দরপত্রে কাজ কে পাবে তা এমপিরাই ঠিক করেন
সরকারি ক্রয়ে ই-জিপির (ই-গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট) প্রবর্তনের ফলে প্রক্রিয়া সহজ হলেও কার্যাদেশ পাওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব, যোগসাজশ ও সিন্ডিকেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সব ধরনের সরকারি ক্রয়ে ব্যবহৃত না হওয়ার পাশাপাশি নানা রকম সীমাবদ্ধতা থাকায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের একাংশ ই-জিপির মাধ্যমে দুর্নীতির নতুন পথ খুঁজে নিয়েছে।
শুধুমাত্র Registered ব্যবহারকারি গন-ই সব ফিচার দেখতে ও পড়তে পারবেন। এক বছরের জন্য রেজিষ্ট্রেশন করা যাবে। Registration করতে ক্লিক করুন।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) ‘সরকারি ক্রয়ে সুশাসন: বাংলাদেশে ই-জিপির কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে এমনটাই উঠে এসেছে।
টিআইবি গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ের চার প্রতিষ্ঠানের ৫২টি কার্যালয় থেকে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ই-জিপি প্রবর্তনের ফলে সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়া সহজতর হলেও নানা ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি রয়ে গেছে। কিছু কিছু এলাকায় কোনো বিশেষ কাজে কারা দরপত্র জমা দেবে, সেটা রাজনৈতিক নেতা, বিশেষ করে স্থানীয় সংসদ সদস্য ঠিক করে দেন। অনেক ক্ষেত্রে একটি বড় লাইসেন্সের অধীনে কাজ নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা–কর্মীদের মধ্যে বণ্টন করে দেন।
টিআইবি বলছে, দরপত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহেলা, নিজেরা কাজ না করে কম্পিউটার অপারেটরদের মাধ্যমে মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রস্তুত, নম্বর বাড়িয়ে-কমিয়ে আনুকূল্য দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া ঠিকাদারদের রেট শিডিউল জানিয়ে দেওয়া এবং কাজ তদারকি, অগ্রগতি প্রতিবেদনে ভুল তথ্য প্রদান এবং কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর বিল দেওয়ার সময়ে ঘুষ আদায় করার অভিযোগ রয়েছে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘ই-জিপির ফলে ক্ষেত্রবিশেষে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পেলেও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ও কাজের মানোন্নয়নে কোনো প্রভাবই পড়েনি। ই-জিপির ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ঘাটতি রয়েছে। এর পেছনে মূলত রাজনৈতিক প্রভাব বড় ভূমিকা পালন করছে।’
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, ই-জিপিকে রাজনৈতিক প্রভাব, যোগসাজশ ও সিন্ডিকেটের দুষ্টচক্র থেকে মুক্ত করতে সব পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি এবং জনগুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে অধিষ্ঠিত ব্যক্তির সঙ্গে রাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ব্যবসায়িক সম্পর্কের সুযোগ বন্ধ করতে হবে। সেই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সম্পদের বিবরণ প্রকাশ করতে হবে।
সূত্রঃ প্রথম আলো
এই লেখকের অন্যান্য লেখা

বাংলাদেশে ADP বাস্তবায়ন ৫ বছরের সর্বনিম্ন: Procurement Delay কি আসল কারণ ?
বাংলাদেশের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (Annual Development Programme–ADP) দেশের অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, পরিবহন এবং অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রধান আর্থিক

বাংলাদেশে Manual Tender যুগের সমাপ্তিঃ বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ
বাংলাদেশের সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় ১ জুলাই ২০২৬ একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। এদিন থেকে Manual (Offline) Tendering-এর আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটেছে এবং সরকারি

Indirect Procurement 2026 Report: Uncertainty as a Catalyst for Efficiency
The year 2026 is an extremely challenging and transformative year for procurement professionals. According to the 9th Annual Indirect Procurement

সরকারি Procurement System-এ আরও পরিবর্তন আসছে
বাংলাদেশের সরকারি ক্রয় ব্যবস্থা গত এক দশকে উল্লেখযোগ্য ডিজিটাল রূপান্তরের মধ্য দিয়ে গেছে। ই-জিপি (e-GP) চালুর ফলে টেন্ডারিং প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা