এখানে কয়েকটি বিধি নিয়ে তুলে ধরা হলো। তবে পাঠকদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, এই “প্রকিউরমেন্টবিডি” তে উল্লেখিত আইন বা বিধির কোন ধারা বা বিধিমালার কোন বিষয় যাচাই ব্যতীত ব্যবহার না করার জন্য সতর্ক করা হচ্ছে। এখানে ব্যবহৃত যে কোন ধারা বা বিধি শুধু মাত্র বিভিন্ন আলোচনা ও সংশ্লিষ্ট প্রেক্ষাপট সহজে বোধগম্য করার জন্য উল্লেখ করা হয়েছে। বাস্তবিক প্রয়োজনে BPPA এর ওয়েব-সাইটে সংযুক্ত আইন বা বিধিমালা থেকে তা ব্যবহার করতে হবে।
তৃতীয় অধ্যায়
ক্রয়সংক্রান্ত নীতিসমূহ
অংশ-১
সাধারণ
২২। ক্রয়সংক্রান্ত আইন, ইত্যাদি সাধারণের প্রাপ্যতা।—
আইন এবং ইহার অধীন প্রণীত বিধি, আদেশ, নির্দেশ, নীতিমালা বা অন্যান্য দলিলপত্র সর্বসাধারণের নিকট সহজ প্রাপ্য করা ও উহার যথাযথ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে, বিপিপিএ নিম্নরূপ দায়িত্ব পালন করিবে, যথা—
(ক) আইন ও তদধীন প্রণীত বিধিমালার বাংলা ভাষ্য এবং ইংরেজিতে অনূদিত নির্ভরযোগ্য পাঠ মুদ্রণ ও প্রকাশ;
(খ) ক্রয়কারী কর্তৃক ক্রয়কার্য পরিচালনা সহজতর করণার্থ ক্রয়সংক্রান্ত দলিলপত্র পর্যায়ক্রমিকভাবে প্রকাশ;
(গ) দফা (ক) ও (খ)-এর অধীন প্রকাশিত আইনের বাংলা ও ইংরেজি পাঠ, বিধিমালা সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র সর্বসাধারণের সহজ প্রাপ্তির ব্যবস্থা গ্রহণ এবং উহা বিপিপিএ-এর ওয়েবসাইটে প্রকাশ; এবং
(ঘ) উক্ত দলিলসমূহের হালনাগাদকরণ ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ।
২৩। যোগাযোগের ধরন।—
(১) এই বিধিমালার অধীন ক্রয়কারী ও ক্রয়কাজে অংশগ্রহণকারী পক্ষের মধ্যে (যেমন-আবেদনকারী, দরপত্রদাতা, সরবরাহকারী, ঠিকাদার, সেবাপ্রদানকারী বা পরামর্শক) যাবতীয় যোগাযোগ লিখিত হইতে হইবে এবং উক্ত যোগাযোগের আইনগত বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করিবার জন্য উহা প্রেরক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা বা প্রতিনিধি কর্তৃক স্বাক্ষরিত হইতে হইবে।
(২) ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে ক্রয়ের ক্ষেত্রে এই বিধিমালার অষ্টম অধ্যায়ের বিধান প্রযোজ্য হইবে।
২৪। ক্রয়কৌশল (Procurement strategy) প্রণয়ন এবং ক্রয়পদ্ধতি নির্বাচন।—
(১) উন্নয়ন প্রকল্পের ক্ষেত্রে কোনো ক্রয়চাহিদাকে একাধিক প্যাকেজে ও লটে বিন্যস্ত করিবার ক্ষেত্রে, ক্রয়কারী এই বিধিমালার বিধি ২৫ অনুসরণে কোনো ক্রয় পরিকল্পনা প্রণয়নের পূর্বে প্রস্তাবিত ক্রয়কার্য এবং ক্রয়ের বিষয় সতর্কতার সহিত পর্যালোচনা করিয়া এবং ক্রয়ের বৈশিষ্ট্য ও পরিমাণ বিবেচনা করিয়া প্যাকেজে ও লটে বিন্যস্তকরণ এবং প্রয়োগযোগ্য ক্রয় পদ্ধতি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, কোনো উন্নয়ন প্রকল্পের অধীন প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে নিরূপিত চাহিদার বিপরীতে বাজার পরিস্থিতি, ক্রয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি, সম্ভাব্য সমাধানের বিকল্পসমূহের বিশ্লেষণ, স্থানীয় ইকনোমিক অপারেটরগণের সামর্থ্য, টেকসইতা, ক্রয়কারীর সামর্থ্য, প্রত্যাশিত প্রতিযোগিতা, ইত্যাদি বিষয় বিবেচনায় লইয়া তফসিল-৪ মোতাবেক একটি ক্রয়কৌশল প্রণয়ন করিবে যা প্রকল্প দলিলে সন্নিবেশিত হইবে এবং উহার অনুবর্তীক্রমে উক্ত উন্নয়ন প্রকল্পের সার্বিক ক্রয়পরিকল্পনা প্রণীত হইবে।
