সরকারি ক্রয়ে ‘স্বার্থের সংঘাত’: আইনি বাধ্যবাধকতা ও করণীয়
সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে (Public Procurement) স্বচ্ছতা, প্রতিযোগিতা ও বস্তুনিষ্ঠতা নিশ্চিত করার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো ‘স্বার্থের সংঘাত’ বা কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট (Conflict of Interest) এড়িয়ে চলা। প্রকিউরমেন্ট প্রক্রিয়ায় সর্বোত্তম সেবা এবং অর্থের সঠিক ব্যবহার (Value for Money) নিশ্চিত করতে পিপিএ-২০০৬ এবং পিপিআর-২০২৫-এ এ বিষয়ে সুস্পষ্ট আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
‘স্বার্থের সংঘাত’ কী?
আইনি সংজ্ঞা: পিপিআর-২০২৫ এর বিধি ২(৬৪) অনুযায়ী, ‘স্বার্থের সংঘাত‘ অর্থ এইরূপ অবস্থা যেখানে কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক স্বার্থ কোনো ক্রয়কারীকে মিতব্যয়িতা, দক্ষতা, স্বচ্ছতা, সুবিচার, এবং দরপত্র বা প্রস্তাবসমূহের প্রতি সম-আচরণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রতিকূল প্রভাব বিস্তার করে থাকে।
সহজ কথায়, যখন কোনো কর্মকর্তা বা পরামর্শকের দাপ্তরিক দায়িত্ব এবং ব্যক্তিগত/পারিবারিক স্বার্থ মুখোমুখি দাঁড়ায় এবং বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত গ্রহণকে বাধাগ্রস্ত করে, তখনই স্বার্থের সংঘাত তৈরি হয়।
উদাহরণ:
ধরা যাক, একটি সরকারি দপ্তরে ১০০টি ল্যাপটপ ক্রয়ের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। উক্ত দপ্তরের দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির (TEC) প্রধান হলেন জনাব ‘ক’। এখন, এই দরপত্রে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একটি হলো ‘এবিসি আইটি সল্যুশনস’, যার স্বত্বাধিকারী জনাব ‘ক’-এর আপন ভাই অথবা ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়িক অংশীদার।
সংঘাতের জায়গা: দাপ্তরিক দায়িত্ব অনুযায়ী জনাব ‘ক’-এর উচিত সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে সবচেয়ে যোগ্য ও সাশ্রয়ী প্রতিষ্ঠানকে নির্বাচন করা। কিন্তু ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে তিনি অবচেতনভাবে বা ইচ্ছাকৃতভাবে ‘এবিসি আইটি সল্যুশনস’-কে দরপত্র মূল্যায়নে অন্যায্য সুবিধা দিতে পারেন। এটিই হলো একটি নিখুঁত ‘স্বার্থের সংঘাত’।
আরও পড়ুনঃ
স্বার্থের সংঘাতের বিভিন্ন রূপ ও আইনি বিধান
প্রকল্প প্রণয়ন বনাম সরবরাহ বা বাস্তবায়ন
====================================
পিপিএ-২০০৬ এর ধারা ২৮(১) এবং পিপিআর-২০২৫ এর বিধি ৭১(৪) অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কোনো ক্রয়কারী কর্তৃক নিয়োজিত হয়ে কোনো প্রকল্প প্রণয়ন বা বাস্তবায়নে পেশাগত ও বুদ্ধিবৃত্তিক সেবা (Intellectual Service) প্রদান করে থাকে, তবে ওই প্রতিষ্ঠান উক্ত প্রকল্প থেকে সরাসরিভাবে উদ্ভুত কোনো পণ্য সরবরাহ, কার্য সম্পাদন বা সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে অযোগ্য বিবেচিত হবে।
একইভাবে, ইতঃপূর্বে কোনো প্রকল্পে পণ্য, কার্য বা ভৌতসেবা প্রদানের জন্য নিযুক্ত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান পরবর্তীতে ওই একই পণ্য বা কার্যের ক্ষেত্রে পরামর্শক সেবা প্রদানের অযোগ্য বিবেচিত হবে।
উদাহরণ:
ধরা যাক, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (BPDB) একটি নতুন ৩৩/১১ কেভি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র (Substation) নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে।
