ই-জিপি সাইটে ভোগান্তি: ব্যবহারকারীদের ক্ষোভ, কবে মিলবে সমাধান ?
সরকারি ক্রয় কার্যক্রমের একমাত্র ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ই-জিপি (e-GP) পোর্টালে গত কয়েকদিন ধরে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ব্যবহারকারীরা। সাইটটির ধীরগতি এবং যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দরপত্র আহ্বানকারী (Procuring Entity) এবং অংশগ্রহণকারী (Tenderer) – উভয় পক্ষই বড় ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। বিশেষ করে গত দুই দিন ধরে সার্ভার ডাউন থাকায় এবং কাজ করতে না পারায় সরকারি ক্রয় কাজে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে।
গত ৬ ফেব্রুয়ারি সার্ভার মেরামতের কাজ শেষ হলেও সেদিন থেকেই এ সমস্যা শুরু হয়, যা আজ (৯ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত সমাধান হয়নি। ফলে, দরপত্র আহ্বানকারী ও দরপত্রদাতাদের মধ্যে তীব্র হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
ব্যবহারকারীদের ভোগান্তি ও ক্ষোভ
সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে পাওয়া অভিযোগ অনুযায়ী, ই-জিপি সাইটটি বর্তমানে অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছে এবং অনেক ক্ষেত্রে সার্ভারে প্রবেশ করতেই দীর্ঘ সময় লাগছে। একজন ভুক্তভোগী দরপত্রদাতা জানিয়েছেন, তার চারটি টেন্ডারের মেয়াদ আজকে শেষ হবে, কিন্তু গতকাল সারাদিন চেষ্টা করেও তিনি সিডিউল কিনতে পারেননি।
অন্য এক ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “টেন্ডার ফরম কিনে এবং পে অর্ডার করেও যদি ড্রপিং করা না যায়, তবে এই ক্ষতির দায়ভার কে নেবে ?”।
এছাড়া দরপত্রদাতারা টেন্ডারে ম্যাপ করতে না পারা এবং দরপত্র দলিল সিলেক্ট করতে না পারার মতো কারিগরি সমস্যার কথাও জানিয়েছেন। এভাবে, ক্রয়কারী, ব্যাংক এবং দরপত্রদাতাসহ সব স্টেকহোল্ডার চরম বিশৃঙ্খল অবস্থায় আছেন।
কারিগরি বিভ্রাট ও বর্তমান পরিস্থিতি
সূত্রমতে, সাইটটিতে প্রবেশের চেষ্টা করলে মাঝেমধ্যেই “This site can’t be reached” বার্তা দেখা যাচ্ছে। গুগল ক্রোম বা অপেরা মিনির মতো ব্রাউজার ব্যবহার করেও কোনো সুফল পাওয়া যাচ্ছে না, এমনকি মোবাইল ডাটা দিয়েও সাইটটি সচল করা সম্ভব হচ্ছে না। এর আগে গত ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে মেরামতের জন্য ৬ ফেব্রুয়ারি তারিখে সাইটটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নোটিশ দিয়েছিল বিপিপিএ (BPPA), কিন্তু সেই মেরামতের কাজ শেষ হওয়ার নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও আজ ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভোগান্তি অব্যাহত রয়েছে।

বিপিপিএ-র ভূমিকা ও বর্তমান উদ্যোগ
এই পরিস্থিতির ফলে দরপত্রদাতা, ব্যাংক এবং ক্রয়কারীসহ সকল অংশীজন (Stakeholders) ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তবে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ধীরগতি বা যান্ত্রিক ত্রুটির বিষয়ে বিপিপিএ থেকে আগাম কোনো সতর্কবার্তা বা নোটিশ প্রদান করা হয়নি, যা অব্যবস্থাপনাকে আরও স্পষ্ট করেছে। যদিও জানা গেছে যে বিপিপিএ-র কারিগরি দল দিনরাত এই সমস্যা সমাধানে কাজ করে যাচ্ছে, কিন্তু কবে নাগাদ এটি পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে তা এখনও অনিশ্চিত।
করণীয় ও প্রত্যাশা
বর্তমান পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, বিপিপিএ-র উচিত দ্রুত একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে ব্যবহারকারীদের প্রকৃত অবস্থা জানানো। একই সঙ্গে যেসব দরপত্রের সময়সীমা এই সংকটের মধ্যে শেষ হয়ে যাচ্ছে, সেগুলোর সময়সীমা বৃদ্ধির জন্য একটি আনুষ্ঠানিক সার্কুলার জারি করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। কোন কোন সেবা বিঘ্নিত হচ্ছে তার একটি স্বচ্ছ প্রতিবেদন এবং ব্যবহারকারীদের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করলে এই ভোগান্তি কিছুটা লাঘব হতে পারে বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা।
সর্বশেষ আপডেট (সকাল ১১:০০ ঘটিকা ০৯/০২/২৬ ইং তারিখ): ই-জিপি সাইট ব্যবহারে সমস্যা এখনও আছে।
এই লেখকের অন্যান্য লেখা

বাংলাদেশে ADP বাস্তবায়ন ৫ বছরের সর্বনিম্ন: Procurement Delay কি আসল কারণ ?
বাংলাদেশের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (Annual Development Programme–ADP) দেশের অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, পরিবহন এবং অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রধান আর্থিক

বাংলাদেশে Manual Tender যুগের সমাপ্তিঃ বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ
বাংলাদেশের সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় ১ জুলাই ২০২৬ একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। এদিন থেকে Manual (Offline) Tendering-এর আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটেছে এবং সরকারি

Indirect Procurement 2026 Report: Uncertainty as a Catalyst for Efficiency
The year 2026 is an extremely challenging and transformative year for procurement professionals. According to the 9th Annual Indirect Procurement

সরকারি Procurement System-এ আরও পরিবর্তন আসছে
বাংলাদেশের সরকারি ক্রয় ব্যবস্থা গত এক দশকে উল্লেখযোগ্য ডিজিটাল রূপান্তরের মধ্য দিয়ে গেছে। ই-জিপি (e-GP) চালুর ফলে টেন্ডারিং প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা