টেন্ডারারস ডাটাবেজ এর ইতিহাস
সরকারী ক্রয় প্রক্রিয়ায় দক্ষতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, ইত্যাদি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২০১১ তারিখে ই-জিপি পোর্টালটি উদ্বোধন করা হয়েছে। বর্তমানে (১৪ মার্চ ২০২২ইং অনুযায়ী) প্রায় ১১২২ টি সরকারী সংস্থার ১০,৫০০ টি ক্রয়কারী দপ্তরে ই-জিপি মাধ্যম ব্যবহার করে দরপত্র আহবান ও চুক্তি স্বাক্ষর করা হচ্ছে। ইতোমধ্যেই প্রায় ৯৬,৮০০ এর বেশি দরপত্রদাতা সিস্টেমে রেজিষ্ট্রেশন নিয়েছেন, প্রায় সাড়ে পাঁচ লক্ষের বেশি দরপত্র এই অনলাইন মাধ্যম ব্যবহার করে আহবান করা হয়েছে এবং প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ চুক্তি অনলাইনে স্বাক্ষরিত হয়েছে। ই-জিপি সিস্টেমটি সরকারী দপ্তরগুলোতে ইতোমধ্যেই জনপ্রিয় হয়েছে এবং এর মাধ্যমে দিন দিন দরপত্র আহবানের পরিমানও উল্লখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সামগ্রিক ভাবে ই-জিপি ব্যবহার করে দরপত্র কার্যক্রমে অনেক গতি আসলেও এতে কিছু কিছু জায়গায় স্বাচ্ছন্দতার অভাব ছিল বলে অনেকের ধারনা। যেমন, মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার প্রায় বেশিরভাগই বলতে গেলে এখনও অফলাইনে করতে হচ্ছে। ই-জিপি ব্যবহারকারীরা প্রথম থেকেই এ বিষয়টিতে নজর দেয়ার জন্য সিপিটিইউ বরাবর দাবী করে আসছিলেন।
বাংলাদেশের সরকারি ক্রয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানসমূহের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বিশ্বব্যাংকের সহায়তা পুষ্ট PPRP-II প্রকল্প চলাকালীন সময়েই এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। পরিশেষে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় DIMAPP প্রকল্পে টেন্ডারারস ডাটাবেজ ই-জিপি সিস্টেমে অন্তর্ভূক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় এবং সে অনুযায়ি কার্যক্রম গৃহীত হয়। এর পাইলট হিসেবে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর বিশ্বব্যাংক ও সিপিটিইউ এর পরামর্শ ও সহযোগিতায় সর্বপ্রথম টেন্ডারারস ডাটাবেজ প্রস্তুতির উদ্যোগ নেয়।
টেন্ডারারস ডাটাবেজ নিয়ে ২০১৭ সালে প্রকিউরমেন্টবিডি.কম তে সর্বপ্রথম ফিচার প্রকাশিত হয়েছিল। ফিচারটি দেখতে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুন।
দরপত্র মূল্যায়ন প্রক্রিয়া আরও User Friendly হচ্ছে
‘Greater Transparency’ এবং ‘Faster Evaluation’ এই স্লোগান নিয়ে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আওতায় শুরু হয়েছিল Bidders Database Management System (BDMS) নামক সফটওয়ার ব্যবহার করে দরপত্র মুল্যায়ন ও রিপোর্ট প্রস্তুতের কাজ। এটি দরপত্র মুল্যায়ন কমিটির জন্য একটি Tool হিসেবে কাজ করছে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পিপিআরপি-২ প্রকল্পের আওতায় গত ১৮ মে ২০১৬ তারিখে দরদাতাদের ডাটাবেজ প্রস্তুতের জন্য উক্ত পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সাথে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। প্রাথমিকভাবে সফটওয়ারের উন্নয়ন শেষে গত ১০ই জানুয়ারী ২০১৭ তারিখে এক সার্কুলারে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের দরপত্রসমূহে অংশগ্রহনকারী ঠিকাদারগনকে BDMS ডাটাবেজে রেজিষ্ট্রেশন শুরুর মাধ্যমে এই টেন্ডারারস ডাটাবেজের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছিল। অতঃপর সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরে জুলাই ২০১৭ থেকেই ই-জিপি প্রক্রিয়ায় দরপত্র মূল্যায়নের একটি Tool হিসাবে উক্ত ডাটাবেজ ব্যবহার শুরু হয়েছিল। বর্তমানে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরে BDMS এর তথ্য উপাত্ত ব্যবহার করে সে অনুযায়ী দরপত্র মূল্যায়নের কার্যক্রম চলমান আছে।
BDMS এর সাফল্যের কারনে পরবর্তীতে অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে এই সফটওয়্যার ব্যবহারের জন্য আগ্রহ সৃষ্টি হয়। BDMS এর আর্কিটেকচার এবং সন্নিবেশিত তথ্যসমূহ শুধুমাত্র সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের ব্যবহারের জন্যই হওয়ায় এবং এর সাথে ই-জিপি সিস্টেমের সংযোগ না থাকায় ই-জিপি সিস্টেমের ভিতরেই এরকম ডাটাবেজ প্রস্তুতির বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়।
আবার, ২০১৯ সালে সিপিটিউ এর উদ্যোগে ই-জিপি গাইড লাইন সংশোধনের জন্য বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে বিভিন্ন প্রস্তাবনা প্রস্তুত করা হয়। সেখানে ই-জিপি সিস্টেমে দরপত্র মূল্যায়ন আরও সুবান্ধব এবং কার্যকরী করার জন্য সুপারিশ করা হয়েছিল। এর উল্লেখযোগ্য কিছু প্রস্তাবনা হলঃ
ই-জিপি গাইড লাইনে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রস্তাবিত সংশোধনীঃ
ঠিকাদারদের দরপত্র জমার ফর্মটি (Tenderer Information Form) আরও উন্নত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ঠিকাদারের জন্য একটি portfolio তৈরি হবে যাতে Business registration information, List of already, completed assignments, Current assignments, Financial status, Tenderer’s equipment, ইত্যাদি তথ্য থাকবে। ফলে মূল্যায়নে সময় কম লাগবে।

