আলাস্কাঃ একটি কৌশলগত ভূমি ক্রয়
ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আজ শুক্রবার আলাস্কার সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটিতে বৈঠকে বসছেন। বহুল প্রতীক্ষিত বৈঠক বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় শুরু হবে।
সারা পৃথিবীর সবার চোখ এখন সেই দিকে।
পুতিন হবেন আলাস্কা সফরকারী প্রথম রাশিয়ান নেতা।
ঘটনা কি ?
আলাস্কা এমনিতেই ঐতিহাসিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। প্রায় দেড়শ বছর আগেও জায়গাটি ছিল রাশিয়ার। যুক্তরাষ্ট্র ১৮৬৭ সালে রাশিয়ার কাছ থেকে আলাস্কা কিনে নেয়।
এর আগে ১৮৬৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে গৃহযুদ্ধ শেষে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম সিওয়ার্ড রাশিয়ার প্রস্তাব গ্রহণ করেন। তখন মাত্র ৭২ লাখ ডলারে আমেরিকার কাছে আলাস্কা বিক্রি করে দেয় রাশিয়া। এই অর্থ এখনকার হিসেবে বাংলাদেশি টাকায় ৬৪ কোটির মতো। এ কেনাবেচায় প্রতি একরের দাম পড়ে ২ সেন্টেরও কম।
অনেক আমেরিকান এই ক্রয়ের সমালোচনা করেছিলেন, তারা এটিকে “Seward’s Icebox” বা একটি ‘বিচারবুদ্ধিহীন’ ক্রয় বলে উপহাস করেছিলেন।
সেই আলাস্কাতেই প্রথম কোন রাশিয়ান সরকার প্রধান আমেরিকার সাথে ইউক্রেনের ভূমি দখল নিয়ে আলোচনায় বসতেছে।
কেন আলাস্কা আমেরিকার কাছে বিক্রি করেছিল
বাংলাদেশের চার গুণেরও বেশি আলাস্কা পাহাড়-পর্বত এবং সমুদ্রে ঘেরা অনতিক্রম্য এক তুষারের মরুভূমি। রাশিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে ছিল অনেক দূরে। জনসংখ্যা ছিল খুবই কম। পুরো অঞ্চল চরম ভাবাপন্ন। তেমন কোন আয় হতো না সেখান থেকে। রাশিয়া মূলত এসব কারণেই আলাস্কা আমেরিকার কাছে বিক্রি করেছিল। এছাড়াও ছিল ভূ-রাজনৈতিক কারণ।
আঠারোশ শতকে রাশিয়া এবং আমেরিকার মধ্যে বৈরিতা ছিল না। তারা উভয়ে ব্রিটেনকে অপছন্দ করতো। আলাস্কা থেকে তখন খুব কম লাভ আসছিল। উপরন্তু এ অঞ্চল ব্রিটিশ–নিয়ন্ত্রিত কানাডার কাছে অবস্থিত হওয়ায় ভবিষ্যতে যুদ্ধ হলে ব্রিটেন সহজেই ওই অঞ্চলের দখল নিয়ে নিতে পারবে বলে আশঙ্কা ছিল।
রাশিয়া ভয় পাচ্ছিল যে, যদি ব্রিটেনের সাথে যুদ্ধ হয়, তাহলে আলাস্কা তাদের হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে। তাই ব্রিটেনের কাছে হারানোার চেয়ে আমেরিকার কাছে বিক্রি করে দেওয়াই তারা ভালো মনে করেছিল।
বর্তমান প্রেক্ষাপটঃ
১৮৯৬ সালে আলাস্কায় যখন স্বর্ণের খনি আবিষ্কৃত হয় তখন সবাই নড়েচড়ে বসে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর কৌশলগত গুরুত্বও বৃদ্ধি পেতে থাকে। তখন সবাই বুঝতে শুরু করে যে মি. সিওয়ার্ড কোন বোকামি করেন নি।
এছাড়া দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আলাস্কার কৌশলগত গুরুত্বও বোঝা গিয়েছিল।
বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদের জন্য আলাস্কা বর্তমানে পরিচিত একটি নাম। জিঙ্ক উৎপাদনে প্রথম। আমেরিকার ৫০ শতাংশ সামুদ্রিক খাদ্য আসে আলাস্কা থকে। বহু বছর ধরে আলাস্কা আমেরিকার তেল উৎপাদনকারী অঙ্গরাজ্যের মধ্যে অন্যতম।
আলাস্কায় কোনো রাজ্য আয়কর বা বিক্রয়কর নেই, যা যুক্তরাষ্ট্রে খুবই বিরল।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আলাস্কায় পর্যটনও দ্রুত বেড়েছে। জাতীয় উদ্যান ও হিমবাহ দেখতে প্রতিবছর অসংখ্য পর্যটক আলাস্কায় যান। একসময় আলাস্কাকে উপহাসের কেনাকাটা বলা হতো। আজ সেটা বদলে পরিণত হয়েছে প্রাকৃতিক সম্পদ, মৎস্য সম্পদ ও পর্যটনভিত্তিক সমৃদ্ধ রাজ্য।
২০১৯ সালে প্রথম মেয়াদে আলাস্কায় গিয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন, এখানে কর্মরত সেনারা ‘আমাদের দেশের শেষ সীমানায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রতিরক্ষা লাইন’ হিসেবে কাজ করছেন।
যা একসময় মনে করা হতো Seward’s Icebox তা এখন কালের পরিক্রমায় চকলেট বক্সে পরিনত হয়েছে।
তবে আলাস্কার ইতিহাসে জমি কেনাবেচা নতুন কিছু না হলেও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি আশা করছেন, আজকের ট্রাম্প-পুতিনের বৈঠক যেন তাঁদের ভূখণ্ডের বিনিময়ে শেষ না হয়।
এই লেখকের অন্যান্য লেখা

Balancing Discretion and Equal Treatment: Insights from the CJEU’s Landmark Ruling
In 2026, the Court of Justice of the European Union (CJEU) delivered a landmark ruling in Case C-590/24 AK Dlhopolec

Procurement-এ flexibility আছে, কিন্তু তা সীমাহীন নয়ঃ ইউরোপের সর্বোচ্চ আদালত
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইনে ২০২৬ সালের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রায়গুলোর একটি হলো Case C-590/24 AK Dlhopolec and Others। এই মামলাটি

১টি ৩৫ কোটি টাকার রাস্তার কাজ যা মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিয়েছিল। এখন, কাজ চলাকালীন ভেরিয়েশন লাগবে। কিছু আইটেমের কাজ কমে যাওয়ায় ৩৫ কোটি টাকার মধ্যেই কাজটি সম্পন্ন করা যাবে। সমস্যা হলো, ৫টি Non-Tender আইটেম লাগবে যা সব মিলে ৩.৫ কোটি টাকার। এখন, এক্ষেত্রে কি ভেরিয়েশন লাগবে ? কে অনুমোদন দিবে, মন্ত্রণালয় নাকি HOPE ?
চুক্তি সম্পাদনের পর হতে উক্ত চুক্তি সফলভাবে সম্পন্ন বা বাতিল পর্যন্ত সময়ে প্রশাসনিক, আর্থিক, ব্যবস্থাপনাগত ও কারিগরী কারনে চুক্তির ভেরিয়েশন

রেডিও Talk: আন্তর্জাতিক প্রকিউরমেন্ট দিবস
বিস্তারিত দেখুনঃ আন্তর্জাতিক প্রকিউরমেন্ট দিবস