এবার ভূমি অধিগ্রহণ ও যন্ত্রপাতি কেনা স্থগিত করলো সরকার
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অবস্থার প্রেক্ষিতে রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে সরকার চলতি অর্থ বছরের (২০২২-২০২৩ অর্থ বছর) পরিচালন বাজেট বরাদ্দ থেকে ভূমি অধিগ্রহণ, ভবন ও স্থাপনার নতুন ক্রয়াদেশ এবং যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম, কম্পিউটার ও আনুষঙ্গিক, আসবাব, ইত্যাদি কেনা পুরোপুরি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের বাজেট অনুবিভাগ গত মঙ্গলবার এ ব্যাপারে একটি পরিপত্র জারি করেছে। তবে ইতিমধ্যে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে এমন ক্ষেত্রে বাজেট বরাদ্দের ৫০ শতাংশের বেশি ব্যয় করা যাবে না।

বাজেটে এসব খাতে যে অর্থ বরাদ্দ রয়েছে, সেগুলো অন্য কোনো খাতে ব্যয় করা যাবে না, আবার অন্য খাত থেকেও এসব খাতে অর্থ আনা যাবে না। সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত, সংবিধিবদ্ধ সংস্থা, রাষ্ট্রমালিকানাধীন কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য।
আগের পদক্ষেপগুলো ছিল উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় কমানো; সরকারি কর্মচারীদের বিদেশ ভ্রমণ স্থগিত; সরকারি-আধা সরকারি প্রতিষ্ঠানে তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের ব্যবহার কমানো; বিভিন্ন কমিটির সদস্যদের সম্মানী বাতিল ও নতুন গাড়ি কেনা বন্ধ ইত্যাদি।
পরিপত্র অনুযায়ি পরিচালন বাজেটের অধীন
-
- ‘৪১৪১১০১ ভূমি অধিগ্রহণ’ খাতে বরাদ্দকৃত অর্থব্যয় সম্পূর্ণরূপে বন্ধ থাকবে।
- ভবন ও স্থাপনাসমূহ (৪১১১১০১ আবাসিক ভবন, ৪১১১২০১ অনাবাসিক ভবন, ৪১১১৩১৭-অন্যান্য ভবন ও স্থাপনা) খাতে বরাদ্দকৃত অর্থের বিপরীতে নতুনভাবে কার্যাদেশ দেওয়া যাবে না। এরই মধ্যে কার্যাদেশ প্রদান করা হয়েছে কেবলমাত্র এরূপ ক্ষেত্রে বাজেট বরাদ্দের ৫০ শতাংশের বেশি ব্যয় করা যাবে না।
- ‘যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামাদি’ (৪১১২২০২-কম্পিউটার ও আনুষঙ্গিক, ৪১১২৩০৩-বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি, ৪১১২৩১৪-আসবাবপত্র ও ৪১১২৩১৬ অন্যান্য যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামাদি) খাতে বরাদ্দকৃত অর্থব্যয় সম্পূর্ণভাবে স্থগিত রাখা।
আরও দেখুনঃ পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয়ে নতুন নির্দেশনা জারী
এভাবে ঢালাওভাবে জমি অধিগ্রহণ বন্ধ করাটা ঠিক হলো না বলে অনেকেই মন্তব্য করেছেন। এডিপি ভালোভাবে বাস্তবায়ন না হওয়ার পেছনে জমি অধিগ্রহণের দেরিকে অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সেই অধিগ্রহণই যদি দেরিতে হয়, তাহলে তো একদিকে খরচ বাড়বে, অন্যদিকে সময় বেশি লাগবে। আবার, কম্পিউটার ও আনুষঙ্গিক কেনা স্থগিত রাখার মানে হচ্ছে ডিজিটাল বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া। এসব পদক্ষেপে রাজস্ব আয়ের ওপর নির্ঘাত নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। সরকারের উচিত হবে ব্যয় সাশ্রয়ের পাশাপাশি আয় বৃদ্ধির দিকে মনোযোগ দেওয়া।
আরও দেখুনঃ গাড়ি কেনা, প্রকল্পের সভার সম্মানী বন্ধ
এই লেখকের অন্যান্য লেখা

লাম্প সাম নাকি টাইম-বেসড কন্ট্রাক্ট – কোনটি কখন ব্যবহার করবেন ?
পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বা সরকারি ক্রয়ে প্রধানত কাজের ধরন ও মূল্য পরিশোধের পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন ধরনের চুক্তি করা হয়।

লাম্প সাম কন্ট্রাক্ট (Lump Sum Based Contracts) কি ? কখন ব্যবহার করবেন ?
সরকারি বা বেসরকারি যেকোনো প্রকল্পে দক্ষ পরামর্শক (Consultant) নিয়োগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলো সঠিক চুক্তিপত্র নির্বাচন করা। বাংলাদেশ পাবলিক

টাইম-বেসড কন্ট্রাক্ট (Time-based Contracts) কি ? কখন ব্যবহার করবেন ?
সরকারি বা বেসরকারি যেকোনো প্রকল্পে দক্ষ পরামর্শক (Consultant) নিয়োগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলো সঠিক চুক্তিপত্র নির্বাচন করা। বাংলাদেশ পাবলিক

উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন ও প্রক্রিয়া সহজীকরণে পরিকল্পনা বিভাগের উদ্যোগ
সরকারি বিনিয়োগের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে সরকার “সরকারি খাতে উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন, প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন ও সংশোধন