দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি গঠনে অনিয়ম
সরকারি টেন্ডারে বাংলাদেশের সরকারি ক্রয় আইন (Public Procurement Act-2006) ও বিধিমালা (Public Procurement Rules-2008) মোতাবেক দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি (Tender Evaluation Committee – TEC) গঠন করতে হয়। এর অন্যথা হলেই অনিয়ম। এ ধরনের অনিয়ম দরপত্র প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
সম্প্রতি, বিআইডব্লিউটিএ’র ১১ হাউজবোট ক্রয়ের মূল্যায়ন কমিটি গঠনে অনিয়ম নিয়ে অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন একটি প্রকল্পের অধীনে ১১টি ক্রু হাউজবোট কেনার জন্য ২০২৪ সালের ৬ জুন দরপত্র আহ্বান করা হয়। এর বিপরীতে ৪টি প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দেয়। গত বছরের ১৫ জুলাই তাদের মধ্যে একটিকে কাজ দেওয়ার সুপারিশ করে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি। অভিযোগ উঠেছে, এই দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত বিধিমালা মানা হয়নি।
অভিযোগ হলো – ই-জিপিতে আহবানকৃত দরপত্রটিতে মূল্যায়ন কমিটির সভাপতি হিসেবে প্রকল্প পরিচালককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মূল্যায়ন কমিটি অনুমোদন করেছেন বিআইডব্লিউটিএ এর চেয়ারম্যান।
এ অভিযোগ নিয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে গত ২২ মে বিআইডব্লিউটি এর ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। মূল্যায়ন কমিটি গঠনে বা অনুমোদনে অনিয়ম হয়েছে কি না জানতে চাওয়ার পাশাপাশি ই-জিপি সিস্টেমের ওয়ার্ক ফ্লো দাখিল করতে বলা হয়। এ ছাড়া, প্রকল্প পরিচালককে মূল্যায়ন কমিটির আহ্বায়ক কেন করা হয়েছে তারও ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়।
গত ২৮ মে মন্ত্রণালয়ের ওই চিঠির ব্যাখ্যা দেয় বিআইডব্লিউটিএ। সংস্থাটির ব্যাখ্যায় দরপত্র প্রক্রিয়ার এই অনিয়মকে ‘ভুল’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, দরপত্রটি ই-জিপি সিস্টেমে আহ্বান করা হলে অনলাইনে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি গঠন করা হয়। মূল্যায়ন কমিটিতে হোপ (HOPE) এর অব্যবহিত নিম্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তা হিসেবে প্রকল্প পরিচালককে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির আহ্বায়ক করা হয়। ই-জিপি সিস্টেমে দরপত্র আহ্বান করাকালীন মূল্যায়ন কমিটি গঠনের সময় ই-জিপিতে ওয়ার্ক ফ্লো তৈরিতে ভুলক্রমে HOPE-কে অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে রাখা হয়। ফলে তা HOPE কর্তৃক অনুমোদিত হয় এবং প্রকল্প পরিচালককে দরপত্রের মূল্যায়ন কমিটির আহ্বায়ক করা হয়। ই-জিপি সিস্টেমে মূল্যায়ন কমিটি গঠন ও অনুমোদনের বিষয়টি সিস্টেম কর্তৃক স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারিত হয়েছে। তবে, ভবিষ্যতে এ জাতীয় ভুল হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
এ ঘটনায় মন্ত্রনালয় হতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছে। এরপর ব্যবস্থা নেওয়া হবে মর্মে জানা গিয়েছে।
গত বছরের ১৫ জুলাই দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে থ্রি অ্যাঙ্গেল মেরিনের নাম সুপারিশ করে। এরপর এর সুপারিশ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। সেখানে ধরা পড়ে মূল্যায়ন কমিটি গঠনে অনিয়মের বিষয়টি। ফলে আটকে যায় এ টেন্ডার প্রক্রিয়া।
পিপিআর ২০০৮ এর বিধিতে এগুলো নিয়ে কোথায় কি আছে বিস্তারিত জানতে দেখুনঃ
এই লেখকের অন্যান্য লেখা

পাবলিক প্রকিউরমেন্টে পেশাদারিত্বের নতুন দিগন্ত: BIM-এর ডিপ্লোমা প্রোগ্রাম (DPPM)
বাংলাদেশের সরকারি ক্রয় বা পাবলিক প্রকিউরমেন্ট ব্যবস্থা এখন একটি অত্যন্ত প্রযুক্তিগত এবং আইনি কাঠামোর মধ্য দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। প্রতি বছর

সিএজি কার্যালয়ে বিশেষ সেবা সপ্তাহঃ ক্রয়কারি, পিডি অফিস ও ঠিকাদারদের জন্য অনন্য সুযোগ
বাংলাদেশের কম্পট্রোলার এন্ড অডিটর জেনারেল (সিএজিঃ CAG) কার্যালয়ের ৫৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ ১১ মে থেকে ১৯ মে, ২০২৬ পর্যন্ত ০৭

দরপত্র দলিল e-PG5A(National) এবং e-PG8(National) এর বৈশিষ্ঠ্য কি, কখন ব্যবহৃত হবে ?
ক্রয়কারিকে আদর্শ দরপত্র দলিল ব্যবহার (Standard Tender document – STD) করে দরপত্র আহবান করতে হয় এবং ঠিকাদার বা সরবরাহকারিদের সে

e-GP তে আরও ২টি নতুন আদর্শ দরপত্র দলিল (STD) যুক্ত হয়েছে
বিপিপিএ (Bangladesh Public Procurement Authority – BPPA) কর্তৃক পিপিআর ২০২৫ অনুসারে গত ৭ মে ২০২৬ ইং তারিখে আরও ২টি আদর্শ দরপত্র দলিল