এক ব্যক্তির কোম্পানি নিবন্ধনে আগ্রহ কম
সহজে কোম্পানি খুলে ব্যবসা করার জন্য সরকার ২০২০ সালে কোম্পানি আইন সংশোধন করে এক ব্যক্তির কোম্পানি (ওপিসি) খোলার অনুমতি দেয়। ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটাতে এ সুযোগ তৈরি করা হয়। আইনি সুযোগ দেওয়া হলেও এক ব্যক্তির কোম্পানি করার ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত সাড়া মিলছে না।
আরও পড়ুনঃ নতুন কোম্পানি কিভাবে খুলবেন ?
এক ব্যক্তির কোম্পানি হলো এমন প্রতিষ্ঠান, যেখানে একজন ব্যক্তিই ওই কোম্পানির মালিকানায় থাকেন। তবে একজন নমিনিও থাকেন। তাতে ব্যক্তি পর্যায়ে ব্যবসার ক্ষেত্রে কোম্পানি ও সম্পদের সুরক্ষার সুবিধার জন্য ওপিসি হিসেবে নিবন্ধন নিতে পারেন।
কোম্পানি নিবন্ধনের সরকারি প্রতিষ্ঠঅন যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরের (আরজেএসসি) তথ্য অনুযায়ী, দেশে এখন এক ব্যক্তির নিবন্ধিত কোম্পানি ২১০টি। এর মধ্যে আইন সহজ করার পর ২০২১-২২ অর্থবছরে নিবন্ধিত হয়েছে মাত্র ১২৪টি। ওই অর্থবছরে সব মিলিয়ে নিবন্ধিত কোম্পানি ছিল ১০ হাজার ৮২২টি। সেই হিসাবে দেখা যাচ্ছে, এক ব্যক্তির কোম্পানি খোলার প্রতি উদ্যোক্তাদের আগ্রহ খুব বেশি বাড়েনি।
আরও পড়ুনঃ ‘এক ব্যক্তির কোম্পানি’ খোলার সুযোগ আসছে
ওপিসি খোলার আগ্রহ খুবই কম কেন
-
- এক ব্যক্তির কোম্পানি যাঁরা খুলছেন, তাঁদের বেশির ভাগই এরই মধ্যে একক মালিকানার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন। দেশে এক ব্যক্তির মালিকানায় অনেক প্রতিষ্ঠান ব্যবসা করলেও সবাই নিবন্ধিত নয়। কারণ, অনেকে নিবন্ধন নিয়ে কোম্পানি পরিচালনাকে বাড়তি ঝামেলা মনে করেন।
- একক কোম্পানির প্রতিষ্ঠানে যিনিই পরিচালক তিনিই এমডি আবার উনিই চেয়ারম্যান অর্থাৎ সবকিছুই একই ব্যক্তি। যার ফলে ব্যাংক ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে বিড়ম্বনার শিকার হবার সম্ভাবনা আছে।
- ওপিসির নূন্যতম ২৫ লাখ ও সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনের সীমা বেঁধে দেওয়ার ব্যাপারে বাধ্যবাধকতা।
- মাত্র ৫ শতাংশ করর্পোরেট কর ছাড় দেওয়া।
- নিবন্ধন নিয়ে নিয়মনীতির আওতায় আসতেও অনীহা রয়েছে অনেকের। কোনো ব্যক্তি কোম্পানি খুললে স্বচ্ছতার জন্য তাঁকে নিয়মিতভাবে নিরীক্ষা করতে হবে। আরজেএসসি একক কোম্পানির ক্ষেত্রে নিয়মিত নিরীক্ষার নামে প্রতিষ্ঠানের আলাদা খরচ করার অভিযোগ আছে। সেটি অনেকে ঝামেলা মনে করেন।
- সকল দায় ও ব্যবসায়িক লাভ-ক্ষতি এককভাবে মালিকের কাঁধে আসার ঝুঁকি নিতে ভয় পাওয়া।
- উদ্যোক্তাদের মধ্যে এখনো একধরনের ধারণা রয়েছে যে কোম্পানি করতে হলে যৌথ মালিকানা থাকলে বেশি সুবিধা পাওয়া যায়। তাই অনেকে নিবন্ধন ছাড়াই ব্যবসা করে।
- রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক ও দেশের অর্থনীতিতে যে সংকট চলছে, তারই প্রভাব কোম্পানি নিবন্ধনে পড়েছে বলে অনেকে মনে করেন।
এছাড়াও, ২০২০ সালে কোম্পানি আইন সংশোধন করে এক ব্যক্তির কোম্পানি (ওপিসি) খোলার সুযোগ সৃষ্টির পর এ নিয়ে যথেষ্ট প্রচার-প্রচারণার ঘাটতিকেও দায়ী করছেন উদ্যোক্তারা।
আরও পড়ুনঃ এক ব্যক্তির কোম্পানি গঠনে সুবিধা কি ?
এই লেখকের অন্যান্য লেখা

IT Hardware ক্রয় নিয়ে “Force Majeure” বিতর্ক
বিশ্বব্যাপী IT hardware procurement বর্তমানে একটি অস্বাভাবিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। সাম্প্রতিক সময়ে ডেস্কটপ, ল্যাপটপ, সার্ভার এবং স্টোরেজ ডিভাইসের মতো প্রযুক্তি পণ্যের

ইউনিয়ন পরিষদে এখনও চালু হয়নি ই-জিপি
স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে কীভাবে ? বাংলাদেশে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সর্বনিম্ন স্তর হলো ইউনিয়ন পরিষদ (Union

১ম সংসদ অধিবেশনঃ সরকারি ক্রয় ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ
আজ শুরু হচ্ছে নতুন সরকারের প্রথম সংসদ অধিবেশন। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ এই অধিবেশনকে কেন্দ্র করে অন্তর্বর্তী সরকারের

বিপিপিএ’র সিদ্ধান্তঃ Individual Consultant দের ই-জিপিতে রেজিস্ট্রেশন ফি লাগবে না
বাংলাদেশের সরকারি ক্রয় ব্যবস্থার অনলাইন প্ল্যাটফর্ম Electronic Government Procurement (e-GP)-এ ব্যক্তি পরামর্শকদের (Individual Consultant) জন্য রেজিস্ট্রেশন ফি বাতিল করা হয়েছে।