বাংলাদেশে সরকারি ক্রয়ে রাজনৈতিক প্রভাবঃ একটি সমীক্ষা
বাংলাদেশ সরকার ১২ বছর আগে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ই-জিপি (e-GP) পোর্টালের মাধ্যমে ই-প্রকিউরমেন্ট ব্যবস্থা চালু করে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ছিল সরকারি কেনাকাটায় দুর্নীতির ঝুঁকি কমানো, সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি করা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। তবে, কিছু ইতিবাচক ফলাফল সত্ত্বেও, ই-জিপি সিস্টেম দুর্নীতি, রাজনৈতিক প্রভাব এবং সিন্ডিকেশনের মাধ্যমে যোগসাজশমূলক দরপত্র কমাতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেনি। টিআইবি সম্প্রতি একটি সমীক্ষায় এই সিস্টেমের কিছু অন্তর্নিহিত দুর্বলতা তুলে ধরেছে।
এই সমীক্ষার প্রতিবেদনে e-GP সিস্টেমের তথ্য ব্যবহার করে বাংলাদেশের প্রকিউরমেন্ট মার্কেটের ঘনত্ব, যোগসাজশ এবং রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। গবেষণাটিতে একক দরপত্রের উচ্চ হার এবং কয়েকটি বড় ঠিকাদারের ক্রমবর্ধমান বাজারের আধিপত্যের মাধ্যমে প্রতিযোগিতার অভাব তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়াও আছে, বাংলাদেশে সরকারি ক্রয়ে রাজনৈতিক প্রভাব (Political Influence)।
এখানে শুধু টিআইবির এই সমীক্ষা থেকে শুধু সরকারি ক্রয়ে রাজনৈতিক প্রভাব (Political Influence) অংশটুকু নিয়ে আলোচনা করা হবে।
সরকারি ক্রয়ে রাজনৈতিক প্রভাব
ই-জিপি সিস্টেম চালু হওয়ার ১২ বছর পরও রাজনৈতিক প্রভাব, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মধ্যে যোগসাজশ এবং সিন্ডিকেশন প্রধান প্রধান সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে চুক্তি প্রাপ্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
স্থানীয় ও জাতীয় উভয় রাজনৈতিক ক্ষমতা চাঁদাবাজিতে জড়িত বলে ধারণা করা হয়, তবে একটি গভীর বিশ্লেষণে বেসামরিক আমলাতন্ত্র, ঠিকাদার এবং রাজনীতিবিদদের মধ্যে একটি সুপ্রতিষ্ঠিত যোগসাজশ (nexus) দেখা যায়। এই জোট ব্যক্তিগত লাভের জন্য সরকারি তহবিল আত্মসাতে সহায়তা করে এবং ক্রয় ব্যবস্থায় দুর্নীতির প্রধান চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করে।
রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরিবর্তন এবং ঠিকাদারদের আধিপত্য:
- ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন: মেয়র পরিবর্তনের পর শীর্ষ ১০ ঠিকাদারের তালিকায় মাত্র দুটি সাধারণ ঠিকাদার ছিল।
- ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন: মেয়র পরিবর্তনের পর শীর্ষ ১০ ঠিকাদারের তালিকায় মাত্র একটি সাধারণ ঠিকাদার ছিল।
- চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন: মেয়র পরিবর্তনের সময় শীর্ষ ১০ ঠিকাদারের তালিকায় কোনো সাধারণ ঠিকাদার ছিল না।
- গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন: মেয়র স্থগিত হওয়ার পর শীর্ষ ১০ ঠিকাদারের তালিকায় মাত্র একটি সাধারণ ঠিকাদার ছিল এবং দুই সময়ের মধ্যে চুক্তি মূল্য মারাত্মকভাবে কমে গিয়েছিল।
- কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন: মেয়র পরিবর্তনের পর শীর্ষ ১০ ঠিকাদারের তালিকায় মাত্র দুটি সাধারণ ঠিকাদার ছিল।
- শিল্প মন্ত্রণালয়: মন্ত্রীর পরিবর্তনের পর শীর্ষ ১০ ঠিকাদারের তালিকায় কোনো ঠিকাদার পুনরায় আসেনি।
- স্থানীয় সরকার বিভাগ: তিনজন মন্ত্রীর পরিবর্তনের সাথে সাথে তিনটি ধারাবাহিক সময়ে শীর্ষ ১০ ঠিকাদারের তালিকায় মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠান সকল সময়ে বিদ্যমান ছিল এবং একটি শেষ দুটি সময়ে বিদ্যমান ছিল।
এই পর্যবেক্ষণগুলি ইঙ্গিত করে যে রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরিবর্তন প্রায়শই সরকারি প্রকল্প প্রাপ্তিতে শীর্ষ ঠিকাদারদের আধিপত্যে প্রভাব ফেলে।
প্রতিবেদনটি দেখুনঃ e-Procurement in Bangladesh: Market Concentration, Collusion, and Political Influence
এই লেখকের অন্যান্য লেখা

ই-জিপি সাইটে ভোগান্তি: ব্যবহারকারীদের ক্ষোভ, কবে মিলবে সমাধান ?
সরকারি ক্রয় কার্যক্রমের একমাত্র ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ই-জিপি (e-GP) পোর্টালে গত কয়েকদিন ধরে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ব্যবহারকারীরা। সাইটটির ধীরগতি এবং যান্ত্রিক

সরকারি ক্রয়ে রেকর্ড ব্যবস্থাপনাঃ আইনি কাঠামো ও ব্যবহারিক নির্দেশিকা
প্রকৌ: মো: মোকতার হোসেন MCIPS, PMP, CPCM উপ-পরিচালক (নির্বাহী প্রকৌশলী) নক্সা ও পরিদর্শণ-১ পরিদপ্তর, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, ঢাকা। মোবাইল: ০১৭২২০৪৪৩৩৫ ইমেইল: moktar031061@gmail.com

লাম্প সাম নাকি টাইম-বেসড কন্ট্রাক্ট – কোনটি কখন ব্যবহার করবেন ?
পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বা সরকারি ক্রয়ে প্রধানত কাজের ধরন ও মূল্য পরিশোধের পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন ধরনের চুক্তি করা হয়।

লাম্প সাম কন্ট্রাক্ট (Lump Sum Based Contracts) কি ? কখন ব্যবহার করবেন ?
সরকারি বা বেসরকারি যেকোনো প্রকল্পে দক্ষ পরামর্শক (Consultant) নিয়োগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলো সঠিক চুক্তিপত্র নির্বাচন করা। বাংলাদেশ পাবলিক