উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন ও প্রক্রিয়া সহজীকরণে পরিকল্পনা বিভাগের উদ্যোগ
সরকারি বিনিয়োগের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে সরকার “সরকারি খাতে উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন, প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন ও সংশোধন নির্দেশিকা” সংশোধনের এক বড় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। মূলত বাজেট বরাদ্দের সীমাবদ্ধতার মধ্যে প্রকল্পের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং প্রকল্প যাচাই-বাছাই ও মূল্যায়ন পদ্ধতিকে প্রমিত (Standardization) করাই এই সংস্কারের মূল উদ্দেশ্য।
বর্তমানে সংস্থা পর্যায়ে মানসম্মত ডিপিপি (DPP) প্রণয়নে এখনো নানাবিধ সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য ১২ জুন ২০২২-এ জারিকৃত নির্দেশিকাটি সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে পরিকল্পনা বিভাগ। পরিকল্পনা বিভাগ এই নির্দেশিকা সংশোধনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সংযোজন, বিয়োজন বা প্রতিস্থাপনের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট মতামত আহ্বান করেছে।
উন্নয়ন প্রকল্প নির্দেশিকা ২০২২ অনুযায়ী, সরকারি খাতে উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন, প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন ও সংশোধনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ যেমন মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা কমিশন (Planning Commission) এবং একনেক (ECNEC)-এর নির্দিষ্ট অনুমোদন সীমা ও পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়।
অতি সম্প্রতি, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ ও পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০২৫ (পিপিআর ২০২৫) এবং ‘আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ আদেশ-২০২৬ (Delegation of Financial Power 2026)’ জারি করেছে সরকার। সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনা, ক্রয় কার্যক্রম এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে এগুলো সবই গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সংস্কার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ফলে, ক্রয় আইন/বিধি এবং আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ আদেশ এর সাথে সমন্বয় করে উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন, প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন ও সংশোধন নির্দেশিকাটি আপডেট করা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।
এই নতুন আদেশ কার্যকর হলে সরকারি দপ্তরগুলোর আর্থিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং এর ফলে সাধারণ মানুষও দ্রুত সেবা পাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। তবে এর সফলতা নির্ভর করবে সঠিক বাস্তবায়ন, নিয়মিত তদারকি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর।
নিচে পরিকল্পনা বিভাগ হতে জারিকৃত পত্রটি দেখা যেতে পারে –

এই লেখকের অন্যান্য লেখা

পাবলিক প্রকিউরমেন্টে পেশাদারিত্বের নতুন দিগন্ত: BIM-এর ডিপ্লোমা প্রোগ্রাম (DPPM)
বাংলাদেশের সরকারি ক্রয় বা পাবলিক প্রকিউরমেন্ট ব্যবস্থা এখন একটি অত্যন্ত প্রযুক্তিগত এবং আইনি কাঠামোর মধ্য দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। প্রতি বছর

সিএজি কার্যালয়ে বিশেষ সেবা সপ্তাহঃ ক্রয়কারি, পিডি অফিস ও ঠিকাদারদের জন্য অনন্য সুযোগ
বাংলাদেশের কম্পট্রোলার এন্ড অডিটর জেনারেল (সিএজিঃ CAG) কার্যালয়ের ৫৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ ১১ মে থেকে ১৯ মে, ২০২৬ পর্যন্ত ০৭

দরপত্র দলিল e-PG5A(National) এবং e-PG8(National) এর বৈশিষ্ঠ্য কি, কখন ব্যবহৃত হবে ?
ক্রয়কারিকে আদর্শ দরপত্র দলিল ব্যবহার (Standard Tender document – STD) করে দরপত্র আহবান করতে হয় এবং ঠিকাদার বা সরবরাহকারিদের সে

e-GP তে আরও ২টি নতুন আদর্শ দরপত্র দলিল (STD) যুক্ত হয়েছে
বিপিপিএ (Bangladesh Public Procurement Authority – BPPA) কর্তৃক পিপিআর ২০২৫ অনুসারে গত ৭ মে ২০২৬ ইং তারিখে আরও ২টি আদর্শ দরপত্র দলিল