দরপত্র মূল্যায়নে টার্নওভার এর বিকল্প সমাধান খোঁজা হচ্ছে …
দরপত্র মূল্যের সমতার ক্ষেত্রে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বাস্তবে টার্নওভারের ভিত্তিতে সর্বনিন্ম দরপত্রদাতা নির্ধারিত হচ্ছে। ফলে শুধুমাত্র বড় ঠিকাদার-ই কাজ পেয়ে যাচ্ছে। এতে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঠিকাদাররা আন্দোলনে যাচ্ছে (বিস্তারিত)। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যেই বিভিন্ন সরকারি দপ্তর থেকে সিপিটিইউতে তাদের উষ্মা জানানো হয়েছে। এখন সিপিটিইউ এর উদ্যোগে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে চিন্তা ভাবনা শুরু হয়েছে। গতকাল ৩১/১০/১৭ইং তারিখে মাননীয় পরিকল্পনা মন্ত্রীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন দপ্তর, ঠিকাদারদের প্রতিনিধি, সরকারি ক্রয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তিবর্গ, ইত্যাদিদের উপস্থিতিতে প্লানিং কমিশনে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভার মূল বিষয় ছিল উন্মুক্ত দরপত্র (কার্য) এর মাধ্যমে আভ্যন্তরিন সরকারি কেনাকাটায় দর সমতার ক্ষেত্রে করণীয় নির্ধারন সংক্রান্ত।
সভায় কিছু বিকল্প প্রস্তাব নিয়ে প্রাথমিক ভাবে আলোচনা করা হয়ঃ
১. বিদ্যমান সীমিত দরপত্র পদ্ধতি কে আরও সহজ করে এর সীমা বৃদ্ধি করা যেতে পারে,
২. BOQ এর প্রধান ৩টি আইটেম এর বিপরীতে সর্বনিম্ন উদ্ধৃত দরদাতা,
৩. Official Cost Estimate এর সংগে আইটেম ৩টি HOPE কর্তৃক নির্ধারন ও গোপনীয়তা বজায় রাখা, ইত্যাদি।
এখন, আইনের ৩১ নং ধারায় উল্লেখ আছে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে আভ্যন্তরিন সরকারি কেনাকাটায় কার্যের ক্ষেত্রে কোনো দরদাতা দরপত্রের দাপ্তরিক প্রাক্কলনের ১০ ভাগ কম বা বেশি মূল্য দরপত্রে উল্লেখ করলে দরপত্র বাতিল হয়ে যাবে।
আবার, বিধি ৯৮ এর (২ক) অনুযায়ি উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতির আওতায় অভ্যন্তরীণ কার্যক্রয়ে দরপত্র মূল্যের সমতার ক্ষেত্রে উপ-বিধি (৩১) ও (৩২) প্রয়োগের পূর্বে ক্রয়কারী কর্তৃক দরপত্র দলিলে চাহিত নির্ণায়কসমূহের অতিরিক্ত হিসাবে দরপত্রদাতার অতীত কার্যসম্পাদনের মান নির্ণয় ও মূল্যায়নে নিন্মরূপ বর্ণিত বিষয়সমূহ বিবেচনা করতে হবে। আর দরপত্র দলিল অনুযায়ি এরপরও যদি সমতা বজায় থাকে তখন টার্নওভারের ভিত্তিতে সর্বনিন্ম দরপত্রদাতা নির্ধারিত হবে।
কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, উপরোক্ত বিধি দ্বারা তা নির্ধারন করতে বহুবিধ সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। এ অরাজক অবস্থা থেকে উত্তোরনের জন্যই এখন আলোচনা শুরু হয়েছে এবং এই সভা থেকে সংশ্লিষ্ট সবার মতামত চাওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে আবার সভার মাধ্যমে এর বিকল্প উপায় খোঁজা হবে।
আরও দেখুনঃ Official Estimate: লুকোচুরি আর কাড়াকাড়ির গল্প !!!
এই লেখকের অন্যান্য লেখা

লাম্প সাম বনাম টাইম-বেসড কন্ট্রাক্ট – কোনটি কখন ব্যবহার করবেন ?
পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বা সরকারি ক্রয়ে প্রধানত কাজের ধরন ও মূল্য পরিশোধের পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন ধরনের চুক্তি করা হয়।

লাম্প সাম কন্ট্রাক্ট (Lump Sum Based Contracts)
সরকারি বা বেসরকারি যেকোনো প্রকল্পে দক্ষ পরামর্শক (Consultant) নিয়োগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলো সঠিক চুক্তিপত্র নির্বাচন করা। বাংলাদেশ পাবলিক

টাইম-বেসড কন্ট্রাক্ট (Time-based Contracts)
সরকারি বা বেসরকারি যেকোনো প্রকল্পে দক্ষ পরামর্শক (Consultant) নিয়োগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলো সঠিক চুক্তিপত্র নির্বাচন করা। বাংলাদেশ পাবলিক

উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন ও প্রক্রিয়া সহজীকরণে পরিকল্পনা বিভাগের উদ্যোগ
সরকারি বিনিয়োগের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে সরকার “সরকারি খাতে উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন, প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন ও সংশোধন