এভাবে বিভিন্ন উদ্যোগের প্রেক্ষিতে, গত ৭ এপ্রিল ২০২০ ইং তারিখে টেন্ডারারস ডাটাবেজ (National Tenderer’s Database – NTDB) এর উপর সিপিটিইউ এর উদ্যোগে এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এই NTDB নিয়ে কাজ করার জন্য “Dohatec New Media” এর সাথে সিপিটিইউ এর চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সে অনুযায়ি ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই টেন্ডারারস ডাটাবেজ আজকের অবস্থায় এসেছে।
পরের পর্বঃ টেন্ডারারস ডাটাবেজ এ Work Experience সংক্রান্ত কিভাবে আপডেট করবেন আসছে খুব শীঘ্রই। দেখতে প্রকিউরমেন্টবিডি.কম তে চোখ রাখুন।
এই লেখকের অন্যান্য লেখা

উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন ও প্রক্রিয়া সহজীকরণে পরিকল্পনা বিভাগের উদ্যোগ
সরকারি বিনিয়োগের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে সরকার “সরকারি খাতে উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন, প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন ও সংশোধন

কনসালট্যান্টের প্রাথমিক চুক্তি ১৮ মাসের। একবার সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে। এখন আবারও ১০০% সময় বৃদ্ধি লাগবে। করা যাবে কি না ? PPR-০৮ নাকি ২৫ অনুসরণ হবে ?
উন্নয়ন প্রকল্পে ৩ লাখ টাকা বেতনে পিপিআর ২০০৮ অনুযায়ী একজন কনসালট্যান্টের ১৮ মাসের জন্য ৫৪ লক্ষ টাকার প্রাথমিক চুক্তি ছিল।

মন্ত্রীদের প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষমতায় লাগামঃ নতুন বার্তা
বাংলাদেশে উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের প্রচলিত ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এতদিন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা স্ব-শাসিত সংস্থা

আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ আদেশ-২০২৬ জারীঃ সরকারি ক্রয় ও ব্যয় প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তন
দীর্ঘ ১১ বছর পর সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি কাঠামো পরিবর্তন করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। ‘আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ আদেশ-২০১৫’ বাতিল