টেন্ডারে দাখিলকৃত গ্যারান্টি নগদায়নে ব্যাংকগুলো সহযোগিতা করছে না
টেন্ডারে দরপত্র জামানত (Tender Security) এবং কার্যসম্পাদান জামানত (Performance Security) হিসেবে ব্যাংক গ্যারান্টি জমা দিতে হয়। এই গ্যারান্টির একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ থাকে। বিশেষ করে দরপত্র জামানত বা কার্যসম্পাদান জামানতে হিসেবে যদি ব্যাংক গ্যারান্টি জমা দেয়া হয় সেক্ষেত্রে ব্যাংক গ্যারান্টিতে উল্লেখিত মেয়াদ অনেক গূরুত্বপূর্ণ।
কাজ বাতিল হলে অথবা জরিমানা আদায়ের প্রয়োজন হলে মেয়াদ থাকা অবস্থায় এই ব্যাংক গ্যারান্টি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের মাধ্যমে আদায় করা যায়। তখন Tender Security বা Performance Security নগদায়ন বা ক্যাশ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা ক্রয়কারির একাউন্টে নিয়ে আসতে হয়।
শর্ত অনুযায়ি কাজ বাতিল করা হলে অথবা জরিমানা আদায়ের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট ক্রয়কারী (PE) সাথে সাথেই ব্যাংক গ্যারান্টি ক্যাশ করতে পারবেন। ব্যাংক গ্যারান্টি’র শর্ত অনুযায়ি সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ক্রয়কারির অনুরোধে তা নগদায়ন (Encashment) করে ক্রয়কারির একাউন্টে পাঠাতে পারে।
উল্লেখ্য, এই ক্রয়াদেশ/কার্যাদেশ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে কার্য-সম্পাদন জামানত ক্রয়চুক্তির একটি গূরুত্বপূর্ণ দলিল। ক্রয়চুক্তির অধীন কোন শর্ত পূরণে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের ব্যর্থতার কারণে ক্রয়কারী ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেক্ষেত্রে ক্রয়কারীর লিখিত দাবীর প্রেক্ষিতে জামানত ইস্যুকারী ব্যাংক অবিলম্বে তা নগদায়নপূর্বক ক্রয়কারীকে সম্পুর্ণ অর্থ প্রদান করতে নিঃশর্ত অঙ্গীকারবদ্ধ।
আরও দেখুনঃ Performance Security’র মেয়াদ শেষ হলেই কি ক্যাশ করা যাবে ?
কিন্তু অনেক সময়-ই এই অঙ্গীকার মানা হচ্ছে না। টেন্ডারে দাখিলকৃত গ্যারান্টি ক্যাশ করা নিয়ে ব্যাংকগুলোর বিভিন্ন অসহযোগিতার ঘটনা সম্প্রতি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ হতে ক্রয়াদেশ/কার্যাদেশ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের পক্ষে ব্যাংক কর্তৃক ইস্যুকৃত কার্য-সম্পাদন জামানত নগদায়নে বিভিন্ন ব্যাংক হতে অযাচিতভাবে কালক্ষেপণ ও অসহযোগিতা করা হয়।
আবার, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে ব্যাংক গ্যারান্টি দেয়া-নেয়া নিয়ে জালিয়াতির ঘটনাও দেখা যায়। বিশেষ করে টেন্ডার, পণ্য সরবরাহ, সরকারি কাজ সম্পাদনের ক্ষেত্রে ব্যাংক গ্যারান্টি দেয়া-নেয়ায় এই জালিয়াতির অনেক প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। তখন, ব্যাংক গ্যারান্টি নগদায়নের ক্ষেত্রে ধরা পড়ছে ভুয়া বা জাল গ্যারান্টির ঘটনা। অনলাইন টেন্ডারও এর বাইরে নয়। এক্ষেত্রে, ব্যাংকগুলো গ্যারান্টি নগদায়নের তথ্য দিতে চায় না, অযাচিতভাবে কালক্ষেপণ ও অসহযোগিতা করে।
আরও দেখুনঃ ব্যাংক গ্যারান্টি জালিয়াতির কিছু নমুনা
টেন্ডারে দাখিলকৃত গ্যারান্টি ক্যাশ করার ক্ষেত্রে এবং ব্যাংক গ্যারান্টির জালিয়াতির রোধে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে মনিটরিং করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে একটি অভিযোগ দাখিল ডেস্ক খোলা খুবই প্রয়োজন বলে সবাই মনে করে। মাঠ পর্যায়ের ক্রয়কারী দপ্তরগুলোই এ নিয়ে বেশ ঝামেলায় আছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক তৎপর হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রদানকৃত কার্ষ-সম্পাদন জামানত নগদায়নের ক্ষেত্রে চুক্তির শর্তাবলী ও সরকারি বিধি/বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করার জন্য সকল তফসিল ব্যাংকগুলোকে ইতিমধ্যেই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা টি দেখতে ক্লিক করুনঃ ক্রয়কারির চাহিদা অনুযায়ি BG/PG ফেরতে সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা
এই লেখকের অন্যান্য লেখা

পাবলিক প্রকিউরমেন্টে পেশাদারিত্বের নতুন দিগন্ত: BIM-এর ডিপ্লোমা প্রোগ্রাম (DPPM)
বাংলাদেশের সরকারি ক্রয় বা পাবলিক প্রকিউরমেন্ট ব্যবস্থা এখন একটি অত্যন্ত প্রযুক্তিগত এবং আইনি কাঠামোর মধ্য দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। প্রতি বছর

সিএজি কার্যালয়ে বিশেষ সেবা সপ্তাহঃ ক্রয়কারি, পিডি অফিস ও ঠিকাদারদের জন্য অনন্য সুযোগ
বাংলাদেশের কম্পট্রোলার এন্ড অডিটর জেনারেল (সিএজিঃ CAG) কার্যালয়ের ৫৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ ১১ মে থেকে ১৯ মে, ২০২৬ পর্যন্ত ০৭

দরপত্র দলিল e-PG5A(National) এবং e-PG8(National) এর বৈশিষ্ঠ্য কি, কখন ব্যবহৃত হবে ?
ক্রয়কারিকে আদর্শ দরপত্র দলিল ব্যবহার (Standard Tender document – STD) করে দরপত্র আহবান করতে হয় এবং ঠিকাদার বা সরবরাহকারিদের সে

e-GP তে আরও ২টি নতুন আদর্শ দরপত্র দলিল (STD) যুক্ত হয়েছে
বিপিপিএ (Bangladesh Public Procurement Authority – BPPA) কর্তৃক পিপিআর ২০২৫ অনুসারে গত ৭ মে ২০২৬ ইং তারিখে আরও ২টি আদর্শ দরপত্র দলিল