রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দরপত্রে বালিশ তোলা নিয়ে দুর্নীতি হয়েছে কি হয় নাই !!!
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের গ্রিন-সিটি প্রকল্পের ১১০ ফ্ল্যাটের জন্য অস্বাভাবিক মূল্যে আসবাবপত্র কেনা ও ভবনে উঠানোর ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়া থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও আলোচনা হচ্ছে। এখানে এর সারসংক্ষেপ ও সর্বশেষ ঘটনাগুলো জেনে নিনঃ
১। সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় থাকা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের আওতায় মূল প্রকল্প এলাকার বাইরে সাহাপুর ইউনিয়নের নতুনহাট মোড়ে হচ্ছে গ্রিনসিটি আবাসন পল্লী। সেখানে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকার জন্য ২০তলা ১১টি ও ১৬তলা আটটি ভবন করা হচ্ছে। এরই মধ্যে ২০তলা আটটি ও ১৬তলা একটি ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিটি ২০তলা ভবনে ১১০টি ও ১৬তলা ভবনে ৮৬টি ফ্ল্যাট থাকবে।
২। এসব ফ্ল্যাটের আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনা এবং ভবনে উঠানোর কাজে অস্বাভাবিক ব্যয় নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় চলছে। গ্রিনসিটির বিভিন্ন ভবনের ২০ তলায় একটি বালিশ তুলতে ৭৬০ টাকা ব্যয়ের ঘটনা সবচেয়ে বেশি চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। অনেকেই এ ঘটনাকে রূপকথার সঙ্গে তুলনা করেছেন।
৩। উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমেই এই দরপত্র টি আহবান করা হয়েছিল। ‘স্বাধীন কনস্ট্রাকশন’ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে যাচাই বাছাই শেষে কাজ দেয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে সিদ্ধান্তের কারণে এভাবে কাজ দেয়া হয়েছে।
৪। ২০ তলা ওই ভবনটির আসবাবপত্র ক্রয় ও ফ্ল্যাটে ওঠাতে বাবদ ব্যয় দেখানো হয়েছে ২৫ কোটি ৬৯ লাখ ৯২ হাজার ২৯২ টাকা।
৫। এ বালিশগুলো রাশিয়ান নাগরিকদের জন্য কেনা হয়েছে। যারা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে কাজ করার জন্য ২০২৫ সাল পর্যন্ত এখানে থাকবেন।
৬। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে এ ঘটনা তদন্তের জন্য গণপূর্ত অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলীকে কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয়ার প্রেক্ষিতে গণপূর্তের রাজশাহী বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীকে প্রধান করে ইতোমধ্যেই একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ৭ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমার জন্য সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে।
৭। এছাড়াও ঘটনা অনুসন্ধানে নামছে দুদক। এ ব্যাপারে কাজ করার জন্য দেশে স্বাধীন সংস্থা হল দুদক।
পরিশেষঃ
এখন, দরপত্রে দুর্নীতি হয়েছে কি হয় নাই তা চট করেই বলা সমুচিত হবে না। অনেকেই পুরো বিষয় না জেনে অথবা তথ্য প্রমান ছাড়াই এই ক্রয় নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করছেন। সরকারি ক্রয় কার্যক্রম কোন বিজ্ঞান (Science) নয়, এটা একটা কলা (Arts)। সরকারি ক্রয়ের ক্ষেত্রে মূলনীতি গুলো হলো স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, সমান সুযোগ, প্রতিযোগিতা, ইত্যাদি নিশ্চিত করা। আলোচ্য দরপত্রে এগুলো করা হয়েছে কি না তা যাচাই করা প্রয়োজন আগে। এক্ষেত্রে দূদকের তদন্তের পাশাপাশি সরকারি ক্রয়ে অভিজ্ঞ প্রফেশনালদের অভিমত নেয়াও প্রয়োজন।
দরপত্রে সঠিক মূল্য প্রতিফলন হওয়া অনেকগুলো বিষয়ের উপর নির্ভর করে। সরবরাহকারীদের প্রস্তুতি, সঠিক প্রাক্কলন, পণ্যের গুনগন মান, কারিগরি বিনির্দেশ, ওয়ারেন্টি, সংশ্লিষ্ট ভ্যাট, ট্যাস্ক, Hidden cost, পরস্পরের মধ্যে যোগসাজস, ইত্যাদি। সামগ্রিক বিষয় না জানা পর্যন্ত শুধু কয়েকটি আইটেমের Unit Rate দেখে কোন মন্তব্য করা সমীচিন হবে না বলে ‘প্রকিরউরমেন্ট বিডি‘ মনে করে।
শেষ কথা হচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পটি সরকার তথা দেশের জন্য অনেক গূরুত্বপূর্ণ একটি প্রকল্প। এর সাথে একাধিক বন্ধুরাষ্ট্র জড়িত। কাজেই এ বিষয়ে পুরোটা না জেনে চূড়ান্ত মন্তব্য না করাই উচিত হবে। এই প্রকল্পের সফলতা সরকারকে আরও বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহনের সাহস জোগাবে।
শুধুমাত্র Registered ব্যবহারকারি গন-ই সব ফিচার দেখতে ও পড়তে পারবেন। একবছরের জন্য Registration করা যাবে। Registration করতে ক্লিক করুন।
এই লেখকের অন্যান্য লেখা

বাংলাদেশে ADP বাস্তবায়ন ৫ বছরের সর্বনিম্ন: Procurement Delay কি আসল কারণ ?
বাংলাদেশের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (Annual Development Programme–ADP) দেশের অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, পরিবহন এবং অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রধান আর্থিক

বাংলাদেশে Manual Tender যুগের সমাপ্তিঃ বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ
বাংলাদেশের সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় ১ জুলাই ২০২৬ একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। এদিন থেকে Manual (Offline) Tendering-এর আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটেছে এবং সরকারি

Indirect Procurement 2026 Report: Uncertainty as a Catalyst for Efficiency
The year 2026 is an extremely challenging and transformative year for procurement professionals. According to the 9th Annual Indirect Procurement

সরকারি Procurement System-এ আরও পরিবর্তন আসছে
বাংলাদেশের সরকারি ক্রয় ব্যবস্থা গত এক দশকে উল্লেখযোগ্য ডিজিটাল রূপান্তরের মধ্য দিয়ে গেছে। ই-জিপি (e-GP) চালুর ফলে টেন্ডারিং প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা
2 thoughts on “রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দরপত্রে বালিশ তোলা নিয়ে দুর্নীতি হয়েছে কি হয় নাই !!!”
আমি প্রতিবাদ জানাচ্ছি । তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি । কে দায়ী তা নির্ণয় হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রকৌশলী মো: মাসুদুল আলম কে ব্যক্তিগতভাবে হেয় করে যে সব পোস্ট বা মন্তব্য করা হয়েছে আমি তার প্রতিবাদ করছি। দর মূল্যায়নে প্রকৌশলী মো: মাসুদুল আলম যুক্ত ছিলেন না তারপরও তাকে যেভাবে সামাজিক মাধ্যমে হেনস্থা করা হচ্ছে তা কোনভাবেই কাম্য না । দোষ প্রমাণিত হওয়ার আগে কাউকে ব্যক্তিগত এবং সামাজিক ভাবে অপমান করার অধিকার কারো নেই । জনগণের অবগতির জন্য গণপূর্ত অধিদপ্তর আশাকরি এ ব্যাপারে খুব শীঘ্রই তাদের মতামত প্রকাশ করবে ।
right that.