বাংলাদেশে পিপিপি’র কার্যক্রম
বর্তমান সরকারের ২০০৯-১০ অর্থবছরের বাজেটে প্রথম পিপিপি নামের মডেল ঘোষণা করা হয়।
PPP কি বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুনঃ পিপিপি (PPP) কি ?
প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় সূত্র মতে, চীন, ভারত, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পিপিপি কর্তৃপক্ষ সফলতা পেয়েছে। ঐসব দেশের অভিজ্ঞতার আলোকে বর্তমান সরকার রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পর কাঙ্খিত উন্নয়ন পেতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের সমন্বয়ে সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব কর্তৃপক্ষ (পিপিপি) প্রতিষ্ঠা করা হয় যা প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে অধীনে স্বশাসিত সংস্থা। ইতোমধ্যে উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের পরিবেশ নিশ্চিতে সফল হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
পিপিপিতে প্রথমবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল আড়াই হাজার কোটি টাকা। এরপর থেকে প্রতি বাজেটেই পিপিপিতে বরাদ্দ বাড়তে থাকে।
২০১৭ সালে বাংলাদেশ সরকার সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের জন্য করের ওপর ১০ বছরের স্থিতি ঘোষণা করেছিল। এরপর পিপিপি আওতায় কাজের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পায়।
বর্তমানে এই প্রাইভেট বা পাবলিক পার্টনারশিপের (পিপিপি) মাধ্যমে অবকাঠামো খাতে উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়েছে। বাংলাদেশে যে এমডিজি অর্জিত হয়েছে, তার পেছনে সরকার ও সরকারবহির্ভূত ‘অ্যাক্টর’দের এক বড় ভূমিকা ছিল। এসডিজি অর্জনেও কিন্তু একটি বড় ধরনের পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। এ কথা অনস্বীকার্য যে, এসডিজির ১৬৯টি লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন সরকারের একার পক্ষে করা কঠিন, পার্টনারশিপ লাগবে।
চলতি বছরের জুন পর্যন্ত মোট প্রায় ৭৮টি প্রকল্প পিপিপির আওতায় চলমান থাকার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। পিপিপি’র আওতায় চলমান প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে –
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হেমোডায়ালাইসিস কেন্দ্র,
জাতীয় কিডনি রোগ ও ইউরোলজি ইনস্টিটিউট (এনআইকেডিইউ)-এ হেমোডায়ালাইসিস সেন্টার,
ঢাকা-এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ,
ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ,
ঢাকা সার্কুলার রুট: দ্বিতীয় অংশ (আব্দুলাহপুর-ধউর-বিরুলিয়া-গাবতলী-বাবুবাজার-চাষাড়া-সাইনবোর্ড) পর্যন্ত ৬৭ কিলোমিটার নির্মাণ,
দুপাশে সার্ভিস লেনসহ ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়ক এক্সপ্রেসওয়েতে উন্নীত করা ও দুপাশে সার্ভিস লেনসহ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ১৩৬ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত,
বঙ্গবন্ধু হাই-টেক সিটি (ব্লক ২ এবং ৫),
বঙ্গবন্ধু হাই-টেক সিটি (ব্লক ৩),
ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্প,
মোংলায় এমপিএর ২ অসম্পূর্ণ জেটি নির্মাণ,
ঢাকা বাইপাসকে ৪ লেনে উন্নীত করা (মদনপুর-দেবগ্রাম-ভুলতা-জয়দেবপুর,
শ্রীমঙ্গলে প্রবীণ নাগরিক স্বাস্থ্যসেবা কমপ্লেক্স,
ডমরপুরে বহুতল ফ্ল্যাট বিল্ডিংসহ স্যাটেলাইট টাউনশিপ নির্মাণ,
নারায়ণগঞ্জের হাসপাতাল, শ্রম কল্যাণ কেন্দ্র এবং বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স উন্নয়ন,
পায়রা পোর্ট ড্রেজিং,
ডেমরায় টেক্সটাইল মিলের উন্নয়ন,
পূর্বাচল নতুন শহরে জলের সরবরাহ,
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সিস্টেম স্থাপন,
