Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content
Post Type Selectors

বর্তমানে ই-জিপি তে দরপত্রদাতারা কি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন ……???

Facebook
Twitter
LinkedIn

২০১৬ ও ২০১৭ অর্থবছরের শেষ ৩ মাসের (এপ্রিল-জুন) বেশ কিছু দরপত্র (Random selection method এ) যাচাই করে দেখা যায় টেন্ডারে ঠিকাদারদের অংশগ্রহনের হার কমে যাচ্ছে। ২০১৬ সালে প্রতিটি দরপত্রে যেখানে গড়ে প্রায় ৪টির বেশি দরপত্র বিক্রির বিপরীতে প্রায় ৩টির বেশি দরপত্র দাখিল হত, সেখানে ২০১৭ সালে তা এসে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে গড়ে প্রায় ৩টি ও ২টির কিছু বেশি তে (ছক-১)।

ছক-১: All are in Numbers.

 

এই সংখ্যা পুরোটাই ই-জিপি থেকে দৈবচয়ন পদ্ধতিতে এবং উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি অনুসরণ করে কার্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে দপ্তর বা মন্ত্রণালয় নির্বিশেষে প্রায় ২১৫টি দরপত্র থেকে পাওয়া। যে সকল প্যাকেজে সরকারী অর্থ ব্যয়ের সংকুলান রয়েছে শুধুমাত্র সে সকল কার্য চুক্তির তথ্য-ই বাছাই করে নেয়া হয়েছে। পুরো মডেলটাই একটা গানিতিক ধারনা পাবার জন্য ব্যবহার করা।

এখন কথা হচ্ছে, এই উল্লেখিত সময়ে অর্থাৎ ২০১৬ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে ই-জিপি সিষ্টেমে নতুন প্রায় ৮-৯ হাজার দরপত্রদাতা রেজিষ্ট্রেশন করেছেন। ব্যাংক এবং তাদের ব্রাঞ্চের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। ইতোমধ্যেই ই-জিপিতে দরপত্র আহবান ১ লক্ষ পার হয়েছে। তাহলে, প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র আহবানের সকল নিয়ামক যদি অনুকুলেই থাকে তবে এই অংশগ্রহনের হার নিন্মগামী কেন ? জাতির বিবেকের কাছে প্রশ্ন ……

(হয়তো বা) সমস্যাটা শুরু হয়েছে গত ২১ নভেম্বর, ২০১৬ তারিখে পিপিআর-০৮ এর সর্বশেষ সংশোধনী জারী হবার পর হতে (এটা একটা ব্যক্তিগত ধারনা মাত্র)। অনেকেই এটা আশংকা করেছিলেন। গত ৫ ডিসেম্বর ২০১৬ সালে আমার একটা লেখায় সেই বিপত্তিগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করেছিলাম (বিস্তারিত)। তারপরও বর্তমান প্রেক্ষাপটের আলোকে সংক্ষেপে কিছু বিষয় আবার তুলে ধরছিঃ

১। অংশগ্রহনকারী সকল দরপত্রদাতাকে দরপত্র দাখিলের সময় (Performance Matrix সংযুক্ত হবার কারনে) আগের চেয়ে অনেক বেশি তথ্য দাখিল করতে হচ্ছে। চাহিদা অনুযায়ি সকল তথ্যের আলোকে দলিলাদি সংগ্রহ করা দরপত্রদাতাদের জন্য একটি শ্রমসাধ্য কাজ বলে ধরে নেয়া যায়।

২। দরপত্র দাতাদের কোনরূপ প্রশিক্ষন ব্যতিরেকেই এই আইন ও বিধি কার্যকর হয়েছে। ফলে দূর্বল ও ছোট ছোট দরপত্রদাতারা হয়তো বা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে যাচ্ছে এবং দিন দিন উৎসাহ হারিয়ে ফেলছে।

৩। দাপ্তরিক প্রাক্কলিনের গুরূত্ব দরপত্রদাতাদের কাছে অনেক বৃদ্ধি পাবে এবং তা পেয়েছে বলে আশংকা করাই যায়। এতে প্রতিযোগিতার পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে (যদিও থিওরিটিক্যালি হবার কথা নয়)। সবার আগ্রহ থাকবে (যে কোন ভাবে !!!) দাপ্তরিক প্রাক্কলন সংগ্রহ করে সে অনুযায়ী একেবারে ১০% কম দরে দরপত্র দাখিল করা। এই পদ্ধতির ফলে প্রচ্ছন্ন ভাবে collusion কে উৎসাহিত করা হচ্ছে বললে কি ভূল বলা হবে ? (এ সংক্রান্ত একটি গদ্য রচনা কেউ চাইলে দেখতে পারেন।)

