প্রকল্প বাস্তবায়নে এ, বি, সি ক্যাটাগরি বলতে কী বোঝানো হচ্ছে ?
২০২২-২০২৩ অর্থ বছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীভুক্ত প্রকল্পগুলোকে এ/বি/সি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। বড় বড় প্রকল্পগুলোকে এই তিন ভাগে ভাগ করে অগ্রাধিকার ঠিক করতে হবে। এ বিষয়ে গত ৩ জুলাই ২০২২ তারিখে অর্থ বিভাগ হতে একটি পরিপত্র জারী হয়েছে।
কোন প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ এবং দ্রুত বাস্তবায়ন প্রয়োজন, সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেবে।
পরিপত্রে চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ পাওয়া ১,৪৮৭টি প্রকল্পকে অগ্রাধিকারভিত্তিতে ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’ ক্যাটাগরিতে ভাগ করে ‘এ’ ক্যাটাগরির প্রকল্প বাস্তবায়নে শতভাগ বরাদ্দ অক্ষুণ্ণ রেখে ‘বি’ ক্যাটাগরির প্রকল্পগুলোর বরাদ্দের সরকারি অংশের ২৫ শতাংশ কর্তন করা হয়েছে। আর ‘সি’ ক্যাটাগরির প্রকল্পগুলো চলতি অর্থবছর কোনো অর্থ ব্যয় করতে পারবে না।
তিনি জানান, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলো অব্যাহত থাকবে বলে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। বি ক্যাটাগরির বা দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোয় মোট বরাদ্দের ৭৫ শতাংশ ব্যয় করা যাবে। আর কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোয় আপাতত খরচ করা স্থগিত থাকবে।
‘এ’ ক্যাটাগরি প্রকল্প
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলো অব্যাহত থাকবে বলে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। সরকারের মেগা প্রকল্পগুলোর পাশাপাশি বিদেশি সহায়তার প্রকল্পগুলোকে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে রেখে তা বাস্তবায়নে জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া চলতি অর্থবছরে যেসব প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্পন্ন হবে এবং কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত-সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলো ‘এ’ ক্যাটাগরিতে রাখা হয়েছে অর্থাৎ এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে বাজেটে যে বরাদ্দ রাখা হয়েছে, তার শতভাগ ব্যয় করা যাবে। এ ধরনের প্রকল্পের সংখ্যা ৭ শতাধিক বলে জানিয়েছেন অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা। এ ক্যাটাগরির মধ্যে রয়েছে অগ্রাধিকার বা ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ প্রকল্পগুলো, যার মধ্যে আছে, খাদ্য, কৃষি, জ্বালানি, উন্নয়ন বা বড় অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প। এর অনেকগুলো প্রকল্প শেষ হওয়ার কথা রয়েছে সামনের বছর জুন মাসের মধ্যে।
এসব প্রকল্পের বেশ কয়েকটি বৈদেশিক সহায়তায় হচ্ছে। পদ্মা সেতুতে রেললাইন স্থাপন, কর্ণফুলীর নদীর নীচের টানেলসহ সব মিলিয়ে এ ক্যাটাগরিতে প্রায় সাতশ’ প্রকল্প রয়েছে।
অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ‘এ’ ক্যাটাগরির প্রকল্প বাস্তবায়নে কোন মন্ত্রণালয় সাফল্য দেখাতে পারলে এবং এক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়গুলোর বাস্তবায়ন সক্ষমতা ভালো হলে ‘সি’ ক্যাটাগরির প্রকল্পে বরাদ্দের অর্থও ‘এ’ ক্যাটাগরির প্রকল্পে ব্যয় করতে পারবে।
‘বি’ ক্যাটাগরি প্রকল্প
যেসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হতে আরও কমপক্ষে দুই বছর বা তার বেশি সময় লাগবে, যেসব প্রকল্পের প্রায় ৫০ শতাংশ এর মধ্যেই ব্যয় করা হয়ে গেছে এবং এই মুহূর্তে বাস্তবায়নের গতি একটু স্লো হলেও অর্থনীতিতে কোনো বিরূপ প্রভাব পড়বে না, সেসব প্রকল্প বি ক্যাটাগরিতে ধরা হয়েছে। এসব প্রকল্পকে মধ্যম মানের গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে সরকার।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ৫০০ শতাধিক প্রকল্প ‘বি’ ক্যাটাগরিতে স্থান পেয়েছে। এসব প্রকল্পে সরকারি তহবিল থেকে মোট যে পরিমাণ বরাদ্দ রাখা হয়েছে, তার ৭৫ শতাংশ ব্যয় করা যাবে। তবে এসব প্রকল্পে বৈদেশিক অর্থায়ন থাকলে তার শতভাগ ব্যয় করা যাবে।
এরকম প্রকল্পের মধ্যে মুদ্রণ, কম্পিউটার ক্রয়, কয়েকটি রেললাইন ও সড়ক নির্মাণ প্রকল্প, প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ ও সংস্কার, জাতীয় সড়ক বর্ধিতকরণ ও সংস্কার ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
‘বি’ ক্যাটাগরির জন্য নতুন নির্দেশনাঃ পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয়ে নতুন নির্দেশনা জারী
‘সি’ ক্যাটাগরি প্রকল্প
সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করা কিংবা প্রশিক্ষণ-সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোকে ‘সি’ ক্যাটাগরিতে স্থান দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। চলতি অর্থবছরের বাজেটে এসব প্রকল্পে বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও কোনো অর্থ ব্যয় করা যাবে না। এ ধরনের প্রকল্পের সংখ্যা প্রায় ১৫০ হতে পারে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে যেসব প্রকল্পের বাস্তবায়ন শুরুর দিকে রয়েছে, এখনো সম্ভাব্যতা যাচাই পর্যায়ে রয়েছে অথবা কিছুদিন পরে বাস্তবায়ন করলেও জনসেবায়, উৎপাদনে বা অর্থনীতিতে কোন প্রভাব পড়বে না, সেগুলোকে ধরা হয়েছে সি ক্যাটাগরিতে। এই খাতে অফিস ভবন নির্মাণ বা বর্ধিতকরণ, প্রদর্শনী, প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রকল্প, আবাসিক ভবন নির্মাণ বা সংস্কার, সৌন্দর্য বৃদ্ধিকরণ ইত্যাদি প্রকল্প রয়েছে। এরকম প্রায় দেড়শ প্রকল্প রয়েছে এই বছরের এডিপিতে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে বরাদ্দপ্রাপ্ত প্রকল্প রয়েছে ১১টি। এর মধ্যে ৬টি ‘এ’ ক্যাটাগরিতে এবং ৫টি ‘বি’ ক্যাটাগরিতে স্থান পেয়েছে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দপ্রাপ্ত ২৫টি প্রকল্পের মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র-সংশ্লিষ্ট তিনটি প্রকল্পসহ মোট ৮টি প্রকল্প ‘এ’ ক্যাটাগরিতে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার স্থাপনসহ ১৬টি প্রকল্প ‘বি’ ক্যাটাগরিতে এবং বিসিএসআইআর ঢাকা ও চট্টগ্রাম কেন্দ্রে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর শুঁটকি মাছ প্রক্রিয়াকরণ এবং ইনডোর ফার্মিং গবেষণা-সংক্রান্ত সুবিধাদি স্থাপন প্রকল্পটি ‘সি’ ক্যাটাগরিতে স্থান পেয়েছে।
এই লেখকের অন্যান্য লেখা

একটি ভাইরাল পণ্যের উত্থান-পতন: Labubu সাপ্লাই-চেইন কেস স্টাডি
চীনের বিখ্যাত খেলনা কোম্পানি পপ মার্ট (Pop Mart)-এর Labubu নামের একটি খেলনাটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৈশ্বিক ভোক্তা আচরণ, ডিজিটাল মার্কেটিং এবং

e-GP টেন্ডারে TEC সদস্যদের Declaration কি হার্ডকপিতে আলাদা দিতে হবে ?
সরকারি টেন্ডারে সরকারি ক্রয় বিধিমালা মোতাবেক দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি (Tender Evaluation Committee – TEC) গঠন করতে হয়। এই কমিটি দরপত্র মূল্যায়ন

দরপত্র মূল্যায়নে TEC সদস্যদের কতগুলো ঘোষণা (Declaration) দিতে হয় ?
সরকারি টেন্ডারে সরকারি ক্রয় বিধিমালা মোতাবেক দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি (Tender Evaluation Committee – TEC) গঠন করতে হয়। এই কমিটি দরপত্র মূল্যায়ন

Specification Trap: Lessons from the DYKA Case
Technical specification determination in public procurement is a highly sensitive matter because it dictates how open or restricted competition will