Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content
Post Type Selectors

সরকারি ক্রয়ে অভিযোগ ও আপিল ব্যবস্থাঃ ধাপ, সময়সীমা ও রিভিউ প্রক্রিয়া

Facebook
Twitter
LinkedIn
[প্রাসঙ্গিক আইন/বিধি: PPA 2006 (ধারা 29-30) এবং PPR 2025 (বিধি 72-77)]

Md. Moktar Hossain MCIPS, PMP, CPCM
Deputy Director (Xen)
Directorate of Design & Inspection-01
Bangladesh Power Development Board
Mobile: 01722044335
Email: moktar031061@gmail.com
=================================

 

সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে (Public Procurement) স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে অভিযোগ (Complaint) ও আপিল (Appeal) ব্যবস্থা একটি গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা বলয়। পিপিএ এবং পিপিআর এই ব্যবস্থাকে সময়সীমা ভিত্তিক ও ধাপ ভিত্তিক করে গড়ে তুলেছে, যাতে অনিয়মের অভিযোগ দ্রুত যাচাই ও প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

 

২. অভিযোগ ব্যবস্থার উদ্দেশ্য


  • ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা যাচাই ও অনিয়ম প্রতিরোধ
  • প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি এবং অংশীজনের আস্থা গড়ে তোলা
  • ক্রয়কারী সত্তা (PE)-এর সিদ্ধান্তে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা
  • অভিযোগ গ্রহণ, নিষ্পত্তি ও আপিলের জন্য একটি নির্দিষ্ট পথ (route) নির্ধারণ

 

৩. কে অভিযোগ করতে পারে


  • ক্রয়কারী সত্তার দায়িত্ব লঙ্ঘনের ফলে যে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা ক্ষতির যৌক্তিক আশঙ্কা থাকলে অভিযোগ দাখিল করতে পারে (PPA 2006, ধারা 29)।

 

৪. অভিযোগের গ্রহণযোগ্য কারণসমূহ


পিপিআর-২০২৫ (বিধি ৭২) অনুযায়ী অভিযোগের কারণগুলো সাধারণভাবে তিন ভাগে বোঝা যায়:

৪.১ প্রাকযোগ্যতা (Pre-qualification) সংক্রান্ত

      • বিজ্ঞাপন প্রকাশের তারিখে প্রাকযোগ্যতার দলিল প্রস্তুত না থাকা বা অনুরোধ সত্ত্বেও সময়মতো দলিল না পাওয়া
        স্পষ্টীকরণ (clarification) চাওয়া হলে যথাসময়ে ব্যাখ্যা না পাওয়া
      • প্রাকযোগ্যতার দলিলে উল্লেখিত মানদণ্ড অনুযায়ী মূল্যায়ন কমিটির মূল্যায়নে ত্রুটি/ব্যর্থতা
      • অন্যায্যভাবে প্রাকযোগ্যতা বাতিল বা অস্বীকৃতির যৌক্তিক আশঙ্কা
      • দুর্নীতি/আঁতাত/চক্রান্তমূলক কার্যকলাপের সন্দেহ

৪.২ দরপত্র ও অন্যান্য ক্রয় পদ্ধতি (OTM/LTM/DPM/TSTM/Quotation/Reverse Auction ইত্যাদি)

      • প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বিধি -১১০ অনুসরণ করে বিজ্ঞাপন প্রকাশ না করা
      • বিজ্ঞাপনের তারিখে টেন্ডার/কোটেশন দলিল প্রস্তুত না থাকা বা অনুরোধে সময়মতো সরবরাহ না করা
      • ব্যাখ্যার অনুরোধে যথাসময়ে জবাব না দেওয়া
      • প্রতিযোগিতা সীমিত করে এমন কারিগরি বিনির্দেশ নির্ধারণ (শুধু এক/স্বল্পসংখ্যক প্রস্তুতকারকের পক্ষে পূরণযোগ্য)
      • দরপত্র দলিলে প্রাক-দরপত্র করার কথা থাকলেও সেই সভা না করা বা তারিখ বা সময় পরিবর্তনের তথ্য সময়মতো না জানানো
      • দরপত্র উন্মুক্তকরণে অনিয়ম/অসদাচরণ, গোপনীয়তা ভঙ্গ, বা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রাপ্ত সব দরপত্র একসঙ্গে না খোলা
      • দরপত্র দলিলের নির্ণায়ক অনুসারে মূল্যায়নে ব্যর্থতা
      • অননুমোদিত নেগোসিয়েশন/অন্যায্যভাবে চুক্তি প্রদান
      • দুর্নীতি/আঁতাতের সন্দেহ
      • দুই-পর্যায়ের দরপত্রে প্রথম পর্যায়ে ব্যাখ্যা গ্রহণকালে গোপনীয়তা ভঙ্গ

