আর্থিক-প্রশাসনিক স্বাধীনতা হারালো পিপিপি কর্তৃপক্ষ
আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রয়োগসহ কাজের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা হারিয়েছে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) কর্তৃপক্ষ। এমনকি পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষমতাও সরকারের হাতে নেওয়া হয়েছে।
বিলে যে সব গূরুত্বপূর্ণ সংশোধনী আনা হয়েছে তা হলোঃ
-
- আইনের ৪ নম্বর ধারার ৩ উপ-ধারায় এতদিন বলা ছিল, আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্যাবলি সম্পাদনের ক্ষেত্রে পিপিপি কর্তৃপক্ষ নিরপেক্ষ ও স্বাধীন হবে। এখানে সংশোধনী এনে ‘স্বাধীন’ শব্দটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।
- এতদিন আইনে পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষমতা বোর্ড অব গভর্নরসের হাতে ছিল। এখানে সংশোধন করে বলা হয়েছে, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ করবে সরকার।
- বিদ্যমান আইনে পিপিপি কর্তৃপক্ষের সাংগঠনিক কাঠামো অনুমোদনের ক্ষমতা বোর্ড অব গভর্নরসের হাতে ছিল। এটি পরিবর্তন করে এই ক্ষমতা সরকারের হাতে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এসব সংশোধনী এনে গত ০৫.০৭.২৩ ইং তারিখে জাতীয় সংসদে ‘বাংলাদেশ সরকারি–বেসরকারি অংশীদারিত্ব (সংশোধন) বিল – ২০২৩‘ পাস হয়েছে।
সংসদে বিল পাসের আলোচনায় অনেক সংসদ সদস্য বলেন, “এই আইন সংশোধন করে পিপিপি কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা খর্ব করা হলো। পিপিপির গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী। তারপরও হঠাৎ কেন এটা সরকারের কাছে নিতে হচ্ছে ? পিপিপি কর্তৃপক্ষের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো হয়েছে। এতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা আরও বাড়বে। এখন তাদের আর্থিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে অনুমতি নিতে হবে। পিপিপি কর্তৃপক্ষ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনের একটি ইউনিট, তাহলে কেন এখানে সরকারের অনুমোদন নিতে হবে এভাবে সংশোধন করা হলে বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা নিরুৎসাহিত হবেন।”
সমালোচনার জবাবে মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, “একটা কর্তৃপক্ষ স্বাধীন হতে পারে না। সরকার চলে রুলস অফ বিজনেস অনুযায়ী। সরকারকে এড়িয়ে কোনো কর্তৃপক্ষকে চূড়ান্ত ক্ষমতা বা স্বাধীনতা দেওয়া যায় না বলেই এ সংশোধনী আনা হয়েছে। এটি অত্যন্ত সময় উপযোগী সংশোধনী।”
এই লেখকের অন্যান্য লেখা

পাবলিক প্রকিউরমেন্টে পেশাদারিত্বের নতুন দিগন্ত: BIM-এর ডিপ্লোমা প্রোগ্রাম (DPPM)
বাংলাদেশের সরকারি ক্রয় বা পাবলিক প্রকিউরমেন্ট ব্যবস্থা এখন একটি অত্যন্ত প্রযুক্তিগত এবং আইনি কাঠামোর মধ্য দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। প্রতি বছর

সিএজি কার্যালয়ে বিশেষ সেবা সপ্তাহঃ ক্রয়কারি, পিডি অফিস ও ঠিকাদারদের জন্য অনন্য সুযোগ
বাংলাদেশের কম্পট্রোলার এন্ড অডিটর জেনারেল (সিএজিঃ CAG) কার্যালয়ের ৫৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ ১১ মে থেকে ১৯ মে, ২০২৬ পর্যন্ত ০৭

দরপত্র দলিল e-PG5A(National) এবং e-PG8(National) এর বৈশিষ্ঠ্য কি, কখন ব্যবহৃত হবে ?
ক্রয়কারিকে আদর্শ দরপত্র দলিল ব্যবহার (Standard Tender document – STD) করে দরপত্র আহবান করতে হয় এবং ঠিকাদার বা সরবরাহকারিদের সে

e-GP তে আরও ২টি নতুন আদর্শ দরপত্র দলিল (STD) যুক্ত হয়েছে
বিপিপিএ (Bangladesh Public Procurement Authority – BPPA) কর্তৃক পিপিআর ২০২৫ অনুসারে গত ৭ মে ২০২৬ ইং তারিখে আরও ২টি আদর্শ দরপত্র দলিল