সিপিটিইউ (CPTU) এর কার্যাবলী
সিপিটিইউ (CPTU: Central Procurement Technical Unit)
সরকারি ক্রয় আইন ২০০৬ (PPA-06) এবং সরকারি ক্রয় বিধিমালা ২০০৮ (PPR-08) এর আওতায় সরকারি ক্রয় ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি, ক্রয় পরিবীক্ষণ ও ডিজিটাইশন তথা ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট (ই-জিপি) বাস্তবায়ন সিপিটিইউ’র দায়িত্ব।
সিপিটিইউ তার অধীনস্থ সকল কর্মকর্তা, কর্মচারী মহাপরিচালকের নেতৃত্বে প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করে থাকে। পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন/বিধির প্রয়োগ সহজীকরণ, সংস্কার সাধন কিংবা যুগোপযোগীকরণ সিপিটিইউ’র অন্যতম দায়িত্ব। দেশের ক্রয়কারী দপ্তরের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সক্ষমতা বৃদ্ধি, দরদাতাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, জনগণের মধ্রে সরকারি ক্রয় সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিও অন্যতম দায়িত্ব। ই-জিপি পোর্টালের Operation এবং Maintenance এর দায়িত্ব সিপিটিইউ’র ওপর অর্পিত হয়েছে। সীমিত পরিসরে সরকারি ক্রয় সম্পর্কিত আইন/বিধি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে থাকে। STD গাইড লাইন, সার্কুলার জারী এবং বিভিন্ন দপ্তর/ঠিকাদার/ব্যক্তির অনুরোধে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট সম্পর্কে মতামত প্রদান করে থাকে। পিপিএ ২০০৬ ও পিপিআর ২০০৮ প্রতিপালনের মাধ্যমে দেশে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট-এ উচ্চ শিক্ষিত একটি জনবল সৃষ্টি করা হচ্ছে।
দেশীয় বাস্তবতা ও প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য দেশের ক্রয় ব্যবস্থায় বিদ্যমান good practices সরকারি ক্রয়ে গ্রহণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের লক্ষ্যে একটি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কিং বজায় রাখাও সিপিটিইউ’র দায়িত্ব।
PPA-06 এর ধারা ৬৭ঃ পরিবীক্ষণ, ইত্যাদির ব্যাপারে সরকারের দায়িত্বঃ
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, পরিবীক্ষণ, সমন্বয় সাধন, ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সরকার একটি সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিট বা তদ্কর্তৃক গঠিত অন্য কোন ইউনিটের মাধ্যমে নিম্নরুপ দায়িত্ব পালন করিবে, যথাঃ-
(ক) সরকার কর্তৃক নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এই আইনের বাস্তবায়ন ও প্রয়োগ পরিবীক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ;
(খ) সরকার কর্তৃক নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ও আনুষঙ্গিক কার্যাবলী সম্পাদনের ব্যবস্থা গ্রহণ;
(গ) নির্ধারিত অন্য কোন দায়িত্ব সম্পাদন।
আবার, PPR-08 এর বিধি ১৩০ অনুযায়ী সিপিটিইউ’র জন্য দায়িত্বসমূহঃ
(১) আইনের ধারা ৬৭(ক) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, আইনের ধারা ৬৭(খ) ও ৬৭(গ) অনুসারে সিপিটিইউ উক্ত ধারায় প্রদত্ত দায়িত্বের অতিরিক্ত নিম্নবর্ণিত দায়িত্ব সম্পাদন করিবে, যথা-
