পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা সংশোধন প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে
পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস (PPR) সংশোধনের কার্যক্রম চলছে। বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির (BPPA) এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, এস এম মঈন উদ্দিন আহমেদ, সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন।
পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট (PPA), ২০০৬-এ আরও সংশোধন আনার লক্ষ্যে গত ৪ মে ২০২৫ তারিখে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক “পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫” অনুমোদিত হয় এবং গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে। এই অধ্যাদেশের সংশোধনীগুলো বাস্তবায়নের জন্য ২০০৮ সালের পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস (PPR) সংশোধন করা অত্যন্ত জরুরি।
দেখুনঃ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারী
এটি দরদাতা, ব্যবসায়ী সম্প্রদায়, ক্রয়কারী সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী এবং সুশীল সমাজের দীর্ঘদিনের একটি দাবি ছিল।
আরও দেখুনঃ অধ্যাদেশ জারীর পরও পাবলিক প্রকিউরমেন্ট সংস্কার আটকে আছে কেন!
বিপিপিএ’র সিইও জানিয়েছেন যে, PPR ২০০৮-এর প্রয়োজনীয় সংশোধনী আগামী দুই মাসের মধ্যে আনার প্রচেষ্টা চলছে। তিনি আশাবাদী যে BPPA বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের মতামত নিয়ে দুই মাসের মধ্যে পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় সংশোধনী সম্পন্ন করতে পারবে।
PPA-এর প্রধান পরিবর্তনসমূহ: সংশোধিত PPA-তে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হতে পারে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল:
- ওপেন টেন্ডারিং পদ্ধতি (OTM)-এর অধীনে জাতীয় কাজের ক্রয়ের ক্ষেত্রে ১০% মূল্যসীমা বাতিল করা।
- ইলেকট্রনিক সরকারি ক্রয় (e-GP) পদ্ধতি বাধ্যতামূলক করা।
- চুক্তি স্বাক্ষরকৃত ঠিকাদার বা সরবরাহকারীদের মালিকানা সম্পর্কিত তথ্য প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা।
- ভৌত পরিষেবাগুলোকে একটি পৃথক ক্রয় বিভাগ হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা।
- সাধারণ কাজ এবং পরামর্শমূলক পরিষেবাগুলোকে ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তির আওতায় আনা।
- ক্রয় কৌশল অনুসারে উন্নয়ন প্রকল্পগুলির জন্য একটি ব্যাপক ক্রয় পরিকল্পনা তৈরি করা।
- রিভার্স অকশন পদ্ধতির প্রবর্তন করা।
- টেকসই সরকারি ক্রয় (Sustainable Public Procurement – SPP)-এর আইনি স্বীকৃতি দেওয়া, ইত্যাদি।
আলোচনায় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষকে ধৈর্য ধরার অনুরোধ করেছেন, কারণ PPA, ২০০৬-এর সংশোধনীগুলি শুধুমাত্র PPR, ২০০৮-এর সংশোধনী অনুমোদিত এবং আনুষ্ঠানিকভাবে গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পরেই কার্যকর হবে।
২০২৩ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর, দেশের সামগ্রিক সরকারি ক্রয় পরিবেশের উন্নতি এবং সরকারি ক্রয়ে পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রাক্তন সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিট (CPTU) রূপান্তরিত হয়ে বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (BPPA) গঠিত হয়। বর্তমানে, BPPA ২০১৩ সালে সরকার কর্তৃক জারিকৃত টেকসই সরকারি ক্রয় (SPP) নীতি বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিচ্ছে। এছাড়া, BPPA দেশের সকল সরকারি ক্রয়কে e-GP-এর আওতায় আনার জন্য কাজ করছে। ২০১১ সালে চালু হওয়া e-GP সিস্টেম এখন ইলেকট্রনিক কন্ট্রাক্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (e-CMS) সহ একটি সম্পূর্ণ ও ব্যাপক অনলাইন ক্রয় ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করছে।
এই লেখকের অন্যান্য লেখা

Balancing Discretion and Equal Treatment: Insights from the CJEU’s Landmark Ruling
In 2026, the Court of Justice of the European Union (CJEU) delivered a landmark ruling in Case C-590/24 AK Dlhopolec

Procurement-এ flexibility আছে, কিন্তু তা সীমাহীন নয়ঃ ইউরোপের সর্বোচ্চ আদালত
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইনে ২০২৬ সালের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রায়গুলোর একটি হলো Case C-590/24 AK Dlhopolec and Others। এই মামলাটি

১টি ৩৫ কোটি টাকার রাস্তার কাজ যা মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিয়েছিল। এখন, কাজ চলাকালীন ভেরিয়েশন লাগবে। কিছু আইটেমের কাজ কমে যাওয়ায় ৩৫ কোটি টাকার মধ্যেই কাজটি সম্পন্ন করা যাবে। সমস্যা হলো, ৫টি Non-Tender আইটেম লাগবে যা সব মিলে ৩.৫ কোটি টাকার। এখন, এক্ষেত্রে কি ভেরিয়েশন লাগবে ? কে অনুমোদন দিবে, মন্ত্রণালয় নাকি HOPE ?
চুক্তি সম্পাদনের পর হতে উক্ত চুক্তি সফলভাবে সম্পন্ন বা বাতিল পর্যন্ত সময়ে প্রশাসনিক, আর্থিক, ব্যবস্থাপনাগত ও কারিগরী কারনে চুক্তির ভেরিয়েশন

রেডিও Talk: আন্তর্জাতিক প্রকিউরমেন্ট দিবস
বিস্তারিত দেখুনঃ আন্তর্জাতিক প্রকিউরমেন্ট দিবস