৪.৩ প্রস্তাব দাখিলের অনুরোধ (RFP) সংক্রান্ত

      • কারিগরি প্রস্তাব খোলার পর গোপনীয়তা রক্ষা না করা
      • কারিগরি প্রস্তাব উন্মুক্তকরণের সময় আর্থিক প্রস্তাবও খুলে ফেলা
      • RFP-এ উল্লেখিত নির্ণায়ক/মানদণ্ড অনুসারে মূল্যায়নে ব্যর্থতা
      • মূল্য (fee rate) যেখানে মূল্যায়নের একটি ফ্যাক্টর, সেখানে নেগোসিয়েশনে ফি পরিবর্তনে চাপ প্রয়োগ
      • দুর্নীতি/আঁতাতের সন্দেহ

 

৫. কোন কোন বিষয়ে অভিযোগ করা যায় না


PPA 2006 (ধারা 29(2)) অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয়। যেমন –

    • ক্রয় পদ্ধতি নির্বাচন (পণ্য/কার্য/সেবা)
    • কোন আবেদনকারীর সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্তির আবেদন প্রত্যাখ্যান
    • প্রাকযোগ্যতার আবেদন/দরপত্র/কোটেশন/প্রস্তাব বাতিলের সিদ্ধান্ত
    • সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি অনুমোদনের পর চুক্তি সম্পাদনের সিদ্ধান্ত

 

৬. অভিযোগ দাখিলের স্তর


অভিযোগের পথ দুটি স্তরে পরিচালিত হয়:

  • প্রশাসনিক স্তর (বিধি ৭৩): PE → HOPE → সচিব
  • রিভিউ প্যানেল স্তর: প্রশাসনিক ধাপ শেষ করে অসন্তুষ্ট হলে BPPA-এর রিভিউ প্যানেলে আপিল

বি:দ্র: কোনো ব্যক্তি প্রত্যেকটি স্তরের জন্য নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে লিখিত সিদ্ধান্ত প্রাপ্ত না হইলে, উক্ত ব্যক্তি ০৩ কার্যদিবসের মধ্যে সরাসরি উক্ত কর্তৃপক্ষের পরবর্তী ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট অভিযোগ দায়ের করিতে পারিবে।  [বিধি-৭৩(৯)]

আগের স্তরে অভিযোগ না করে পরের কোন স্তরে সরাসরি অভিযোগ দাখিল করতে পারবেনা।

 

৭. এক নজরেঃ অভিযোগ দায়ের ও তা নিস্পত্তির সময়সীমা


Time Table (Complain & Appeal)

 

৮. রিভিউ প্যানেলে আপিল: কখন এবং কীভাবে


সাধারণ নিয়ম হলো – প্রশাসনিক স্তরের সব ধাপ শেষ করে তবেই রিভিউ প্যানেলে আপিল করা যাবে।

  • সচিবের সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট না হলে রিভিউ প্যানেলে আপিল করা যায় (বিধি ৭৩(১১))
  • প্রশাসনিক সব ধাপ “exhaust” না করে সরাসরি আপিল করা যায় না (বিধি ৭৩(১২))
  • ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে: NOA জারি/চুক্তি সম্পাদিত হলে প্রশাসনিক স্তরে কোন অভিযোগ করা যাবে না; তবে ত্রুটিপূর্ণ বা বিধিবহির্ভূত NOA/চুক্তির যৌক্তিক কারণ থাকলে রিভিউ প্যানেলে সরাসরি আনুষ্ঠানিক আপিল করা যায় [বিধি ৭৩(১৪)]

