বাংলাদেশের সরকারী ক্রয় কার্যক্রমে যৌথ উদ্যোগ (Joint Venture)
Md. Moktar Hossain MCIPS, PMP, CPCM
Deputy Director (Xen)
Directorate of Design & Inspection-01
Bangladesh Power Development Board
Mobile: 01722044335
Email: moktar031061@gmail.com
=================================
যৌথ উদ্যোগ কি ?
একাধিক ইকোনমিক অপারেটর তাদের সম্পদ, দক্ষতা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান, সরঞ্জাম এবং উপকরণ একত্রিত করে একটি চুক্তিভিত্তিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে একসাথে সরকারি ক্রয় কাজে অংশগ্রহণ করলে তাকে পাবলিক প্রকিউরমেন্টের ভাষায় যৌথ উদ্যোগ বা Joint Venture (JV) বলে।
সাধারণত কোন নির্দিষ্ট ক্রয় প্রক্রিয়ায় ক্রয়কারী কর্তৃক চাহিত সামর্থ্য ও যোগ্যতা যখন কোন ইকোনমিক অপারেটর এককভাবে পূরণ করতে পারেনা তখন সেই ইকোনমিক অপারেটর অন্যান্য যোগ্য ইকোনমিক অপারেটরগণের সাথে যৌথ উদ্যোগ গঠন করে ক্রয়কারী কর্তৃক চাহিত সামর্থ্য ও যোগ্যতা অর্জনের মাধ্যমে ক্রয়প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে।
কোন ক্যাটেগরীর ক্রয় কাজে JV গঠনের সুযোগ আছে ?
কোন ব্যক্তি (ইকোনমিক অপারেটর), স্বতন্ত্রভাবে বা দেশী বা বিদেশী অন্য কোন ব্যক্তি (ইকোনমিক অপারেটর) বা ব্যক্তিবর্গের (ইকোনমিক অপারেটরগণের) সাথে যৌথ উদ্যোগে, কোন আবেদনপত্র, আগ্রহব্যক্তকরণের আবেদনপত্র, প্রস্তাব বা দরপত্র দাখিল করতে পারবে [পিপিএ-২০০৬, ধারা-২৭(১)]
ক্রয়কারী, কার্য (এলটিএম ছাড়া), ভৌতসেবা (আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে জনবল নিয়োগ বাদে) ও বুদ্ধিবৃত্তিক ও পেশাগত সেবা ক্রয়ের ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগ গঠনের মাধ্যমে ক্রয় প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ প্রদান করতে পারবে। [পিপিআর -২০২৫, বিধি-৭০(১)]
তবে, প্রাক্-যোগ্যতার আবেদন , আগ্রহ ব্যক্তকরণের আবেদন, দরপত্র বা প্রস্তাব দাখিলের জন্য যৌথ উদ্যোগ গঠন ইকোনমিক অপারেটরগণের জন্য একটি ঐচ্ছিক বিষয় হিসেবে থাকবে যৌথ উদ্যোগ গঠনকে আবশ্যিক করার কোন শর্ত আরোপ করা যাবে না। [পিপিএ-২০০৬, ধারা-২৭(২)]
আরও দেখুনঃ ই-জিপিতে জয়েন্ট ভেঞ্চার (JV) গঠন প্রক্রিয়া
JV গঠনের মাধ্যমে ক্রয় প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহনের উপায়
ইকোনমিক অপারেটর গনের যৌথ উদ্যোগ গঠনের ইচ্ছা ব্যক্তকরণই যৌথ উদ্যোগের অস্তিত্ব প্রমাণের জন্য যথেষ্ট হবে না বা সেভাবে দরপত্র প্রকিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না [বিধি-৭০(১)]।
কোন ইকোনমিক অপারটেরগণ যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে দরপত্র প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে চাইলে পিপিআর-২০২৫ এর তফসিল-১২ তে প্রদত্ত্ব যৌথ উদ্যোগের নির্ধারিত ছক অপরিবর্তনীয় (No alteration of the format) অবস্থায় ব্যবহার করে তফসিল-২ এ বর্ণিত ৩০০ টাকা মূল্যমানের ননজুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে একটি চুক্তি সম্পাদন করতে হবে। উক্ত চুক্তির পক্ষভুক্ত সকল ব্যক্তি বা আইনসম্মতভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধিগণ কর্তৃক স্বাক্ষরিত হতে হবে [বিধি-৭০(২)]
আরও দেখুনঃ টেন্ডারের জন্য জয়েন্ট ভেঞ্চার (JV) এর ফরম্যাট কেমন হবে
চুক্তিসম্পাদন ছাড়াও কি JV’র মাধ্যমে ক্রয় প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করা যায় ?
অবশ্যই যায়। যৌথ উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর ছাড়াও দরপত্র প্রক্রিয়ায় যৌথভাবে অংশগ্রহণ করা যায় । বিধি-৭০ এর উপবিধি (২)-এর বিকল্প ব্যবস্থা হিসাবে, দরপত্র বা প্রস্তাব কৃতকার্য হলে যৌথ উদ্যোগ চুক্তিসম্পাদন করা হবে মর্মে সকল অংশীদার কর্তৃক স্বাক্ষরিত একটি লেটার অফ ইনটেন্ট প্রস্তাবিত চুক্তিপত্রসহ দরপত্র বা প্রস্তাবের সাথে দাখিল করতে হবে:
তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত লেটার অব ইনটেন্ট যৌথ উদ্যোগের সকল অংশীদার কর্তৃক স্বাক্ষরিত এবং নোটারি পাবলিক কর্তৃক প্রমাণীকৃত হতে হবে। [বিধি-৭০(৩)]
JV তে সর্বোচ্চ কতটি প্রতিষ্ঠান অংশ নিতে পারে ?
যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে ক্রয় প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের জন্য সর্বোচ্চ কতজন ইকোনমিক অপারেটর মিলে যৌথ উদ্যোগ গঠন করতে পারবে এবং উক্ত ইকোনমিক অপারেটরগণের ব্যবসায়িক অংশিদারিত্ত্বের (Business Share) পরিমাণ নিয়ে পিপিআর-২০২৫ এ স্পষ্ট ভাবে কোন বিধিতে আলোচিত হয়নি। তবে আদর্শ দরপত্র দলিলের বর্ণনা অনুযায়ী লিড পার্টনারের বিজনেস শেয়ার অন্যান্য পার্টনারগনের প্রত্যেকের থেকে বেশি হতে হবে এবং লিড পার্টনার ছাড়া অন্যান্য সকল পার্টনারের বিজনেস শেয়ার কমপক্ষে ২৫% হতে হবে।
সেই হিসেবে সর্বনিম্ন শেয়ার হিসেব করে সর্বমোট অংশীদার ৩ জন হলে সর্বমোট শেয়ার দাঁড়ায় ২৬%+২৫%+২৫%=৭৬% ফলে, ৩ জনের বাইরে আর কারও সর্বনিম্ন ২৫% শেয়ার নিয়ে অংশগ্রহণ করার সুযোগ নাই । সুতরাং একটি যৌথ উদ্যোগে সর্বোচ্চ ৩ জন ইকোনমিক অপারেটর অংশ গ্রহণ করতে পারে। [PW3, PW2A, PW3D]
JV গঠনের মাধ্যমে ক্রয় প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের শর্তাবলী
ক) যৌথ উদ্যোগের ক্ষেত্রে, উহার প্রত্যেক অংশীদার চুক্তির অধীন সকল দায় এবং নৈতিক বা আইনগত বাধ্যবাধকতার ক্ষেত্রে যৌথভাবে এবং পৃথকভাবে দায়ী থাকবে। [ধারা-২৭(৩)], [বিধি-৭০(৪)]
খ) ক্রয় প্রক্রিয়া চলাকালে এবং চুক্তিসম্পাদন করা হইলে চুক্তি বাস্তবায়নকালে, গঠিত যৌথ উদ্যোগের কোনো অংশীদার বা অংশীদারগণের পক্ষে সকল কর্ম সম্পাদন এবং সকল পাওনা গ্রহণের জন্য ক্ষমতা অর্পণপূর্বক যৌথ উদ্যোগ কর্তৃক একজন প্রতিনিধি মনোনীত করতে হবে। [বিধি-৭০(৫)]
উক্ত বিধিতে যৌথ উদ্যোগের প্রতিনিধি হিসেবে কোন সদস্যকে মনোনিত করতে হবে সে ব্যাপারে কোন নির্দেশনা নাই। তবে, তফসিল-১২ তে প্রদত্ত্ব চুক্তির ছক অনুযায়ী, যৌথ উদ্যোগের কোনো অংশীদার বা অংশীদারগণের পক্ষে সকল কর্ম সম্পাদন এবং সকল পাওনা গ্রহণের জন্য ক্ষমতা অর্পণপূর্বক যৌথ উদ্যোগ কর্তৃক লিডিং পার্টনারকে প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত করতে হবে । তাছাড়া আদর্শ দরপত্র দলিলের ITT তে লিডিং পার্টনারকে যৌথ উদ্যোগের প্রতিনিধি হিসেবে মনোনিত করার নির্দেশনা আছে।
JV’র মাধ্যমে ক্রয় প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের জন্য যোগ্যতা
১। সকল ধরণের ক্রয়ের জন্য যোগ্যতা: ক্রয় প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের জন্য গঠিত কোন যৌথ উদ্যোগের যে কোন অংশীদার আইনের ধারা ৬৪ মোতাবেক দুর্নীতি, প্রতারণা, চক্রান্ত, জবরদস্তি, বা প্রতিবন্ধকতামূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কারণে ক্রয়কার্যে অংশগ্রহণের অযোগ্য (Debarred/Blacklisted) বলে ঘোষিত হয়ে থাকলে, উক্ত যৌথ উদ্যোগ কোনো ক্রয়কার্যে অংশগ্রহণের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবে না । আবার কোন ক্রয়কার্য অংশগ্রহণকালে কোনো যৌথ উদ্যোগ উক্ত ধারা মোতাবেক ক্রয়কার্যে অংশগ্রহণের অযোগ্য বলে ঘোষিত হয়ে থাকলে, উক্ত যৌথ উদ্যোগের প্রত্যেক অংশীদারও ক্রয়কার্যে অংশগ্রহণের অযোগ্য বলে ঘোষিত হবে। [বিধি-৭০(১১)]
২। কার্য ও ভৌত সেবা ক্রয়ের ক্ষেত্রে: যে কোনো যোগ্য ইকোনমিক অপারেটর অন্য কোনো যোগ্য ইকোনমিক অপারেটরের সাথে যৌথ উদ্যোগ (Joint Venture) গঠন করতে পারে।
৩। বুদ্ধিবৃত্তিক ও পেশাগত সেবা ক্রয়ের ক্ষেত্রে:
EOI পর্যায়: যে কোনো যোগ্য ইকোনমিক অপারেটর অন্য কোনো যোগ্য ইকোনমিক অপারেটরের সাথে যৌথ উদ্যোগ (Joint Venture) গঠন করতে পারে।
RFP পর্যায়: কোন ইকোনমিক অপারেটর এককভাবে EOI এর আবেদনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত তালিকায় তালিকাভুক্তির পরেও চাইলে যৌথ উদ্যোগ গঠন করে RFP জমাপ্রদান করতে পারবে। তবে তার জন্য শর্তাবলী নিম্নরুপ:

যৌথ উদ্যোগে দরপত্র দলিল ক্রয় ও জমাদান
যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে ক্রয় প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করার ক্ষেত্রে, যৌথ উদ্যোগ এর পক্ষে বা যেকোন একজন অংশীদারের পক্ষে দরপত্র দলিল ক্রয় করা যাবে। দরপত্র জমাদানের ক্ষেত্রে দরপত্র জামানত প্রদান করার প্রভিশন থাকলে উক্ত জামানত যৌথ উদ্যোগের পক্ষে বা যৌথ উদ্যোগের যেকোন অংশীদারের পক্ষে বা লেটার অব ইন্টেন্ট এ উল্লেখিত সকল অংশীদারগেণের পক্ষে জমাদান করতে পারবে। [PW3]
JV’র ক্ষেত্রে দরপত্র মূল্যায়ন
যেসব ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগের অংশীদারগণের নিজ নিজ যোগ্যতা যোগ করা যাবে না: [বিধি-৭০(১৩)]
নিম্নের উদাহরণসমূহের অনুরূপ ক্ষেত্রসমূহে, যৌথ উদ্যোগের অংশীদারদের বা তাহাদের মুখ্য জনবলের (Key staff) নির্দিষ্ট কারিগরি অভিজ্ঞতা ন্যূনতম যোগ্যতার শর্ত পূরণের ক্ষেত্রে যোগ করা যাবে না।
উদাহরণ-১: কোনো ক্রয় দলিলে প্রকল্প ব্যবস্থাপকের যোগ্যতার শর্তে অনুরূপ ধরনের ও পরিমাণের কাজে ৫ (পাঁচ) বৎসরের অভিজ্ঞতার শর্ত থাকলে, উক্ত ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগের কোনো একজন অংশীদারের প্রকল্প ব্যবস্থাপকের ৩ (তিন) বৎসর এবং অপর আরেক অংশীদারের প্রকল্প ব্যবস্থাপকের ২ (দুই) বৎসরের অভিজ্ঞতা যোগ করে মোট ৫ (পাঁচ) বৎসরের অভিজ্ঞতার শর্ত পূরণ হয়েছে বলে নিরূপণ করা যাবে না ।
উদাহরণ-২: কোনো ক্রয় দলিলে দরপত্রদাতার কমপক্ষে ১০০ (একশত) মিটার স্প্যানের আরসিসি ব্রিজ নির্মাণের অতীত অভিজ্ঞতার শর্ত থাকলে, যৌথ উদ্যোগের অংশীদারগণের অনুরূপ ব্রিজ নির্মাণের পৃথক পৃথক অভিজ্ঞতা একত্রে গণনা করে (যেমনঃ ৫০মি. + ৩০মি. + ২০মি. = ১০০মি.) উক্ত নির্ণায়ক বা শর্ত পূরণ হয়েছে বলে নিরূপণ করা যাবে না।
উদাহরণ-৩: কোনো ক্রয় দলিলে যৌথ উদ্যোগের যোগ্যতার শর্তে কোনো নির্দিষ্ট ধরনের নির্মাণ কাজে দরপত্র বা প্রস্তাব দাখিলকারী প্রতিষ্ঠানের ৫(পাঁচ) বৎসরের অভিজ্ঞতা অবশ্যই থাকতে হবে মর্মে শর্ত থাকলে, উক্ত ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগের কোনো একটি অংশীদার প্রতিষ্ঠানের ৩(তিন) বৎসর এবং অপর আরেক অংশীদার প্রতিষ্ঠানের ২(দুই) বৎসরের অভিজ্ঞতা যোগ করে মোট ৫(পাঁচ) বৎসরের অভিজ্ঞতার শর্ত যৌথ উদ্যোগের দ্বারা পূরণ হয়েছে বলে নিরূপণ করা যাবে না।
যেসব ক্ষেত্রে যৌথউদ্যোগের অংশীদারগণের নিজ নিজ যোগ্যতা যোগ করা যাবে:
যৌথ উদ্যোগ গঠন করার উদ্দেশ্যই থাকে কোন ক্রয় প্রক্রিয়ায় অংশগহণের জন্য একাধিক ইকোনমিক অপারেটর তাদের সম্পদ, দক্ষতা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান, সরঞ্জাম এবং উপকরণ একত্রিত করে ক্রয়কারীর চাহিদা অনুযায়ী যৌথভাবে যোগ্যতা অর্জন করা। সুতরাং বিশেষ কোনো অংশের (Component) জন্য মনোনীত যৌথ উদ্যোগের কোনো অংশীদার উক্ত অংশের জন্য আবশ্যক ন্যূনতম যোগ্যতার শর্ত পূরণে সক্ষম, সেক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগের জন্য আবশ্যকীয় সর্বমোট যোগ্যতা নিরূপণের ক্ষেত্রে উক্ত অংশীদারের অতীত অভিজ্ঞতা এবং অন্যান্য সামর্থ্য অন্যান্য অংশীদারের যোগ্যতার সহিত যোগ করতে হবে। [বিধি-৭০(১২)]
যৌথ উদ্যোগ গঠনে কোন কোন সামর্থ্য ও যোগ্যতা যোগ করা যাবে এবং কোনগুলো যাবে না তা নিম্নে উল্লেখ করা হল:

আন্তর্জাতিক ক্রয়ে যৌথ উদ্যোগ
আন্তর্জাতিক ক্রয়ে যৌথ উদ্যোগ গঠন করতে চাইলে শুধু দেশীয় ইকোনমিক অপারেটরগণের সমন্বয়ে বা শুধু বিদশেী ইকোনমিক অপারেটরগণের সমন্বয়ে অথবা দেশী ও বিদেশী ইকোনমিক অপারেটরগণের সমন্বয়ে যৌথ উদ্যোগ গঠন করতে পারবে।
পিপিআর-২০২৫ এ উল্লেখ্ আছে “উচ্চমানের সেবাপ্রাপ্তির সহায়ক হিসাবে স্থানীয় এবং বৈদেশিক প্রতিষ্ঠানসমূহের সমন্বয়ে যৌথ উদ্যোগ, কনসোর্টিয়াম বা এসোসিয়েশন গঠনের বিষয়টি বিবেচিত হলে আগ্রহব্যক্তকরণের অনুরোধ-সংবলিত বিজ্ঞাপনে এইরূপ উল্লেখ থাকবে যে, বিধি ৭০ অনুসারে গঠিত এইরূপ যৌথ উদ্যোগ গঠন ক্রয়কারী কর্তৃক উৎসাহিত করা হবে।” [বিধি-১৩৫(৬)]
পাশাপাশি পিপিএ-২০০৬ অনুযায়ী সরকারের নিজস্ব অর্থে তথ্যপ্রযুক্তিগত সেবা (IT services) ক্রয়ের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক প্রস্তাব আহ্বান করা অপরিহার্য হলে, দেশীয় পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকে যৌথ উদ্যোগের (joint venture) অংশীদার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। [PPA-2006, Section-39(2)]
তবে শর্ত থাকে যে, আইনের ধারা ৩৯(২) মোতাবেক সরকারের নিজস্ব অর্থে তথ্যপ্রযুক্তিগত সেবা (IT services) ক্রয়ের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক প্রস্তাব আহ্বান করার ক্ষেত্র ব্যতীত, অন্যান্য কোন ক্ষেত্রে ক্রয়কারী প্রস্তাব দাখিলের অনুরোধ-সংবলিত দলিলে এইরূপ যৌথ উদ্যোগ গঠন বাধ্যতামূলক করতে পারবে না।
যৌথ উদ্যোগ ও স্থানীয় অগ্রাধিকার
যৌথ উদ্যোগের ক্ষেত্রে বিধি-৭০ এর উপবিধি (৬) এবং (৭)-এর শর্তাদি পূরণসাপেক্ষে, দেশীয় ও বৈদেশিক ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান সমন্বয়ে গঠিত কোনো যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশি নাগরিকগণের অংশ ৫০% (শতকরা পঞ্চাশ ভাগ) বা তাহার ঊর্ধ্বে হইলে গঠিত যৌথ উদ্যোগকে স্থানীয় অগ্রাধিকার (Domestic preference) প্রদান করা যাবে। [বিধি-৭০(৮)]
অর্থাৎ দেশীয় ও বৈদেশিক ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান সমন্বয়ে গঠিত কোনো যৌথ উদ্যোগে স্থানীয় অংশীদারদের অংশ ৫০% (শতকরা পঞ্চাশ ভাগ)-এর নিম্নে হইলে, উক্ত যৌথ উদ্যোগ স্থানীয় অগ্রাধিকারের সুবিধাপ্রাপ্তির যোগ্য হবে না। [বিধি-১০২(৫)]
নিম্নবর্ণিত শর্তাবলি পূরণসাপেক্ষে, বিধি ৭০-এর বিধান অনুসরণক্রমে গঠিত দেশীয় কোম্পানিসমূহের যৌথ উদ্যোগ স্থানীয় অগ্রাধিকারের যোগ্য বলে বিবেচনা করা যাবে:
(ক) যৌথ উদ্যোগের প্রত্যেক অংশীদারকে বাংলাদেশে নিবন্ধীকৃত হতে হবে এবং উহার সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের মালিক বাংলাদেশি নাগরিক হতে হবে;
(খ) যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে গঠিত কোম্পানিকে বাংলাদেশে নিবন্ধীকৃত হতে হবে;
(গ) প্রভিশনাল সাম ব্যতীত, উক্ত কোম্পানি মোট চুক্তিমূল্যের ৩০% (শতকরা ত্রিশ ভাগ)-এর বেশি কোনো বিদেশি ঠিকাদারের অনুকূলে সাব কন্ট্রাক্ট প্রদান করতে পারবে না; এবং
(ঘ) উক্ত যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে গঠিত কোম্পানিকে দরপত্র দলিলে বর্ণিত স্থানীয় অগ্রাধিকারের সুবিধাপ্রাপ্তি সংক্রান্ত অন্যান্য শর্তাবলি পূরণ করতে হবে।
সরকার কর্তৃক আহ্বানকৃত আন্তর্জাতিক দরপত্রে স্থানীয় ঠিকাদার অথবা বাংলাদেশি অংশীদারসহ যৌথ উদ্যোগে অংশগ্রহণ করলে আন্তর্জাতিক দরদাতাগণের মত তাঁহারাও স্থানীয় এবং বৈদেশিক মুদ্রার সমন্বয়ে দরপত্র দাখিল করতে পারবে এবং উক্ত ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদার বিপরীতে ব্যয়ের বিভাজন প্রদান করতে হবে। [বিধি-১০২(৮)]
যৌথ উদ্যোগের পরিবর্তন
কোনো নির্দিষ্ট ক্রয় কার্যের জন্য গঠিত যৌথ উদ্যোগ, একবার গঠিত হলে ক্রয়চুক্তিসম্পাদনের পূর্বে উহাতে কোনো পরিবর্তন আনয়ন করা যাবে না। তবে চুক্তিসম্পাদন পরবর্তী সময়ে বিশেষ পরিস্থিতিতে যেমন যৌথ উদ্যোগের কোনো অংশীদার অযোগ্য বলে প্রতিভাত হলে বা সামগ্রিক কার্যসম্পাদনে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে এইরূপ গুরুতর কোনো অসুবিধার সম্মুখীন হলে, ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধানের পূর্বানুমোদন গ্রহণপূর্বক যৌথ উদ্যোগের পরিবর্তন সাধন করা যাবে। [বিধি-৭০(০৯) এবং বিধি-৭০(১০)]

উপরে উল্লেখিত বিশেষ পরিস্থিতিতে যৌথ উদ্যোগের পরিবর্তনের অনুমতি প্রদান করা হলেও কোন অবস্থাতেই মুখ্য অংশীদার (Leading Partner) কে পরিবর্তন করা যাবে না। মূখ্য অংশিদার (Leading Partner) ব্যাতিত অপর কোনো অংশীদার পরিবর্তনের ক্ষেত্রে, নূতন অংশীদারকে বিদায়ি অংশীদার অপেক্ষা উচ্চতর যোগ্যতাসম্পন্ন হতে হবে। [বিধি-৭০(১০)]
JV’র মাধ্যমে অংশগ্রহনকারীর সাথে ক্রয় চুক্তি স্বাক্ষর ও চুক্তি বাস্তবায়ন
যৌথ উদ্যোগ গঠনের মাধ্যমে কোন ইকোনমিক অপারেটর ক্রয়কার্য অংশগ্রহণ পুর্বক চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য নির্বাচিত হলে কার্যসম্পাদন জামানত, বিমা, ক্ষতিবহন প্রতিশ্রুতি (Indemnity) সংক্রান্ত বিষয়াদি আইনসম্মতভাবে গঠিত যৌথ উদ্যোগের পক্ষে প্রদান বা সম্পাদন করতে হবে। কোন অবস্থাতেই কোন অংশীদার বা অংশীদারগণের পক্ষে আলাদাআলাদা ভাবে তা প্রদান বা সম্পাদন করতে পারবে না। [বিধি-৭০(১৪)]
ক্রয় প্রক্রিয়া চলাকালে বা চুক্তি বাস্তবায়নকালে উদ্ভূত কোনো বিরোধের কারণে কোনো যৌথ উদ্যোগের অংশীদারদের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত কার্যধারা গ্রহণ করা হলে, যৌথ উদ্যোগের সকল অংশীদারের বিরুদ্ধে, প্রাপ্তিসাধ্য হওয়া সাপেক্ষে, উক্ত আইনগত কার্যধারা গ্রহণ করা হবে। যদি শুধু একজন অংশীদার পাওয়া যায় তবুও উক্ত অংশীদার সকল অংশীদারের পক্ষে জবাব প্রদান করবে এবং দায়েরকৃত অভিযোগ প্রমাণিত হলে, সকল অংশীদারকে যে দণ্ড প্রদেয় হতো, তা তার উপর এককভাবে প্রয়োগযোগ্য হবে।
তবে শর্ত থাকে যে, আইনগত কার্যধারা সমাপ্ত হবার পূর্বে যদি অন্যান্য অংশীদারদের পাওয়া যায়, তা হইলে উক্ত অংশীদারদের বিরুদ্ধেও ক্রয়কারী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে। [বিধি-৭০(৭)]
এই লেখকের অন্যান্য লেখা

চুক্তি সংক্রান্ত জামানতঃ সরকারি ক্রয়ে নিরাপত্তা ও বাস্তবায়ন নিশ্চিতকরণ
প্রকৌ: মো: মোকতার হোসেন MCIPS, PMP, CPCM উপ-পরিচালক (নির্বাহী প্রকৌশলী) নক্সা ও পরিদর্শণ-১ পরিদপ্তর, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, ঢাকা। মোবাইল:

বারিতকরণ (Debarment): PPA-2006 ও PPR-2025 এর আলোকে একটি সমন্বিত বিশ্লেষণ
Md. Moktar Hossain MCIPS, PMP, CPCM Deputy Director (Xen) Directorate of Design & Inspection-01 Bangladesh Power Development Board Mobile: 01722044335 Email:

সরকারি ক্রয়ে অভিযোগ ও আপিল ব্যবস্থাঃ ধাপ, সময়সীমা ও রিভিউ প্রক্রিয়া
[প্রাসঙ্গিক আইন/বিধি: PPA 2006 (ধারা 29-30) এবং PPR 2025 (বিধি 72-77)] Md. Moktar Hossain MCIPS, PMP, CPCM Deputy Director (Xen) Directorate

সরকারী ক্রয়ে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি (CCEA) এবং সরকারী ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি (CCGP)-এর ভূমিকা
Md. Moktar Hossain MCIPS, PMP, CPCM Deputy Director (Xen) Directorate of Design & Inspection-01 Bangladesh Power Development Board Mobile: 01722044335 Email: