উপজেলা পরিষদে অনলাইন টেন্ডার, Part-2
সফল উদ্যোগের সফলতা ধরে রাখাই সময়ের দাবী
গত জুন মাসে স্থানীয় সরকার বিভাগ ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে সকল উপজেলা পরিষদের সকল ক্রয় প্রক্রিয়ায় ১০০% ইজিপি প্রচলনের নির্দেশ প্রদান করা হয়। তাহার কয়েক মাস পর ইজিপি সংক্রান্ত চলমান কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রেরনের জন্য বলা হয়। মজার ব্যাপার হলো ,ইজিপি যে একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দানের মাধ্যমে চালু করতে হয় তার কোন দিক নির্দেশনা এ পযর্ন্ত দেয়া হয়নি। যেমনঃ কে হবেন Organization Admin, HOPE, AA, AO, PE, TOC, TEC ইত্যাদি। শুরুতে বলেছিলাম, সরকার সারা দেশব্যাপী ইজিপি কার্যক্রমের যে সফল বাস্তবায়ন দেখার সাহস দেখাচ্ছে তার মূল উদাহরন কিন্তু সারা দেশ ব্যাপী প্রত্যেকটি PE অফিসে এলজিইডির সফল ইজিপি বাস্তবায়ন, সুনির্দিষ্ট করে বলা হলে এলজিইডির প্রকৌশলীদের ভূমিকা। আর উপজেলা পরিষদে এলজিইডির একটি শক্তিশালী সেটাপ আছে। তাই হয়ত স্থানীয় সরকার বিভাগ অমন একটি নির্দেশনা জারী করেছে। পরিষদে অন্য কারো এ ব্যাপারে মাথা ব্যাথা না থাকলেও উপজেলা প্রকৌশলীরা এ চ্যালেঞ্জ গ্রহনে ও বাস্তবায়নে উঠে পড়ে লেগেছে।
একজন উপজেলা প্রকৌশলী হিসাবে নির্দেশনা পাওয়ার পরপরই আমি CPTU তে যোগাযোগ করি। তারা একটি Format পূরন করে পাঠাতে বলে। এর কিছুদিন পর আমাকে আর উপজেলা চেয়ারম্যান মহোদয়কে ১ (এক) দিনের Organizational Admin এর প্রশিক্ষনে ডাকে। চেয়ারম্যান মহোদয় কমপিউটারে অদক্ষ বিধায় তিনি আমাকে যেতে বলেন। CPTU-তে দুই ঘন্টার প্রশিক্ষনে প্রশ্ন করার মাধ্যমে জানতে পারলাম উপজেলা পরিষদে HOPE হবেন চেয়ারম্যান মহোদয়, AO হবেন UNO মহোদয়, PE হবেন উপজেলা প্রকৌশলী, TOC/TEC এর ক্ষেত্রে আমাদের স্কুল e-GP এর নিয়ম অনুসরণ করতে বলেন। কিন্তু এসব কোনটারই অফিস আদেশ নেই। তথাপি তারা শুরু করতে বলেন। আর এক প্রশ্নের জবাবে Organizational Admin, উপজেলা চেয়ারম্যান বা UNO এর হবার কথা বলেন। আবার এও বলেন, যে e-mail ID দ্বারা Organization Admin Creat হয়েছে, যিনি ইজিপিতে পারদর্শি তিনি এটা Handling করবেন। তার মানে, উপজেলা প্রকৌশলীকেই সব করতে হবে। বাস্তবতাও তাই। যাকে যে Role-ই দেয়া হোকনা কেন E-GP ব্যাবহারে অভ্যস্ত না থাকলে তাকে দিয়ে কোন কাজই হবেনা। ঠিক স্কুলের মতো আরকি। সকলের Role ই উপজেলা প্রকৌশলীকে পালন করতে হয়। এ ক্ষেত্রেও হয়তো কিছু দিন তাই করতে হবে (অব দ্যা রের্কড কথা)।
E-GP এর এতগুলো User Role পালন করতে হলে কমপক্ষে ৭/৮টি ই-মেইল আইডি প্রয়োজন। ইতোপূর্বে যে ই-মেইল আইডি দ্বারা E-GP তে রেজিষ্ট্রেশন হয়েছে সেই একই ই-মেইল আইডি দ্বিতীয় বার অন্য Role এ ব্যবহার করা যাবে না। অনেকেরই ধারনা পরিষদের ন্যাস্ত সকল ডিপার্টমেন্টের জন্য অনেক ই-মেইল আইডি লাগবে। ধারনাটি ভূল। উপজেলা পরিষদের ইজিপি বলতে শুধুমাত্র পরিষদের তহবিল (রাজস্ব ও উন্নয়ন) দ্বারা যে টেন্ডার হবে তাকে বোঝানো হয়েছে। অন্যান্য ডিপার্টমেন্ট সমূহ নিজস্ব ক্রয় প্রক্রিয়ায় তাদের লাইন ডিপার্টমেন্টের নির্দেশনা অনুসরণ করবে। যেমন: স্কুলের ক্ষেত্রে আমরা আমাদের ডিপার্টমেন্টের নির্দেশনা অনুসরণ করি। উপজেলা পরিষদের জন্য মোট ই-মেইল আইডি হবে- Organization Admin এর ১টি, HOPE এর ১টি, AO এর ১টি, PE এর ১টি, TOC এর সদস্য হিসাবে ১টি, TEC এর অন্য সদস্যের ১টি অফিসের User হিসাবে ১টি, মোট ৭টি। সমস্যা হলো CPTU এ সকল ই -মেইল আইডি হিসাবে gmail, yahoo বা অন্য কোন অপারেটরের আইডি গ্রহন করছেনা। যুক্তি হিসাবে বলছে ই-মেইল আইডি একবার লক হয়ে গেলে এসব ক্ষেত্রে তা উদ্ধার করা দুরহ। তাই তারা নিজস্ব প্রাতিষ্ঠানিক ই-মেইল আইডি দ্বারা E-GP তে User রেজিষ্ট্রেশনের পরামর্শ দিয়েছে। সরকারি ভাবে প্রাতিষ্ঠানিক ই-মেইল আইডি না পাওয়া গেলে উপজেলা পরিষদের নিজস্ব ওয়েবসাইট খুলে তা থেকে প্রয়োজনীয় ই-মেইল আইডি নেয়ার পরামর্শ CPTU থেকে আমাকে মৌখিক ভাবে দেয়া হয়েছে। তবে ওয়েবসাইটটি প্রতিবছর সচল রাখার ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। আইনে উপজেলা পরিষদ একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হিসাবে .gov.bd ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা নেই, .com হলেও চলবে। উদাহরন স্বরূপ ওয়েবসাইটের ঠিকানা হতে পারে www.upazila.faridganj.com & e-mail ID হতেপারে egp.uzc.hope@upazila.faridganj.com বা egp.uno.ao@upazila.faridganj.com ইত্যাদি। বর্তমানে অল্প টাকায় ওয়েবসাইটের Domain ও Hosting ক্রয় করা যায়। এবং আরো কিছু টাকায় ইহা সুন্দর ভাবে Develop করা যায়। প্রতিটি উপজেলা পরিষদের নিজস্ব ওয়েবসাইট থাকলে সহজেই সকল বিভাগের তথ্য তাতে সন্নিবেশিত করা যায় এবং সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মানের উদ্দেশ্য আরো সফল হয়। জেলার যে ওয়েবপোর্টাল আছে তাতে উপজেলার বিভিন্ন বিভাগের কিছু তথ্য সাব ফোল্ডার হিসাবে ব্যবহৃত হচেছ এবং সেখান থেকে উপজেলা পরষিদের নিজস্ব ই-মেইল আইডি পাওয়া সম্ভব নহে।
একজন উপজেলা প্রকৌশলী হিসাবে আমি মনে করি, স্থানীয় সরকার বিভাগ হতে যে চ্যালেঞ্জ দেয়া হয়েছে তা বাস্তবায়নে আমাদের সকলকে সচেষ্ট হওয়া উচিৎ। এতে উপজেলা প্রকৌশলীদের মযার্দা আরোও বৃদ্ধি পাবে। শুরুতে হয়তো সকল Role-ই তাকে পালন করতে হবে এতে সচ্ছতা কমবে বলেও আমার মনে হয়না। কেননা On line এর পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ন সিদ্ধান্তগুলো Off line File এ UNO বা Upazila Chairman এর কাছ থেকে নিয়ে নিলে এ সংক্রান্ত কোন প্রশ্ন উত্থাপন হবে না। ধীরে ধীরে তাদেরকে বা তাদের অফিসের যারা IT তে ভাল এবং নিজ অফিসের যারা IT তে ভাল তাদেরকে ইজিপি ব্যবহার প্রশিক্ষনের মাধ্যমে এক সময় সকলেই তা ব্যবহারে সক্ষম হবে। উপজেলা পরিষদে ছোট ছোট অনেক কাজ বিধায় বেশ কয়েকটিকে নিয়ে একটি প্যাকেজ করে নিলে ইজিপিতে অনেক সময় বেচে যাবে। সকল ই-মেইল আইডি ও পাসওর্য়াড সমুহ অত্যন্ত সর্তকতা ও গোপনীয়তার সাথে ম্যানেজ করতে হবে। সর্বপরি, উপজেলা পরিষদের ছোট ছোট সকল টেন্ডার Off line এ করতে গিয়ে একজন উপজেলা প্রকৌশলীকে যে চাপ ও অনৈতিক আবদারের সম্মুখীন হতে হয় শতভাগ ইজিপি বাস্তবায়নে তা দুর হবে এবং পরিষদের আরও কেন্দ্রিয় ফোকাল পয়েন্টে তার অবস্থান নিশ্চিৎ হবে।
ধন্যবাদ ।
এই লেখকের অন্যান্য লেখা