 

৯. রিভিউ প্যানেল এর গঠন


৯.১ রিভিউ প্যানেলের সদস্য হিসেবে বিশেষজ্ঞের তালিকা সংরক্ষণ

BPPA তিন শ্রেণির বিশেষজ্ঞের তালিকা সংরক্ষণ করে – [বিধি-৭৪(২)]

      • ১০ জন ক্রয়সংক্রান্ত আইন বিশেষজ্ঞ,
      • ১০ জন কারিগরি ও ক্রয়-অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ, এবং
      • ১০ জন চুক্তি ব্যবস্থাপনা ও বিরোধ নিষ্পত্তিতে অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ

৯.২ রিভিউ প্যানেলের গঠন কাঠামো – [বিধি-৭৪(২)]

      • প্রতি প্যানেলে উপরোক্ত তিন শ্রেণি থেকে অন্তত একজন করে সদস্য; মোট সদস্য ন্যূনতম ৩ জন, একজন সভাপতি হিসেবে মনোনীত হবে
      • কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা প্যানেলের সদস্য হতে পারবেন না
      • প্রয়োজনে কেসভিত্তিক সর্বোচ্চ ২ জন অতিরিক্ত বিশেষজ্ঞ কো-অপট করা যেতে পারে

 

১০. রিভিউ প্যানেলের সিদ্ধান্ত ও প্রকাশ [বিধি-৭৭(৩)]


১০.১ সিদ্ধান্ত প্রদানের সময়সীমা

রিভিউ প্যানেল অভিযোগ পাওয়ার ১২ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত সিদ্ধান্ত প্রদান করে এবং এর কপি অভিযোগকারী, সংশ্লিষ্ট সচিব, BPPA ও ক্রয়কারীকে পাঠায়।

১০.২ সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত

তুচ্ছ অভিযোগ খারিজ (প্রয়োজনে জামানত বাজেয়াপ্ত) ব্যতীত, রিভিউ প্যানেল –

      • আপিল খারিজ করে ক্রয় কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে পারে,
      • আইন ও বিধি অনুযায়ী সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিতে পারে,
      • বিধিবহির্ভূত সিদ্ধান্ত/কার্যক্রম আংশিক বা সম্পূর্ণ বাতিল করতে পারে,
      • বিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ ও নিরাপত্তা জামানত ফেরতের সিদ্ধান্ত দিতে পারে,
      • প্রয়োজনে ক্রয় কার্যক্রম সম্পন্ন করার নির্দেশ দিতে পারে।

১০.৩ সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও তা প্রকাশ করা

      • সিদ্ধান্ত সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের মতামতে গৃহীত হয় এবং তা চূড়ান্ত ও সকলপক্ষের জন্য বাধ্যতামূলক।
      • সিদ্ধান্ত প্রদানের পর অভিযোগ ও সিদ্ধান্ত সাধারণের পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত থাকে যদি না তথ্য প্রকাশে আইনসঙ্গত কোন বাধা থাকে।

 

১১. আপিল চলাকালীন চুক্তিসম্পাদন স্থগিত রাখার বিধান


পিপিআর-২০২৫ অনুযায়ী কোনো ক্রয় কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আপিল দাখিল হলে, নির্দিষ্ট শর্তে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত চুক্তিসম্পাদনের নোটিশ (NOA) জারি স্থগিত রাখার বিধান রয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো – আপিল বিচারাধীন অবস্থায় ক্রয় কার্যক্রমে অপূরণীয় ক্ষতি রোধ করা।

১১.১ আপিল গ্রহণ ও রিভিউ প্যানেলে প্রেরণ

বিপিপিএ (BPPA) নির্ধারিত নিবন্ধন ফি ও নিরাপত্তা জামানতসহ কোনো আপিল আবেদন গ্রহণ করলেঃ