মংলা ও মীরেরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল,
কক্সবাজারে সমন্বিত পর্যটন কেন্দ্রের উন্নয়ন,
চট্টগ্রামের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ,
গাবতলী-সাভার-নবীনগর এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প,
বিমানবন্দর তৃতীয় টার্মিনালের অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স,
ইস্ট-ওয়েস্ট এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েসহ অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প।
এছাড়াও, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীন কয়েকটি পিপিপি প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে।
বাংলাদেশে নির্মাণ, মালিকানা, পরিচালনা ও হস্তান্তর (বিওওটি); নির্মাণ, পরিচালনা ও হস্তান্তর (বিওটি) এবং নির্মাণ, মালিকানা ও পরিচালনা (বিওও) পিপিপির এ তিনটি পদ্ধতিই প্রচলিত রয়েছে।
পিপিপি কার্যালয় সূত্র মতে, দেশকে এগিয়ে নিতে সরকার বেসরকারি বিনিয়োগকে উৎসাহ দিচ্ছে। এজন্য সপ্তম ও অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় পিপিপিতে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। টেকসই উন্নয়নের জন্য বড় বড় প্রকল্পগুলোতে বেসরকারি অংশগ্রহণ জরুরি। মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে লাভজনক প্রকল্প এডিপিতে যুক্ত করার প্রস্তাব করা হচ্ছে।
প্রকল্পের অর্থায়নে পিপিপি অন্যতম উৎস হিসেবে কাজ করছে। এডিপির বিনিয়োগ প্রকল্পের ৩০ শতাংশ পিপিপিতে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, সেটি কার্যকর করতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা হয়েছে।
সরকারি-বেসরকারি অংশিদারিত্ব বা পিপিপি উন্নয়নে জাতীয় অগ্রাধিকার প্রকল্পবিষয়ক রুলস, পিপিপি সংক্রান্ত সিরিজ প্রশিক্ষণ, বোর্ড অব গভর্নরসের সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, নির্বাহী বোর্ডের সদস্যদের জন্য বিশেষ প্রকল্প রিভিউ সভা, পিপিপি টিএএফ ফান্ডে অর্থ হস্তান্তর, পিপিপি প্রকল্পের জন্য বিশেষ প্রণোদনা, পিপিপি আইন-২০১৫ সংশোধন, বাংলাদেশ জাপান জিটুজি পার্টনারশিপ হালনাগাদকরণ, প্রকল্পের সমন্বয়করণ ও পরিচালনে গুরুত্ব এবং জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় পিপিপি অন্তর্ভুক্ত করায় জোর দেয়া হয়েছে।
এই লেখকের অন্যান্য লেখা

বাংলাদেশে ADP বাস্তবায়ন ৫ বছরের সর্বনিম্ন: Procurement Delay কি আসল কারণ ?
বাংলাদেশের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (Annual Development Programme–ADP) দেশের অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, পরিবহন এবং অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রধান আর্থিক

বাংলাদেশে Manual Tender যুগের সমাপ্তিঃ বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ
বাংলাদেশের সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় ১ জুলাই ২০২৬ একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। এদিন থেকে Manual (Offline) Tendering-এর আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটেছে এবং সরকারি

Indirect Procurement 2026 Report: Uncertainty as a Catalyst for Efficiency
The year 2026 is an extremely challenging and transformative year for procurement professionals. According to the 9th Annual Indirect Procurement

সরকারি Procurement System-এ আরও পরিবর্তন আসছে
বাংলাদেশের সরকারি ক্রয় ব্যবস্থা গত এক দশকে উল্লেখযোগ্য ডিজিটাল রূপান্তরের মধ্য দিয়ে গেছে। ই-জিপি (e-GP) চালুর ফলে টেন্ডারিং প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা