ্তরিক প্রাক্কলিত মূল্য এবং সাম্প্রতিক মূল্যসূচকের ভিত্তিতে একটি মুল্যায়ন প্রক্রিয়া যুক্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিস্তারিত দেখতে ক্লিক করুন।
এই লেখকের অন্যান্য লেখা

ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট দিয়ে কি Service ক্রয় করা যাবে ?
সরকারি ক্রয়ের ক্ষেত্রে বারবার দরপত্র আহ্বানের প্রশাসনিক ও আর্থিক জটিলতা নিরসন এবং উন্নততর ক্রয় ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার জন্য ‘ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট (Framework Agreement)’

নতুন একনেক এবং CCGP কমিটি গঠন
নতুন সরকার আসার পর নতুন করে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক – ECNEC) এবং সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি (সিসিজিপি

Works চুক্তিতে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে পিপিআর ২০২৫ এ কি আছে ?
বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক গত ৪ঠা মে ২০২৫ ইং তারিখে “পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫” এবং ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে

European Industrial Law: A master plan to build ‘Made in Europe’ with a procurement power of €2 Trillion
The forthcoming Industrial Accelerator Act, slated for publication on February 26, marks a watershed moment in the European Union’s pursuit