ই-জিপিতে মূল্যায়ন কমিটির কলেবর বৃদ্ধিঃ সদস্যদের সম্মানী পাওয়াতে বঞ্চনা বৃদ্ধির আশংকা
আমরা ইতিমধ্যেই জানি যে গত ১২ মার্চ ২০২৫ ইং তারিখে ই-জিপি গাইড লাইন (সংশোধিত) ২০২৫ [Bangladesh e-Government Procurement (e-GP) Guidelines (Revised), 2025] গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে।
বিস্তারিত দেখতে ক্লিক করুনঃ সংশোধিত ই-জিপি গাইড লাইন ২০২৫ প্রকাশিত
দেরীতে হলেও এই সংশোধিত ই-জিপি গাইড লাইন প্রকাশিত হওয়ায় ব্যবহারকারিরা খুশি বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু মূল্যায়ন কমিটির সদস্যরা কি পুরোপুরি খুশি হতে পারছেন ? কতটা ?
সংশোধিত মূল্যায়ন কমিটি
এ বিষয়ে বিস্তারিত দেখুনঃ ই-জিপি মূল্যায়ন কমিটি (e-GP Guidelines, 2025) গঠন
সমস্যা কোথায়
প্রায়শই উন্মুক্তকরণ (Opening) ও মূল্যায়ন (Evaluation) কমিটির সদস্যদের প্রাপ্য সম্মানী দেয়া হয় না অথবা মিটিং এর সংখ্যা কম দেখিয়ে কম সম্মানী দেয়া হয় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। বিভিন্ন ক্রয়কারি দপ্তরে আলোচনা করে জানা যায় যে এ খাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ তারা পান না। ফলে বেশিরভাগ সময়ই ফি বা সম্মানী প্রদান করা যায় না। কিন্তু পিপিআর-০৮ এ এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।
এ বিষয়ে বিস্তারিত দেখুনঃ সম্মানী পাওয়া মূল্যায়ন কমিটির অধিকার
যদিও সংশোধিত ই-জিপি গাইড লাইন অনুযায়ি উন্মুক্তকরণ কমিটি আর থাকছে না, কিন্তু মূল্যায়ন কমিটির সদস্য সংখ্যা ২ জন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই ২ জনের ৩ টি করে সভা হিসেবে অতিরিক্ত বরাদ্দের প্রয়োজন হবে। ফলে কম বরাদ্দ পাওয়ার অযুহাতে মূল্যায়ন কমিটির সদস্যরা অথবা আরও সুনির্দিষ্ট ভাবে বললে ক্রয়কারি দপ্তরের সদস্যরাই আর্থিক ভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবেন।
এই ন্যায্য পাওনা পূরণের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষদের প্রতি ‘প্রকিউরমেন্ট বিডি‘ এর পক্ষ থেকে সবসময়ই জোর দাবী জানানো হয়।
এখন, ই-জিপি গাইড লাইন (সংশোধিত) ২০২৫ অনুযায়ি HOPE এর উপরের কর্তৃপক্ষের ক্ষেত্রে মূল্যায়ন কমিটির সদস্য সংখ্যা ২ জন বৃদ্ধি পাওয়ায় এই খাতে আরও অধিক সম্মানী প্রদান করতে হবে। ফলে, দেখা যাবে যে, কাজ শেষে ক্রয়কারী দপ্তরের মূল্যায়ন কমিটির সদস্যরাই বেশি হারে বঞ্চিত হবেন। ন্যায্য এবং বৈধ পাওনা পাবেন না, হতাশা বৃদ্ধি পাবে। দক্ষতা আর জবাবদিহিতা থাকবে নীতি বাক্যে সীমাবদ্ধ।
যদিও, ই-জিপি গাইড লাইনের এই সংশোধনী e-GP সিস্টেমের ভিতরে কার্যকর হতে হয়তো আরও কিছু সময় লাগবে, কিন্তু কর্তৃপক্ষগুলো টনক নড়ার এখনই সময়।
এই লেখকের অন্যান্য লেখা

লাম্প সাম নাকি টাইম-বেসড কন্ট্রাক্ট – কোনটি কখন ব্যবহার করবেন ?
পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বা সরকারি ক্রয়ে প্রধানত কাজের ধরন ও মূল্য পরিশোধের পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন ধরনের চুক্তি করা হয়।

লাম্প সাম কন্ট্রাক্ট (Lump Sum Based Contracts) কি ? কখন ব্যবহার করবেন ?
সরকারি বা বেসরকারি যেকোনো প্রকল্পে দক্ষ পরামর্শক (Consultant) নিয়োগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলো সঠিক চুক্তিপত্র নির্বাচন করা। বাংলাদেশ পাবলিক

টাইম-বেসড কন্ট্রাক্ট (Time-based Contracts) কি ? কখন ব্যবহার করবেন ?
সরকারি বা বেসরকারি যেকোনো প্রকল্পে দক্ষ পরামর্শক (Consultant) নিয়োগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলো সঠিক চুক্তিপত্র নির্বাচন করা। বাংলাদেশ পাবলিক

উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন ও প্রক্রিয়া সহজীকরণে পরিকল্পনা বিভাগের উদ্যোগ
সরকারি বিনিয়োগের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে সরকার “সরকারি খাতে উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন, প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন ও সংশোধন