পরামর্শক নিয়োগ (প্রকল্প প্রণয়ন): এই উপকেন্দ্রটির ফিজিবিলিটি স্টাডি (Feasibility Study), ড্রয়িং, ডিজাইন এবং দরপত্রের কারিগরি বিনির্দেশ (Technical Specifications) তৈরির জন্য “এবিসি কনসাল্টিং লিমিটেড”-কে পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলো। তারা সফলভাবে ড্রয়িং ও স্পেসিফিকেশন তৈরি করে জমা দিল।
দরপত্র আহ্বান ও সংঘাতের জায়গা: এরপর যখন মূল উপকেন্দ্রটি নির্মাণের জন্য উন্মুক্ত দরপত্র (OTM) আহ্বান করা হলো, তখন ওই একই প্রতিষ্ঠান “এবিসি কনসাল্টিং লিমিটেড” (বা তাদের কোনো সহযোগী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান) ওই নির্মাণ কাজ ও মালামাল সরবরাহের দরপত্রে অংশ নিল।
আইনি বিধান ও করণীয়: পিপিএ-২০০৬ এর ধারা ২৮(১) এবং পিপিআর-২০২৫ এর বিধি ৭১(৪) অনুযায়ী, এটি সরাসরি ‘স্বার্থের সংঘাত’। যেহেতু “এবিসি কনসাল্টিং” নিজেই প্রকল্পের স্পেসিফিকেশন তৈরি করেছে, তারা নিজেদের কাজ পাওয়ার সুবিধার্থে স্পেসিফিকেশনে এমন কিছু শর্ত জুড়ে দিতে পারে যা কেবল তারাই পূরণ করতে সক্ষম (Tailor-made specification)। তাই আইন অনুযায়ী, এই প্রতিষ্ঠান বা তাদের কোনো সহযোগী প্রতিষ্ঠান উক্ত সাবস্টেশন নির্মাণ বা মালামাল সরবরাহের দরপত্রে অংশগ্রহণের জন্য সম্পূর্ণ অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে।
টার্ন-কী (Turnkey) চুক্তির ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম
=====================================
আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ব্যতিক্রমের বিধান। পিপিএ-২০০৬ এর ধারা ২৮(২) অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি ঠিকাদার হিসেবে টার্ন-কী অথবা ডিজাইন ও নির্মাণ (Design and Build) চুক্তি বাস্তবায়নের সহিত সম্পৃক্ত থাকে, তবে উক্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে ধারা-২৮(১) এর অযোগ্যতার বিধান প্রযোজ্য হবে না।
উদাহরণ:
ধরা যাক, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (BPDB) একটি ১০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র (Solar Power Plant) নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দ্রুত কাজ শেষ করা এবং প্রযুক্তিগত ঝুঁকি এড়ানোর জন্য তারা পরামর্শক ও নির্মাণ ঠিকাদার আলাদাভাবে নিয়োগ না করে একটি “টার্ন-কী” (Turnkey) বা “ডিজাইন ও নির্মাণ” (Design and Build) চুক্তির আওতায় আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করল।
চুক্তির বাস্তবায়ন ও ব্যতিক্রমের প্রয়োগ: এই দরপত্রে অংশ নিয়ে কার্যাদেশ পেল “এক্সওয়াইজেড (XYZ) পাওয়ার লিমিটেড”। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, এই প্রতিষ্ঠানটিই প্রথমে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির সম্পূর্ণ ডিটেইলড ইঞ্জিনিয়ারিং ডিজাইন ও ড্রয়িং প্রস্তুত করবে এবং পরবর্তীতে সেই ডিজাইনের ওপর ভিত্তি করে সোলার প্যানেল সরবরাহ, পূর্ত কাজ (সিভিল ওয়ার্কস) এবং কেন্দ্রটি নির্মাণ ও চালুর (Commissioning) কাজ সম্পন্ন করবে।
আইনি ব্যাখ্যা: সাধারণ নিয়মে পিপিএ-২০০৬ এর ধারা ২৮(১) অনুযায়ী যে প্রতিষ্ঠান প্রজেক্টের ডিজাইন করে, সে সরবরাহ বা নির্মাণ কাজে অংশ নিতে পারে না। কিন্তু পিপিএ-২০০৬ এর ধারা ২৮(২) অনুযায়ী, টার্ন-কী (Turnkey) চুক্তির মূল বৈশিষ্ট্যই হলো ‘সিঙ্গেল পয়েন্ট রেসপনসিবিলিটি’ (Single Point Responsibility)। অর্থাৎ, একই ঠিকাদারকে প্রজেক্টের ডিজাইন থেকে শুরু করে Handover পর্যন্ত সম্পূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়। তাই এই বিশেষ চুক্তির ক্ষেত্রে “এক্সওয়াইজেড (XYZ) পাওয়ার লিমিটেড” কর্তৃক একই সাথে প্রকল্পের ড্রয়িং/ডিজাইন করা এবং তা নির্মাণ করা কোনো ভাবেই স্বার্থের সংঘাত (Conflict of Interest) হিসেবে গণ্য হবে না। এটি আইনের একটি বৈধ ব্যতিক্রম।
পরামর্শক সেবায় স্বার্থের সংঘাত (Consulting Services)
=================================================
বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখা: বিধি ৭১(২) অনুযায়ী, কোনো পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এমন কোনো কার্যকলাপে জড়াবে না যা তাদের দেওয়া বস্তুনিষ্ঠ পরামর্শের সাথে সংঘাত তৈরি করে। তাদেরকে সর্বদা ক্রয়কারীর স্বার্থ সমুন্নত রাখতে হবে এবং ভবিষ্যতে কাজ পাওয়ার প্রত্যাশায় কোনো কাজ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
দায়িত্বের সংঘাত: বিধি ৭১(৫) অনুসারে, কোনো পরামর্শক বা তার লোকবলকে এমন কোনো দায়িত্ব দেওয়া যৌক্তিক নয়, যা একই ক্রয়কারী বা অন্য কোনো ক্রয়কারীর জন্য পালিত তার অন্য কোনো দায়িত্বের সাথে সংঘাত সৃষ্টি করে।
অঙ্গীকারনামা: বিধি ১৩৯(২) (ঙ) ও (চ) অনুযায়ী প্রস্তাব দাখিলের অনুরোধ-সংবলিত দলিলে (RFP) পরামর্শকদের এই মর্মে অঙ্গীকার করতে হয় যে, ভবিষ্যতে সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত দেখা দিতে পারে বিধায় তারা সংশ্লিষ্ট কাজের ফলস্বরূপ উদ্ভুত পণ্য বা কার্য ক্রয়ের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করা হতে বিরত থাকবে।
মূল্যায়ন কমিটিতে (TEC/PEC) স্বার্থের সংঘাত ও আইনি বিধান
====================================================
দরপত্র বা প্রস্তাব মূল্যায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিতে মূল্যায়ন কমিটির ভূমিকা অনস্বীকার্য। এখানে স্বার্থের সংঘাত এড়াতে পিপিআর-২০২৫ এ কঠোর বিধান রয়েছে:
বহিঃসদস্য নিয়োগের অযোগ্যতা: বিধি ১২(৩) অনুযায়ী, কোনো মূল্যায়ন কমিটি কর্তৃক মূল্যায়নের জন্য নির্ধারিত আবেদনপত্র, দরপত্র বা প্রস্তাব দাখিলের সম্ভাবনা রয়েছে বা দাখিল করা হয়েছে এমন কোনো ব্যক্তির সাথে কোনো দাপ্তরিক ব্যক্তির ব্যবসায়িক বা ব্যক্তিগত স্বার্থ জড়িত থাকলে তাকে মূল্যায়ন কমিটির সদস্য নিয়োগ করা যাবে না। এছাড়া নিরপেক্ষভাবে কাজ করা সম্ভব হবে না এমন কোনো স্বার্থ জড়িত থাকলেও তাকে সদস্য নিয়োগ করা যাবে না।
পক্ষপাতহীনতার ঘোষণা: বিধি ১১(১৪)(ক) অনুযায়ী, মূল্যায়ন কমিটির প্রত্যেক সদস্যকে এককভাবে পক্ষপাতহীনতার একটি বিবৃতি স্বাক্ষর করতে হয়। বিবৃতিতে উল্লেখ থাকে:
“আমি …………… (নাম ও পদবি) এই মর্মে ঘোষণা ও নিশ্চয়তা প্রদান করিতেছি যে, প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী কোনো দরপত্রদাতা বা আবেদনকারীর সহিত আমার ব্যবসায়িক বা অন্য কোনোরূপ সম্পর্ক নাই।”
সদস্য প্রতিস্থাপন ও অপসারণ: বিধি ১১(১৩) অনুযায়ী, কোনো সদস্যের সাথে ব্যবসায়িক বা অন্য কোনো ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এমন কোনো দরপত্রদাতার নিকট হতে দরপত্র প্রাপ্ত হলে, উক্ত সদস্যের পরিবর্তে অন্য একজন সদস্য নির্বাচন করতে হবে। এছাড়াও, বিধি ১১(১১)(ক) অনুযায়ী কোনো সদস্য নিরপেক্ষভাবে কাজ করা সত্ত্বেও যদি কোনো দরপত্রদাতার সাথে তার সম্পর্কের বিষয়টি প্রকাশ না করেন, তবে অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে তাকে কমিটি হতে অপসারণ করা যেতে পারে।
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে সম্পর্ক (Conflicting Relationships)
========================================================
ব্যবসায়িক সম্পর্ক: বিধি ৭১(৬) অনুযায়ী, ক্রয়কার্যে জড়িত কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর সাথে কোনো পরামর্শকের ব্যবসায়িক সম্পর্ক থাকলে তার সাথে চুক্তি করা যাবে না, যদি না নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সংঘাতের বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়।
ঘোষণা (Declaration) প্রদান: বিধি ৭১(৭) অনুযায়ী, যদি ক্রয় প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী কোনো প্রতিষ্ঠানের সাথে ক্রয়কার্যে জড়িত কোনো কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ স্বার্থ থাকে, তবে তাকে অবশ্যই একটি ঘোষণা প্রদান করতে হবে। এরপর উক্ত কর্মকর্তা ক্রয়ের স্পেসিফিকেশন তৈরি থেকে শুরু করে চুক্তি বাস্তবায়ন পর্যন্ত কোনো পর্যায়ে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।
রিভিউ প্যানেল সদস্য অপসারণ
============================
বিধি ৭৫(২)(ক) অনুসারে, রিভিউ প্যানেল গঠিত হওয়ার পর যদি কোনো সদস্যের ক্ষেত্রে স্বার্থের সংঘাত ঘটে, তবে সরকার তাকে ওই কমিটি থেকে অপসারণ করতে পারবে।
পরামর্শক সেবা প্রদানকারীর সম্ভাব্য সংঘাত ও ঝুঁকি প্রশমন
পিপিআর-২০২৫ এর তফসিল-১৩ তে পরামর্শক সেবা প্রদানকারীর সম্ভাব্য সংঘাত ও ঝুঁকি প্রশমন বিষয়ে কিছু উদাহরণ দেয়া আছে।
পিপিআর-২০২৫ এর বিধি ৭১(১) অনুযায়ী, বিদ্যমান বা সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত সম্পর্কে ক্রয়কারীকে অবহিত করা আবেদনকারীর দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে তফসিল-১৩ তে বর্ণিত সারণি (Consultants’ Conflicts of Interest: Range of possible cases) অনুযায়ী উক্ত পরামর্শক অযোগ্য ঘোষিত হতে পারে বা তার চুক্তি বাতিল হতে পারে।
নিচে এর পূর্ণাঙ্গ ব্যবহারিক উদাহরণ ও ঝুঁকি প্রশমন ব্যবস্থা তুলে ধরা হলো:

সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় ‘স্বার্থের সংঘাত’ একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। এটি কেবল নৈতিকতার মানদণ্ডই নয়, বরং আইনগত বাধ্যবাধকতাও। ক্রয়কারী, মূল্যায়ন কমিটির সদস্য এবং দরপত্রদাতা বা পরামর্শক – সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকেই ক্রয় প্রক্রিয়ার যেকোনো ধাপে সম্ভাব্য সংঘাতের বিষয়টি সতর্কতার সাথে যাচাই করতে হবে। যথাসময়ে স্বার্থের সংঘাত ঘোষণা (Declare) করা এবং তা প্রশমনের (Mitigation) পদক্ষেপ গ্রহণ করার মাধ্যমেই একটি স্বচ্ছ, প্রতিযোগিতামূলক ও বিতর্কহীন সরকারি ক্রয় ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা সম্ভব।
সরকারি ক্রয়ে ‘স্বার্থের সংঘাত’ নিয়ে আরও লিখা পড়ুনঃ
এই লেখকের অন্যান্য লেখা

নতুন একনেক এবং CCGP কমিটি গঠন
নতুন সরকার আসার পর নতুন করে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক – ECNEC) এবং সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি (সিসিজিপি

Works চুক্তিতে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে পিপিআর ২০২৫ এ কি আছে ?
বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক গত ৪ঠা মে ২০২৫ ইং তারিখে “পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫” এবং ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে

European Industrial Law: A master plan to build ‘Made in Europe’ with a procurement power of €2 Trillion
The forthcoming Industrial Accelerator Act, slated for publication on February 26, marks a watershed moment in the European Union’s pursuit

ইউরোপীয় শিল্প আইন: ২ ট্রিলিয়ন ইউরোর প্রকিউরমেন্ট শক্তিতে ‘মেইড ইন ইউরোপ’ গড়ার মহাপরিকল্পনা
ইউরোপীয় কমিশন আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল এক্সিলারেটর অ্যাক্ট’ (Industrial Accelerator Act) নামক একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আইনের খসড়া প্রস্তাব পেশ করতে