(ক) আন্তর্জাতিক রীতি-নীতি ও বাংলাদেশের বিদ্যমান ক্রয় প্রক্রিয়ায় অর্জিত অভিজ্ঞতার আলোকে আবশ্যক ক্রয় সংক্রান্ত আইন, বিধি বা অন্যান্য দলিলপত্র সংশোধন প্রস্তাব করা;
(খ) আইন, এই বিধিমালা ও তৎকর্তৃক জারীকৃত দলিলাদির বাস্তবায়নের ব্যাপারে নীতি-নির্দেশনা জারী এবং উক্ত বিষয়ে কোন সমস্যার উদ্ভব হইলে সংশ্লিষ্ট ক্রয়কারী বা দরপত্র দাতার অনুরোধে, ক্রয়কারীর দায়িত্ব কোনরুপ ক্ষুন্ন না করিয়া, তৎসম্পর্কে পরামর্শক ও সহায়তা প্রদান;
(গ) ক্রয়কার্যে ব্যবহৃত আদর্শ দলিলপত্র প্রস্তুত ও বিতরণ;
(ঘ) পূর্ববর্তী অর্থ-বৎসরের সার্বিক ক্রয় ব্যবস্থাপনা এবং তৎসহ সরকার কর্তৃক ক্রয় সংক্রান্ত রীতিনীতি এবং ক্রয়কার্যের গুনগত মান উন্নয়নকল্পে গৃহীতব্য ব্যবস্থাদির সুপারিশ সম্বলিত বার্ষিক প্রতিবেদন প্রস্তুত ও সরকারের নিকট উপস্থাপন;
(ঙ) দফা (ঘ) এর অধীন প্রস্তুতকৃত বার্ষিক প্রতিবেদন পরবর্তী অর্থ-বৎসর শুরু হইবার পর তফসিল-২ এ বর্ণিত সময়সীমার মধ্যে সরকারের বিবেচনার জন্য পেশ করিবে এবং উক্ত প্রতিবেদনে অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে নিম্নলিখিত বিষয়াদি অন্তর্ভুক্ত থাকিবে-
(অ) প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট বৎসরে সম্পাদিত ক্রয়কার্যের সংখ্যা, সম্পাদিত চুক্তির মূল্যায়ন, ক্রয় পদ্ধতির প্রয়োগ, সম্পাদিত ক্রয়ের ধরণ (যথা-পণ্য, কার্য বা সেবা ইত্যাদি) এবং কৃতকার্য সরবরাহকারী, ঠিকাদার বা পরামর্শকদের জাতীয়তা (বাংলাদেশী বা বিদেশী নাগরিক);
(আ) আইনের ধারা ২৪ এবং বিধি ৪৫ অনুসারে প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট বৎসরে ক্রয়কারী ও সিপিটিইউ কর্তৃক সম্পাদিত ক্রয় প্রক্রিয়া-উত্তর পুনরীক্ষণের সার-সংক্ষেপ;
(ই) প্রশিক্ষণ ও জন-দক্ষতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত অন্যান্য উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের বিবরণ;
(ঈ) দাখিলকৃত অভিযোগসমূহের সংক্ষিপ্তসার ও উহা রিভিউ প্যানেলের নিকট প্রেরণের বিবরণ এবং অভিযোগ নিষ্পত্তি সংক্রান্ত তথ্য; এবং
(উ) সিপিটিইউ এর অন্যান্য কর্মকান্ড;
(চ) সিপিটিইউ বাৎসরিক প্রতিবেদনের প্রত্যেক অংশ প্রস্তুতি করিবার জন্য নিম্নবর্ণিত সময়সীমা অনুসরণ করিবে-
(অ) ৩ (তিন) মাসের মধ্যে পরিসংখ্যান প্রতিবেদন প্রস্তুতকরণ;
(আ) ৫ (পাঁচ) মাসের মধ্যে ক্রয় প্রক্রিয়া-উত্তর পুনরীক্ষণের সংক্ষিপ্তসার প্রস্তুতকরণ;
(ই) ৩ (তিন) মাসের মধ্যে সরকারী ক্রয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা ব্যক্তিগণের প্রশিক্ষণ ও পেশাগত মান উন্নয়ন সংক্রান্ত পরিসংখ্যান প্রস্তুতকরণ; এবং
(ঈ) ৩ (তিন) মাসের মধ্যে সিপিটিইউ এর অন্যান্য কর্মকান্ড সম্পর্কিত পরিসংখ্যান প্রস্তুতকরণ;
(ছ) প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ক্রয়কারীর নিকট হইতে প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র বা অন্যান্য তথ্য সরবরাহের জন্য অনুরোধ জ্ঞাপন সংগ্রহ এবং মূল্যায়ন;
(জ) সরকারী ক্রয় সংক্রান্ত ওয়েবসাইট চালুকরণ যাহাতে নিম্নবর্ণিত দলিলপত্র ও অন্যান্য বিষয় অন্তর্ভূক্ত থাকিবে-
(অ) আইন, বিধিমালা, কার্যপদ্ধতি, ক্রয় সংক্রান্ত সরকারী নির্দেশনা ও ব্যবহারকারীগণের জন্য প্রযোজ্য নির্দেশিকা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় দলিলপত্র এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা, বিশ্বব্যাংক, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, এশিয়া প্যাসিফিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জাতিসমূহের সংস্থা সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক চুক্তি ও বিধি-বিধানের সংগে সংযোগ প্রতিষ্ঠা;
(আ) সরকারী ক্রয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ সংক্রান্ত তথ্য ক্রয়কারীর বাৎসরিক ক্রয় পরিকল্পনা, সরকার কর্তৃক নির্ধারিত মূল্যসীমার ঊর্ধ্বের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ক্রয়ের দরপত্র বা প্রস্তাবের নোটিশ এবং চুক্তি সম্পাদন নোটিশ;
(ই) সিপিটিইউ এর ওয়েবসাইটে নিম্নবর্ণিত তথ্যাদি সংরক্ষণ করিতে হইবে-
(অঅ) বাংলাদেশের ক্রয় কার্যাদি সম্পর্কিত পরিসংখ্যানসহ পরিসংখ্যান প্রতিবেদন; এবং
(অআ) ক্রয়কারী কর্তৃক পণ্য, কার্য বা সেবা ক্রয়ের সময় উহার যথাযথ বর্ণনা প্রদানে সহায়ক হইবে এইরুপ কারিগরি মান সম্পর্কিত তালিকা।
(২) সিপিটিইউ, সরকার কর্তৃক নির্ধারিত মূল্যসীমার ঊর্ধ্বের ক্রয়ের জন্য দরপত্র বা প্রস্তাব আহ্বান সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন সম্বলিত বুলেটিন সংক্ষিপ্ত আকারে দৈনিক ভিত্তিতে এবং ক্রয় সংক্রান্ত তথ্য সম্বলিত বুলেটিন ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে প্রকাশ করিবে।
(৩) সিপিটিইউ উহার নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্দেশিত না হইলে উহা নির্দিষ্ট কোন ক্রয় বা চুক্তি সম্পাদন সম্পর্কিত কোন বিষয়ে উহার মতামত প্রদান করিবে না, বা সরাসরি কোন ক্রয় কার্যের সহিত সম্পৃক্ত হইবে না।
(৪) সিপিটিইউ উহার ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম এর মাধ্যমে ক্রয়কার্য সম্পাদন সংক্রান্ত তথ্য পরিবীক্ষণ করিবে।
এই লেখকের অন্যান্য লেখা

বাংলাদেশে ADP বাস্তবায়ন ৫ বছরের সর্বনিম্ন: Procurement Delay কি আসল কারণ ?
বাংলাদেশের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (Annual Development Programme–ADP) দেশের অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, পরিবহন এবং অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রধান আর্থিক

বাংলাদেশে Manual Tender যুগের সমাপ্তিঃ বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ
বাংলাদেশের সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় ১ জুলাই ২০২৬ একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। এদিন থেকে Manual (Offline) Tendering-এর আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটেছে এবং সরকারি

Indirect Procurement 2026 Report: Uncertainty as a Catalyst for Efficiency
The year 2026 is an extremely challenging and transformative year for procurement professionals. According to the 9th Annual Indirect Procurement

সরকারি Procurement System-এ আরও পরিবর্তন আসছে
বাংলাদেশের সরকারি ক্রয় ব্যবস্থা গত এক দশকে উল্লেখযোগ্য ডিজিটাল রূপান্তরের মধ্য দিয়ে গেছে। ই-জিপি (e-GP) চালুর ফলে টেন্ডারিং প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা