অডিট কার্যক্রম সমন্বয়ে AMMS সফট্ওয়্যার
ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে অডিট ব্যবস্থাপনায় বিরাজমান নানাবিধ সমস্যা থেকে উত্তরণ এবং অডিট প্রক্রিয়াকে ডিজিটাল করার নিমিত্তে Audit Monitoring and Management System (AMMS) সফট্ওয়্যার তৈরির মাধ্যমে ডিজিটাল ট্রাসফরমেশন অব অডিট প্রসেস আজ বাস্তবতা। অডিট ব্যবস্থাপনা এবং স্টেকহোল্ডারদের সাথে মিথস্ক্রিয়ায় নতুন পথ দেখাবে বাংলাদেশের কম্পট্রোলার এন্ড অডিটর জেনারেল কার্যালয় কর্তৃক প্রবর্তিত এই ওয়েব-বেইজড্ সফট্ওয়্যার।
আরও দেখুনঃ অডিট আপত্তির নমুনা
বর্তমানে এই সফট্ওয়্যার এর ভার্শন ২.০ ব্যবহার হচ্ছে।
AMMS সফট্ওয়্যারে ইতোমধ্যে বাংলাদেশের কম্পট্রোলার এন্ড অডিটর জেনারেল কার্যালয়ের অধীন ১৭টি অডিট অধিদপ্তর কর্তৃক জারিকৃত অডিট আপত্তি সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্যাদির আর্কাইভ তৈরি করা হয়েছে। সরকারের ৫৭টি মন্ত্রণালয়/বিভাগ ও আওতাধীন দণ্তরসমূহে অদ্যাবধি বিদ্যমান অডিট আপত্তির সংখ্যা প্রায় ৩ লক্ষাধিক। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক অনিয়ম বা এসএফআই (SFI) হিসেবে চিহ্নিত অডিট আপত্তির সংখ্যা প্রায় ১.৩০ লক্ষাধিক। অপরদিকে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক অনিয়ম বা নন-এসএফআই (Non-SFI) হিসেবে চিহ্নিত অডিট আপত্তির সংখ্যা প্রায় ১.৭০ লক্ষাধিক।
এই ডিজিটাল প্রাটফর্ম বাস্তবায়নের ফলে উল্লেখযোগ্য যেসব সুফল পাওয়া যাচ্ছে তা হলো –
- অডিট ডিপার্টমেন্ট ও অডিটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অধিকতর কার্যকর যোগাযোগ প্রতিষ্ঠায় ব্যয় ও সময় সাশ্রয়;
- অডিটি প্রতিষ্ঠানের জন্য এই সিস্টেমে সহজ প্রবেশাধিকার থাকবে। ফলে কস্ট সেন্টার ভিত্তিক অডিট আপত্তির সংখ্যা, গৃহীত ব্যবস্থা, নিষ্পত্তিকৃত এবং অনিষ্পন্ন আপত্তি সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া নিশ্চয়তা;
- এ সফট্ওয়্যার ব্যবহার করে অডিট অধিদপ্তর এবং অডিটি প্রতিষ্ঠান অডিট আপত্তির জবাব প্রমাণকসহ আদান-প্রদান;
- নিরীক্ষা সম্পাদনকালে অডিট কোয়ারি এবং অডিট মেমো AMMS সফটওয়্যারের মাধ্যমে আদান-প্রদান;
- সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত সকল অডিট আপত্তি এই সফটওয়্যারে সংরক্ষিত থাকায় অডিটি প্রতিষ্ঠানের সাথে সংশ্লিষ্ট অডিট অধিদপ্তরের আপত্তি সংক্রান্ত তথ্যের গরমিলের অবসান;
- মন্ত্রণালয় ও বিভাগ কর্তৃক তার আওতাধীন দপ্তর/সংস্থাসমূহ নিরীক্ষা মন্তব্য বা সুপারিশের আলোকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে কিনা তা কার্যকরভাবে তদারকির সক্ষমতা;
- সংসদ কর্তৃক অডিট রিপোর্টের বিষয়ে গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ নির্বাহী কর্তৃপক্ষ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করছে কিনা তার সহজতর ও কার্যকর মনিটরিং;
বর্তমানে নিরীক্ষা পরিকল্পনার শুরুতে অডিটি প্রতিষ্ঠানের সাথে এন্ট্রি মিটিং, নিরীক্ষা শেষে এক্সিট মিটিং, ব্রড শীট রিপ্লাই (AMMS এর মাধ্যমে), দ্বিপক্ষীয় এবং ত্রিপক্ষীয় সভা, ওয়ার্কশপ/সেমিনার ইত্যাদি আয়োজনের মাধ্যমে অডিটি প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য অংশীজনের কাছে অডিটের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পাওয়ায় অডিটের সুপারিশ বাস্তবায়নে ক্রয়কারি দপ্তরগুলো উৎসাহিত হচ্ছে। এতে করে অডিট কার্যক্রম দেশের সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এছাড়াও, জনগুরুত্পূর্ণ বিষয়সমূহ নিরীক্ষা করে সফলতার ঘাটতি থাকলে তার কারণ উদঘাটন এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদানের মাধ্যমে বর্তমান অডিট কার্যক্রম অনেক ক্ষেত্রেই জনগণের প্রয়োজনকে বিবেচনায় নিয়ে রেসপনসিভ অডিটের ভূমিকা পালন করছে।
এই লেখকের অন্যান্য লেখা

ভেরিয়েশন প্রতিপাদন কমিটির প্রতিবেদনের ফরম্যাট
বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক সম্প্রতি “পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫” এবং “পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০২৫ (পিপিআর ২০২৫)” জারী হয়েছে। সংশোধিত আইন

ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট দিয়ে কি Service ক্রয় করা যাবে ?
সরকারি ক্রয়ের ক্ষেত্রে বারবার দরপত্র আহ্বানের প্রশাসনিক ও আর্থিক জটিলতা নিরসন এবং উন্নততর ক্রয় ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার জন্য ‘ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট (Framework Agreement)’

নতুন একনেক এবং CCGP কমিটি গঠন
নতুন সরকার আসার পর নতুন করে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক – ECNEC) এবং সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি (সিসিজিপি

Works চুক্তিতে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে পিপিআর ২০২৫ এ কি আছে ?
বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক গত ৪ঠা মে ২০২৫ ইং তারিখে “পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫” এবং ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে