সিএজি কার্যালয়ে বিশেষ সেবা সপ্তাহঃ ক্রয়কারি, পিডি অফিস ও ঠিকাদারদের জন্য অনন্য সুযোগ
বাংলাদেশের কম্পট্রোলার এন্ড অডিটর জেনারেল (সিএজিঃ CAG) কার্যালয়ের ৫৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ ১১ মে থেকে ১৯ মে, ২০২৬ পর্যন্ত ০৭ (সাত) কর্মদিবস ব্যাপী ‘বিশেষ সেবা সপ্তাহ’ পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এই কর্মসূচিতে অডিট অধিদপ্তরসমূহের পাশাপাশি হিসাব মহানিয়ন্ত্রক (CGA), কন্ট্রোলার জেনারেল ডিফেন্স ফাইন্যান্স (CGDF) এবং অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অর্থ), বাংলাদেশ রেলওয়ে-র কার্যালয়গুলো সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে।
সরকারি ক্রয় ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনার সাথে জড়িত কর্মকর্তাদের জন্য এই উদ্যোগটি কেবল একটি সেবা কার্যক্রম নয়, বরং এটি আর্থিক শৃঙ্খলার সুসংহতকরণ এবং সরকারি ব্যয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের একটি কৌশলগত সুযোগ।
অনলাইন বিল দাখিল ও iBAS++ সংক্রান্ত সেবাসমূহ
পাবলিক ফাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট (PFM) সংস্কারের অংশ হিসেবে হিসাব মহানিয়ন্ত্রক (CGA) ও সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কার্যালয়গুলো ক্রয় কর্মকর্তাদের জন্য ডিজিটাল বিলিং প্রক্রিয়ায় বিশেষ সহায়তা প্রদান করছে। এই সেবাগুলো বিল পরিশোধ প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি অডিট ঝুঁকি হ্রাসে সহায়ক হবে:
- অনলাইনে সামারি বিল দাখিল ও ডকুমেন্টেশন পরামর্শ: ড্রয়িং অ্যান্ড ডিসবার্সিং অফিসারগণ (DDO) কর্তৃক অনলাইনে সামারি বিল দাখিলের ক্ষেত্রে কারিগরি সহায়তা প্রদান করা হবে। উল্লেখ্য যে, কেনাকাটা সংশ্লিষ্ট সঠিক ডকুমেন্টেশন বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করা হবে, যা ভবিষ্যতে ‘গুরুতর আর্থিক অনিয়ম’ বা SFI (Serious Financial Irregularity) হওয়ার ঝুঁকি কমিয়ে দেয়।
- অনলাইন টিএ/ডিএ (TA/DA) বিল ব্যবস্থাপনা: কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ভ্রমণ ভাতা বিল অনলাইনে দাখিলের প্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্ট নিয়মাবলী অবহিত করা হবে, যা স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে এবং বিল পাসের সময়ক্ষেপণ হ্রাস করে।
- iBAS++ এর কারিগরি সমস্যা সমাধান: সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনার মূল সফটওয়্যার আইবাস++ ব্যবহারের ক্ষেত্রে উদ্ভূত জটিলতা নিরসনে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ প্রদান করা হবে, যা কর্মকর্তাদের দাপ্তরিক দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়ক।
AMMS-2 ও অডিট আপত্তির ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা
অডিট অধিদপ্তরসমূহ কর্তৃক বাস্তবায়িত Audit Management and Monitoring System (AMMS-2) প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। এটি কর্মকর্তাদের জন্য অডিট ট্রেইল (Audit Trail) নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধিতে কাজ করে।
AMMS-2 এর মাধ্যমে অডিট ব্যবস্থাপনার মূল সুবিধাসমূহ:
অনলাইন আপত্তি নিষ্পত্তি: এই সিস্টেমের মাধ্যমে অডিট আপত্তির জবাব ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রেরণ এবং এর হালনাগাদ অবস্থা রিয়েল-টাইম মনিটরিং করা সম্ভব।
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা: ম্যানুয়াল পদ্ধতির পরিবর্তে ডিজিটাল ডাটাবেস ব্যবহারের ফলে তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত হয় এবং মানবিক ত্রুটির সুযোগ হ্রাস পায়।
কার্যকর তথ্য ভাণ্ডার: প্রকল্পের অডিট হিস্ট্রি এবং পূর্ববর্তী আপত্তির রেকর্ড সংরক্ষণের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে।
অডিট আপত্তি নিষ্পত্তি: ব্রডশিট ও এসএফআই (SFI) ব্যবস্থাপনা
ক্রয় কর্মকর্তাদের জন্য অডিট আপত্তি নিষ্পত্তি একটি জটিল প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। বিশেষ সেবা সপ্তাহে এই জটিলতা নিরসনে নিম্নোক্ত সুবিধাসমূহ প্রদান করা হচ্ছে:
|
সেবার নাম
|
কর্মকর্তাদের জন্য সুবিধা
|
|---|---|
|
ব্রডশিট জবাবের কারিগরি পরামর্শ
|
সঠিক ফরম্যাটে ও পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণসহ ব্রডশিট জবাব তৈরির মাধ্যমে দ্রুত আপত্তি নিষ্পত্তির নিশ্চয়তা।
|
|
অডিট আপত্তি রিকনসিলিয়েশন
|
অডিট অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট নিরাক্ষাধীন প্রতিষ্ঠানের তথ্যের মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান করে অমীমাংসিত আপত্তির সংখ্যা কমিয়ে আনা।
|
|
SFI ও Non-SFI আপত্তির শ্রেণিকরণ
|
গুরুতর আর্থিক অনিয়ম (SFI) এবং সাধারণ অনিয়মের (Non-SFI) পার্থক্য বুঝে উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ আপত্তিগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির কৌশল নির্ধারণ।
|
|
পেনশন ও অডিট ক্লিয়ারেন্স সহায়তা
|
অবসরে গমনকারী কর্মকর্তাদের অডিট আপত্তি সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন করে দ্রুত পেনশন প্রাপ্তি নিশ্চিত করা।
|
সিএজি কার্যালয়ের ৫৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত এই সেবা সপ্তাহ ২০২৬ (১১-১৯ মে) সরকারি ক্রয় ও প্রকল্প কর্মকর্তাদের জন্য একটি অনন্য সুযোগ। পরামর্শ থাকবে, কর্মকর্তারা যেন এই সময়ের মধ্যে তাদের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অমীমাংসিত আপত্তিগুলোর রিকনসিলিয়েশন সম্পন্ন করেন এবং ডিজিটাল সিস্টেমগুলোর ব্যবহারিক দিক সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করেন। এই সেবা সপ্তাহ থেকে অর্জিত জ্ঞান নিয়মিত দাপ্তরিক কাজে প্রয়োগ করলে দীর্ঘমেয়াদী প্রশাসনিক জটিলতা এড়ানো সম্ভব হবে এবং সরকারের আর্থিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সহজতর হবে।
এই লেখকের অন্যান্য লেখা

ই-জিপিতে NOA দেয়ার পর ঠিকাদার চুক্তি করছে না, সমাধান কি ?
পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন/বিধি অনুযায়ি কোন দরপত্র মূল্যায়ন শেষ হলে তারপর তা যথাযত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত হতে হয়। এরপর সর্বনিম্ন দরদাতা

NOA ইস্যু’র পর ঠিকাদার চুক্তি না করলে করণীয় কি ?
পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন/বিধি অনুযায়ি কোন দরপত্র মূল্যায়ন শেষ হলে তারপর তা যথাযত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত হতে হয়। এরপর সর্বনিম্ন দরদাতা

রিভিউ প্যানেলে আগত অভিযোগ এবং সিদ্ধান্ত ওয়েবসাইটে উন্মুক্ত রাখা উচিত
রিভিউ প্যানেল সিদ্ধান্ত প্রদানের পর, আপীলে উত্থাপিত অভিযোগ ও প্রদত্ত সিদ্ধান্ত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখার উচিত। বিষয়টিতে ক্রয়কারি এবং ঠিকাদারি

টেন্ডার ওপেন হবার আগেই কোনো বিষয় নিয়ে কি রিভিউ প্যানেলে অভিযোগ করা যাবে ?
এই অভিযোগ নিয়ে আর অভিযোগের শেষ নাই। কি একটা অবস্থা !!! দরপত্র (টেন্ডার) আহবানের পর ঠিকাদার হিসেবে আপনার বিভিন্ন কারণে