“আর্থিক ক্ষমতা অর্পন ২০১৫” সংশোধনীর জন্য আর কত অপেক্ষা !
আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ (Delegation of Financial Powers ) হলো বাংলাদেশ সরকারের একটি নীতিমালা, যা সরকারি মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে তাদের নিজস্ব বাজেট (অনুন্নয়ন ও উন্নয়ন) থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ব্যয় ও ব্যবস্থাপনার ক্ষমতা প্রদান করে, যাতে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন সহজ হয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপর চাপ কমে। এটি মূলত সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষমতা ও বিধি-বিধান অনুসরণের আদেশ। এককথায়, আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ হচ্ছে সরকারি ক্রয় অনুমোদনের প্রাণ।
বর্তমানে সকল সরকারি ক্রয় কার্যক্রম আর্থিক ক্ষমতা অর্পন ২০১৫ (Delegation of Financial Powers – DoFP) আদেশ দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। এই আর্থিক ক্ষমতার সাথে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন ২০০৬ এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০০৮ এর সাথে সমন্বয় ছিল।
অতি সম্প্রতি, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ ও পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০২৫ (পিপিআর ২০২৫) জারী করা হয়েছে। পিপিআর-২০২৫ এর অনেক ক্ষেত্রে সংশোধনী আনা হয়েছে। ফলে, আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ সংক্রান্ত বিদ্যমান আদেশে অনুন্নয়ন (পরিচালন) এবং উন্নয়ন বাজেটের আওতাভুক্ত বিভিন্ন প্রকারের ব্যয়ের আইটেমের বিপরীতে বিদ্যমান অর্পিত ক্ষমতার পার্থক্য রয়েছে। এখন, অধ্যাদেশ ও পিপিআর-২০২৫ এর সাথে সমন্বয় করে নতুন আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ আদেশ জারী করা প্রয়োজন।
প্রচলিত আর্থিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে বর্তমানে ক্রয় কার্যক্রম বাস্তবায়ন অসুবিধাজনক। তাই নতুন প্রকাশিত অধ্যাদেশ ও পিপিআর-২০২৫ এর আলোকে একটি নতুন আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ আদেশ জারীর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
উদাহরণ স্বরূপ, আর্থিক ক্ষমতা অর্পন ২০১৫ অনুযায়ি উন্নয়ন বাজেটে কোটেশনের (RFQ) মাধ্যমে ক্রয় অনুমোদন এর ক্ষেত্রে ‘ক’ শ্রেণির প্রকল্প পরিচালকের আর্থিক ক্ষমতা দেয়া আছেঃ
(ক) পণ্য ও সংশ্লিষ্ট সেবা ক্রয়ঃ প্রতিক্ষেত্রে এককালীন ৫ লক্ষ টাকা তবে বছরে সর্বোচ্চ ৩০ লক্ষ টাকা।
(খ) কার্য ও ভৌত সেবাঃ প্রতিক্ষেত্রে এককালীন ১০ লক্ষ টাকা তবে বছরে সর্বোচ্চ ৬০ লক্ষ টাকা।
কিন্তু, পিপিআর ২০২৫ অনুযায়ি কোটেশনের ক্ষেত্রে এই আর্থিক ক্ষমতা হবেঃ
(ক) পণ্য ও সংশ্লিষ্ট সেবা ক্রয়ঃ প্রতিটি ক্ষেত্রে অনধিক ৮ লক্ষ টাকা; তবে বৎসরে সর্বোচ্চ ৬০ লক্ষ টাকা।
(খ) কার্য ও ভৌত সেবাঃ প্রতিটি ক্ষেত্রে অনধিক ১৫ লক্ষ টাকা; তবে বৎসরে সর্বোচ্চ ১০০ লক্ষ টাকা।
কাজেই, পিপিআর-২০২৫ এর সাথে সমন্বয় সাধন ও অন্যান্য বাস্তবিক প্রয়োজনীয়তার তাগিদে বিদ্যমান আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ ২০১৫ আদেশটি সংশোধন করা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, অনেকদিন আগে থেকেই বিশেষ করে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০০৮ জারী পরেই শোনা গিয়েছিল অচিরেই তা জারী করবে অর্থ মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে তখন অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে তথ্য-ও সংগ্রহ করা হয়েছিল। কিন্তু অদ্যবধি তা কেন জারী হচ্ছে না তা নিয়ে ক্রয়কারীরা উদ্বিগ্ন। তবে, বিভিন্ন সুত্রে জানা গিয়েছে যে প্রয়োজনীয় সংশোধনপূর্বক আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ (অনুন্নয়ন ও উন্নয়ন) ২০২৫ প্রস্তুতকরণের কাজ চলমান রয়েছে এবং অচিরের জারী হবে।
এই লেখকের অন্যান্য লেখা

বাংলাদেশে ADP বাস্তবায়ন ৫ বছরের সর্বনিম্ন: Procurement Delay কি আসল কারণ ?
বাংলাদেশের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (Annual Development Programme–ADP) দেশের অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, পরিবহন এবং অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রধান আর্থিক

বাংলাদেশে Manual Tender যুগের সমাপ্তিঃ বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ
বাংলাদেশের সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় ১ জুলাই ২০২৬ একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। এদিন থেকে Manual (Offline) Tendering-এর আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটেছে এবং সরকারি

Indirect Procurement 2026 Report: Uncertainty as a Catalyst for Efficiency
The year 2026 is an extremely challenging and transformative year for procurement professionals. According to the 9th Annual Indirect Procurement

সরকারি Procurement System-এ আরও পরিবর্তন আসছে
বাংলাদেশের সরকারি ক্রয় ব্যবস্থা গত এক দশকে উল্লেখযোগ্য ডিজিটাল রূপান্তরের মধ্য দিয়ে গেছে। ই-জিপি (e-GP) চালুর ফলে টেন্ডারিং প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা