বর্তমান প্রেক্ষাপটে ঠিকাদারিতে এ, বি, সি ক্যাটাগরি বুঝে কাজ করা উচিত
ঠিকাদারি ব্যবসার সাথে জরিত সবাই ইতিমধ্যেই জেনে গেছেন যে, সরকার দেশে চলমান প্রজেক্টগুলোকে তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করে পরিচালিত করার পরিকল্পনা করে একটি পরিপত্র জারী করেছে। বিদ্যমান ক্যাটাগরি হল এ, বি এবং সি।
বিস্তারিতঃ প্রকল্প বাস্তবায়নে এ, বি, সি ক্যাটাগরি বলতে কী বোঝানো হচ্ছে ?
“এ” ক্যাটাগরির প্রজেক্টগুলো তাদের বরাদ্দকৃত বাজেট নিয়ে চলমান অবস্থায় থাকবে, “বি” ক্যাটাগরির প্রজেক্টগুলো থেকে ২৫% বরাদ্দ কর্তন করা হবে এবং “সি” ক্যাটাগরির প্রজেক্ট গুলোকে বর্তমানে সাময়িকভাবে স্থগিত করা হবে।
পূর্বপ্রস্তুতি স্বরূপ আপনাদের চলমান বা সামনের সাম্ভাব্য প্রজেক্টগুলো কোন ক্যাটাগরিতে পড়ছে তা জানা প্রয়োজন। এতে করে যে সুবিধাগুলো পাবেন তা হলঃ
১৷ আপনার কোম্পানি যদি “বি” ও “সি” ক্যাটাগরির প্রজেক্টের উপরে নির্ভর করে চলমান অর্থ বছরের বাজেট নির্ধারণ করে থাকে তাহলে তা শুরুতেই পুনর্বিবেচনা করে নতুন ভাবে পরিকল্পনা করতে হবে।
২৷ পরিপত্র অনুযায়ি “সি” ক্যাটাগরির প্রকল্পে অর্থ ব্যয় বন্ধ থাকবে। তাই, আপাতত “সি” ক্যাটাগরির কাজ গুলো যে অবস্থায় আছে সে অবস্থাকেই চূড়ান্ত বিবেচনায় প্রকল্প দপ্তরের সাথে আলোচনা করে কাজ শেষের (Completion) সার্টিফিকেট নিয়ে নেয়া উচিত। “সি” ক্যাটাগরির বিবেচনায় অসম্পন্ন কাজের জন্য কোন জরিমানা আরোপ করা যাবে না।
৩৷ “বি” এবং “সি” ক্যাটাগরির প্রকল্পগুলোতে আপনার প্রতিষ্ঠানের চলমান এবং নতুন কোন বিনিয়োগ এর ব্যাপারে সচেতন হতে হবে, অন্যথায় আপনার বিল পেতে দেরি হলে আপনার কোম্পানি আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে৷ এ বিষয়ে প্রকল্প দপ্তরের সাথে বিস্তারিত আলোচনা করে তাদের বরাদ্দ এবং খরচের পরিমান সম্পর্কে পরিষ্কার ধারনা নিয়ে নেয়া উচিত।
৪৷ “বি” ক্যাটাগরির প্রকল্পগুলোতে সরকারি তহবিল থেকে মোট যে পরিমাণ বরাদ্দ রাখা হয়েছে, তার ৭৫ শতাংশ ব্যয় করা যাবে। তবে এসব প্রকল্পে বৈদেশিক অর্থায়ন থাকলে তার শতভাগ ব্যয় করা যাবে। এ বিষয়গুলো মাথায় রেখে এবং প্রকল্প দপ্তরের সাথে বিস্তারিত আলোচনা করে কাজের পরিকল্পনা নতুন ভাবে সাজানো উচিত।
ঠিকাদারি ব্যবসার প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ সঠিক সময়ে ফেরত আসা জরুরি। তাই সব সময় সচেতন এবং তথ্য নির্ভর হতে হবে যেন আপনার প্রতিষ্ঠান বড় ধরনের বিনিয়োগ করে আর্থিক এবং আইনি কোন ক্ষতির-ই সম্মুখীন না হয়।
এই লেখকের অন্যান্য লেখা

SLT: টেন্ডারে কৃত্রিম প্রতিযোগিতা এবং নতুন চ্যালেঞ্জ
বাংলাদেশের সরকারি ক্রয়ব্যবস্থায় (Public Procurement) দীর্ঘদিন ধরেই একটি বড় উদ্বেগের বিষয় ছিল অস্বাভাবিক কম দর (Abnormally Low Bid – ALB)

NOA অটোমেটিক accepted দেখাচ্ছে। এখন করণীয় কি ?
একটি টেন্ডারে কর্তৃপক্ষ আমার প্রতিষ্ঠানের নামে NOA (Notification of Award) ইস্যু করেছে, ই-জিপিতে মেসেজ এসেছে। কিন্তু আমি এক্সেপ্ট করতে গিয়ে

NEOM & The Line: একটি কৌশলগত প্রকল্প এবং ক্রয় পরিকল্পনার মহাবিপর্যয়
বিস্তারিত দেখুনঃ NEOM & The Line: একটি কৌশলগত প্রকল্প এবং ক্রয় পরিকল্পনার মহাবিপর্যয়

Individual Consultancy চুক্তিতে ভ্যাট এবং আয়করের হার নিয়ে হতাশা
বিস্তারিত দেখুনঃ ব্যক্তি পরামর্শক (Individual Consultant) চুক্তিতে ভ্যাট এবং আয়করের হার নিয়ে হতাশা