পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারী
৪ঠা মে ২০২৫ ইং তারিখে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক “পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫” জারী করা হয়েছে। এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে ২০০৬ সনের ২৪ নং আইন, অর্থাৎ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬ (PPA 2006)-এ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন নিয়ে আসা হয়েছে।
বিস্তারিত দেখুনঃ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
টেন্ডারে সিন্ডিকেট ভাঙতে প্রকিউরমেন্ট অধ্যাদেশ জারী করা হয়েছে। এর আগে গত ২০ মার্চ উপদেষ্টা পরিষদের সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
এ বিষয়ে দেখুনঃ অবশেষে সরকারি কেনাকাটায় ১০% মার্জিন বাতিল
এই সংশোধনী অধ্যাদেশটিতে প্রধানত বিভিন্ন সংজ্ঞা পরিবর্তন ও সংযোজন করা হয়েছে এবং আইনের বিভিন্ন ধারায় উল্লেখিত ক্রয় সংক্রান্ত পদ্ধতি ও প্রক্রিয়াতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। নিচে এই অধ্যাদেশের কিছু উল্লেখযোগ্য সংশোধনী সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
নতুন সংজ্ঞা সংযোজন ও পুরাতন সংজ্ঞা পরিবর্তন
এই অধ্যাদেশে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬ এর ধারা ২-এ বেশ কিছু নতুন সংজ্ঞা যুক্ত করা হয়েছে এবং কিছু বিদ্যমান সংজ্ঞার পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- প্রকিউরমেন্ট কৌশল (procurement strategy)
- টেকসই পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (sustainable public procurement)
- নিষ্পত্তি (disposal)
- ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট (framework agreement)। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন।
- বেসরকারি সংস্থা (এনজিও)
- সেবা প্রদানকারী (service provider)
- “ক্রয় পরিকল্পনা” এর পরিবর্তে “ক্রয় কৌশল ও ক্রয় পরিকল্পনা”
- রিভার্স অকশন (reverse auction)
ক্রয় সংক্রান্ত প্রক্রিয়া ও নীতিমালায় পরিবর্তন
আইনের ধারায় অনেকগুলি সংশোধনী আনা হয়েছে, যা ক্রয় প্রস্তাব দাখিল, প্রকিউরমেন্ট প্ল্যান প্রণয়ন, দরপত্র/প্রস্তাব দলিল মূল্যায়ন, চুক্তি সম্পাদন ও বাতিল, এবং বিভিন্ন ক্রয় পদ্ধতি প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলবে।
- ক্রয় প্রস্তাব সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে দাখিলের ক্ষেত্রে নিয়ম পরিবর্তন করা হয়েছে।
- প্রকিউরমেন্ট প্ল্যান (ক্রয় পরিকল্পনা) সংক্রান্ত নিয়মে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
- উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতির অধীন অভ্যন্তরীণ কার্যক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রাক্কলিত মূল্যের ১০% এর কম/বেশি হলে টেন্ডার প্রস্তাব বাতিলের যে বিধান তা বাতিল করা হয়েছে।
- LTM এর ক্ষেত্রে ৩ কোটির সীমা বাতিল করে এ বিষয়ে বিধিমালায় প্রয়োজনীয় সংশোধনীর উল্লেখ করা হয়েছে।
- টেন্ডার বা প্রস্তাবে উপভোগকারী মালিকানা (beneficial ownership) সংক্রান্ত তথ্য অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি যুক্ত হয়েছে।
- প্রস্তাব মূল্যায়নে দরপত্রদাতা নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা হয়েছে।
- বিভিন্ন ক্রয় পদ্ধতির প্রয়োগ, বিশেষ করে পণ্য, কার্য, ভৌত সেবা এবং পরামর্শক সেবার জন্য, এবং চুক্তিমূল্য নির্ধারণ সংক্রান্ত বিষয়াবলী সংশোধিত হয়েছে।
- যৌক্তিকভাবে উল্লেখযোগ্য কম মূল্য (significantly low price) যুক্ত দরপত্র বা প্রস্তাব মূল্যায়নের ক্ষেত্রে নতুন বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন।
- Negotiation সংক্রান্ত নিয়ম, বিশেষ করে পরামর্শক সেবা এবং উল্লেখযোগ্য কম মূল্যের দরপত্রের ক্ষেত্রে, নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত হয়েছে।
- ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট বা রেট কন্ট্রাক্ট (Framework Agreement or Rate Contract) এর মাধ্যমে পণ্য, কার্য, ভৌত সেবা এবং পরামর্শক সেবা ক্রয়ের বিধান যুক্ত হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন।
- নিলামের ক্ষেত্রে রিভার্স অকশন (reverse auction) যুক্ত করা হয়েছে।
- পরামর্শক সেবা, বিশেষ করে আইটি সম্পর্কিত সেবা এবং জয়েন্ট ভেঞ্চারের মাধ্যমে ক্রয়ের ক্ষেত্রে নিয়মাবলী সংশোধিত হয়েছে।
- আইনের ধারা ৬৭ (পরিবীক্ষণ, ইত্যাদির ব্যাপারে সরকারের দায়িত্ব) বাতিল করা হয়েছে।
ই-জিপি (e-GP) পদ্ধতির গুরুত্ব বৃদ্ধি
সংশোধিত অধ্যাদেশে ই-জিপি পোর্টালের মাধ্যমে ক্রয় সংক্রান্ত দলিল ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে দাখিল করার বিষয়টিকে অধিকতর গূরুত্ব দেয়া হয়েছে।
আরও দেখুনঃ সংশোধিত অধ্যাদেশের আলোকে সংশোধনসহ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬ (PPA-06)
পরিশেষঃ
এই অধ্যাদেশটি পাবলিক প্রকিউরমেন্ট ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, দক্ষতা, প্রতিযোগিতা ও টেকসই পাবলিক প্রকিউরমেন্টের মতো বিষয়গুলোকে আরও গুরুত্ব দিয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। সরকারি কেনাকাটায় স্বচ্ছতা আনতে ও সিন্ডিকেট ভাঙতে এই অধ্যাদেশের ভুমিকা থাকবে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রাক্কলিত মূল্যের ১০ পার্সেন্টের কম/বেশি হলে টেন্ডার প্রস্তাব বাতিলের যে বিধান তা বাতিল করা হয়েছে। এতে করে সিন্ডিকেট ভাঙা সম্ভব হবে।
এই মূহুর্ত থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই পরিবর্তনগুলো সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করবে। তবে, এই অধ্যাদেশের পুরোপুরি প্রয়োগ হবার জন্য পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০০৮ (PPR-08) এর সংশ্লিষ্ট বিধি সমূহে প্রয়োজনীয় সংশোধন লাগবে।
এই অধ্যাদেশ নিয়ে আপনার মন্তব্য জানাতে পারেন নিচের কমেন্টস সেকশনে।
আরও দেখুনঃ “Significantly low price” নিয়ে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫-এ কী কী উল্লেখ আছে
এই লেখকের অন্যান্য লেখা

১টি ৩৫ কোটি টাকার রাস্তার কাজ যা মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিয়েছিল। এখন, কাজ চলাকালীন ভেরিয়েশন লাগবে। কিছু আইটেমের কাজ কমে যাওয়ায় ৩৫ কোটি টাকার মধ্যেই কাজটি সম্পন্ন করা যাবে। সমস্যা হলো, ৫টি Non-Tender আইটেম লাগবে যা সব মিলে ৩.৫ কোটি টাকার। এখন, এক্ষেত্রে কি ভেরিয়েশন লাগবে ? কে অনুমোদন দিবে, মন্ত্রণালয় নাকি HOPE ?
চুক্তি সম্পাদনের পর হতে উক্ত চুক্তি সফলভাবে সম্পন্ন বা বাতিল পর্যন্ত সময়ে প্রশাসনিক, আর্থিক, ব্যবস্থাপনাগত ও কারিগরী কারনে চুক্তির ভেরিয়েশন

রেডিও Talk: আন্তর্জাতিক প্রকিউরমেন্ট দিবস
বিস্তারিত দেখুনঃ আন্তর্জাতিক প্রকিউরমেন্ট দিবস

রেডিও Talk: ই-জিপি সাইটে ভোগান্তি: ব্যবহারকারীদের ক্ষোভ
বিস্তারিত দেখুনঃ ই-জিপি সাইটে ভোগান্তি: ব্যবহারকারীদের ক্ষোভ, কবে মিলবে সমাধান ?

রেডিও Talk: ই-জিপিতে ব্যক্তি পরামর্শকদের রেজিস্ট্রেশন ফি নিয়ে বৈষম্য
বিস্তারিত দেখুনঃ ই-জিপি রেজিস্ট্রেশন ফিঃ প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি পরামর্শকদের মধ্যকার বৈষম্য