Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content
Post Type Selectors

সরকারী ক্রয়ে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি (CCEA) এবং সরকারী ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি (CCGP)-এর ভূমিকা

Facebook
Twitter
LinkedIn

Md. Moktar Hossain MCIPS, PMP, CPCM
Deputy Director (Xen)
Directorate of Design & Inspection-01
Bangladesh Power Development Board
Mobile: 01722044335
Email: moktar031061@gmail.com
=================================

 

সরকারি ক্রয় কার্যক্রম রাষ্ট্রীয় সম্পদের সঠিক ব্যবহার, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সময়োপযোগী বাস্তবায়ন এবং জনস্বার্থ সংরক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। বাংলাদেশে সরকারি ক্রয় ব্যবস্থাপনা একটি সুসংগঠিত আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় পরিচালিত হয়, যার মূল ভিত্তি হলো বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬ এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০২৫।

বাংলাদেশে বিভিন্ন উদ্দেশ্যে গঠিত একাধিক মন্ত্রিসভা কমিটি দায়িত্ব পালন করলেও সরকারী ক্রয় কার্যক্রমে সরাসরি ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি (Cabinet Committee on Economic Affairs – CCEA) এবং সরকারী ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি (Cabinet Committee on Government Purchase – CCGP)

আরও দেখুনঃ CCEA এবং CCGP

বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬ এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০২৫ এ উক্ত দুটি কমিটির বিষয়ে উল্লেখ থাকলেও কমিটিসমূহের কার্যপরিধি কি এবং কোন ধরণের অনুমোদনের সুপারিশের জন্য কোন কমিটি ক্ষমতাবান সে ব্যাপারে অনেকের স্পষ্ট ধারণা নাই।

গঠনের দিক থেকে উভয় কমিটির কাঠামো প্রায় কাছাকাছি হলেও সরকারী ক্রয়সংক্রান্ত দায়িত্ব ও কার্যপরিধির ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা ও ক্ষমতার মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। উভয় কমিটিতেই বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (BPPA)-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সহায়ক কর্মকর্তা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত থাকেন, যা সরকারী ক্রয় ব্যবস্থাপনায় প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় নিশ্চিত করে।

 

২. সরকারী ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি (CCGP)


২.১ কার্যপরিধি

সরকারী ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির কার্যপরিধি সরাসরি সরকারী ক্রয় ও চুক্তি অনুমোদনের সঙ্গে সম্পর্কিত। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিষয়সমূহ নিম্নরূপ –

(১) উন্নয়ন প্রকল্পের ক্ষেত্রে

সকল মন্ত্রণালয়/বিভাগ, অধিদপ্তর/পরিদপ্তর, অধস্তন দপ্তর, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন শিল্প প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রেরিত এককভাবে ১০০ (একশত) কোটি টাকার ঊর্ধ্বের পূর্ত কাজ ও ভৌত সেবা, এবং পণ্য/যন্ত্রপাতি/সরঞ্জামাদি ও সংশ্লিষ্ট সেবা ক্রয় ও চুক্তি সম্পাদনের প্রস্তাব বিবেচনা।

(২) অনুন্নয়ন বাজেটের ক্ষেত্রে

এককভাবে – পূর্ত কাজের ক্ষেত্রে ১০০ (একশত) কোটি টাকার ঊর্ধ্বে, এবং পণ্য/যন্ত্রপাতি/সরঞ্জামাদি ও সংশ্লিষ্ট সেবার ক্ষেত্রে ৫০ (পঞ্চাশ) কোটি টাকার ঊর্ধ্বের ক্রয় ও চুক্তি সম্পাদনের প্রস্তাব বিবেচনা।

(৩) পরামর্শক সেবা (Consultancy Services) ক্রয়ের ক্ষেত্রে

উন্নয়ন প্রকল্পের ক্ষেত্রে ৩০ (ত্রিশ) কোটি টাকার ঊর্ধ্বে, এবং অনুন্নয়ন বাজেটের ক্ষেত্রে ২০ (বিশ) কোটি টাকার ঊর্ধ্বে পরামর্শক সেবা সংক্রান্ত চুক্তির প্রস্তাব বিবেচনা।

(৪) পুনঃদরপত্র প্রক্রিয়াকরণের ক্ষেত্রে

উপরোক্ত সকল ক্ষেত্রে উল্লিখিত অংকের পুনঃদরপত্র সংক্রান্ত সকল প্রস্তাব বিবেচনা।

(৫) পরিবীক্ষণ ও অন্যান্য বিষয়

      • সরকারী প্রতিষ্ঠানের অনুসৃত দরপত্র পদ্ধতির পরিবীক্ষণ ও পর্যালোচনা; এবং
      • কোনো আইন, বিধি বা নীতিমালায় কমিটির বিবেচনার জন্য নির্ধারিত অন্যান্য বিষয়।

 

২.২ অনুমোদনের জন্য সর্বোচ্চ সুপারিশকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে CCGP

কমিটির নির্ধারিত কার্যপরিধি পর্যালোচনায় সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, পণ্য, কার্য ও সেবা ক্রয়ের ক্ষেত্রে নির্ধারিত আর্থিক সীমার ঊর্ধ্বে সকল ক্রয় ও চুক্তি প্রস্তাব, পুনঃদরপত্র এবং চুক্তির ভেরিয়েশন সংক্রান্ত প্রস্তাব বিবেচনা ও অনুমোদনের সুপারিশের সর্বোচ্চ ক্ষমতা সরকারী ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির উপর ন্যস্ত।

পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ৪৭ অনুযায়ী, নির্ধারিত আর্থিক সীমার ঊর্ধ্বে ক্রয় ও চুক্তির প্রস্তাবসমূহ মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশসহ CCGP-এর নিকট প্রেরণের বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে নির্ধারিত রয়েছে।

অতএব, সরকারী ক্রয় প্রক্রিয়ায় সরকারী ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি (CCGP) সকল ক্রয় ও চুক্তি প্রস্তাব, পুনঃদরপত্র সংক্রান্ত প্রস্তাব এবং চুক্তির ভেরিয়েশন সংক্রান্ত প্রস্তাব বিবেচনা ও অনুমোদনের সুপারিশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে থাকে।

 

৩. অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি (CCEA)


৩.১ কার্যপরিধির সারসংক্ষেপ

অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির কার্যপরিধি তুলনামূলকভাবে বিস্তৃত। এর আওতায় সরকারী ক্রয় প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো –

কোনো আইন, বিধি বা নীতিমালায় নির্ধারিত ক্ষেত্রে সরকারী ক্রয় সংক্রান্ত বিশেষ অনুমোদন প্রদান।

 

৩.২ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬ অনুযায়ী উক্ত কমিটির ভূমিকা

বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬-এ মোট ০২ (দুই) টি ধারায় CCEA-এর সুপারিশ গ্রহণের বিধান রয়েছে –

ধারা ৩৩(গ)(ঋ): দেশীয় অগ্রাধিকার:

আন্তর্জাতিক দরপত্রে দেশীয় অগ্রাধিকার প্রদানের বাধ্যবাধকতা থাকলেও ,কোন বিশেষ কারণে দেশীয় অগ্রাধিকার প্রদানে শিথিলতা প্রদর্শণের জন্য অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সুপারিশ গ্রহণ বাধ্যতামূলক।

ধারা ৬৮: রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজন:

রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজন বা দুর্যোগ মোকাবিলায়, জনস্বার্থে, CCEA-এর সুপারিশক্রমে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি ব্যাতিত সরাসরি ক্রয় বা অন্যান্য পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে।

 

৩.৩ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী CCEA-এর ভূমিকা

পিপিআর-২০২৫-এ মোট ০৬ (ছয়) টি বিধিতে ০৬ (ছয়) টি বিশেষ পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সুপারিশ গ্রহণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে, যা নিম্নরুপ –

  • রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতির ক্রয় প্রক্রিয়ার সময়সীমা হ্রাস [বিধি ৭৮(৫)];
  • প্রাকৃতিক দুর্যোগ হইতে উদ্ভূত কোনো জরুরি পরিস্থিতি বা অনুরূপ সংকট মোকাবিলায় অথবা রাষ্ট্রীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয় নিষ্পত্তিতে বা ইভেন্টের প্রয়োজনে সাধারণভাবে নির্ধারিত মূল্যসীমার ঊর্ধ্বে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি প্রয়োগ [বিধি ৯৯(২)];
  • আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে ক্রয়ের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে বা বিপর্যয়কর কোনো ঘটনা মোকাবিলার জন্য, জনস্বার্থে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতির ক্রয় প্রক্রিয়ার সময়সীমা শিথিলকরণ [বিধি ১০২(১)(ক)];
  • কোনো রাষ্ট্রের সরকার বা সরকারি প্রতিষ্ঠান বা সরকার মনোনীত প্রতিষ্ঠানের সহিত সম্পাদিত সমঝোতার (জি-টু-জি প্রক্রিয়ায়) ভিত্তিতে সরাসরি চুক্তি (Direct contracting) এর মাধ্যমে পণ্য বা কার্যক্রয় [বিধি ১০৭(২)];
  • বিদেশে অবস্থিত দূতাবাস, মিশন বা অনুরূপ দপ্তরসমূহে ক্রয়ের ক্ষেত্রে পিপিএ-২০২৬ ও পিপিআর-২০২৫ এর বিকল্প হিসেবে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত বিধি-বিধান বা আন্তর্জাতিকভাবে সুবিদিত কোনো সংস্থা কর্তৃক প্রকাশিত ক্রয়সংক্রান্ত বিধি-বিধান অনুসরণ [বিধি ১০৮(২)]; এবং
  • গুণগত মান ও ব্যয়ভিত্তিক নির্বাচন পদ্ধতির আওতায় পরামর্শক নির্বাচন প্রক্রিয়ায় গুণ ও ব্যয়ের সাধারণ অনুপাত যথাক্রমে ৮০% এবং ২০% এর পরিবর্ত ৯০% এবং ১০% এ পরিবর্তন করা [বিধি ১৩৯(২৪)(খ)]

 

৩.৪ CCEA-এর মূল ভূমিকা

উপরোক্ত বিধানসমূহ বিশ্লেষণে প্রতীয়মান হয় যে, সরকারী ক্রয় প্রক্রিয়ায় সাধারণভাবে প্রযোজ্য কোনো বিধান বা প্রক্রিয়া বিশেষ পরিস্থিতিতে শিথিল, পরিবর্তিত বা সহজতর করার ক্ষেত্রে CCEA-এর সুপারিশ গ্রহণ অপরিহার্য।

 

৪. দুই কমিটির সমন্বিত ভূমিকা


সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় CCGP এবং CCEA-এর ভূমিকা পরস্পরের পরিপূরক। CCGP যেখানে নির্দিষ্ট আর্থিক সীমার ঊর্ধ্বে ক্রয় ও চুক্তির চূড়ান্ত অনুমোদনের সুপারিশ প্রদান করে, সেখানে CCEA সরকারী ক্রয় প্রক্রিয়ার নীতিগত দিকনির্দেশনা এবং ব্যতিক্রমধর্মী সিদ্ধান্তের ব্যাপারে সুপারিশের মাধ্যমে প্রক্রিয়াগত সহজিকরণ ও নমনীয়তা নিশ্চিত করে।

এই দ্বৈত কাঠামো একদিকে যেমন স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করে, অন্যদিকে তেমনি জরুরি ও বিশেষ পরিস্থিতিতে সরকারকে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম করে।

বিশেষভাবে উল্ল্যেখ্য যে, বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ) উভয় কমিটিতে উপস্থাপিত ক্রয়সংক্রান্ত বিষয়ে মতামত প্রদান করে থাকে [বিধি-১৫৩(১)(ট)]।

 

৫. উপসংহার


সার্বিকভাবে বলা যায় –

  • সরকারী ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি (CCGP) সরকারী ক্রয় প্রক্রিয়ায় ক্রয় ও চুক্তি প্রস্তাব, পুনঃদরপত্র এবং চুক্তির ভেরিয়েশন সংক্রান্ত বিষয়ে অনুমোদনের জন্য সর্বোচ্চ সুপারিশকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে থাকে।
  • অন্যদিকে, অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি (CCEA) সরকারী ক্রয় প্রক্রিয়ায় সাধারণ বিধানসমূহ বিশেষ পরিস্থিতিতে শিথিল বা পরিবর্তনের জন্য নীতিগত ও ব্যতিক্রমধর্মী সিদ্ধান্তের সুপারিশকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে প্রক্রিয়াগত নমনীয়তা ও সহজিকরণ নিশ্চিত করতে প্রধান ভূমিকা পালন করে।

এই দুই কমিটির সমন্বিত ভূমিকার কারণেই বাংলাদেশের সরকারী ক্রয় ব্যবস্থা আইনগতভাবে বাস্তবসম্মত, নমনীয় ও জনবান্ধব হিসেবে পরিচালণার মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়নে বলিষ্ট ভূমিকা রাখতে সক্ষম হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই লেখকের অন্যান্য লেখা

Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content
Post Type Selectors
গ্রাহক হোন

শুধুমাত্র Registered ব্যবহারকারিগন-ই সব ফিচার দেখতে ও পড়তে পারবেন। এক বছরের জন্য Registration করা যাবে। Registration করতে এখানে ক্লিক করুন

 

** সীমিত সময়ের জন্য Discount চলছে।

ফ্রী রেজিস্ট্রেশন

“প্রকিউরমেন্ট বিডি news”, “সমসাময়িক”, “সূ-চর্চা”, “প্রশিক্ষণ” অথবা “ঠিকাদারী ফোরাম” ইত্যাদি বিষয়ে কমপক্ষে ২টি নিজস্ব Post প্রেরণ করে এক বছরের জন্য Free রেজিষ্ট্রেশন করুণ। Post পাঠানোর জন্য “যোগাযোগ” পাতা ব্যবহার করুণ।

সূচীঃ PPR-25

সর্বশেষ

Scroll to Top