৪। সমদরে দরপত্র দাখিলের পরিমান নিশ্চিতভাবেই বেড়েছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই মূল্যায়নের শেষ পর্যায়ে এসে আসলে একপ্রকারে টার্নওভার দিয়েই সর্বনিন্ম গ্রহনযোগ্য দরদাতা নির্ধারিত হচ্ছে। বিষয়টি ইতোমধ্যেই সবাই (!) উপলব্ধি করতে পেরেছেন। ফলে বড় বড় প্রতিষ্ঠানের কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বাস্তবে তা-ই দেখা যাচ্ছে।

আরও কারন থাকতে পারে, এই মূহূর্তে মনে করতে পারছি না বলে দূঃখিত। কোন সূহৃদ মহোদয়ের মনে পড়লে নিচের কমেন্টস এ লিখেন। সবাই দেখতে পাবেন।

যাই হোক, সমঝদার কে লিয়ে ইশারাই কাফি। একটি গবেষণায় দেখা গেছে গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে সব পদ্ধতি আমলে নিয়ে দরপত্র জমার হার ছিল ৮টির কাছাকাছি। এখন, উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি অনুসরণ করে কার্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে জাতীয় পর্যায়ে আহবানকৃত দরপত্রের ক্ষেত্রে তা নেমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ এ। বর্তমানে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে কার্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে যে প্রতিযোগিতার পরিবেশ বিনষ্ট হয়েছে তা আর বুঝতে কার-ই বা বাকি আছে (তারপর-ও জেগে জেগে ঘুমাতে কোন বাধা নাই)।

এখন, একটু আগ বাড়িয়ে উপরের হেড লাইনটা কিছুটা সংযোজন বিয়োজন করে যদি বলি “বর্তমানে (ছোট বা মাঝারী টার্নওভারের) দরপত্রদাতারা কি অংশগ্রহনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন ……???” তাহলে কি মহাভারত অশুদ্ধ হবে !

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই লেখকের অন্যান্য লেখা

প্রকল্প ব্যবস্থাপনা

উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন ও প্রক্রিয়া সহজীকরণে পরিকল্পনা বিভাগের উদ্যোগ

সরকারি বিনিয়োগের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে সরকার “সরকারি খাতে উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন, প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন ও সংশোধন

Read More »
সমস্যা/কেস স্টাডি

কনসালট্যান্টের প্রাথমিক চুক্তি ১৮ মাসের। একবার সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে। এখন আবারও ১০০% সময় বৃদ্ধি লাগবে। করা যাবে কি না ? PPR-০৮ নাকি ২৫ অনুসরণ হবে ?

উন্নয়ন প্রকল্পে ৩ লাখ টাকা বেতনে পিপিআর ২০০৮ অনুযায়ী একজন কনসালট্যান্টের ১৮ মাসের জন্য ৫৪ লক্ষ টাকার প্রাথমিক চুক্তি ছিল।

Read More »
New scope
প্রকল্প ব্যবস্থাপনা

মন্ত্রীদের প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষমতায় লাগামঃ নতুন বার্তা

বাংলাদেশে উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের প্রচলিত ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এতদিন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা স্ব-শাসিত সংস্থা

Read More »
প্রকিউরমেন্ট বিডি news

আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ আদেশ-২০২৬ জারীঃ সরকারি ক্রয় ও ব্যয় প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তন

দীর্ঘ ১১ বছর পর সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি কাঠামো পরিবর্তন করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। ‘আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ আদেশ-২০১৫’ বাতিল

Read More »
Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content
Post Type Selectors
গ্রাহক হোন

শুধুমাত্র Registered ব্যবহারকারিগন-ই সব ফিচার দেখতে ও পড়তে পারবেন। এক বছরের জন্য Registration করা যাবে। Registration করতে এখানে ক্লিক করুন

 

** সীমিত সময়ের জন্য Discount চলছে।

ফ্রী রেজিস্ট্রেশন

“প্রকিউরমেন্ট বিডি news”, “সমসাময়িক”, “সূ-চর্চা”, “প্রশিক্ষণ” অথবা “ঠিকাদারী ফোরাম” ইত্যাদি বিষয়ে কমপক্ষে ২টি নিজস্ব Post প্রেরণ করে এক বছরের জন্য Free রেজিষ্ট্রেশন করুণ। Post পাঠানোর জন্য “যোগাযোগ” পাতা ব্যবহার করুণ।

সূচীঃ PPR-25

সর্বশেষ

Scroll to Top