      • আবেদন গ্রহণের ৩ কার্যদিবসের মধ্যে পালাক্রমে একটি রিভিউ প্যানেল গঠন করে আপিলটি নিষ্পত্তির জন্য প্রেরণ করবে;
      • রিভিউ প্যানেলের সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ক্রয়কার্যে চুক্তিসম্পাদন না করার জন্য ক্রয়কারীকে নির্দেশ প্রদান করবে; এবং
      • গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগের সচিব ও আপিলকারীকে লিখিতভাবে অবহিত করবে।

১১.২ অভিযোগ বা আপিল বিচারাধীন থাকলে NOA জারি

      • ক্রয়কারী বা রিভিউ প্যানেলের নিকট কোনো অভিযোগ বা আপিল বিচারাধীন থাকলে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত চুক্তিসম্পাদনের নোটিশ (NOA) জারি করা যাবে না।
      • তবে এই সময়ের মধ্যে দরপত্র মূল্যায়ন ও অনুমোদন সংক্রান্ত অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা যাবে।

১১.৩ জনস্বার্থে ব্যতিক্রম

      • যদি ক্রয়কারী দপ্তরের প্রধান (HOPE), সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সচিব অথবা মন্ত্রীর পূর্বানুমোদনক্রমে এই মর্মে সনদ প্রদান করা হয় যে, জনস্বার্থ বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট ক্রয় কার্য পরিচালনা করা অপরিহার্য, তাহলে NOA জারি স্থগিতের বিধান প্রযোজ্য হবে না।
      • বিচার বিভাগীয় পুনর্বিবেচনা ব্যতীত, অভিযোগ ও আপিলের সকল পর্যায়ে এই সনদ চূড়ান্ত ও বাধ্যতামূলক বলে গণ্য হবে।

 

১২. রিভিউ প্যানেল ভাঙন, সদস্য অপসারণ ও পুনর্গঠন [বিধি ৭৫]


  • সরকার জনস্বার্থে কারণ উল্লেখ করে যে কোনো সময় রিভিউ প্যানেল বিলুপ্ত করতে পারে
  • স্বার্থের সংঘাত, ধারা ৬৪ লঙ্ঘন, অক্ষমতা বা মৃত্যুর কারণে প্যানেলের সদস্য অপসারণ করা যেতে পারে
  • সদস্য অপসারণে শূন্যপদ সৃষ্টি হলে বিধি ৭৪ অনুযায়ী তা পূরণ করতে হবে

 

১৩. উপসংহার


পিপিএ-২০০৬ এবং পিপিআর-২০২৫ অনুযায়ী অভিযোগ ও আপিল ব্যবস্থা সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করার একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো । সময়সীমা মেনে সঠিক ধাপে অভিযোগ/আপিল দাখিল করলে অনিয়ম দ্রুত চিহ্নিত হয় এবং প্রয়োজনে সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ সম্ভব হয়।

আরও দেখুনঃ PPR-2025 সংক্রান্ত আলোচনা

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই লেখকের অন্যান্য লেখা

আলাপচারি

সরকারী ক্রয়ে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি (CCEA) এবং সরকারী ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি (CCGP)-এর ভূমিকা

Md. Moktar Hossain MCIPS, PMP, CPCM Deputy Director (Xen) Directorate of Design & Inspection-01 Bangladesh Power Development Board Mobile: 01722044335 Email:

Read More »
Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content
Post Type Selectors
গ্রাহক হোন

শুধুমাত্র Registered ব্যবহারকারিগন-ই সব ফিচার দেখতে ও পড়তে পারবেন। এক বছরের জন্য Registration করা যাবে। Registration করতে এখানে ক্লিক করুন

 

** সীমিত সময়ের জন্য Discount চলছে।

ফ্রী রেজিস্ট্রেশন

“প্রকিউরমেন্ট বিডি news”, “সমসাময়িক”, “সূ-চর্চা”, “প্রশিক্ষণ” অথবা “ঠিকাদারী ফোরাম” ইত্যাদি বিষয়ে কমপক্ষে ২টি নিজস্ব Post প্রেরণ করে এক বছরের জন্য Free রেজিষ্ট্রেশন করুণ। Post পাঠানোর জন্য “যোগাযোগ” পাতা ব্যবহার করুণ।

সূচীঃ PPR-25

সর্বশেষ

Scroll to Top