উন্নয়ন প্রকল্পে পিডি কে হবে ????!
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, একাধিক প্রকল্পে এক কর্মকর্তাকে পিডির দায়িত্ব দেওয়ার সুযোগ নেই। ২০০৯ সালে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত পরিপত্রের ১৬(৩৬) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ৫০ কোটি টাকার বেশি প্রকল্পে একজন পূর্ণকালীন পিডি নিয়োগ করতে হবে। ১৬(৩৭) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, এক কর্মকর্তাকে একাধিক প্রকল্পের পিডির দায়িত্ব দেওয়া যাবে না। কিন্তু বাস্তবতা হলো কর্মকর্তার চেয়ে প্রকল্প বেশি হওয়ায় তা বাস্তবায়ন করা যায়নি।
শুধুমাত্র Registered ব্যবহারকারিগন-ই সব ফিচার দেখতে ও পড়তে পারবেন। এক বছরের জন্য Registration করা যাবে। Registration করতে ক্লিক করুন।
এরুপ প্রক্ষাপটে উন্নয়ন প্রকল্পে প্রশাসন থেকে প্রেষণে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগের চিন্তা করছে সরকার। এক কর্মকর্তাকে একাধিক প্রকল্পের পিডি হিসেবে নিয়োগ পরিহার করতেই এ ভাবনা। বিকল্প হিসেবে প্রকল্প সংখ্যা কমিয়ে আনা কিংবা অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের চিন্তাও রয়েছে।
এক্ষেত্রে উন্নয়ন প্রকল্প-সংশ্নিষ্টরা বলছেন, কর্মকর্তার চেয়ে প্রকল্প বেশি। তাই এক কর্মকর্তাকে একাধিক প্রকল্পের পিডি করা হয়। এ সমস্যা সমাধানে জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রেষণে পিডি নিয়োগ করা হলে হিতে বিপরীত হবে। কারণ, প্রকল্প বাস্তবায়নের যে কারিগরি জ্ঞান ও প্রকৌশল দক্ষতা প্রয়োজন তা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের থাকে না। একজন প্রকৌশলী ১০-১৫ বছর চাকরি করে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করেন।
পিডি নিয়োগ সংক্রান্ত বিভিন্ন সার্কুলার/আদেশ/নীতিমালা দেখতে ক্লিক করুন।
পিডি নিয়োগে কমিটি রয়েছে। জনপ্রশাসন, অর্থ, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য সংস্থার প্রতিনিধিরা কমিটির সদস্য। তাদের উপস্থিতিতে আলোচনাক্রমেই বাস্তবতার কারণে এক কর্মকর্তাকে একাধিক প্রকল্পে পিডি নিয়োগ করতে হয়।
বিভিন্ন পত্র পত্রিকার তথ্য অনুযায়ী সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, বৈদেশিক অর্থায়নে চলমান প্রকল্পে এবং দেশীয় অর্থায়নের মেগা প্রকল্পের নিজস্ব জনবল কাঠামো থাকে। কাঠামো অনুযায়ী পিডি ও অন্যান্য কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। কিন্তু নিজস্ব অর্থায়নে (জিওবি) চলমান মাঝারি ও ছোট প্রকল্পে জনবল কাঠামো থাকে না। সওজের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা দায়িত্বের অতিরিক্ত হিসেবে প্রকল্প বাস্তবায়ন ইউনিটে কাজ করেন। সদর দপ্তর বা অন্য জোন থেকে পিডি নিয়োগ করা হলে প্রকল্প বাস্তবায়ন দুরূহ হবে। যাদের চাকরির মেয়াদ ছয় মাসের কম রয়েছে তাদেরও পিডি নিয়োগ করা যায় না। ফলে যোগ্য কর্মকর্তার সংখ্যা কমে যায়।
আরও দেখুনঃ প্রকল্প পরিচালককে নিরাপত্তা দেয়াও রাষ্ট্রের দায়িত্ব
অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পিডি হিসেবে নিয়োগ দিতে পুল গঠনের ভাবনা এবং জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রেষণে দায়িত্ব দেওয়ার বিরোধী প্রকৌশলীরা। তবে এ বিষয়ে কেউ নাম প্রকাশ করে কথা বলতে রাজি হননি। সওজ প্রকৌশলী সমিতির একাধিক নেতা বলেছেন, একজন কর্মকর্তা উচ্চপদ থেকে অবসরে চলে যাওয়ার পর তাকে ফিরিয়ে এনে নির্বাহী বা তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর জন্য প্রযোজ্য প্রকল্পে পিডি নিয়োগ অসম্ভব।
একাধিক প্রকৌশলী জানিয়েছেন, একটি জোনে ৫০ থেকে ১০০ কোটি টাকার মাঝারি প্রকল্পই বেশি। সেগুলোকে বাইরে থেকে পিডি নিয়োগ করলে, মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের করার মতো কাজই থাকবে না। এ ক্ষেত্রে সমাধান হচ্ছে, একাধিক প্রকল্পকে একসঙ্গে গুচ্ছাকারে বাস্তবায়ন করা যেতে পারে। এতে প্রকল্প সংখ্যা কমবে।
জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রেষণে পিডি নিয়োগের চিন্তা প্রকৌশলীদের প্রতি চলমান বঞ্চনাকে আরও বাড়াবে বলে অভিমত সমিতির নেতাদের। তারা বলছেন, সব কিছুতেই প্রশাসন ক্যাডারকে প্রাধান্য দেওয়ার মনোভাবের প্রতিফলন হয় এমন চিন্তায় প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা চাকরিতে যে সুযোগ-সুবিধা ও দ্রুত পদোন্নতি পান, তার তুলনায় প্রকৌশলীরা অনেক পিছিয়ে। তারা যদি এখন পিডি হন, তাহলে প্রকৌশলীরা কী কাজ করবেন!
এই লেখকের অন্যান্য লেখা

Collusion in the Belgian Newspaper Distribution Sector
The Belgian competition authority has concluded its formal inquiry into systemic bid-rigging and horizontal agreements within the public procurement process

ই-জিপি সাইটে ভোগান্তি: ব্যবহারকারীদের ক্ষোভ, কবে মিলবে সমাধান ?
সরকারি ক্রয় কার্যক্রমের একমাত্র ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ই-জিপি (e-GP) পোর্টালে গত কয়েকদিন ধরে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ব্যবহারকারীরা। সাইটটির ধীরগতি এবং যান্ত্রিক

সরকারি ক্রয়ে রেকর্ড ব্যবস্থাপনাঃ আইনি কাঠামো ও ব্যবহারিক নির্দেশিকা
প্রকৌ: মো: মোকতার হোসেন MCIPS, PMP, CPCM উপ-পরিচালক (নির্বাহী প্রকৌশলী) নক্সা ও পরিদর্শণ-১ পরিদপ্তর, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, ঢাকা। মোবাইল: ০১৭২২০৪৪৩৩৫ ইমেইল: moktar031061@gmail.com

লাম্প সাম নাকি টাইম-বেসড কন্ট্রাক্ট – কোনটি কখন ব্যবহার করবেন ?
পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বা সরকারি ক্রয়ে প্রধানত কাজের ধরন ও মূল্য পরিশোধের পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন ধরনের চুক্তি করা হয়।