(২) উপবিধি (১)-এ বর্ণিত ক্রয়কৌশল প্রণয়নের উদ্দেশ্যে ক্রয়কারী কর্তৃক বাজার পরিস্থিতি তথা বাজারে বিদ্যমান সমাধানের বিকল্প সম্পর্কে অবহিত হইবার লক্ষ্যে সম্ভাব্য ইকনোমিক অপারেটরগণের সমন্বয়ে প্রারম্ভিক বাজার সম্পৃক্ততার (Early market engagement) উদ্যোগ গ্রহণ করা যাইবে এবং সেইক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও বিপিপিএ-এর ওয়েবসাইটে ন্যূনতম ১৪ (চৌদ্দ) দিন সময় প্রদানপূর্বক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করিয়া সম্ভাব্য দরদাতা বা ইকনোমিক অপারেটরদের আমন্ত্রণপ্রদান, অতঃপর তাহাদের আগ্রহের ভিত্তিতে প্রাকক্রয় সভা (Pre-procurement conference) আয়োজন করিতে হইবে :
তবে শর্ত থাকে যে, প্রারম্ভিক বাজার সম্পৃক্ততার ধারাবাহিকতায় গৃহীত ক্রয়কার্যে কোনোভাবেই যেন সীমাবদ্ধকর প্রতিযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টি না হয়, সেই বিষয়ে ক্রয়কারী সতকর্তা অবলম্বন করিবে :
আরও শর্ত থাকে যে, এই বিধিতে উল্লিখিত প্রারম্ভিক বাজার সম্পৃক্ততার মাধ্যমে নির্দিষ্টকৃত কোনো ক্রয়চাহিদা বা প্রস্তুতকৃত বিনির্দেশের মাধ্যমে কোনো ক্রয়প্রক্রিয়াকরণে সংশ্লিষ্ট ক্রয়কারী বাধ্য থাকিবে না।
(৩) ক্রয়কারী পণ্যের প্যাকেজ গঠন ও ক্রয়পদ্ধতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে, নিম্নবর্ণিত বিষয়সমূহ বিবেচনা করিবে—
(ক) ক্রেতব্য পণ্যের ধরন ও প্রাক্কলিত ব্যয়;
(খ) স্থানীয় বাজারে সংশ্লিষ্ট পণ্যের প্রাপ্যতা;
(গ) স্থানীয় বাজারে প্রাপ্য সংশ্লিষ্ট পণ্যের মান, উৎস ও ব্র্যান্ড;
(ঘ) মনোনীত পণ্যের মূল্য ;
(ঙ) প্রয়োজনীয় পরিমাণ পণ্যসরবরাহে স্থানীয় সরবরাহকারীদের সামর্থ্য;
(চ) সংশ্লিষ্ট জাতীয় শিল্প প্রতিষ্ঠানের সামর্থ্য এবং উৎপাদিত পণ্যের মান;
(ছ) বাজার পরিস্থিতি এবং প্রত্যাশিত প্রতিযোগিতা;
(জ) ক্রয়ের জরুরি প্রয়োজনীয়তা;
(ঝ) প্রাপকের ভাণ্ডারের ধারণক্ষমতা এবং প্রস্তাবিত সরবরাহের শর্তাদি ও সূচি; এবং (ঞ) স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ-সংক্রান্ত ঝুঁকি।
(৩) ক্রয়কারী, পুনঃপুন আবশ্যক এইরূপ পণ্য সরবরাহের জন্য, বিধি ১০৯ অনুযায়ী ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট ব্যবহার করিতে পারে এবং সুবিধাজনক হইলে লটভিত্তিক বা আইটেমভিত্তিক দরপত্র আহ্বান করিতে পারে।
(৪) ক্রয়কারী প্যাকেজ প্রণয়নে যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করিবে এবং সম্ভাব্য সরবরাহকারীদের সংখ্যা যেন হ্রাস না পায় উহা নিশ্চিত করিবার জন্য একটি প্যাকেজে বেশিসংখ্যক আইটেম অন্তর্ভুক্ত করিবে না।
(৫) সাধারণত একই ধরনের সরবরাহকারীগণ কর্তৃক সরবরাহ করা হইয়া থাকে, শুধু এইরূপ আইটেমসমূহের সমন্বয়ে ক্রয়কারী প্রতিটি লট সুবিন্যস্ত করিবে।
(৬) দরপত্র প্রক্রিয়ায় উৎপাদনকারীর অংশগ্রহণ উৎসাহিত করিবার অভিপ্রায় থাকিলে, বিশেষ ধরনের সরবরাহের (যেমন—স্বাস্থ্য সেক্টরের পণ্য, খুচরা যন্ত্রাংশ, ইত্যাদি) জন্য আইটেমভিত্তিক দরপত্র আহ্বান করা যাইবে।
(৭) ক্রয়কারী, কার্যের প্যাকেজ গঠন ও ক্রয়পদ্ধতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে, নিম্নবর্ণিত বিষয়সমূহ বিবেচনা করিবে—
(ক) কার্যের প্রকৃতি ও প্রাক্কলিত ব্যয়;
(খ) নির্মাণ সেক্টরের বিদ্যমান অবস্থা; (গ) স্থানীয় ঠিকাদারদের সামর্থ্য; (ঘ) প্রত্যাশিত প্রতিযোগিতা;
(ঙ) ভৌগোলিক অবস্থান;
(চ) কার্যসম্পাদনে প্রয়োজনীয় সময়;
(ছ) প্রাসঙ্গিক অন্যান্য বিষয়।
(৮) ক্রয়কারী, ভৌতসেবার প্যাকেজ গঠন ও ক্রয়পদ্ধতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে, নিম্নবর্ণিত বিষয়সমূহ বিবেচনা করিবে
(ক) ভৌতসেবার প্রকৃতি, মান এবং প্রাক্কলিত ব্যয়;
(খ) সংশ্লিষ্ট সেবা সেক্টরের বিদ্যমান অবস্থা;
(গ) ক্রয়ের জরুরি প্রয়োজনীয়তা;
(ঘ) স্থানীয় সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সামর্থ্য;
(ঙ) প্রত্যাশিত প্রতিযোগিতা;
(চ) সেবাসম্পাদনের প্রত্যাশিত তারিখ;
(ছ) প্রাসঙ্গিক অন্যান্য বিষয়।
[বাকি অংশ দেখতে লগইন করুন]