Collusion in the Belgian Newspaper Distribution Sector
The Belgian competition authority has concluded its formal inquiry into systemic bid-rigging and horizontal agreements within the public procurement process

ই-জিপি সাইটে ভোগান্তি: ব্যবহারকারীদের ক্ষোভ, কবে মিলবে সমাধান ?
সরকারি ক্রয় কার্যক্রমের একমাত্র ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ই-জিপি (e-GP) পোর্টালে গত কয়েকদিন ধরে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ব্যবহারকারীরা। সাইটটির ধীরগতি এবং যান্ত্রিক

সরকারি ক্রয়ে রেকর্ড ব্যবস্থাপনাঃ আইনি কাঠামো ও ব্যবহারিক নির্দেশিকা
প্রকৌ: মো: মোকতার হোসেন MCIPS, PMP, CPCM উপ-পরিচালক (নির্বাহী প্রকৌশলী) নক্সা ও পরিদর্শণ-১ পরিদপ্তর, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, ঢাকা। মোবাইল: ০১৭২২০৪৪৩৩৫ ইমেইল: moktar031061@gmail.com

লাম্প সাম নাকি টাইম-বেসড কন্ট্রাক্ট – কোনটি কখন ব্যবহার করবেন ?
পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বা সরকারি ক্রয়ে প্রধানত কাজের ধরন ও মূল্য পরিশোধের পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন ধরনের চুক্তি করা হয়।